📄 নামাযের কিছু কবূল ও কিছু না-কবূল
রাসূল ইরশাদ করেছেন- إِنَّ مِنْكُمْ مَنْ يُصَلِّي فَلَا يُكْتَبُ لَهُ مِنْ صَلَاتِهِ إِلَّا ثُلُثُهَا أَوْ رُبْعُهَا أَوْ خُمْسُهَا أَوْ سُدُسُهَا. حَتَّى ذَكَرَ عُشْرَهَا যানি আন্নাহু লা- ইউকতাবু লাহু মিন সোলা-তিহি ইল্লা- মা আক্বালা মিনহা- লা- মা সাহা- আনহা- (يَعْنِي أَنَّهُ لَا يُكْتَبُ لَهُ مِنْ صَلَاتِهِ إِلَّا مَا عَقَلَ مِنْهَا لَا مَا سَهَا عَنْهَا)।
তোমাদের কারো কারো নামায কেবল এক তৃতীয়াংশ এক চতুর্থাংশ এক পঞ্চমাংশ বা এক ষষ্ঠমাংশ লেখা হয়। তিনি এভাবে এক দশমাংশ পর্যন্ত উল্লেখ করলেন। অর্থাৎ, নামাযের যে অংশ মনোযোগের সঙ্গে আদায় করা হয়, তা কবুল করে আমলনামায় লেখা হয়। অন্যথায় তা বাতিল করে দেয়া হয় এবং আমলনামায় উল্লেখ করা হয় না।
রাসূল ইরশাদ করেছেন, মঁন সোল্লা- রকা’আতাইনি মুক্ববিলান আলাল্লা-হি বিক্বলবিহী খরজা মিন যুনুবিহি কাইয়াওমি ওয়ালাদাতহু উম্মুহু (مَنْ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ مُقْبِلًا عَلَى اللَّهِ بِقَلْبِهِ خَرَجَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمٍ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ)। যে দু'রাকআত নামায ধ্যানের সাথে আদায় করবে, সে তার গুনাহ থেকে এমন নিষ্পাপ হয়ে বের হয়ে আসে যেমন যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছে।
নামায হয় বান্দার আল্লাহমুখী হওয়ার মাধ্যম। যে ব্যক্তি আলস্য নিয়ে নামায আদায় করে, সে ওই ব্যক্তির ন্যায়, যে নিজ ভুল ও পদস্খলনের স্বীকার করতে বাদশাহর দরবারে উপস্থিত হয়। যখন বাদশাহ তার দিকে মনোযোগ দেয় তখন সে নিজ উদ্দেশ্য ভুলে এদিক ওদিক তাকাতে আরম্ভ করে। এ অবস্থায় বাদশাহ নিশ্চয় তাকে ক্ষমা করবেন না এবং তার দাবির প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবেন না। আবেদনকারীর মনোযোগ এবং তার মিনতি অনুযায়ী বাদশাহ তার দাবি শুনবেন এবং তার চাওয়া পূরণ করবেন। নামাযের ব্যাপারটিও অনুরূপ। বান্দা যদি আল্লাহর দিকে মনোযোগী হয় তাহলে কবুল করবেন, অন্যথায় কবুল করবেন না।
নামাযের উদাহরণ হলো, কোনো বাদশাহ বিয়ে করে সকলকে ভোজ নিমন্ত্রণ করেছেন এবং নানান রঙের খাবার ও পানীয় প্রস্তুত করেছেন। প্রত্যেক রঙের রয়েছে আলাদা স্বাদ ও উপকারিতা। অনুরূপ আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে নামাযের দাওয়াত দিয়েছেন, তাতে নানা আমল ও যিকিরের বিধান রেখেছেন, যাতে বান্দাগণ ইবাদতের সমস্ত রঙ ও ধরনের স্বাদ উপভোগ করতে পারে। নামাযের আমলগুলো যেন খাবার, আর তার যিকির হলো, পানীয়。
টিকাঃ
৬০৯. মুসনাদে আহমাদ: ৩/৪২৭; সহিহুল জামে: হাদীস-১৬২৬。
৬১০. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৩৪; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-১২১।
📄 নামাযের বৈশিষ্ট্য
