📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 নামাযের বৈশিষ্ট্য

📄 নামাযের বৈশিষ্ট্য


বলা হয়, নামাযের বার হাজার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেগুলোকে শুধু বারোটিতে সমন্বিত করা হয়েছে। নামায পূর্ণাঙ্গ হওয়ার জন্য এ বারটি বৈশিষ্ট্য আবশ্যক। তন্মধ্যে ছয়টি বৈশিষ্ট্য নামায শুরুর পূর্বের এবং ছয়টি পরের। বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো-
১. ইলম থাকা। কারণ, রাসূল ইরশাদ করেছেন- আমালুন ক্বালীলুন ফী ইলমিন খাইরুন মিন আমালিন কাছীরিন ফী জালিন (عَمَلٌ قَلِيلٌ فِي عِلْمٍ خَيْرٌ مِنْ عَمَلٍ كَثِيرٍ فِي جَهْلٍ) অর্থাৎ, জেনে বুঝে অল্প আমল করা, না বুঝে অধিক আমলের তুলনায় উত্তম।
২. উযু করা। কারণ, রাসূল বলেছেন, লা- সোলা-তা ইল্লা- বিতুহূরিন (لَا صَلَاةَ إِلَّا بِطُهُورٍ) অর্থাৎ, পবিত্রতা অর্জন ব্যতীত নামায হয় না।
৩. পোশাক পরিধান। কুরআনে এসেছে- খুযু যীনাতাকুম ইন্দা কুল্লি মাসজিদিন (خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ) অর্থ : প্রতি সালাতে তোমরা বেশভূষা গ্রহণ কর।
৪. নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায়। আল্লাহ বলেছেন- ইন্না সোলা-তা কা-নাত আলাল মু’মিনিনা কিতা-বাম মাওকূতা (إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا) অর্থ: নিশ্চয় সালাত মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ।
৫. কেবলামুখী হওয়া। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- ফাওয়াল্লি অজহাকা শাত্বরাল মাসজিদিল হারা-মি ওহাইছু মা- কুনতুম ফাওয়াল্লু ওজূহাকুম শাত্বরাহু (فَوَلَّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُمَا كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ) অর্থ: সুতরাং তোমাদের চেহারা মুসজিদুল হারামের দিকে ফিরাও এবং তোমরা যেখানেই থাক, তার দিকে তোমাদের চেহারা ফিরাও।
৬. নিয়ত করা। রাসূল ইরশাদ করেছেন- ইন্নামাল আ’মা-লু বিন্নিইয়া-তি ওয়াইননামা লিকুল্লিম রিইম্মাম নাওয়া- (إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى) নিশ্চয় আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করবে।
৭. তাকবীরে তাহরীমা। রাসূল বলেছেন- তাহরীমুহাত তাকবীরু অতাহলীলুহাত তাসলীমু (تَحْرِيمُهَا التَّكْبِيرُ وَتَحْلِيلُهَا التَّسْلِيمُ) নামাজের পরিমণ্ডলে প্রবেশ হলো, তাকবীরে তাহরীমা এবং তা থেকে মুক্ত হওয়া হলো, সালাম ফেরানো।
৮. দাঁড়ানো। কুরআনে এসেছে- অক্বুমু লিল্লা-হি ক্বা-নিতীন (وَقُودُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ) অর্থ: আর তোমরা বিনয়ী হয়ে আল্লাহর জন্য দণ্ডায়মান হও।
৯. কুরআন পাঠ। কুরআনে এসেছে- ফাক্বরাউ মা- তাইয়াস্সারা মিনাল কুরআন (فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ) অর্থ : সুতরাং তোমরা কুরআন থেকে যতটুকু সহজ, ততটুকু পাঠ কর।
১০. রুকু করা। কুরআনে এসেছে- ওয়ারকাউ (وَارْكَعُوا) অর্থ: আর তোমরা রুকু কর।
১১. সেজদা করা। আল্লাহ বলেছেন- ওয়াসজুদু (وَاسْجُدُوا) অর্থ আর তোমরা সেজদা কর।
১২. বৈঠক করা। রাসূল ইরশাদ করেছেন- ইযা- রফায়াল রাজুলু রঅ’সাহু মিন আখিরিস সাজদাতি অক্বাআ’দা ক্বদরাত তাশাহ্হুদি ফাক্বাদ তাম্মাত সোলা-তুহু (إِذَا رَفَعَ الرَّجُلُ رَأْسَهُ مِنْ آخِرِ السَّجْدَةِ وَقَعَدَ قَدْرَ التَّشَهُدِ فَقَدْ تَمَّتْ صَلَاتُهُ)। সর্বশেষ সেজদার পর যখন মাথা তুলবে এবং তাশাহহুদ পরিমাণ বসবে, তখন নামায পূর্ণ হবে।

