📄 সুলাইমান আ.-এর সন্তানের মৃত্যু
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : تُوُفِّيَ ابْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ عَلَيْهِمَا الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ، فَوَجَدَ عَلَيْهِ وَجْدًا شَدِيدًا، فَأَتَاهُ مَلَكَانِ فَجَلَسَا بَيْنَ يَدَيْهِ بِزِيَّ الْخُصُومِ فَقَالَ أَحَدُهُمَا: بَذَرْتُ بَدْرًا وَلَمْ أَسْتَحْصِدْهُ، فَمَرَّ بِهِ هَذَا فَأَفْسَدَهُ، فَقَالَ لِلْآخَرِ: مَا تَقُولُ? قَالَ: أَخَذْتُ الْجَادَّةَ فَأَتَيْتُ عَلَى زَرْعٍ فَرَمَيْتُ يَمِينًا وَشِمَالًا، فَإِذَا الطَّرِيقُ عَلَيْهِ، فَقَالَ سُلَيْمَانُ: وَلِمَ بَذَرْتَ عَلَى الطَّرِيقِ? أَمَا عَلِمْتَ أَنْ لَا بُدَّ لِلنَّاسِ مِنَ الطَّرِيقِ? فَقَالَ لَهُ الْمَلَكُ : وَلِمَ تَحْزَنْ عَلَى وَلَدِكَ? أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الْمَوْতَ سَبِيلُ الْآخِرَةِ?
হযরত আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত সুলাইমান আ.-এর সন্তান মৃত্যুবরণ করলে তিনি অত্যন্ত দুঃখ পেলেন। তখন দু'জন ফেরেশতা মানুষের আকৃতিতে বিবাদ মেটানোর জন্য তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন। একজন বললেন, আমি ফসল বুনেছিলাম, ফসল না তুলতেই এ লোক আমার ফসল নষ্ট করে দিয়েছে। তখন সুলাইমান আ. অপর ব্যক্তিকে বললেন, তোমার বক্তব্য কী? সে বলল, আমি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম, দেখতে পেলাম রাস্তাতেই ফসল বুনে রাখা হয়েছে। ফলে ডানে বামে ফেলে দিয়ে আমি রাস্তা করে নিলাম। সুলাইমান আ. তখন প্রথম ব্যক্তিকে বললেন, রাস্তায় কেন বীজ বুনেছ? তুমি জান না যে, মানুষ চলাচলের জন্য রাস্তা রাখার প্রয়োজন? তখন ফেরেশতা তাকে বললেন, তবে আপনি কেন সন্তানের জন্য দুঃখ করছেন? আপনি কি জানেন না যে, মৃত্যু হলো, আখেরাতের পথ?
বর্ণিত আছে, সুলাইমান আ. এরপর আল্লাহর নিকট তাওবা করলেন এবং এরপর কখনোই সন্তানদের ব্যাপারে কাতর হননি।
📄 হযরত ইবনে আব্বাস রাযি.-এর কন্যার ইন্তিকাল
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، أَنَّهُ نَعَى إِلَيْهِ ابْنَةٌ لَهُ وَهُৱ فِي السَّفَرِ فَاسْتَرْجَعَ ثُمَّ قَالَ : عَوْرَةٌ سَتَرَهَا اللهُ وَمُؤْنَةٌ كَفَاهَا اللهُ، وَأَجْرٌ قَدْ سَاقَهُ اللَّهُ إِلَيَّ ثُمَّ نَزَلَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَالَ : قَدْ صَنَعْنَا مَا أَمَرَنَا اللهُ تَعَالَى بِهِ. قَالَ: اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। সফরের থাকা অবস্থায় তিনি কন্যার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ইন্নালিল্লাহ পড়লেন। অতঃপর বললেন, এটি একটি রাখার বস্তু, যাকে আল্লাহ ঢেকে দিয়েছেন। এটি একটি দায়িত্ব, যা আল্লাহ হালকা করে দিয়েছেন। এটি এক প্রতিদানের বিষয়, যা আল্লাহ আমার দিকে পাঠিয়েছেন। অতঃপর তিনি সওয়ারী থেকে নেমে দু'রাকাআত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, আমি তাই করেছি, কুরআনে আল্লাহ আমাদেরকে যে নির্দেশ দিয়েছেন- ওয়াসতাইনু বিসসবরি ওয়াস্সলা-হ (وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ) অর্থ : তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর।
টিকাঃ
৫৬৩. সূরা বাকারা: আয়াত-১৫৩
📄 মসিবতে করণীয়
