📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 পাঁচটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য

📄 পাঁচটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য


হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণিত। আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে ভুল করা কিংবা ভুলে যাওয়ার কারণে পাকড়াও করবেন না। তদ্রূপ যাতে তোমাদেরকে বাধ্য করা হয় বা যাতে তোমরা সক্ষম নও, তাতেও পাকড়াও করবেন না। প্রয়োজনের সময় আল্লাহ তোমাদের জন্য এমন অনেক কিছু হালাল করে দিয়েছেন, যা ইতঃপূর্বে তোমাদের জন্য হারাম ছিল এবং তিনি তোমাদেরকে পাঁচটি বিষয় দান করেছেন-

১. আপন অনুগ্রহে তিনি তোমাদেরকে দুনিয়া দান করেছেন। এরপর কার্জস্বরূপ তিনি তোমাদেরকে তা থেকে চেয়েছেন। সুতরাং তোমরা তাকে সন্তুষ্টচিত্তে যা দান করবে, তিনি তাকে দশগুণ থেকে সাতশতগুণ পর্যন্ত কিংবা আরও বাড়িয়ে দিবেন।

২. তিনি তোমাদের থেকে তোমাদের মরজির খেলাফ কিছু কেড়ে নেন। অতঃপর তার বিনিময়ে তোমাদেরকে রহমত ও সালাত দান করেন। ‘তাদের উপর রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে সালাতসমূহ ও রহমত এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত’ (أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ)।

৩. কুরআনে এসেছে- লয়িন শাকারতুম লাআযীদান্নাকুম ওয়ালা-ইন কাফারতুম ইন্না আযা-বী লাশাদীদ (لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ) অর্থ : যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে আমি তোমাদেরকে বাড়িয়ে দেব। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও (কুফুরী কর), তবে আমার আযাব কঠোর।

৪. তোমাদের কেউ যদি পাপ করতে করতে কুফুর পর্যন্তও পৌঁছে যায়, এরপর তাওবা করে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন এবং তাকে আপন করে নিবেন। আল্লাহ বলেছেন- ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদেরকে ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে’ (إِنَّ اللهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ)।

৫. আল্লাহ তোমাদেরকে এমন একটি বিষয় দান করেছেন, তা যদি জিবরাঈল ও মিকাঈলকে দান করতেন, তবে তাদের কাছে তা হতো মূল্যবান। কুরআনে এসেছে- উদঊনী আসতাজিব লাকুম (ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ); অর্থ : তোমরা আমাকে আহ্বান কর, আমি তোমাদের আহ্বানে সাড়া দেব।

টিকাঃ
৫৬৯. সূরা বাকারা: আয়াত-১৫৭
৫৭০. সূরা ইবরাহিম: আয়াত-৭
৫৭১. সূরা বাকারা: আয়াত-২২২
৫৭২. সূরা হা-মীম: আয়াত-৬০

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সন্তানের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ

📄 সন্তানের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ


عَنْ يَحْيَى بْنِ جَابِرٍ الطَّائِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ، قَالَ : مَا قَدَّمَ رَجُلٌ شَيْئًا بَيْنَ يَدَيْهِ أَحَبُّ إِلَيْهِ، وَلَا هُৱ أَعْظَمُ أَجْرًا مِنْ وَلَدٍ قَدَّمَهُ بَيْنَ يَدَيْهِ ابْنِ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ سَنَةً. وَيُقَالُ : الصَّبْرُ عِنْدَ الصَّدْمَةِ الْأوَّلَى، وَإِذَا مَضَى عَلَيْهِ وَقْتُ يَصْبِرْ إِنْ شَاءَ أَوْ أَبَى. فَالْعَاقِلُ مَنْ صَبَرَ بِأَوَّلِ مَرَّةٍ .

হযরত ইয়াহইয়া বিন জাবের তাঈ রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, মানুষ নিজের জন্য যা প্রেরণ করেছে, তার মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় এবং সবচেয়ে বেশি সওয়াবের বিষয় হলো, বার বছরের সন্তান, যাকে সে আগে প্রেরণ করেছে।

বলা হয়, বিপদে আক্রান্ত হওয়ার প্রথম মুহূর্তগুলোতেই ধৈর্যধারণ করতে হবে। কারণ, কিছু সময় পার হয়ে গেলে তো এমনিই ধৈর্য এসে যাবে, ইচ্ছা থাকুক বা না থাকুক। সুতরাং বুদ্ধিমান সে, যে প্রথম মুহূর্তেই ধৈর্যধারণ করে।

ঘটনা বর্ণিত আছে। আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারকের সন্তানের মৃত্যুর পর জনৈক পৌত্তলিক তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। সে তাকে বলল, মুর্খ যা পাঁচ দিন পর করবে বুদ্ধিমানের তা প্রথম দিনেই করা উচিত। ইবনুল মুবারক বললেন, তার থেকে এ মূল্যবান কথাটি লিখে রাখ।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : مَنْ عَزَّى مُصَابًا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ.

আবদুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, যে বিপদে বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে সান্ত্বনা দিবে, তাকে বিপদগ্রস্তের সমপরিমাণ সওয়াব প্রদান করা হবে।

টিকাঃ
৫৭৩. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১০৭৩; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-১৬০২। অধিকাংশ হাদীসবেত্তার মতে, হাদীসটি মুনকার [লিসানুল মিযান: ১/২৯০; তাহযীবুত তাহযীব লি-ইয়াকুব: ৭/৩৪৬]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ধৈর্যের স্তর তিনটি

📄 ধৈর্যের স্তর তিনটি


আন আলী আনিন্নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা আন্নাহু ক্বলা: আস্ সবরু ছালা-ছাহ: সবরুন আলাত তওয়াআতি, সবরুন আলান মুসীবাতী, সবরুন আলান মায়াসিয়াতী. ফামান সাবারা আলান মায়াসিয়াতী হাত্তা ইয়ারুদ্দাহা বিহুসনি আযা-ইহ্বা, কাতাবাল্লা-হু লাহু ছালা-ছামিয়াতা দরাজাতিন, ওয়ামান সাবারা আলাত তওয়াআতি কাতাবাল্লা-হু লাহু সিত্তা মিয়াতা দরাজাতিন ওয়ামান সাবারা আলান মুসীবাতী কাতাবাল্লা-হু লাহু তিসআ’মিয়াতা দরাজাহ.

হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল বলেন, ধৈর্যের স্তর তিনটি। ১. আল্লাহর আনুগত্যে ধৈর্যধারণ। ২. বিপদে ধৈর্যধারণ। ৩. মন্দকাজ থেকে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে ধৈর্যধারণ। যে ব্যক্তি বিপদে সাহসিকতার সাথে ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহ তার তিন শত মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। যে ব্যক্তি ভালো কাজে ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহ তার জন্য ছয় শত মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। আর যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ তার নয় শত মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।

টিকাঃ
৫৭৪. আস-সবর লি-ইবনে আবিদ দুনিয়া : হাদীস-২৪; আল-ফিরদাউস : হাদীস-৩৮৪৬। হাফেজ ইবনে রজব বলেন, হাদীসটি প্রমাণিত নয় [নুরুল একতেবাস: ৩/১৫৯]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 লওহে মাহফুজের প্রথম লিপি

📄 লওহে মাহফুজের প্রথম লিপি


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا ، أَنَّهُ قَالَ : أَوَّلُ شَيْءٍ كَتَبَهُ اللَّهُ تَعَالَى فِي اللَّوْحِ الْمَحْفُوظِ أَنِّي أَنَا اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا وَمُحَمَّدٌ رَسُولِي، مَنِ اسْتَسْلَمَ لِقَضَائِي وَصَبَرَ عَلَى بَلَائِي وَشَكَرَ لِي نَعْمَائِي، كَتَبْتُهُ صِدِّيقًا وَبَعَثْتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ الصِّدِّيقِينَ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَسْلِمْ لِقَضَائِي وَلَمْ يَصْبِرْ عَلَى بَلَائِي وَلَمْ يَشْكُرْ لِنَعْمَانِي فَلْيَتَّخِذْ إِلَهًا سِوَائِي.

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, সর্বপ্রথম যা লওহে মাহফুজে আল্লাহ লিপিবদ্ধ করেছেন, তা হলো, নিশ্চয় আমি আল্লাহ, আমি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ আমার রাসূল। যে ব্যক্তি আমার ফায়সালা মেনে নেবে, বিপদে ধৈর্যধারণ করবে এবং আমার নেয়মাতসমূহের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করবে আমি তাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবো এবং কিয়ামতের দিন সিদ্দীকিনের সঙ্গে তার হাশর করব। আর যে আমার ফয়সালা মেনে নেবে না, বিপদে ধৈর্যধারণ করবে না এবং আমার নিয়ামতসমূহের শুকর আদায় করবে না, সে যেন আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো উপাস্য গ্রহণ করল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px