📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জামাতে অবহেলাকারীর বার ধরনের শাস্তি

📄 জামাতে অবহেলাকারীর বার ধরনের শাস্তি


পক্ষান্তরে যে জামাতের সঙ্গে নামাযের ইহতেমাম করবে না, আল্লাহ তার উপর বার ধরনের শাস্তি চাপিয়ে দিবেন। তিনটি শাস্তি দুনিয়াতে, তিনটি মৃত্যুকালে, তিনটি কবরে এবং তিনটি কিয়ামতের দিন।

দুনিয়ার ৩টি হলো-
১. উপার্জন ও রিযিক থেকে বরকত তুলে নেয়া হবে, কোনো আমলই কবূল হবে না।
২. মুখমণ্ডল থেকে কল্যাণের চিহ্ন ছিনিয়ে নেয়া হবে।
৩. মানুষের অন্তরে তার প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে দেয়া হবে。

মৃত্যুর সময়ের ৩টি হলো-
১. পিপাসার্ত অবস্থায় তার রূহ বের করা হবে।
২. ক্ষুধার্ত অবস্থায় তার রূহ বের করা হবে।
৩. প্রচণ্ড যন্ত্রণাদায়ক অবস্থায় তার রূহ বের করা হবে。

কবরের ৩টি হলো-
১. মুনকার নাকীরের প্রশ্ন।
২. কবরের অন্ধকার।
৩. কবরের সঙ্কীর্ণতা。

কিয়ামতের ৩টি হলো-
১. হিসাবে কঠোরতা।
২. আল্লাহর ক্রোধ।
৩. আল্লাহর পক্ষ থেকে জাহান্নামের শাস্তি।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জুমআ ও জামাত ত্যাগকারীর শাস্তি

📄 জুমআ ও জামাত ত্যাগকারীর শাস্তি


عَنْ مُجَاهِدٍ، أَنَّ رَجُلًا جَاءَ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، فَقَالَ: يَا ابْنَ عَبَّاسٍ مَا تَقُولُ فِي رَجُلٍ يَقُومُ اللَّيْلَ وَيَصُومُ النَّهَارَ وَلَا يَشْهَدُ جُمْعَةً وَلَا يُصَلِّي فِي الْجَمَاعَةِ فَمَاتَ عَلَى ذَلِكَ فَأَيْنَ هُৱ? فَقَالَ: هُৱ فِي النَّارِ. فَاخْتِلَفَ إِلَيْهِ شَهْرًا يَسْأَلُهُ عَنْ ذَلِكَ وَهُৱ يَقُولُ هُৱ فِي النَّارِ.

হযরত মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণিত জনৈক ব্যক্তি হযরত ইবনে আব্বাস রাযি.-এর নিকট প্রশ্ন করল, হে ইবনে আব্বাস! এমন ব্যক্তির ব্যাপারে আপনার কী মত, যে রাতভর ইবাদত করে, দিনে রোযা রাখে কিন্তু জুমআর নামায পড়ে না এবং জামাতে শরীক হয় না এ অবস্থায় মৃত্যু হলে তার ঠিকানা কোথায় হবে? তিনি বললেন, সে জাহান্নামে যাবে। দীর্ঘ এক মাস যাবৎ উক্ত ব্যক্তি তার নিকট যাতায়াত করে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতো আর ইবনে আব্বাস প্রতিদিন একই উত্তর দিতেন।

عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ، أَنَّهُ قَالَ : لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يَبْقَى مِنَ الْإِسْلَامِ إِلَّا اسْمُهُ وَلَا مِنَ الْقُرْآنِ إِلَّا رَسْمُهُ وَمَسَاجِدُهُمْ يَوْمَئِذٍ عَامِرَةٌ، وَهِيَ مِنَ الْهُدَى خَرَابٌ، عُلَمَاؤُهُمْ يَوْمَئِذٍ شَرُّ عُلَمَاءَ تَحْتَ أَدِيمِ السَّمَاءِ، مِنْ عِنْدَهُمْ تَخْرُجُ الْفِتْنَةُ وَفِيهِمْ تَعُودُ.

