📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে উজু ও নামাযের তালিম

📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে উজু ও নামাযের তালিম


عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِي، قَالَ : قُلْتُ لِعَمْرِو بْنِ عَنْبَسَةَ : لِأَيِّ شَيْءٍ تُدْعَى رَابِعَ الْإِسْلَامِ? قَالَ : إِنِّي كُنْتُ أَرَى النَّاسَ عَلَى الضَّلَالَةِ وَلَا أَرَى الْأَوْثَانَ شَيْئًا، ثُمَّ سَمِعْتُ رَجُلًا يُخْبِرُ أَخْبَارًا بِمَكَّةَ، فَرَكِبْتُ رَاحِلَتِي حَتَّى قَدِمْتُ مَكَّةَ، فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُسْتَخْفٍ، وَإِذَا قَوْمِي عَلَيْهِ حِوَاءٌ ، فَتَلَطَّفْتُ لَهُ، فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ فَقُلْتُ : مَنْ أَنْتَ? فَقَالَ : أَنَا نَبِيٌّ. فَقُلْتُ : وَمَا النَّبِيُّ ? قَالَ : رَسُولُ اللَّهِ، فَقُلْتُ اللَّهُ أَرْسَلَكَ? قَالَ : نَعَمْ فَقُلْتُ : بِأَيِّ شَيْءٍ أَرْسَلَكَ? قَالَ : بِأَنْ نُوَحِّدَ اللهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا، وَكَسْرِ الْأَوْثَانِ وَصِلَةِ الرَّحِمِ. فَقُلْتُ لَهُ : وَمَنْ مَعَكَ عَلَى هُذَا الْأَمْرِ? قَالَ: حُرٌّ وَعَبْدٌ وَإِذَا مَعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَبِلَالٌ. قُلْتُ: فَإِنِّي أَتَّبِعُكَ? قَالَ : إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ ذَلِكَ يَوْمَكَ هَذَا, وَلَكِنْ ارْجِعْ إِلَى أَهْلِكَ فَإِذَا سَمِعْتَ بِأَنِّي قَدْ ظَهَرْتُ فَالْحَقْ بي. فَرَجَعْتُ إِلَى أَهْلِي وَقَدْ أَسْلَمْتُ قَالَ عَمْرُو بْنِ عَنْبَسَةَ : وَلَقَدْ رَأَيْتُنِي فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ وَأَنَا رَابِعُ الْإِسْلَامِ যানি লাম ইয়াকুন ফী যালিকাল ওয়াক্বতি মিনাল মুসলিমিনা ইল্লা আরবাআতান (يَعْنِي لَمْ يَكُنْ فِي ذَلِكَ الْوَقْتِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ إِلَّا أَرْبَعَةً), فَخَرَجَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُهَاجِرًا إِلَى الْمَدِينَةِ، فَرَكِبْتُ رَاحِلَتِي حَتَّى قَدِمْتُ عَلَى الْمَدِينَةِ فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَعْرِفُنِي? قَالَ : نَعَمْ أَلَسْتَ الَّذِي أَتَيْتَنِي بِمَكَّةَ? قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ، عَلَّمْنِي مِمَّا عَلَّمَكَ اللهُ تَعَالَى، قَالَ : إِذَا صَلَّيْتَ الصُّبْحَ فَاقْصُرْ عَنِ الصَّلَاةِ، حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، فَإِذَا طَلَعَتْ فَلَا تُصَلِّ حَتَّى تَرْتَفِعَ، فَإِنَّهَا تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَيِ الشَّيْطَانِ، وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكَافِرُ، فَإِذَا ارْتَفَعَتْ قَدْرَ رُمْحٍ أَوْ رُمْحَيْنِ، فَصَلِّ فَإِنَّ الصَّلَاةَ مَشْهُودَةٌ مَحْضُورَةٌ حَتَّى يَسْتَقْبِلَ الرُّمْحُ لِلظَّلِّ، ثُمَّ اقْصُرْ عَنِ الصَّلَاةِ فَإِنَّهَا حِينَئِذٍ تَسْجُرُ جَهَنَّمَ، فَإِذَا فَاءَ الْفَيْءُ فَأْتِ الصَّلَاةَ مَشْهُودَةٌ مَحْضُورَةٌ حَتَّى تُصَلِّيَ الْعَصْرَ, فَإِذَا صَلَّيْتَ الْعَصْرَ فَاقْصُرْ عَنِ الصَّلَاةِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَإِنَّهَا تَغْرُبُ بَيْنَ قَرْنِي الشَّيْطَانِ، وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ. قَالَ : قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَخْبِرْنِي عَنِ الْوُضُوءِ. قَالَ : مَا مِنْكُمْ مِنْ رَجُلٍ يَقْرَبُ وَضُوءَهُ ثُمَّ يَتَمَضْمَضُ وَيَسْتَنْشِقُ وَيَسْتَنْبُرُ إِلَّا خَرَجَتْ خَطَايَا فِيهِ وَخَيَاشِيمِهِ مَعَ الْمَاءِ، حِينَ يَسْتَنْثِرُ ثُمَّ يَغْسِلُ وَجْهَهُ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ تَعَالَى، إِلَّا خَرَجَتْ خَطَايَا وَجْهِهِ مَعَ الْمَاءِ. ثُمَّ يَغْسِلُ يَدَيْهِ إِلَى الْمَرَافِقِ، كَمَا أَمَرَهُ اللهُ تَعَالَى إِلَّا خَرَجَتْ خَطَايَا يَدَيْهِ مِنْ أَطْرَافِ أَنَامِلِهِ مَعَ الْمَاءِ ثُمَّ يَغْسِلُ رَأْسَهُ كَمَا أَمَرَهُ اللهُ تَعَالَى إِلَّا خَرَجَتْ خَطَايَا رَأْسِهِ مِنْ أَطْرَافِ شَعْرِهِ مَعَ الْمَاءِ، ثُمَّ يَغْسِلُ قَدَمَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ كَمَا أَمَرَهُ اللهُ تَعَالَى، إِلَّا خَرَجَتْ خَطَايَا قَدَمَيْهِ مِنْ أَطْرَافِ أَصَابِعِهِ مَعَ الْمَاءِ ، ثُمَّ يَقُومُ فَيَحْمَدُ اللهَ تَعَالَى وَيُثْنِي عَلَيْهِ بِالَّذِي هُৱ لَهُ أَهْلٌ ثُمَّ يَرْكَعُ رَكْعَتَيْنِ إِلَّا انْصَرَفَ مِنْ ذُنُوبِهِ كَيَوْمٍ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ.

