📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ইখলাসের পূর্ণতার তিন উপায়

📄 ইখলাসের পূর্ণতার তিন উপায়


১. أَوَّلُهَا : أَنْ تَطْلُبَ بِصَلَاتِكَ رِضَا اللَّهِ تَعَالَى وَلَا تَطْلُبَ رِضَا النَّاسِ অর্থাৎ, নামাযের মাধ্যমে কেবল আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির অন্বেষণ করা, মানুষের নয়।
২. وَالثَّانِي : অঁন তারাত তাওফীক্বা মিনাল্লা-হি তা’আলা (أَنْ تَرَى التَّوْفِيقَ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى) অর্থাৎ, তাওফীক আল্লাহর পক্ষ থেকে এই বিশ্বাস রাখা।
৩. وَالثَّالِثُ : অঁন তাহফাজাহা হাত্তা তাযহাবা বিহা মাআ নাফসিকা ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি (أَنْ تَحْفَظَهَا حَتَّى تَذْهَبَ بِهَا مَعَ نَفْسِكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ) অর্থাৎ, নামাযের হেফাজত করা, যেন কিয়ামতের দিন নিজের সঙ্গে তা নিয়ে যেতে পারে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 নামাযী ব্যক্তির সম্মান

📄 নামাযী ব্যক্তির সম্মান


عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ، قَالَ: لِلْمُصَلِّي ثَلَاثُ خِصَالٍ تَحْفُ بِهِ الْمَلَائِكَةُ، مِنْ قَدَمِهِ إِلَى عَنَانِ السَّمَاءِ، وَيَسْقُطُ عَلَيْهِ الْبِرُّ مِنْ عَنَانِ السَّمَاءِ، إِلَى مَفْرِقِ رَأْسِهِ، وَمَلَكٌ يُنَادِي لَوْ يَعْلَمُ هُذَا الْمُصَلِّي مَنْ يُنَاجِي مَا انْفَتَلَ.

হযরত হাসান বসরী রহ. রাসূল ﷺ থেকে বর্ণনা করেন, নামাযী ব্যক্তির তিনটি বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয়। যথা-
১. তার পা থেকে আসমান পর্যন্ত ফেরেশতারা তাকে বেষ্টন করে নেয়।
২. আসমান থেকে তার মাথার উপর বরকত বর্ষণ হতে থাকে।
৩. নামাযে আল্লাহর সাথে কথোপকথন হয়। একজন ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকে, যদি এই নামাযী ব্যক্তি জানত যে, নামাযে কার সাথে তার কথোপকথন হয়, তাহলে সে কখনো নামায শেষ করত না।

এগুলো হলো, নামাযী ব্যক্তির জন্য বিশেষ সম্মাননা। সুতরাং নামাযী ব্যক্তির উচিত নামাযের মূল্য বুঝা এবং নামাযের তাওফীক দানের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করা।

عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّ دَانْيَالَ عَلَيْهِ السَّلَامُ نَعَتَ أُمَّةً مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ فَقَالَ : يُصَلُّونَ صَلَاةً لَوْ صَلَّاهَا قَوْمُ نُوحٍ مَا أُغْرِقُوا وَلَوْ صَلَّاهَا قَوْمُ عَادٍ مَا أُرْسِلَتْ عَلَيْهِمُ الرِّيحُ الْعَقِيمُ وَلَوْ صَلَّاهَا قَوْمُ ثَمُودَ مَا أَخَدَتْهُمُ الصَّيْحَةُ. ثُمَّ قَالَ قَتَادَةُ : عَلَيْكُمْ بِالصَّلَاةِ فَإِنَّهَا خُلُقٌ لِلْمُؤْمِنِينَ حَسَنٌ.

কাতাদা রহ. থেকে বর্ণিত। হযরত দানিয়াল আ. উম্মতে মুহাম্মদীর প্রশংসা করে বলেন, তারা এমন এক নামাযের অধিকারী হবে, নুহের কওম যদি সে নামায পড়ত তবে তাদেরকে ডুবানো হতো না। আদ ও সামুদ জাতি যদি তা পড়ত তবে অমঙ্গলজনক বায়ু ও আর্তচিৎকার তাদেরকে আক্রান্ত করত না। অতঃপর কাতাদা রহ. বলেন তোমরা নামাযের প্রতি যত্নবান হও। কারণ, তা মুমিনদের এক বিশেষ গুণ।

عَنْ لَيْثٍ، رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ : أُمَّتِي أُمَّةٌ مَرْحُومَةٌ وَإِنَّمَا يَدْفَعُ اللهُ عَنْهُمُ الْبَلَاءَ بِإِخْلَاصِهِمْ وَدُعَائِهِمْ وَضُعَفَائِهِمْ.

লাইস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, আমার উম্মত বিশেষ রহমতপ্রাপ্ত। তাদের ইখলাস দোয়া নামায এবং তাদের দুর্বলদের মাধ্যমে তাদের বিপদ দূর করা হয়।

টিকাঃ
৪৬৫. মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক হাদীস-১৫০; জামে সগীর হাদীস-৭৩৩১; হাদীসটি মুরসাল জয়ীফ [সিলসিলা জয়ীফাহ: হাদীস-৪৩৩৩]।
৬২৬. মুসনাদে আহমাদ : ৩২/৪৫৪; মুস্তাদরাকে হাকেম : হাদীস-৭৪৪৯; যঈফুল জামে: হাদীস- ১৩৯৬; (হাদীসের প্রথম অংশ সহীহ শেষাংশ জয়ীফ)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px