📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সুরক্ষিত দুর্গ

📄 সুরক্ষিত দুর্গ


ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, একবার উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. জনৈক সাহাবীকে মিসরে কা'বার গিলাফের কাপড় আনার জন্য প্রেরণ করলেন। মিশরের কোনো এলাকায় উক্ত প্রতিনিধি যাত্রা বিরতি করলেন। পাশেই ছিল জনৈক পাদ্রীর গির্জা। তাঁর চেয়ে বড় পণ্ডিত আর কেউ ছিল না। প্রতিনিধি পাদ্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করে কিছু জ্ঞানার্জন করতে চাইলো। তিনি গির্জায় এসে দরজা খোলার জন্য বললেন, কিন্তু দীর্ঘ সময় তাঁকে দাঁড়িয়ে থাকতে হলো। পরে তিনি গির্জায় প্রবেশ করে পাদ্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করলেন। তাঁকে নানান প্রশ্ন করে জ্ঞানার্জন করলেন এবং অভিভূত হলেন। তিনি তাঁকে গির্জার বাইরে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার কথা বললেন। পাদ্রী বললেন, যখন আপনি গির্জা অভিমুখে আসছিলেন, তখনি আমরা আপনাকে দেখেছি। আপনাকে দেখে বাদশাহর মতো মনে হচ্ছিলো। তাই আমরা ভয় পেয়েছিলাম। আমরা আপনাকে দরজায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রেখেছিলাম, কারণ, আল্লাহ মূসা আ. কে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, হে মুসা, যখন কোনো সুলতানকে ভয় করবে, তখন উযূ করবে এবং পরিবারকেও উযূ করার আদেশ দেবে। কারণ, যে উযূ করে, সে ভয় থেকে নিরাপদে থাকে। তাই আমি ও আমরা সকলে উযূ করা পর্যন্ত আপনাকে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে করিয়ে রেখেছি। এরপর আমরা প্রার্থনা করেছি এবং আপনার ব্যাপারে নিজেদেরকে নিরাপদ ভেবে দরজা খুলেছি。

ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, যথাযথ সম্মানের সঙ্গে উযূ করা কর্তব্য। আর উজুকারী মনে মনে এর মাধ্যমে আল্লাহর সাক্ষাতের প্রত্যাশা রাখবে। ফলে সমস্ত গুনাহ থেকে তাওবা করে নেবে। কারণ, আল্লাহ তা'আলা পানি দ্বারা অঙ্গ ধৌত করাকে গুনাহ ধৌত করার আলামত বানিয়েছেন। উযূর শুরুতে আল্লাহর নাম নিবে। কুলি ও নাকে পানি দেয়ার সময় মুখকে গীবত ও মিথ্যা বলার গুনাহ থেকে ধৌত করার নিয়ত করবে, চেহারাকে হারামের প্রতি দৃষ্টি দানের গুনাহ থেকে মুক্ত করার নিয়ত করবে। এভাবে সমস্ত অঙ্গ ধৌত করার সময় পাপ থেকে মুক্তির নিয়ত করবে। আর উযূ সমাপ্ত হলে আল্লাহর কাছে দোয়া করবে এবং তাসবীহ পাঠ করবে।

হাদীসে এসেছে, বান্দা উযূ শেষে যখন এই দোয়া পড়ে- سُبحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ তখন তা মোহর মেরে সীল করে আরশের নীচে রেখে দেয়া হয়, তা অক্ষত থাকে এবং কিয়ামতের দিন তার হাতে তা সোপর্দ করা হয়।

عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : إِذَا فَرَغَ أَحَدُكُمْ مِنْ وُضُوئِهِ فَقَالَ : أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فُتِحَتْ لَهُ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابِ فِي الْجَنَّةِ يَدْخُلُ مِنْ أَيُّهَا شَاءَ.