হযরত আবূ উমামা বাহিলী বলেন, আমি আমর বিন আম্বাসাহ রাযি. কে বললাম, আপনাকে কেন ইসলামের চতুর্থ ব্যক্তি বলা হয়? তিনি বললেন, জাহেলিয়াতের (প্রাগৈসলামিক) যুগ থেকেই আমি ধারণা করতাম যে, লোকেরা পথভ্রষ্টতার উপর রয়েছে এবং এরা কোনো ধর্মেই নেই, আর ওরা প্রতিমা পূজা করছে। অতঃপর আমি এক ব্যক্তির ব্যাপারে শুনলাম যে, তিনি মক্কায় অনেক আজব আজব খবর বলছেন। সুতরাং আমি আমর সওয়ারীর উপর বসে তাঁর কাছে এসে দেখলাম যে, তিনি আল্লাহর রাসূল, তিনি গুপ্তভাবে (ইসলাম প্রচার করছেন), আর তাঁর সম্প্রদায় (মুশরিকরা) তাঁর প্রতি (দুর্ব্যবহার করে) দুঃসাহসিকতা প্রদর্শন করছে। সুতরাং আমি বিচক্ষণতার সাথে কাজ নিলাম। পরিশেষে আমি মক্কায় তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম। অতঃপর আমি তাঁকে বললাম, 'আপনি কে?' তিনি বললেন, আমি নবী।

