📄 আল্লাহর নিকট হযরত মূসা আ.-এর প্রশ্ন
ফকীহ আবুল লাইস সমরকন্দী রহ. বলেন, আমার পিতা হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, মূসা আ. আপন রবকে প্রশ্ন করলেন, হে রব! অসুস্থকে দেখতে গেলে তার সওয়াব কী? আল্লাহ বললেন, আমি তাকে এমন নিষ্পাপ করে দেই, তার মা তাকে জন্ম দেওয়ার সময় যেমন নিষ্পাপ ছিল।
মূসা আ. বললেন, হে রব! মৃতের জানাযার সঙ্গে গমনকারীর সওয়াব কী? আল্লাহ বললেন, আমি তার মৃত্যুর কালে কয়েকজন ফেরেশতা প্রেরণ করব, যারা নিশানা নিয়ে তার সঙ্গে প্রথমে কবর পর্যন্ত, অতঃপর হাশর পর্যন্ত গমন করবে। মূসা বললেন, হে রব! বিপদগ্রস্তকে সান্ত্বনা দিলে সওয়াব কী? আল্লাহ বললেন, আমি তাকে সেদিন আমার ছায়ায় আশ্রয় দেব, যেদিন আমার ছায়া ব্যতীত কোনো ছায়া থাকবে না। অর্থাৎ, তাকে আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন।
টিকাঃ
৫৬২. শুআবুল ঈমান: হাদীস-৮৩২৫; তাফসীরে কুরতুবী: ৯/২৪৭।
📄 দু'ফোঁটা এবং দু'কদম আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয়
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: مَا تَجَرَّعَ عَبْدُ قَطُّ جَرْعَتَيْنِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ مِنْ جَرْعَةِ غَضَبٍ رَدَّهَا بِحِلْمٍ، وَجَرْعَةِ مُصِيبَةٍ يَصْبِرُ الرَّجُلُ عَلَيْهَا، وَلَا قُطِرَتْ قَطْرَتَانِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ مِنْ قَطْرَةِ دَمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَقَطْرَةِ دَمْعٍ فِي سَوَادِ اللَّيْلِ وَهُৱ سَاجِدٌ لَا يَرَاهُ إِلَّا اللهُ تَعَالَى، وَمَا خَطَا عَبْدُ خُطْوَتَيْنِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ خُطْوَةٍ إِلَى الصَّلَاةِ الْمَفْرُوضَةِ وَخُطْوَةٍ إِلَى صِلَةِ الرَّحِيمِ.
হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় দুই ঢোকের তুলনায় উত্তম ঢোক কোনো বান্দা গিলেনি। একটি হলো, সহনশীলতা দেখিয়ে ক্রোধকে গিলে ফেলা। অপরটি হলো, ধৈর্য দেখিয়ে মুসীবতকে গিলে ফেলা।
আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় দুই ফোঁটার তুলনায় উত্তম কোনো ফোঁটা নেই। একটি হলো, আল্লাহর রাস্তায় রক্তের ফোঁটা। অপরটি হলো, রাতের আঁধারে বিসর্জিত অশ্রুর ফোঁটা।
আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় সে দুই পদক্ষেপ থেকে উত্তম পদক্ষেপ কোনো বান্দা করেনি। একটি হলো, ফরজ সালাত আদায়ের জন্য পদক্ষেপ, অপরটি আত্মীয়তা রক্ষার পদক্ষেপ।
📄 সুলাইমান আ.-এর সন্তানের মৃত্যু
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : تُوُفِّيَ ابْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ عَلَيْهِمَا الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ، فَوَجَدَ عَلَيْهِ وَجْدًا شَدِيدًا، فَأَتَاهُ مَلَكَانِ فَجَلَسَا بَيْنَ يَدَيْهِ بِزِيَّ الْخُصُومِ فَقَالَ أَحَدُهُمَا: بَذَرْتُ بَدْرًا وَلَمْ أَسْتَحْصِدْهُ، فَمَرَّ بِهِ هَذَا فَأَفْسَدَهُ، فَقَالَ لِلْآخَرِ: مَا تَقُولُ? قَالَ: أَخَذْتُ الْجَادَّةَ فَأَتَيْتُ عَلَى زَرْعٍ فَرَمَيْتُ يَمِينًا وَشِمَالًا، فَإِذَا الطَّرِيقُ عَلَيْهِ، فَقَالَ سُلَيْمَانُ: وَلِمَ بَذَرْتَ عَلَى الطَّرِيقِ? أَمَا عَلِمْتَ أَنْ لَا بُدَّ لِلنَّاسِ مِنَ الطَّرِيقِ? فَقَالَ لَهُ الْمَلَكُ : وَلِمَ تَحْزَنْ عَلَى وَلَدِكَ? أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الْمَوْতَ سَبِيلُ الْآخِرَةِ?