বলা হয়, নামাযের বার হাজার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেগুলোকে শুধু বারোটিতে সমন্বিত করা হয়েছে। নামায পূর্ণাঙ্গ হওয়ার জন্য এ বারটি বৈশিষ্ট্য আবশ্যক। তন্মধ্যে ছয়টি বৈশিষ্ট্য নামায শুরুর পূর্বের এবং ছয়টি পরের। বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো-
১. ইলম থাকা। কারণ, রাসূল ইরশাদ করেছেন- আমালুন ক্বালীলুন ফী ইলমিন খাইরুন মিন আমালিন কাছীরিন ফী জালিন (عَمَلٌ قَلِيلٌ فِي عِلْمٍ خَيْرٌ مِنْ عَمَلٍ كَثِيرٍ فِي جَهْلٍ) অর্থাৎ, জেনে বুঝে অল্প আমল করা, না বুঝে অধিক আমলের তুলনায় উত্তম।
২. উযু করা। কারণ, রাসূল বলেছেন, লা- সোলা-তা ইল্লা- বিতুহূরিন (لَا صَلَاةَ إِلَّا بِطُهُورٍ) অর্থাৎ, পবিত্রতা অর্জন ব্যতীত নামায হয় না।
৩. পোশাক পরিধান। কুরআনে এসেছে- খুযু যীনাতাকুম ইন্দা কুল্লি মাসজিদিন (خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ) অর্থ : প্রতি সালাতে তোমরা বেশভূষা গ্রহণ কর।
৪. নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায়। আল্লাহ বলেছেন- ইন্না সোলা-তা কা-নাত আলাল মু’মিনিনা কিতা-বাম মাওকূতা (إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا) অর্থ: নিশ্চয় সালাত মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ।
৫. কেবলামুখী হওয়া। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- ফাওয়াল্লি অজহাকা শাত্বরাল মাসজিদিল হারা-মি ওহাইছু মা- কুনতুম ফাওয়াল্লু ওজূহাকুম শাত্বরাহু (فَوَلَّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُمَا كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ) অর্থ: সুতরাং তোমাদের চেহারা মুসজিদুল হারামের দিকে ফিরাও এবং তোমরা যেখানেই থাক, তার দিকে তোমাদের চেহারা ফিরাও।
৬. নিয়ত করা। রাসূল ইরশাদ করেছেন- ইন্নামাল আ’মা-লু বিন্নিইয়া-তি ওয়াইননামা লিকুল্লিম রিইম্মাম নাওয়া- (إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى) নিশ্চয় আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করবে।
৭. তাকবীরে তাহরীমা। রাসূল বলেছেন- তাহরীমুহাত তাকবীরু অতাহলীলুহাত তাসলীমু (تَحْرِيمُهَا التَّكْبِيرُ وَتَحْلِيلُهَا التَّسْلِيمُ) নামাজের পরিমণ্ডলে প্রবেশ হলো, তাকবীরে তাহরীমা এবং তা থেকে মুক্ত হওয়া হলো, সালাম ফেরানো।
৮. দাঁড়ানো। কুরআনে এসেছে- অক্বুমু লিল্লা-হি ক্বা-নিতীন (وَقُودُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ) অর্থ: আর তোমরা বিনয়ী হয়ে আল্লাহর জন্য দণ্ডায়মান হও।
৯. কুরআন পাঠ। কুরআনে এসেছে- ফাক্বরাউ মা- তাইয়াস্সারা মিনাল কুরআন (فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ) অর্থ : সুতরাং তোমরা কুরআন থেকে যতটুকু সহজ, ততটুকু পাঠ কর।
১০. রুকু করা। কুরআনে এসেছে- ওয়ারকাউ (وَارْكَعُوا) অর্থ: আর তোমরা রুকু কর।
১১. সেজদা করা। আল্লাহ বলেছেন- ওয়াসজুদু (وَاسْجُدُوا) অর্থ আর তোমরা সেজদা কর।