এই বারটি যখন পাওয়া যাবে তখন মোহরাঙ্কিত করার দরকার হবে। তা হলো ইখলাসের মাধ্যমে। কারণ, আল্লাহ তা'আলা ইখলাসের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করে ইরশাদ করেছেন- ফাদউ ল্লা-হা মুখলিসীনা লাহুদ দ্বীন (فَادْعُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ) অর্থ: সুতরাং তোমরা দীনের ব্যাপারে তাঁর জন্য ইখলাস অবলম্বন করে তাকে ডাকবে যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে।

টিকাঃ
৬১১. জামে বায়ানিল এলেম লি-ইবনে আব্দেল বার হাদীস-২১৪; নাওয়াদিরিল উসূল ৪/১০১।
৬১২. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২২৪; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১।
৬১৩. সূরা আরাফ: আয়াত-৩১
৬১৪. সূরা নিসা: আয়াত-১০৩
৬১৫. সূরা বাকারা: আয়াত-১৫০
৬১৬. সহীহ বুখারী: হাদীস-০১।
৬১৭. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-০৩; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৬১। হাদীসটি সহীহ।
৬১৮. সূরা বাকারা: আয়াত-২৩৮
৬১৯. সূরা মুযযাম্মিল: আয়াত-২০
৬২০. সূরা বাকারা: আয়াত-৪৩
৬২১. সূরা হজ: আয়াত-৭৭
৬২২. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৪০৮।
৬২৩. হা-মীম: আয়াত-১৪

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 পূর্ণাঙ্গ নামায : ইলম অর্জনের তিন তরীকা

📄 পূর্ণাঙ্গ নামায : ইলম অর্জনের তিন তরীকা


১. أَوَّلُهَا : أَنْ يَعْرِفَ الْفَرِيضَةَ مِنَ السُّنَّةِ অর্থাৎ, হাদীস অনুসারে নামাযের ফরজসমূহ জানা। কারণ, ফরজের জ্ঞান ব্যতীত নামায শুদ্ধ হবে না।
২. وَالثَّانِي: أَنْ يَعْرِفَ مَا فِي الْوُضُوءِ وَالصَّلَاةِ مِنَ الْفَرِيضَةِ وَالسُّنَّةِ অর্থাৎ, উযূর ফরজ ও সুন্নাতসমূহ জানা। কারণ, এটি পূর্ণাঙ্গ নামাযের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৩. وَالثَّالِثُ : أَنْ يَعْرِفَ كَيْدَ الشَّيْطَانِ ফায়াকখুযা ফী মুহরাবাতিহি বিলজিহাদ (فَيَأْخُذَ فِي مُحَارَبَتِهِ بِالْجِهَادِ) অর্থাৎ, শয়তানের কুট কৌশল সম্পর্কে সজাগ থাকা এবং সতর্কভাবে তার মোকাবেলা করা।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 পূর্ণাঙ্গ উযুর তিন তরীকা

📄 পূর্ণাঙ্গ উযুর তিন তরীকা


১. أَوَّلُهَا أَنْ تُطَهَّرَ قَلْبَكَ مِنَ الْغِلِّ وَالْحَسَدِ وَالْغِشِّ অর্থাৎ, অন্তরকে হিংসা, বিদ্বেষ ও প্রতারণা থেকে পবিত্র করা।
২. وَالثَّانِي : أَنْ تُطَهَّرَ الْبَدَنَ مِنَ الذُّنُوبِ অর্থাৎ, দেহকে গুনাহমুক্ত করা।
৩. وَالثَّالِثُ : أَنْ تَغْسِلَ الْأَعْضَاءَ غَسْلًا سَابِعًا بِغَيْرِ إِسْرَافِ فِي الْمَاءِ অর্থাৎ, পানির অপচয় না করে উযূর প্রতিটি অঙ্গকে পূর্ণাঙ্গপে ধৌত করা।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 পোশাকের পূর্ণতা তিন তরীকা

📄 পোশাকের পূর্ণতা তিন তরীকা


১. أَوَّلُهَا : أَنْ يَكُونَ أَصْلُهُ مِنَ الْحَلَالِ অর্থাৎ, হালাল উপায়ে অর্জিত হওয়া。
২. وَالثَّانِي : أَنْ يَكُونَ طَاهِرًا مِنَ النَّجَاسَاتِ অর্থাৎ, সব ধরনের নাপাকি থেকে পবিত্র হওয়া।
৩. وَالثَّالِثُ أَنْ يَكُونَ مُوَافِقًا لِلسُّنَّةِ وَلَا يَكُونَ لُبْسُهُ عَلَى وَجْهِ الْفَخْرِ وَالْخُيَلَاءِ অর্থাৎ, সুন্নত সম্মত হওয়া এবং দম্ভ ও অহংকারসুলভ না হওয়া।

ফন্ট সাইজ
15px
17px