হযরত আলী ইবনে আবু তালেব রাযি. বলেন, এমন সময় আসবে, যখন নাম ব্যতীত ইসলামের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। কুরআনের হরফ ছাড়া কিছুই বাকী থাকবে না। মসজিদগুলো সাজানো থাকলেও তাতে হেদায়েত থাকবে না। তখন আলেরা হবে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট। ফেতনা তাদের থেকে শুরু হবে, আর তাদের দিকেই তা ফিরে যাবে।

টিকাঃ
৬০২. শুআবুল ঈমান ২/৭৮৮; মেশকাতুল মাসাবীহ হাদীস-২৬৬। ইমাম বাইহাকী হাদীসটিকে মুনকাতী; আর আলবানী হাদীসটিকে অত্যন্ত জয়ীফ বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 নামায হাজত পূরণের সর্বোত্তম মাধ্যম

📄 নামায হাজত পূরণের সর্বোত্তম মাধ্যম


ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ বলেন, নামায হলো, আল্লাহর নিকট হাজত পূরণের সর্বোত্তম মাধ্যম। নামাযের মাধ্যমে পূর্ববর্তীদের বড় বড় বিপদ দূর হতো। কেউ বিপদাক্রান্ত হলে তৎক্ষণাৎ তিনি নামাযের আশ্রয় নিতেন। ইউনুস আ.-এর ঘটনা প্রসঙ্গে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন,

ফালওলা- আন্নাহু কা-না মিনাল মুসাব্বিহীনা লালাবিছা ফী বাত্বনিহী ইলা- ইয়াওমি ইউন আছুন (فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ لَلَبِثَ فِي بَطْنِهِ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ)

অর্থ: আর সে যদি আল্লাহর তাসবীহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হতো, তবে পুনরুত্থান দিন পর্যন্ত সে তার পেটেই থেকে যেত। হযরত ইবনে আব্বাস বলেন, আয়াতে তাসবীহ আদায়কারী মানে নামায আদায়কারী। তিনি ছিলেন, নামাযী বান্দা তাই আল্লাহ তাঁকে মাছের পেটে থেকে মুক্তি দিয়েছেন।

হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, সুখের সময়ের কাকুতি-মিনতি বিপদ থেকে মুক্তির কারণ। যদি বিপদ এসেও পড়ে, কাকুতি-মিনতির ফলে সে বিপদ থেকে রেহাই পাবে।

টিকাঃ
৬০৩. সূরা সাফফাত: আয়াত-১৪৩-১৪৪

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সর্বোত্তম নেয়ামত

📄 সর্বোত্তম নেয়ামত


রাসূল বলেন- مَا أُعْطِيَ عَبْدٌ عَطَاءً خَيْرًا مِنْ أَنْ يُؤْذَنَ لَهُ فِي رَكْعَتَيْنِ يُصَلِّيهِمَا. সর্বোত্তম কোনো দান বান্দাকে দেওয়া হয়নি, দু'রাকাআত নামায আদায়ের তাওফীক পাওয়া ছাড়া।

মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন রহ. বলেন দু'রাকাত নামায এবং জান্নাত এ দুটির একটি যদি গ্রহণ করতে বলা হয়, তবে আমি দু'রাকাআত নামায-ই গ্রহণ করব। কারণ, দু'রাকাআত নামায আল্লাহর সন্তুষ্টি পক্ষান্তরে জান্নাত হলো, আমার সন্তুষ্টি।

বর্ণিত আছে, আল্লাহ তা'আলা সাত আসমান সৃষ্টির পর তা ফেরেশতা দিয়ে ভরে দিলেন এবং তাদেরকে নামাযের নির্দেশ দিলেন। প্রতিটি মুহূর্তে তারা নামাযরত থাকেন। প্রতি আসমানের অধিবাসীদেরকে নির্দিষ্ট প্রকার ইবাদতের নির্দেশ দিলেন। এক আসমানের ফেরেশতারা কিয়ামত পর্যন্ত পায়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকবে, আরেক আসমানের ফেরেশতারা রুকূতে থাকবে, আরেক আসমানের ফেরেশতারা সেজদাতে থাকবে। আরেক দল আল্লাহর ভয়ে পাখায় ভর করে আছেন। ইল্লিয়্যীন ও আরশের অধিবাসীরা সর্বদা আরশ ঘিরে তাওয়াফ করে ও রবের প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ করছেন এবং জমিনের অধিবাসীদের জন্য ইস্তিগফার করে। আল্লাহ তা'আলা, মুমিনদের প্রতি মর্যাদা স্বরূপ ফেরেশতাগণের যাবতীয় ইবাদতকে নামাযে একত্রিত করেছেন এবং অতিরিক্তরূপে কুরআন তিলাওয়াত দান করেছেন, যা তারা নামাযে পাঠ করে। এজন্য তাদেরকে কৃতজ্ঞ হতে বলেছেন। কৃতজ্ঞতা হলো নামাযকে যাবতীয় শর্ত ও হুকুমসহ আদায় করা।

টিকাঃ
৬০৪. আয-যুহদ লিইবনে মুবারক: পৃ-৫০; জয়ীফুল জামে হাদীস-৫০২৯।

ফন্ট সাইজ
15px
17px