১২. বৈঠক করা। রাসূল ইরশাদ করেছেন- ইযা- রফায়াল রাজুলু রঅ’সাহু মিন আখিরিস সাজদাতি অক্বাআ’দা ক্বদরাত তাশাহ্হুদি ফাক্বাদ তাম্মাত সোলা-তুহু (إِذَا رَفَعَ الرَّجُلُ رَأْسَهُ مِنْ آخِرِ السَّجْدَةِ وَقَعَدَ قَدْرَ التَّشَهُدِ فَقَدْ تَمَّتْ صَلَاتُهُ)। সর্বশেষ সেজদার পর যখন মাথা তুলবে এবং তাশাহহুদ পরিমাণ বসবে, তখন নামায পূর্ণ হবে।
এই বারটি যখন পাওয়া যাবে তখন মোহরাঙ্কিত করার দরকার হবে। তা হলো ইখলাসের মাধ্যমে। কারণ, আল্লাহ তা'আলা ইখলাসের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করে ইরশাদ করেছেন- ফাদউ ল্লা-হা মুখলিসীনা লাহুদ দ্বীন (فَادْعُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ) অর্থ: সুতরাং তোমরা দীনের ব্যাপারে তাঁর জন্য ইখলাস অবলম্বন করে তাকে ডাকবে যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে।
টিকাঃ
৬১১. জামে বায়ানিল এলেম লি-ইবনে আব্দেল বার হাদীস-২১৪; নাওয়াদিরিল উসূল ৪/১০১।
৬১২. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২২৪; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১।
৬১৩. সূরা আরাফ: আয়াত-৩১
৬১৪. সূরা নিসা: আয়াত-১০৩
৬১৫. সূরা বাকারা: আয়াত-১৫০
৬১৬. সহীহ বুখারী: হাদীস-০১।
৬১৭. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-০৩; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৬১। হাদীসটি সহীহ।
৬১৮. সূরা বাকারা: আয়াত-২৩৮
৬১৯. সূরা মুযযাম্মিল: আয়াত-২০
৬২০. সূরা বাকারা: আয়াত-৪৩
৬২১. সূরা হজ: আয়াত-৭৭
৬২২. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৪০৮।
৬২৩. হা-মীম: আয়াত-১৪
📄 পূর্ণাঙ্গ নামায : ইলম অর্জনের তিন তরীকা
১. أَوَّلُهَا : أَنْ يَعْرِفَ الْفَرِيضَةَ مِنَ السُّنَّةِ অর্থাৎ, হাদীস অনুসারে নামাযের ফরজসমূহ জানা। কারণ, ফরজের জ্ঞান ব্যতীত নামায শুদ্ধ হবে না।
২. وَالثَّانِي: أَنْ يَعْرِفَ مَا فِي الْوُضُوءِ وَالصَّلَاةِ مِنَ الْفَرِيضَةِ وَالسُّنَّةِ অর্থাৎ, উযূর ফরজ ও সুন্নাতসমূহ জানা। কারণ, এটি পূর্ণাঙ্গ নামাযের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৩. وَالثَّالِثُ : أَنْ يَعْرِفَ كَيْدَ الشَّيْطَانِ ফায়াকখুযা ফী মুহরাবাতিহি বিলজিহাদ (فَيَأْخُذَ فِي مُحَارَبَتِهِ بِالْجِهَادِ) অর্থাৎ, শয়তানের কুট কৌশল সম্পর্কে সজাগ থাকা এবং সতর্কভাবে তার মোকাবেলা করা।
📄 পূর্ণাঙ্গ উযুর তিন তরীকা
১. أَوَّلُهَا أَنْ تُطَهَّرَ قَلْبَكَ مِنَ الْغِلِّ وَالْحَسَدِ وَالْغِشِّ অর্থাৎ, অন্তরকে হিংসা, বিদ্বেষ ও প্রতারণা থেকে পবিত্র করা।
২. وَالثَّانِي : أَنْ تُطَهَّرَ الْبَدَنَ مِنَ الذُّنُوبِ অর্থাৎ, দেহকে গুনাহমুক্ত করা।
৩. وَالثَّالِثُ : أَنْ تَغْسِلَ الْأَعْضَاءَ غَسْلًا سَابِعًا بِغَيْرِ إِسْرَافِ فِي الْمَاءِ অর্থাৎ, পানির অপচয় না করে উযূর প্রতিটি অঙ্গকে পূর্ণাঙ্গপে ধৌত করা।