📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ধৈর্যহীনতার প্রতিফল

📄 ধৈর্যহীনতার প্রতিফল


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ أَصْبَحَ حَزِينًا عَلَى الدُّنْيَا أَصْبَحَ سَاخِطًا عَلَى رَبِّهِ، وَمَنْ أَصْبَحَ يَشْكُو مُصِيبَتَهُ نَزَلَتْ بِهِ فَإِنَّمَا يَشْكُو اللهَ تَعَالَى، وَمَنْ تَوَاضَعَ لِغَنِيٍّ لِيَنَالَ مَا فِي يَدِهِ أَحْبَطَ اللَّهُ ثُلُثَيْ عَمَلِهِ، وَمَنْ أُعْطِيَ الْقُرْآنَ فَدَخَلَ النَّارَ أَبَدَهُ اللَّهُ مِنْ رَحْمَتِهِ.

হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, দুনিয়ার কোনো কারণে দুঃখে কাতর হওয়া আপন রবের উপর ক্রোধান্বিত হওয়ারই নামান্তর। যে মুসীবতের অনুযোগ করে, সে যেন আল্লাহকেই অভিযুক্ত করেছে। যে ব্যক্তি ধনীর নিকট কোনো কিছু পাওয়ার আশায় বিনয় প্রদর্শন করে, আল্লাহ তার দুই তৃতীয়াংশ আমল বিনষ্ট করে দেন। আল্লাহ কাউকে কুরআন দান করার পরও যে জাহান্নামী হয়েছে, মূলত আল্লাহ তাকে আপন রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।

অর্থাৎ, কুরআনের নেয়ামত লাভের পরও যে তার উপর আমল না করে, আল্লাহ তাকে আপন রহমত থেকে বঞ্চিত করেন এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করেন। কারণ, সে কুরআনের মর্যাদার বিষয়ে অজ্ঞের মতো আচরণ করেছে।

টিকাঃ
৫৫৬. ত্ববারানী, সগীর: ২/৩০; ইবনুল জাওযী হাদীসটিকে জাল বলেছেন। আল্লামা হাইসামী বলেন, হাদীসের সনদে মাতরূক রাবী বিদ্যমান [আল-মাওযুয়াত: ৩/১৩৩; মাজমা: ১০/২৪৮]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 তাওরাতের চারটি লেখা

📄 তাওরাতের চারটি লেখা


عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّةٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ : وَجَدْتُ فِي التَّوْرَاةِ أَرْبَعَةَ أَسْطُرٍ مُتَوَالِيَاتٍ: أَحَدُهَا مَنْ قَرَأَ كِتَابَ اللهِ تَعَالَى، فَظَنَّ أَنَّهُ لَمْ يُغْفَرْ لَهُ فَهُৱ مِنَ الْمُسْتَهْزِئِينَ بِآيَاتِ اللَّهِ تَعَالَى وَالثَّانِي: مَنْ شَكَا مُصِيبَةً نَزَلَتْ بِهِ فَإِنَّمَا يَشْكُو رَبَّهُ. وَالثَّالِثُ: مَنْ حَزِنَ عَلَى مَا فَاتَهُ سَخِطَ عَلَى قَضَاءِ رَبِّهِ وَالرَّابِعُ مَنْ تَوَاضَعَ لِغَنِيٍّ ذَهَبَ ثُلُثَا دِينِهِ. যানি নাকাসোয়া মিন ইয়াক্বীনিহি (يَعْنِي نَقَصَ مِنْ يَقِينِهِ)।

হযরত ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ রহ. বলেন, আমি তাওরাতে পরপর চারটি লেখা পেয়েছি। যথা-
১. যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, তারপরও এ ধারণা পোষণ করে যে, তাকে ক্ষমা করা হবে না, সে যেন আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে বিদ্রূপ করে।
২. মুসীবতে আক্রান্ত হয়ে কেউ যদি তার জন্য অনুযোগ করে, সে যেন আপন রবকেই দোষারোপ করে।
৩. যা হাতছাড়া হয়েছে, তার জন্য যে শোককাতর হয়, সে যেন আল্লাহর ফায়সালার উপর অসন্তুষ্ট হয়।
৪. ধনীর প্রতি যে বিনয় প্রদর্শন করে তার দ্বীনের এক তৃতীয়াংশ বিনষ্ট হয়ে যায়। অর্থাৎ তার ইয়াকীনে ঘাটতি দেখা দেয়।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : لَا يَمُوْتُ لِمُسْلِمٍ ثَلَاثَةٌ مِنَ الْوَلَدِ فَيَلِجُ النَّارَ إِلَّا تَحْلَةَ الْقَسَمِ।

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, যার তিনটি সন্তান মৃত্যুবরণ করেছে, সে কেবল আল্লাহ তা'আলার শপথ পূর্ণ করার জন্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

