📄 নামাযের জন্য অপেক্ষার ফযীলত
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : أَكْرَمُ عِبَادِ اللَّهِ عَلَى اللَّهِ الَّذِينَ يُرَاعُونَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ قَالُوا : يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ الْمُؤَذِّنُونَ? قَالَ : كُلُّ مَنْ يُرَاعِي وَقْتَ الصَّلَاةَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ.
হযরত আবু দারদা রাযি. বলেন, চন্দ্র সূর্যের পর্যবেক্ষণ করা আল্লাহর নিকট সর্বাধিক সম্মানিত বান্দা। লোকেরা বললেন, এরা কারা? তিনি বললেন, মুয়াযযিনগণ ও প্রত্যেক ওই ব্যক্তি যারা নামাযের ব্যাপারে যত্নবান।
عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : الصَّلَاةُ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ تَبَارَكَ وَتَعَالَى، وَحُبُّ الْمَلَائِكَةِ، وَسُنَّةُ الْأَنْبِيَاءِ، وَنُورُ الْمَعْرِفَةِ وَأَصْلُ الْإِيمَانِ، وَإِجَابَةُ الدُّعَاءِ، وَقَبُولُ الْأَعْمَالِ، وَبَرَكَةٌ فِي الرِّزْقِ، وَرَاحَةٌ لِلْأَبْدَانِ وَسِلَاحٌ عَلَى الْأَعْدَاءِ، وَكَرَاهِيَةٌ لِلشَّيْطَانِ، وَشَفِيعٌ بَيْنَ صَاحِبِهَا وَبَيْنَ مَلَكِ الْمَوْتِ، وَسِرَاجٌ فِي قَبْرِهِ، وَفِرَاشٌ تَحْتَ جَنْبِهِ، وَجَوَابٌ مَعَ مُنْكَرٍ وَنَكِيرِ، وَمُؤْنِسٌ فِي قَبْرِهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ فَإِذَا كَانَتِ الْقِيَامَةُ، صَارَتِ الصَّلَاةُ ظِلًّا فَوْقَهُ وَتَاجًا عَلَى رَأْسِهِ، وَلِبَاسًا عَلَى بَدَنِهِ، وَنُورًا يَسْعَى بَيْنَ يَدَيْهِ، وَسِتْرًا بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّارِ، وَحُجَّةً لِلْمُؤْمِنِينَ بَيْنَ يَدَيِ الرَّبِّ تَبَارَكَ وَتَعَالَى وَثِقَلًا فِي الْمَوَازِينِ، وَجَوَازًا عَلَى الصِّرَاطِ، وَمِفْتَاحًا لِلْجَنَّةِ، لِأَنَّ الصَّلَاةَ تَسْبِيحٌ وَتَحْمِيدٌ وَتَقْدِيسٌ وَتَعْظِيمٌ وَقِرَاءَةٌ، وَدُعَاءٌ وَإِنَّ أَفْضَلَ الْأَعْمَالِ كُلِّهَا الصَّلَاةُ لِوَقْتِهَا.
