📄 হাশরের ময়দানে তিন শ্রেণীর মর্যাদা
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস বলেছেন, যেদিন কিয়ামত কায়েম হবে। সকল সৃষ্টি তথা জিন, ইনসান ও সকল প্রাণীকে একই ময়দানে হাজির করা হবে। তারা কাতারবদ্ধ হয়ে হাঁটুতে ভর দিয়ে দাঁড়াবে। একজন ঘোষক ঘোষণা করবে-
১. আজ তোমরা জানতে পারবে কারা সম্মানিত। যারা সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসার করেছে তারা দাঁড়িয়ে যাও। অতঃপর তাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হবে।
২. অতঃপর দ্বিতীয়বার ঘোষণা করা হবে, আজ জানতে পারবে, কারা মর্যাদার অধিকারী। যাদের পার্শ্বাদেশ বিছানা থেকে আলাদা হতো তারাও দাঁড়িয়ে যাও।
৩. ভয় ও আশা নিয়ে যারা তাদের রবকে ডাকতো এবং আল্লাহ তাদেরকে যে রিযিক দান করেছেন, তা থেকে খরচ করত তারাও দাঁড়িয়ে যাও। তারা দাঁড়াবে। তাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হবে।
এরপর তৃতীয়বার ঘোষণা করা হবে, আজ জানতে পারবে, কারা মর্যাদাবান। যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর যিকির সালাত কায়েম ও যাকাত আদায় থেকে বিরত রাখত না তারা দাঁড়িয়ে যাও। তারা দাঁড়াবে। তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।
📄 হাশরের ময়দানে তিন শ্রেণীর লাঞ্ছনা
উক্ত তিন শ্রেণী যখন নিজেদের আবাস গ্রহণ করবে। তখন জাহান্নাম তার গর্দান বের করে দিবে। তার দেখার জন্য থাকবে দু'টি চোখ, বলার জন্য থাকবে জবান। সে বলবে, তিন শ্রেণীর জন্য আমাকে নিয়োজিত করা হয়েছে।
১. প্রতাপশালী দাম্ভিকের জন্য আমাকে নিয়োজিত করা হয়েছে। যেভাবে পাখি তিলের দানা ছোঁ মেরে নিয়ে যায়, সেভাবে কাতারগুলো থেকে সে এই শ্রেণীকে তুলে নিবে এবং জাহান্নামে ছুড়ে মারবে।
২. অতঃপর দ্বিতীয় শ্রেণীর উল্লেখ করে বলেন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দিয়েছে, তাদের জন্য আমাকে নিয়োজিত করা হয়েছে। এই বলে সে কাতারগুলো থেকে এই শ্রেণীকে ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নামে ছুঁড়ে মারবে।
৩. তৃতীয় শ্রেণীর উল্লেখ করে বলবে, চিত্রকরদের জন্য আমাকে নিয়োজিত করা হয়েছে। কাতারগুলো থেকে এ শ্রেণীকে তুলে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নামে ছুড়ে মারবে।
যখন উভয় দল থেকে তিনটি করে শ্রেণীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে, তখন আমলনামা উন্মুক্ত করা হবে, মাপদণ্ড স্থাপন করা হবে এবং হিসাবের জন্য সমস্ত মাখলুকাতকে ডাকা হবে।
📄 নামায ত্যাগী ব্যক্তি শয়তানতুল্য
বলা হয় যে, প্রথম দিকে ইবলীসকে চর্মচোখে দেখা যেত। এক ব্যক্তি তাকে সামনে পেয়ে বলল, হে আবূ মুররা, কি করলে আমি তোমার মতো হতে পারব? সে বলল, তুমি ধ্বংস হও, তোমার মত কেউ আমার কাছে এমন আবেদন করেনি। তুমি যেন কি জিজ্ঞেস করলে? সে বলল, আমি তোমার মত হতে চাই, এটি আমার আকাঙ্ক্ষা। ইবলীস তাকে বলল, যদি আমার মতো হতে চাও, তবে নামাযে অবহেলা কর এবং সত্য-মিথ্যা ও প্রতিজ্ঞার ব্যাপারে পরওয়া কর না। তখন লোকটি বলল, কিন্তু আমি তো আল্লাহকে এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে, কখনো নামায ত্যাগ করব না এবং মিথ্যা শপথ করব না। ইবলীস বলল, তোমার মতো কেউ কৌশলে আমার কাছ থেকে কিছু শিখে নিতে পারেনি। আমিও আল্লাহকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে, কখনো কাউকে উপদেশ দেব না।
📄 নামাযের জন্য অপেক্ষার ফযীলত
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : أَكْرَمُ عِبَادِ اللَّهِ عَلَى اللَّهِ الَّذِينَ يُرَاعُونَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ قَالُوا : يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ الْمُؤَذِّنُونَ? قَالَ : كُلُّ مَنْ يُرَاعِي وَقْتَ الصَّلَاةَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ.