হযরত আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত সুলাইমান আ.-এর সন্তান মৃত্যুবরণ করলে তিনি অত্যন্ত দুঃখ পেলেন। তখন দু'জন ফেরেশতা মানুষের আকৃতিতে বিবাদ মেটানোর জন্য তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন। একজন বললেন, আমি ফসল বুনেছিলাম, ফসল না তুলতেই এ লোক আমার ফসল নষ্ট করে দিয়েছে। তখন সুলাইমান আ. অপর ব্যক্তিকে বললেন, তোমার বক্তব্য কী? সে বলল, আমি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম, দেখতে পেলাম রাস্তাতেই ফসল বুনে রাখা হয়েছে। ফলে ডানে বামে ফেলে দিয়ে আমি রাস্তা করে নিলাম। সুলাইমান আ. তখন প্রথম ব্যক্তিকে বললেন, রাস্তায় কেন বীজ বুনেছ? তুমি জান না যে, মানুষ চলাচলের জন্য রাস্তা রাখার প্রয়োজন? তখন ফেরেশতা তাকে বললেন, তবে আপনি কেন সন্তানের জন্য দুঃখ করছেন? আপনি কি জানেন না যে, মৃত্যু হলো, আখেরাতের পথ?
বর্ণিত আছে, সুলাইমান আ. এরপর আল্লাহর নিকট তাওবা করলেন এবং এরপর কখনোই সন্তানদের ব্যাপারে কাতর হননি।
📄 হযরত ইবনে আব্বাস রাযি.-এর কন্যার ইন্তিকাল
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، أَنَّهُ نَعَى إِلَيْهِ ابْنَةٌ لَهُ وَهُৱ فِي السَّفَرِ فَاسْتَرْجَعَ ثُمَّ قَالَ : عَوْرَةٌ سَتَرَهَا اللهُ وَمُؤْنَةٌ كَفَاهَا اللهُ، وَأَجْرٌ قَدْ سَاقَهُ اللَّهُ إِلَيَّ ثُمَّ نَزَلَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَالَ : قَدْ صَنَعْنَا مَا أَمَرَنَا اللهُ تَعَالَى بِهِ. قَالَ: اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। সফরের থাকা অবস্থায় তিনি কন্যার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ইন্নালিল্লাহ পড়লেন। অতঃপর বললেন, এটি একটি রাখার বস্তু, যাকে আল্লাহ ঢেকে দিয়েছেন। এটি একটি দায়িত্ব, যা আল্লাহ হালকা করে দিয়েছেন। এটি এক প্রতিদানের বিষয়, যা আল্লাহ আমার দিকে পাঠিয়েছেন। অতঃপর তিনি সওয়ারী থেকে নেমে দু'রাকাআত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বললেন, আমি তাই করেছি, কুরআনে আল্লাহ আমাদেরকে যে নির্দেশ দিয়েছেন- ওয়াসতাইনু বিসসবরি ওয়াস্সলা-হ (وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ) অর্থ : তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর।
টিকাঃ
৫৬৩. সূরা বাকারা: আয়াত-১৫৩