আমি বললাম, 'নবী কী?' তিনি বললেন, আমাকে মহান আল্লাহ প্রেরণ করেছেন। আমি বললাম, 'কী নির্দেশ দিয়ে প্রেরণ করেছেন?' তিনি বললেন, আত্মীয়তার বন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখা, মূর্তি ভেঙ্গে ফেলা, আল্লাহকে একক উপাস্য মানা এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করার নির্দেশ দিয়ে। আমি বললাম, 'এ কাজে আপনার সঙ্গে কে আছে?' তিনি বললেন, একজন স্বাধীন মানুষ এবং একজন কৃতদাস। তখন তাঁর সঙ্গে আবু বকর ও বিলাল (রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা) ছিলেন। আমি বললাম, 'আমিও আপনার অনুগত।' তিনি বললেন, তুমি এখন এ কাজ কোনো অবস্থাতেই করতে পারবে না। তুমি কি আমার অবস্থা ও লোকদের অবস্থা দেখতে পাও না? অতএব তুমি (এখন) বাড়ি ফিরে যাও। অতঃপর যখন তুমি আমার জয়ী ও শক্তিশালী হওয়ার সংবাদ পাবে, তখন আমার কাছে এসো।

সুতরাং আমি আমার পরিবার পরিজনের নিকট চলে গেলাম এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ (পরিশেষে) মদিনা চলে এলেন, আর আমি স্বপরিবারেই ছিলাম। অতঃপর আমি খবরাখবর নিতে আরম্ভ করলাম এবং যখন তিনি মদিনায় আগমন করলেন, তখন আমি (তাঁর ব্যাপারে) লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলাম। অবশেষে আমার পরিবারের কিছু লোক মদিনায় এল। আমি বললাম, 'ঐ লোকটার অবস্থা কি, যিনি (মক্কা ত্যাগ করে) মদিনা এসেছেন?' তারা বলল, 'লোকেরা তার দিকে ধাবমান। তাঁর সম্প্রদায় তাঁকে হত্যা করার ইচ্ছা করেছিল; কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হয়নি।'

অতঃপর আমি মদিনা এসে তাঁর খিদমতে হাযির হলাম। তারপর আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে চিনতে পারছেন?' তিনি বললেন, হ্যাঁ, তুমি তো ঐ ব্যক্তি, যে মক্কায় আমার সাথে সাক্ষাৎ করেছিল। আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা'আলা আপনাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন এবং যা আমার অজানা- তা আমাকে বলুন? আমাকে নামায সম্পর্কে বলুন?' তিনি বললেন, তুমি ফজরের নামায পড়। তারপর সূর্য বরাবর উঁচু হওয়া পর্যন্ত বিরত থাকো। কারণ, তা শয়তানের দু' শিং-এর মধ্যভাগে উদিত হয় (অর্থাৎ, এ সময় শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে) এবং সে সময় কাফেররা তাকে সিজদা করে।

পুনরায় তুমি নামায পড়। কেন না, নামাযে ফেরেশতা সাক্ষী ও উপস্থিত হন, যতক্ষণ না ছায়া সমান হয়ে যায়। অতঃপর নামায থেকে বিরত হও। কেন না, তখন জাহান্নামের আগুন উস্কানো হয়। অতঃপর যখন ছায়া বাড়তে আরম্ভ করে, তখন নামায পড়। কেন না, এ নামাযে ফেরেশতা সাক্ষী ও উপস্থিত হন। পরিশেষে তুমি আসরের নামায পড়। অতঃপর সূর্য ডোবা পর্যন্ত নামায পড়া থেকে বিরত থাকো। কেন না, সূর্য শয়তানের দু' শিঙ্গের মধ্যে অস্ত যায় (অর্থাৎ, এ সময় শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে) এবং তখন কাফেররা তাকে সিজদাহ করে।