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : لِيَسْتَرْجِعْ أَحَدُكُمْ فِي شِسْعِ نَعْلِهِ إِذَا تَقَطَّعَ، فَإِنَّهَا مِنَ الْمَصَائِبِ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, এমনকি জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলেও যেন তোমাদের প্রত্যেকে ইন্নালিল্লাহ পাঠ করে। কারণ, এটিও একটি বিপদ।
টিকাঃ
৫৬৪. আল-মাজরুহীন লিইবনে হিব্বান ২/৩৮২; আমালুল ইয়াওমি ওয়াল্লাইলা লিইবনেস সুন্নী: হাদীস-৩৫২। হাফেজ ইবনে হাজার ও বুসিরী প্রমুখ হাদীসটির সনদটিকে জয়ীফ বলেছেন [ইতহাফ: ৬/১৫৮]
📄 মুসীবতে ইন্নালিল্লাহ পড়া এবং প্রতিদানের জন্য দোয়া করা
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ، قَالَ : مَنْ أُصِيبَ بِمُصِيبَةٍ فَقَالَ كَمَا أَمَرَ اللهُ تَعَالَى : إِنَّا للهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ (البقرة : ১৫৬) اللَّهُمَّ اؤْجُرْنِي في مُصِيبَتِي، وَاعْقُبْنِي خَيْرًا مِنْهَا فَعَلَ اللهُ ذَلِكَ بِهِ . فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا لَمَّا تُوُفِّيَ أَبُو سَلَمَةَ : قُلْتُهُ، ثُمَّ قُلْتُ : وَمَنْ لِي مِثْلُ أَبِي سَلَمَةَ? فَأَعْقَبَهَا اللَّهُ تَعَالَى بِرَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَসَلَّمَ فَتَزَوَّجَهَا.
উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালামা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসীবতে আক্রান্ত হয়ে আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন (ইব্রাহিম : ১৫৬) (অর্থ : নিশ্চয় আমরা আল্লাহর এবং আমরা তার নিকটই প্রত্যাবর্তন করব) পড়ে নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করবে- আল্লাহুম্মা আজুরনী ফী মুসীবাতী, ওয়া আক্বিবনী খাইরাম মিনহা (اللَّهُمَّ اؤْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَاعْقُبْنِي خَيْرًا مِنْهَا) অর্থ: হে আল্লাহ, আমার মুসীবতের প্রতিদান দান করুন এবং তার থেকে উত্তম বিনিময় দান করুন।
তাহলে আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করবেন। হযরত উম্মে সালামা রাযি. বলেন, আমার স্বামী আবূ সালামার মৃত্যু হলে আমি উক্ত দোয়া পড়লাম আর মনে মনে ভাবলাম, আবূ সালামার মতো স্বামী কোথায় পাবো? পরবর্তীতে আল্লাহ তা'আলা তাঁর রাসূলের মাধ্যমে আমাকে উত্তম বিনিময় দান করলেন এবং রাসূল ﷺ-এর সাথে বিয়ে দিলেন।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَসَلَّমَ، أَنَّهُ قَالَ : الضَّرْبُ عَلَى الْفَخِذِ عِنْدَ الْمُصِيبَةِ يُحْبِطُ الْأَجْرَ، وَالصَّبْرُ عِنْدَ الصَّدْمَةِ الْأوَّلَى يُعَظَّمُ الْأَجْرَ، وَعِظَمُ الْأَجْرِ عَلَى قَدْرِ الْمُصِيبَةِ، وَمَنِ اسْتَرْجَعَ بَعْدَ الْمُصِيبَةِ جَدَّدَ اللَّهُ لَهُ أَجْرَهَا كَيَوْمٍ أُصِيبَ بِهَا.
হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, মুসীবতের সময় উরুতে হাত মারা প্রতিদান নষ্ট করে দেয়। আর মুসীবতের শুরুতেই ধৈর্যধারণের প্রতিদান বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়া হয়। বড় মুসীবতের সাথে বড় প্রতিদান দেওয়া হয়। মুসীবতে আপতিত হওয়ার অনেক পরও যে ইন্নালিল্লাহ পাঠ করে, আল্লাহ তাকে নতুন মুসীবতে আপতিত হওয়ার সময় পাঠ করার সওয়াব দান করবেন।
টিকাঃ
৫৬৫. সহীহ মুসলিম: হাদীস-৯১৯; সুনানে আবু দাউদ: হাদীস-৩১১৫।
৫৬৬. সহীহ বুখারী: হাদীস-১৩৮২; সহীহ মুসলিম: হাদীস-৯২৬; আল-ফিরদাউস: হাদীস-৩৯০৩।