হযরত উমর বিন খাত্তাব রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কেউ যখন উযূ শেষে নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করে- أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ তখন তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ইচ্ছামত যে কোনো একটি দরজা দিয়ে সে তাতে প্রবেশ করবে。

عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: خَمْسٌ مَنْ جَاءَ بِهِنَّ يَوْমَ الْقِيَامَةِ مَعَ الْإِيمَانِ دَخَلَ الْجَنَّةَ، مَنْ حَافَظَ عَلَى الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ فِي مَوَاقِيتِهِنَّ، وَوُضُوئِهِنَّ وَرُكُوعِهِنَّ وَسُجُودِهِنَّ، وَمَنْ أَدَّى الزَّكَاةَ مِنْ مَالِهِ طَيِّبَةً بِهَا نَفْسُهُ ، ثُمَّ قَالَ: وَأَيْمُ اللهِ لَا يَفْعَلُ ذَلِكَ إِلَّا مُؤْمِنٌ وَمَنْ صَامَ رَمَضَانَ وَحَجَّ الْبَيْتِ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلًا، وَأَدَّى الْأَمَانَةَ. قَالُوا: يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ وَمَا الْأَمَانَةُ? قَالَ: الْغُسْلُ مِنَ الْجَنَابَةِ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَمْ يَأْتَمِنَ ابْنَ آدَمَ عَلَى شَيْءٍ مِنْ دِينِهِ غَيْرِهِ

হযরত আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, পাঁচটি বিষয় এমন যেগুলো নিয়ে কিয়ামতের দিন উপস্থিত হলে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যথা-
১. যে ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ে যত্নবান হবে, সঠিকভাবে উযূ করবে, রুকু সেজদা করবে।
২. যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট চিত্তে যাকাত আদায় করবে। একথা বলে তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ, কেবল মুমিনই তাতে সক্ষম হবে।
৩. যে রমযানে রোযা রাখবে।
৪. যে সাধ্য হলে হজ্ব করবে।
৫. আমানত আদায় করবে।
লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আবু দারদা! আমানত কী? তিনি বললেন, জানাবাত থেকে ফরজ গোসল করা। আল্লাহ তা'আলা এটা ব্যতীত অন্য কোনো জিনিস আদম সন্তানের নিকট আমানত রাখেননি।

عَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ مَنْ أَتَمَّ الْوُضُوءَ كَمَا أَمَرَهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ فَالصَّلَوَاتُ الْمَكْتُوبَاتُ كَفَّارَاتٌ لِمَا بَيْنَهُنَّ

হযরত উসমান রাযি. বলেন, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী উযূ করে নামায আদায় করে, পাঁচ ওয়াক্ত নামায তার মধ্যবর্তী গুনাহের জন্য কাফফারা স্বরূপ।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِبِلَالٍ عِنْدَ صَلَاةِ الْفَجْرِ: حَدَّثَنِي بِأَزْكَى عَمَلٍ عَمِلْتَهُ فِي الْإِسْلَامِ، فَإِنِّي سَمِعْتُ اللَّيْلَ خَشْفَ نَعْلَيْكَ فِي الْجَنَّةِ. فَقَالَ: مَا عَمِلْتُ عَمَلًا فِي الْإِسْلَامِ، أَزْكَى عِنْدِي مِنْ أَنِّي لَمْ أَتَطَهَّرْ طُهُورًا فِي سَاعَةٍ مِنْ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ إِلَّا صَلَّيْتُ لِرَبِّي أَدْنَى مَا قُدَّرَ لِي وَفِي آخِرِ مَا أَحْدَثْتُ إِلَّا أَوْجَدْتُ الطَّهَارَةَ وَمَا تَطَهَّرْتُ إِلَّا صَلَّيْتُ رَكْعَتَيْنِ.

হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ হযরত বেলাল রাযি. কে ফজরের সালাতের সময় বললেন, তুমি তোমার সর্বাধিক পবিত্র আমলের কথা আমাকে বল, যা তুমি ইসলামে আসার পর করেছ। কারণ, আজ রাতে আমি জান্নাতে তোমার জুতার আওয়াজ শুনতে পেয়েছি। তিনি বললেন, দিনে ও রাতে যখনই আমি পবিত্র উযূ করেছি, আমার রবের তরে সর্বনিম্ন দুরাকাআত নামায আদায় করেছি।

টিকাঃ
৫৮২. আল-আমাল, নাসায়ী হাদীস-৮১; সহীহুল জামে'-৬১৭১। হাদীসটি সহীহ।
৫৮৩. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৩৪; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-১৬৯।
৫৮৪. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৪২৯; শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।
৫৮৫. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৩১; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৪০৬।
৫৮৬. সহীহ বুখারী: হাদীস-১১৪৯, সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৪৫৮।

ফন্ট সাইজ
15px
17px