📄 লওহে মাহফুজের প্রথম লিপি
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا ، أَنَّهُ قَالَ : أَوَّلُ شَيْءٍ كَتَبَهُ اللَّهُ تَعَالَى فِي اللَّوْحِ الْمَحْفُوظِ أَنِّي أَنَا اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا وَمُحَمَّدٌ رَسُولِي، مَنِ اسْتَسْلَمَ لِقَضَائِي وَصَبَرَ عَلَى بَلَائِي وَشَكَرَ لِي نَعْمَائِي، كَتَبْتُهُ صِدِّيقًا وَبَعَثْتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ الصِّدِّيقِينَ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَسْلِمْ لِقَضَائِي وَلَمْ يَصْبِرْ عَلَى بَلَائِي وَلَمْ يَشْكُرْ لِنَعْمَانِي فَلْيَتَّخِذْ إِلَهًا سِوَائِي.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, সর্বপ্রথম যা লওহে মাহফুজে আল্লাহ লিপিবদ্ধ করেছেন, তা হলো, নিশ্চয় আমি আল্লাহ, আমি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ আমার রাসূল। যে ব্যক্তি আমার ফায়সালা মেনে নেবে, বিপদে ধৈর্যধারণ করবে এবং আমার নেয়মাতসমূহের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবে আমি তাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবো এবং কিয়ামতের দিন সিদ্দীকিনের সঙ্গে তার হাশর করব। আর যে আমার ফয়সালা মেনে নেবে না, বিপদে ধৈর্যধারণ করবে না এবং আমার নিয়ামতসমূহের শুকর আদায় করবে না, সে যেন আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো উপাস্য গ্রহণ করল।
📄 ধৈর্যহীনতার ফলে বিপদ বৃদ্ধি পায়
হযরত ইবনুল মুবারক রহ. বলেন, প্রথমে বিপদ একটিই থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তি অস্থিরতা প্রকাশ করলে তা দুটিতে পরিণত হয়। অর্থাৎ, আক্রান্ত হওয়ার বিপদ এবং সওয়াব থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিপদ। দ্বিতীয়টি প্রথমটি থেকেও কঠিন।
📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : مَنْ أَصَابَتْهُ مُصِيبَةٌ فَلْيَذْكُرْ مُصِيبَتَهُ بِي، فَإِذَا نَظَرَ إِلَى مَا نَزَلَ بِي هَانَتْ عَلَيْهِ الْمَصَائِبُ.
হযরত আলী ইবনে আবু তালেব রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, যে মুসীবতে আক্রান্ত হয়, সে যেন আমার মৃত্যুর কারণে যে মসীবত এসেছে, তা স্মরণ করে। কারণ, তা সবচেয়ে বড় মুসীবত। রাসূল-এর মৃত্যুই ছিল তখনকার জীবিত সকলের জন্য সবচেয়ে বড় মুসীবত।
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ كَرَّমَ اللهُ وَجْهَهُ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: مَنِ اشْتَاقَ إِلَى الْجَنَّةِ سَارَعَ إِلَى الْخَيْرَاتِ، وَمَنْ أَشْفَقَ مِنَ النَّارِ لَهَا عَنِ الشَّهَوَاتِ، وَمَنْ رَاقَبَ الْمَوْتَ تَرَكَ اللَّذَاتِ، وَمَنْ زَهِدَ فِي الدُّنْيَا هَانَتْ عَلَيْهِ الْمَصَائِبُ.
হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। অপর হাদীসে এসেছে রাসূল ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি জান্নাতের প্রতি আগ্রহী হয়, সে যেন দ্রুত ভালোকাজে আত্মনিয়োগ করে এবং যে জাহান্নামকে ভয় করে, সে যেন তার প্রবৃত্তির চাহিদার প্রতি অমনোযোগী হয়। আর যে মৃত্যুর ধ্যান করে সে পার্থিব স্বাদ পরিত্যাগ করে। যে ব্যক্তি দুনিয়া বিমুখ হয় তার জন্য বিপদ সহজ হয়ে যায়。
টিকাঃ
৫৭৫. আয-যুহদ লিইবনে মুবারক: ২/৭৭; এস্তেযকার: ২/৬০৪; সহীহ আল জামে হাদীস-৩৪৭১।
৫৭৬. আল-মাজরুহীন: ১/৪৮৬; আল-কামেল: ৩/৪৫৮; হাফেজ সুয়ূতী ও শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে জয়ীফ বলেছেন। কেউ কেউ হাদীসটিকে জালও বলেছেন [আল-মাওযুয়াত: ৩/৪৪৩]।
📄 ছয়টি উপদেশ
বর্ণিত আছে, কোনো গ্রন্থে ছয়টি উপদেশ বাণী উল্লেখ ছিলো। যথা-
১. মঁন আসবা-হা হাযীনান আলান্দুনইয়া আসবা-হা সা-খিত্বান আলাইয়্যাল্লা-হ (مَنْ أَصْبَحَ حَزِينًا عَلَى الدُّنْيَا أَصْبَحَ سَاخِطًا عَلَى اللهِ)। অর্থাৎ, যে দুনিয়ার কারণে দুঃখ ভারাক্রান্ত হয় সে যেন আল্লাহর প্রতি অসন্তোষ দেখাচ্ছে।
২. ইয়াশকূ রব্বাহু মঁন শাকা- মুসীবাতান নাযালাত বিহি ফাইননামা (يَشْكُو رَبَّهُ مَنْ شَكَا مُصِيبَةً نَزَلَتْ بِهِ فَإِنَّمَا)। অর্থাৎ, যে বিপদের অনুযোগ করে সে যেন তার রবকেই অভিযুক্ত করে।
৩. মঁন লা- ইউবা-লী মিন আইয়্যি বা-বিন আতা-হু রিযক্বুহু লা- ইউবা-লী মিন আইয়্যি আবওয়া-বিন নারি আদখালাল্লাহ (مَنْ لَا يُبَالِي مِنْ أَيِّ بَابٍ أَتَاهُ رِزْقُهُ لَا يُبَالِي مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ النَّارِ أَدْخَلَهُ اللهُ)। অর্থাৎ, যে এটার চিন্তা করে না যে, কোন পথে তার রিযিক আসবে, তার এ চিন্তাও নেই যে, আল্লাহ তাকে কোন পথে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।
৪. মঁন আতা- খাত্বীআতান অহুওয়া ইয়াজ্হাকু দাখালাল নারা অহুওয়া ইয়াবকী (مَنْ أَتَى خَطِيئَةً وَهُৱ يَضْحَكُ دَخَلَ النَّارَ وَهُৱ يَبْكِي)। অর্থাৎ, যে গুনাহ করে আর হাসে, কান্না করতে করতে তাকে জাহান্নামে যেতে হবে।
৫. মঁন কা-না আকবারা হাম্মিহি আশ্ শাহওয়া-তি নাযাআ’ল্লা-হু খওফাল আ-খিরাতি মিন ক্বলবিহি (مَنْ كَانَ أَكْبَرُ هَمِّهِ الشَّهَوَاتِ نَزَعَ اللَّهُ خَوْفَ الْآخِرَةِ مِنْ قَلْبِهِ)। অর্থাৎ, যার দুনিয়া ও প্রবৃত্তিচারণই প্রধান লক্ষ্য হয়, আল্লাহ তার অন্তর থেকে আখেরাতের ভয় উঠাইয়া নেন।
৬. মঁন তাওয়া-দ্বাআ লিগানিইয়িন লিআজলিলি দুনইয়া-হু আসবা-হা ওয়াল ফাক্বরু বাইনা আইনাইহি (مَنْ تَوَاضَعَ لِغَنِيٍّ لِأَجْلِ دُنْيَاهُ أَصْبَحَ وَالْفَقْرُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ)। অর্থাৎ, যে দুনিয়ার উদ্দেশ্যে কোন ধনীর সামনে বিনয় দেখাবে, সে সর্বদা দরিদ্রতাই অনুভব করবে।