হযরত আবু দারদা রাযি. বলেন, চন্দ্র সূর্যের পর্যবেক্ষণ করা আল্লাহর নিকট সর্বাধিক সম্মানিত বান্দা। লোকেরা বললেন, এরা কারা? তিনি বললেন, মুয়াযযিনগণ ও প্রত্যেক ওই ব্যক্তি যারা নামাযের ব্যাপারে যত্নবান।
عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : الصَّلَاةُ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ تَبَارَكَ وَتَعَالَى، وَحُبُّ الْمَلَائِكَةِ، وَسُنَّةُ الْأَنْبِيَاءِ، وَنُورُ الْمَعْرِفَةِ وَأَصْلُ الْإِيمَانِ، وَإِجَابَةُ الدُّعَاءِ، وَقَبُولُ الْأَعْمَالِ، وَبَرَكَةٌ فِي الرِّزْقِ، وَرَاحَةٌ لِلْأَبْدَانِ وَسِلَاحٌ عَلَى الْأَعْدَاءِ، وَكَرَاهِيَةٌ لِلشَّيْطَانِ، وَشَفِيعٌ بَيْنَ صَاحِبِهَا وَبَيْنَ مَلَكِ الْمَوْتِ، وَسِرَاجٌ فِي قَبْرِهِ، وَفِرَاشٌ تَحْتَ جَنْبِهِ، وَجَوَابٌ مَعَ مُنْكَرٍ وَنَكِيرِ، وَمُؤْنِسٌ فِي قَبْرِهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ فَإِذَا كَانَتِ الْقِيَامَةُ، صَارَتِ الصَّلَاةُ ظِلًّا فَوْقَهُ وَتَاجًا عَلَى رَأْسِهِ، وَلِبَاسًا عَلَى بَدَنِهِ، وَنُورًا يَسْعَى بَيْنَ يَدَيْهِ، وَسِتْرًا بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّارِ، وَحُجَّةً لِلْمُؤْمِنِينَ بَيْنَ يَدَيِ الرَّبِّ تَبَارَكَ وَتَعَالَى وَثِقَلًا فِي الْمَوَازِينِ، وَجَوَازًا عَلَى الصِّرَاطِ، وَمِفْتَاحًا لِلْجَنَّةِ، لِأَنَّ الصَّلَاةَ تَسْبِيحٌ وَتَحْمِيدٌ وَتَقْدِيسٌ وَتَعْظِيمٌ وَقِرَاءَةٌ، وَدُعَاءٌ وَإِنَّ أَفْضَلَ الْأَعْمَالِ كُلِّهَا الصَّلَاةُ لِوَقْتِهَا.
জাফর ইবনে মুহাম্মাদ তার পিতা থেকে তিনি দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, নামায হলো, মহান আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি, ফেরেশতাদের ভালোবাসা, নবীগনের সুন্নত, মারিফাতের নূর ঈমানের মূল, দোয়া কবুলের উপকরণ, যাবতীয় আমল কবুল হওয়ার মাধ্যম, রিযিকের বরকত, দেহের প্রশান্তি, শত্রুর মোকাবেলায় অস্ত্র, শয়তানের অসন্তুষ্টি, নামাযীর ও মালাকুল মওতের মধ্যে মধ্যস্ততা, কবরের আলো, কবরের শয্যা, মুনকার নাকীরের প্রশ্নর উত্তর এবং কিয়ামত পর্যন্ত কবরের সঙ্গী, হাশর মাঠের ছায়া, মাথার মুকুট, দেহের পোশাক, সর্বদা সম্মুখে আলোদানকারী নূর, জাহান্নামের আগুনের মধ্যবর্তী পর্দা, আল্লাহর দরবারে প্রমাণ, মীযানের ভার, পুলসিরাতের টিকিট, এবং জান্নাতের চাবি, আল্লাহর তাসবীহ পাঠ, প্রশংসা জ্ঞাপন, আল্লাহর পবিত্রতা ও মহত্ত্ব বর্ণনা করা, কুরআন পাঠ ও দোয়া করা ইত্যাদির সমন্বিত এবাদত। সর্বশ্রেষ্ঠ আমল হলো, সময়মতো নামায আদায় করা。
টিকাঃ
৬৩৭. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৫১৮; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২০৭। হাদীসটি সহীহ
৬৩৮. সুনানে তিরমিযী হাদীস-১৯৮৬; মুসনাদে আহমাদ হাদীস-৪৭৯৯; ইমাম তিরমিযী রহ হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন।