📄 মুসীবতে ধৈর্যধারণের বিশাল সওয়াব
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, বুদ্ধিমান ব্যক্তির কর্তব্য হলো, মুসীবতের সওয়াবের চিন্তা করা, যাতে মুসীবত সহজ হয়ে যায়। কারণ, মুসীবতের সওয়াব এ পরিমাণ যে, বান্দা যখন কিয়ামতের দিন এর সওয়াব দেখবে, তখন সে এ আকাঙ্ক্ষা করবে যে, দুনিয়াতে যদি সকল নিকটাত্মীয় ও সন্তান-সন্ততি তার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করত, তাহলেই ভালো হতো। যে ব্যক্তি মুসীবতে আক্রান্ত হওয়ার পরও ধৈর্যধারণ করবে এবং সওয়াবের আশায় কষ্ট সহ্য করবে, আল্লাহ তা'আলা তার জন্য বিশাল প্রতিদানের ওয়াদা দিয়েছেন। কুরআনে এসেছে-
وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ ۗ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ * الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ * أُولَٰئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ ۖ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ
অর্থ: আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। যারা তাদেরকে যখন বিপদাক্রান্ত করে, তখন বলে, নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। তাদের উপরই রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে সালাতসমূহ ও রহমত এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত।
রবের পক্ষ থেকে সালাত/রহমত তিন ধরনের। যথা- ১. আনুগত্যের তাওফীক। ২. গুনাহ থেকে বাঁচার তাওফিক। ৩. মাগফিরাত লাভের তাওফিক।
টিকাঃ
৫৬৭. সূরা বাকারা: আয়াত-১৫৬-১৫৭
📄 ইন্নালিল্লাহ বলা এ উম্মতের বৈশিষ্ট্য
عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، أَنَّهُ قَالَ : لَمْ يَكُنِ الِاسْتِرْجَاعُ إِلَّا لِهَذِهِ الْأُمَّةِ. وَلَوْ أُعْطِيَ لِأَحَدٍ لَأُعْطِيَ يَعْقُوبُ. أَلَا تَرَى أَنَّهُ قَالَ : يَا أَسَفًا عَلَى يُوسُفَ.
হযরত সাঈদ বিন জুবায়ের রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইন্নালিল্লাহ বলা কেবল উম্মতে মুহাম্মদীরই বৈশিষ্ট্য। অন্যথায় ইয়াকুব আ. ইউসুফ আ.কে হারিয়ে বিপদ আক্রান্ত হয়ে ইয়া- আসাফা আলা ইউসুফ (يَا أَسَفًا عَلَى يُوسُفَ) (অর্থ : হায় আফসোস ইউসুফের জন্য) বলতেন না।
📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুত্রের ইন্তিকাল
রূবিয়া আন্নাহু লাম্মা মাতা ইবরাহিমু ইবনু রাসুলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা, বাকা- রাসুলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ওয়াদারফত আইনা-হু ফাক্বলা লাহহু আব্দুর রহমান: ইয়া রাসুলাল্লাহ তাবকি? আওয়ালাম তুনহা আনিল বুকা? ক্বলা: লা-, অলা-কিন নুহিতু আনিন নওহি ওয়াল গিনা-ই আন ছাওতাইনি আহমাক্বাইনি ফা-জিরাইনি, ওয়া আন খামশিল ওজূহি, ওয়া শাক্কিল জুয়ূবি ওয়া রান্নাতীশ শয়ত্বা-নি, ওয়া আন ছাওতিল গিনা-ই ফাইননাহু লাইবুওঁ ওয়া লাহওউঁ, ওয়া মাজা-মীরিশ শয়ত্বা-নি। অলা-কিন হাযিহি রাহমাতুন জাআলাহাল্লা-হু তা’আলা ফী কুলুবির রুহামা-ই, ওয়ামাল লা- ইয়ারহাম লা- ইউরহাম। ছুম্মা ক্বলা: আল ক্বলবু ইয়াহযানু ওয়াল আইনু তাদমউ, অলা- নাকুলু মা ইউসখিতুর রাব্বা তা’আলা.
বর্ণিত আছে, রাসূল ﷺ-এর পুত্র ইবরাহীমের মৃত্যুর পর তিনি কাঁদতে লাগলেন। তখন তার দু'চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছিল। এটা দেখে হযরত আব্দুর রহমান রাযি. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনিও কাঁদছেন? আপনি তো কাঁদতে নিষেধ করেছেন! তিনি বললেন না। বরং বিলাপ করতে ও গান গাইতে নিষেধ করেছি, যা অর্থহীন ও অশালীন স্বরে গাওয়া হয়। আর নিষেধ করেছি মুখে আঁচড় কাটা, কাপড় ছেড়া শয়তানী কান্না এবং গানের আওয়াজ থেকে। কারণ, এগুলো তামাশা এবং শয়তানের বাঁশি। আর এ কান্না তো রহমত, যা আল্লাহ তা'আলা দয়াবানদের অন্তরে দান করেছেন। যে দয়া করে না, সে দয়া পাবেও না। অতঃপর রাসূল ﷺ বললেন, কলব দুঃখ ভারাক্রান্ত হবে, চোখ অশ্রুসিক্ত হবে। কিন্তু আমরা এমন কিছু বলবনা, যা আল্লাহ তা'আলার অসন্তুষ্টির কারণ হয়।
টিকাঃ
৫৬৮. সহীহ বুখারী: হাদীস-১৩০৩; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-১০০৫।
📄 পাঁচটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য
হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণিত। আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে ভুল করা কিংবা ভুলে যাওয়ার কারণে পাকড়াও করবেন না। তদ্রূপ যাতে তোমাদেরকে বাধ্য করা হয় বা যাতে তোমরা সক্ষম নও, তাতেও পাকড়াও করবেন না। প্রয়োজনের সময় আল্লাহ তোমাদের জন্য এমন অনেক কিছু হালাল করে দিয়েছেন, যা ইতঃপূর্বে তোমাদের জন্য হারাম ছিল এবং তিনি তোমাদেরকে পাঁচটি বিষয় দান করেছেন-
১. আপন অনুগ্রহে তিনি তোমাদেরকে দুনিয়া দান করেছেন। এরপর কার্জস্বরূপ তিনি তোমাদেরকে তা থেকে চেয়েছেন। সুতরাং তোমরা তাকে সন্তুষ্টচিত্তে যা দান করবে, তিনি তাকে দশগুণ থেকে সাতশতগুণ পর্যন্ত কিংবা আরও বাড়িয়ে দিবেন।
২. তিনি তোমাদের থেকে তোমাদের মরজির খেলাফ কিছু কেড়ে নেন। অতঃপর তার বিনিময়ে তোমাদেরকে রহমত ও সালাত দান করেন। ‘তাদের উপর রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে সালাতসমূহ ও রহমত এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত’ (أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ)।
৩. কুরআনে এসেছে- লয়িন শাকারতুম লাআযীদান্নাকুম ওয়ালা-ইন কাফারতুম ইন্না আযা-বী লাশাদীদ (لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ) অর্থ : যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে আমি তোমাদেরকে বাড়িয়ে দেব। আর যদি অকৃতজ্ঞ হও (কুফুরী কর), তবে আমার আযাব কঠোর।
৪. তোমাদের কেউ যদি পাপ করতে করতে কুফুর পর্যন্তও পৌঁছে যায়, এরপর তাওবা করে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন এবং তাকে আপন করে নিবেন। আল্লাহ বলেছেন- ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদেরকে ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে’ (إِنَّ اللهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ)।
৫. আল্লাহ তোমাদেরকে এমন একটি বিষয় দান করেছেন, তা যদি জিবরাঈল ও মিকাঈলকে দান করতেন, তবে তাদের কাছে তা হতো মূল্যবান। কুরআনে এসেছে- উদঊনী আসতাজিব লাকুম (ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ); অর্থ : তোমরা আমাকে আহ্বান কর, আমি তোমাদের আহ্বানে সাড়া দেব।
টিকাঃ
৫৬৯. সূরা বাকারা: আয়াত-১৫৭
৫৭০. সূরা ইবরাহিম: আয়াত-৭
৫৭১. সূরা বাকারা: আয়াত-২২২
৫৭২. সূরা হা-মীম: আয়াত-৬০