পুনরায় আমি বললাম, 'হে আল্লাহর নবী! আপনি আমাকে উযূ সম্পর্কে বলুন?' তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে যে কেউ উযূর পানির নিকটে গিয়ে (হাত ধোয়ার পর) কুলি করে এবং নাকে পানি নিয়ে ঝেড়ে পরিষ্কার করে, তার চেহারা, তার মুখ এবং নাকের গুনাহসমূহ ঝরে যায়। অতঃপর সে যখন আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী তার চেহারা ধোয়, তার চেহারার পাপরাশি তার দাড়ির শেষ প্রান্তে পানির সাথে ঝরে যায়। অতঃপর সে যখন তার হাত দু'খানি কনুই পর্যন্ত ধোয়, তখন তার হাতের পাপরাশি তার আঙ্গুলের পানির সাথে ঝরে যায়। অতঃপর সে যখন তার মাথা মাসাহ করে, তখন তার মাথার পাপরাশি চুলের ডগার পানির সাথে ঝরে যায়। অতঃপর সে যখন তার পা দু'খানি টাকনু পর্যন্ত ধৌত করে, তখন তার পায়ের পাপরাশি তার আঙ্গুলের পানির সাথে ঝরে যায়। অতঃপর সে যদি দাঁড়িয়ে গিয়ে নামায পড়ে, আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা করে, তিনি যার যোগ্য এবং অন্তরকে আল্লাহ তা'আলার জন্য খালি করে, তাহলে সে ঐ দিনকার মত নিষ্পাপ হয়ে বেরিয়ে আসে, যেদিন তার মা তাকে প্রসব করেছিল।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللَّهُ تَعَالَى بِهِ الْخَطَايَا وَتُرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتُ. قَالُوا : بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ فِي السَّبَرَاتِ، وَالصَّبْرُ عَلَى الْمَكَارِهِ، وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ، وَانْتِظَارُ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصَّلَاةِ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ যানি আল হিসনু মিনাল আদুউই (يَعْنِي الْحِصْنَ مِنَ الْعَدُوِّ) ওয়া ইয়ুক্বালু (وَيُقَالُ) : যানি ফাদ্বলুর রিবাত্বিল্লাযী ইউরাবিতু ফী সাবীলিল্লা-হি তা’আলা (يَعْنِي فَضْلَ الرِّبَاطِ الَّذِي يُرَابِطُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ تَعَالَى).

আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি কি তোমাদের এমন আমলের সন্ধান দিব না, যা দ্বারা আল্লাহ তা'য়ালা গুনাহসমূহ দূর করে দিবেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন? তা হলো, কষ্ট অবস্থায়ও পূর্ণরূপে উযূ করা, মসজিদের দিকে অধিক পদচালনা করা, আর এক সালাত (নামায)-এরপর অন্য সালাত (নামায)-এর অপেক্ষায় থাকা। এটাই রিবাত, এটাই রিবাত, এটাই রিবাত। অর্থাৎ, ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানা পাহারা দেয়ার ন্যায় সওয়াব এতে রয়েছে।

টিকাঃ
৫৭৭. সহীহ মুসলিম: হাদীস-৮৩২; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-১২৭৭।
৫৭৮. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৫১; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-৫১।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সুরক্ষিত দুর্গ