জাফর ইবনে মুহাম্মাদ তার পিতা থেকে তিনি দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, নামায হলো, মহান আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি, ফেরেশতাদের ভালোবাসা, নবীগনের সুন্নত, মারিফাতের নূর ঈমানের মূল, দোয়া কবুলের উপকরণ, যাবতীয় আমল কবুল হওয়ার মাধ্যম, রিযিকের বরকত, দেহের প্রশান্তি, শত্রুর মোকাবেলায় অস্ত্র, শয়তানের অসন্তুষ্টি, নামাযীর ও মালাকুল মওতের মধ্যে মধ্যস্ততা, কবরের আলো, কবরের শয্যা, মুনকার নাকীরের প্রশ্নর উত্তর এবং কিয়ামত পর্যন্ত কবরের সঙ্গী, হাশর মাঠের ছায়া, মাথার মুকুট, দেহের পোশাক, সর্বদা সম্মুখে আলোদানকারী নূর, জাহান্নামের আগুনের মধ্যবর্তী পর্দা, আল্লাহর দরবারে প্রমাণ, মীযানের ভার, পুলসিরাতের টিকিট, এবং জান্নাতের চাবি, আল্লাহর তাসবীহ পাঠ, প্রশংসা জ্ঞাপন, আল্লাহর পবিত্রতা ও মহত্ত্ব বর্ণনা করা, কুরআন পাঠ ও দোয়া করা ইত্যাদির সমন্বিত এবাদত। সর্বশ্রেষ্ঠ আমল হলো, সময়মতো নামায আদায় করা。
টিকাঃ
৬৩৭. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৫১৮; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২০৭। হাদীসটি সহীহ
৬৩৮. সুনানে তিরমিযী হাদীস-১৯৮৬; মুসনাদে আহমাদ হাদীস-৪৭৯৯; ইমাম তিরমিযী রহ হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন।
📄 কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাযের হিসাব গ্রহণ করা হবে
عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : أَوَّلُ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الصَّلَاةُ، فَإِنْ كَانَ قَدْ أَتَمَّهَا هُونَ عَلَيْهِ الْحِسَابُ وَإِنْ كَانَ قَدِ انْتَقَضَ مِنْهَا شَيْئًا . قَالَ اللهُ تَعَالَى لِمَلَائِكَتِهِ : هَلْ لِعَبْدِي مِنْ تَطَوُّعِ فَأَتِمُوا الْفَرِيضَةَ مِنَ التَّطَوُّعِ وَإِنْ كَانَ تَمَّ جَرَى جَمِيعُ الْأَعْمَالِ عَلَى حِسَابِ ذَلِكَ.
হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণিত রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাযের হিসাব নেয়া হবে। যদি তা পূর্নাঙ্গরূপে পাওয়া যায়, তবে অন্যান্য হিসাব সহজ করে দেয়া হবে। আর যদি তাতে অপূর্ণতা দেখা দেয়, তাহলে আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদেরকে বলবেন, দেখ এ বান্দার নফল ইবাদত আছে কিনা। থাকলে নফল দ্বারা তা পূর্ণ করা হবে। যদি তা পূর্ণ হয়, তবে যাবতীয় আমল সে অনুসারে হিসাব নেয়া হবে।
টিকাঃ
৬০১. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৮৬৪; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৪১৩। হাদীসটি সহীহ।
📄 জামাতে নামাযের পাঁচ গুণ
বলা হয়, যে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত নিয়মিত জামাতের সঙ্গে আদায় করল, আল্লাহ তাকে পাঁচ প্রকার পুরষ্কার দান করবেন।
১. জীবনের সঙ্কট দূর করে দিবেন।
২. কবরের আযাব মাফ করে দিবেন।
৩. ডান হাতে আমলনামা দিবেন।
৪. বিদ্যুৎ চমকের মতো পুলসিরাত পার করে দিবেন।
৫. বিনা হিসাবে তাকে জান্নাত দিবেন।
📄 জামাতে অবহেলাকারীর বার ধরনের শাস্তি
পক্ষান্তরে যে জামাতের সঙ্গে নামাযের ইহতেমাম করবে না, আল্লাহ তার উপর বার ধরনের শাস্তি চাপিয়ে দিবেন। তিনটি শাস্তি দুনিয়াতে, তিনটি মৃত্যুকালে, তিনটি কবরে এবং তিনটি কিয়ামতের দিন।
দুনিয়ার ৩টি হলো-
১. উপার্জন ও রিযিক থেকে বরকত তুলে নেয়া হবে, কোনো আমলই কবূল হবে না।
২. মুখমণ্ডল থেকে কল্যাণের চিহ্ন ছিনিয়ে নেয়া হবে।
৩. মানুষের অন্তরে তার প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে দেয়া হবে。
মৃত্যুর সময়ের ৩টি হলো-
১. পিপাসার্ত অবস্থায় তার রূহ বের করা হবে।
২. ক্ষুধার্ত অবস্থায় তার রূহ বের করা হবে।
৩. প্রচণ্ড যন্ত্রণাদায়ক অবস্থায় তার রূহ বের করা হবে。
কবরের ৩টি হলো-
১. মুনকার নাকীরের প্রশ্ন।
২. কবরের অন্ধকার।
৩. কবরের সঙ্কীর্ণতা。
কিয়ামতের ৩টি হলো-
১. হিসাবে কঠোরতা।
২. আল্লাহর ক্রোধ।
৩. আল্লাহর পক্ষ থেকে জাহান্নামের শাস্তি।