📄 সুরক্ষিত দুর্গ


ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, একবার উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. জনৈক সাহাবীকে মিসরে কা'বার গিলাফের কাপড় আনার জন্য প্রেরণ করলেন। মিশরের কোনো এলাকায় উক্ত প্রতিনিধি যাত্রা বিরতি করলেন। পাশেই ছিল জনৈক পাদ্রীর গির্জা। তাঁর চেয়ে বড় পণ্ডিত আর কেউ ছিল না। প্রতিনিধি পাদ্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করে কিছু জ্ঞানার্জন করতে চাইলো। তিনি গির্জায় এসে দরজা খোলার জন্য বললেন, কিন্তু দীর্ঘ সময় তাঁকে দাঁড়িয়ে থাকতে হলো। পরে তিনি গির্জায় প্রবেশ করে পাদ্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করলেন। তাঁকে নানান প্রশ্ন করে জ্ঞানার্জন করলেন এবং অভিভূত হলেন। তিনি তাঁকে গির্জার বাইরে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার কথা বললেন। পাদ্রী বললেন, যখন আপনি গির্জা অভিমুখে আসছিলেন, তখনি আমরা আপনাকে দেখেছি। আপনাকে দেখে বাদশাহর মতো মনে হচ্ছিলো। তাই আমরা ভয় পেয়েছিলাম। আমরা আপনাকে দরজায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রেখেছিলাম, কারণ, আল্লাহ মূসা আ. কে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, হে মুসা, যখন কোনো সুলতানকে ভয় করবে, তখন উযূ করবে এবং পরিবারকেও উযূ করার আদেশ দেবে। কারণ, যে উযূ করে, সে ভয় থেকে নিরাপদে থাকে। তাই আমি ও আমরা সকলে উযূ করা পর্যন্ত আপনাকে দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে করিয়ে রেখেছি। এরপর আমরা প্রার্থনা করেছি এবং আপনার ব্যাপারে নিজেদেরকে নিরাপদ ভেবে দরজা খুলেছি。

ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, যথাযথ সম্মানের সঙ্গে উযূ করা কর্তব্য। আর উজুকারী মনে মনে এর মাধ্যমে আল্লাহর সাক্ষাতের প্রত্যাশা রাখবে। ফলে সমস্ত গুনাহ থেকে তাওবা করে নেবে। কারণ, আল্লাহ তা'আলা পানি দ্বারা অঙ্গ ধৌত করাকে গুনাহ ধৌত করার আলামত বানিয়েছেন। উযূর শুরুতে আল্লাহর নাম নিবে। কুলি ও নাকে পানি দেয়ার সময় মুখকে গীবত ও মিথ্যা বলার গুনাহ থেকে ধৌত করার নিয়ত করবে, চেহারাকে হারামের প্রতি দৃষ্টি দানের গুনাহ থেকে মুক্ত করার নিয়ত করবে। এভাবে সমস্ত অঙ্গ ধৌত করার সময় পাপ থেকে মুক্তির নিয়ত করবে। আর উযূ সমাপ্ত হলে আল্লাহর কাছে দোয়া করবে এবং তাসবীহ পাঠ করবে।

হাদীসে এসেছে, বান্দা উযূ শেষে যখন এই দোয়া পড়ে- سُبحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ তখন তা মোহর মেরে সীল করে আরশের নীচে রেখে দেয়া হয়, তা অক্ষত থাকে এবং কিয়ামতের দিন তার হাতে তা সোপর্দ করা হয়।

عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ : إِذَا فَرَغَ أَحَدُكُمْ مِنْ وُضُوئِهِ فَقَالَ : أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فُتِحَتْ لَهُ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابِ فِي الْجَنَّةِ يَدْخُلُ مِنْ أَيُّهَا شَاءَ.

হযরত উমর বিন খাত্তাব রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কেউ যখন উযূ শেষে নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করে- أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ তখন তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। ইচ্ছামত যে কোনো একটি দরজা দিয়ে সে তাতে প্রবেশ করবে。

عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: خَمْسٌ مَنْ جَاءَ بِهِنَّ يَوْমَ الْقِيَامَةِ مَعَ الْإِيمَانِ دَخَلَ الْجَنَّةَ، مَنْ حَافَظَ عَلَى الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ فِي مَوَاقِيتِهِنَّ، وَوُضُوئِهِنَّ وَرُكُوعِهِنَّ وَسُجُودِهِنَّ، وَمَنْ أَدَّى الزَّكَاةَ مِنْ مَالِهِ طَيِّبَةً بِهَا نَفْسُهُ ، ثُمَّ قَالَ: وَأَيْمُ اللهِ لَا يَفْعَلُ ذَلِكَ إِلَّا مُؤْمِنٌ وَمَنْ صَامَ رَمَضَانَ وَحَجَّ الْبَيْتِ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلًا، وَأَدَّى الْأَمَانَةَ. قَالُوا: يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ وَمَا الْأَمَانَةُ? قَالَ: الْغُسْلُ مِنَ الْجَنَابَةِ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَمْ يَأْتَمِنَ ابْنَ آدَمَ عَلَى شَيْءٍ مِنْ دِينِهِ غَيْرِهِ

হযরত আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, পাঁচটি বিষয় এমন যেগুলো নিয়ে কিয়ামতের দিন উপস্থিত হলে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যথা-
১. যে ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ে যত্নবান হবে, সঠিকভাবে উযূ করবে, রুকু সেজদা করবে।
২. যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট চিত্তে যাকাত আদায় করবে। একথা বলে তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ, কেবল মুমিনই তাতে সক্ষম হবে।
৩. যে রমযানে রোযা রাখবে।
৪. যে সাধ্য হলে হজ্ব করবে।
৫. আমানত আদায় করবে।
লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আবু দারদা! আমানত কী? তিনি বললেন, জানাবাত থেকে ফরজ গোসল করা। আল্লাহ তা'আলা এটা ব্যতীত অন্য কোনো জিনিস আদম সন্তানের নিকট আমানত রাখেননি।

عَنْ عُثْمَانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ مَنْ أَتَمَّ الْوُضُوءَ كَمَا أَمَرَهُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ فَالصَّلَوَاتُ الْمَكْتُوبَاتُ كَفَّارَاتٌ لِمَا بَيْنَهُنَّ

হযরত উসমান রাযি. বলেন, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী উযূ করে নামায আদায় করে, পাঁচ ওয়াক্ত নামায তার মধ্যবর্তী গুনাহের জন্য কাফফারা স্বরূপ।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِبِلَالٍ عِنْدَ صَلَاةِ الْفَجْرِ: حَدَّثَنِي بِأَزْكَى عَمَلٍ عَمِلْتَهُ فِي الْإِسْلَامِ، فَإِنِّي سَمِعْتُ اللَّيْلَ خَشْفَ نَعْلَيْكَ فِي الْجَنَّةِ. فَقَالَ: مَا عَمِلْتُ عَمَلًا فِي الْإِسْلَامِ، أَزْكَى عِنْدِي مِنْ أَنِّي لَمْ أَتَطَهَّرْ طُهُورًا فِي سَاعَةٍ مِنْ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ إِلَّا صَلَّيْتُ لِرَبِّي أَدْنَى مَا قُدَّرَ لِي وَفِي آخِرِ مَا أَحْدَثْتُ إِلَّا أَوْجَدْتُ الطَّهَارَةَ وَمَا تَطَهَّرْتُ إِلَّا صَلَّيْتُ رَكْعَتَيْنِ.

হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ হযরত বেলাল রাযি. কে ফজরের সালাতের সময় বললেন, তুমি তোমার সর্বাধিক পবিত্র আমলের কথা আমাকে বল, যা তুমি ইসলামে আসার পর করেছ। কারণ, আজ রাতে আমি জান্নাতে তোমার জুতার আওয়াজ শুনতে পেয়েছি। তিনি বললেন, দিনে ও রাতে যখনই আমি পবিত্র উযূ করেছি, আমার রবের তরে সর্বনিম্ন দুরাকাআত নামায আদায় করেছি।

টিকাঃ
৫৮২. আল-আমাল, নাসায়ী হাদীস-৮১; সহীহুল জামে'-৬১৭১। হাদীসটি সহীহ।
৫৮৩. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৩৪; সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-১৬৯।
৫৮৪. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৪২৯; শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।
৫৮৫. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৩১; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস-৪০৬।
৫৮৬. সহীহ বুখারী: হাদীস-১১৪৯, সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৪৫৮।

ফন্ট সাইজ
15px
17px