ইমাম বুখারী রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন- وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا অর্থ : তোমাদের প্রত্যেকেই জাহান্নামে উপনীত হবে। এখানে তিনি শপথ করে বলেছেন যে, সব মানুষই কিছু সময়ের জন্য হলেও জাহান্নামে যাবে। যে ব্যক্তির তিনটি সন্তান মৃত্যুবরণ করেছে, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন এবং সে কেবল উক্ত শপথ পূর্ণ করার খাতিরেই জাহান্নামে যাবে, অন্যথায় জান্নাতই হবে তার আসল ঠিকানা।

টিকাঃ
৫৫৭. সহীহ বুখারী: হাদীস-১২৫১; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৬৩২。
৫৫৮. সূরা মারইয়াম: আয়াত-৭১
৫৫৯. মুফতী তাকী উসমানী হাফি. এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, 'এর দ্বারা পুলসিরাত বোঝানো হয়েছে, যা জাহান্নামের উপর স্থাপিত। মুসলিম-কাফের ও পুন্যবান-পাপিষ্ঠ নির্বিশেষে সকলকেই তা পার হতে হবে। হ্যাঁ, পার হতে গিয়ে কার অবস্থা কেমন হবে তা পরবর্তী আয়াতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মুমিন ও নেককার লোক তা এমনভাবে পার হবে যে, জাহান্নামের কোনো কষ্ট তাদেরকে স্পর্শ করবে না।' -তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন: খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৩২৪

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আল্লাহর নিকট হযরত মূসা আ.-এর প্রশ্ন

📄 আল্লাহর নিকট হযরত মূসা আ.-এর প্রশ্ন


ফকীহ আবুল লাইস সমরকন্দী রহ. বলেন, আমার পিতা হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, মূসা আ. আপন রবকে প্রশ্ন করলেন, হে রব! অসুস্থকে দেখতে গেলে তার সওয়াব কী? আল্লাহ বললেন, আমি তাকে এমন নিষ্পাপ করে দেই, তার মা তাকে জন্ম দেওয়ার সময় যেমন নিষ্পাপ ছিল।

মূসা আ. বললেন, হে রব! মৃতের জানাযার সঙ্গে গমনকারীর সওয়াব কী? আল্লাহ বললেন, আমি তার মৃত্যুর কালে কয়েকজন ফেরেশতা প্রেরণ করব, যারা নিশানা নিয়ে তার সঙ্গে প্রথমে কবর পর্যন্ত, অতঃপর হাশর পর্যন্ত গমন করবে। মূসা বললেন, হে রব! বিপদগ্রস্তকে সান্ত্বনা দিলে সওয়াব কী? আল্লাহ বললেন, আমি তাকে সেদিন আমার ছায়ায় আশ্রয় দেব, যেদিন আমার ছায়া ব্যতীত কোনো ছায়া থাকবে না। অর্থাৎ, তাকে আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন।

টিকাঃ
৫৬২. শুআবুল ঈমান: হাদীস-৮৩২৫; তাফসীরে কুরতুবী: ৯/২৪৭।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দু'ফোঁটা এবং দু'কদম আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয়

📄 দু'ফোঁটা এবং দু'কদম আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয়


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: مَا تَجَرَّعَ عَبْدُ قَطُّ جَرْعَتَيْنِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ مِنْ جَرْعَةِ غَضَبٍ رَدَّهَا بِحِلْمٍ، وَجَرْعَةِ مُصِيبَةٍ يَصْبِرُ الرَّجُلُ عَلَيْهَا، وَلَا قُطِرَتْ قَطْرَتَانِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ مِنْ قَطْرَةِ دَمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَقَطْرَةِ دَمْعٍ فِي سَوَادِ اللَّيْلِ وَهُৱ سَاجِدٌ لَا يَرَاهُ إِلَّا اللهُ تَعَالَى، وَمَا خَطَا عَبْدُ خُطْوَتَيْنِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ خُطْوَةٍ إِلَى الصَّلَاةِ الْمَفْرُوضَةِ وَخُطْوَةٍ إِلَى صِلَةِ الرَّحِيمِ.

হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় দুই ঢোকের তুলনায় উত্তম ঢোক কোনো বান্দা গিলেনি। একটি হলো, সহনশীলতা দেখিয়ে ক্রোধকে গিলে ফেলা। অপরটি হলো, ধৈর্য দেখিয়ে মুসীবতকে গিলে ফেলা।

আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় দুই ফোঁটার তুলনায় উত্তম কোনো ফোঁটা নেই। একটি হলো, আল্লাহর রাস্তায় রক্তের ফোঁটা। অপরটি হলো, রাতের আঁধারে বিসর্জিত অশ্রুর ফোঁটা।

আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় সে দুই পদক্ষেপ থেকে উত্তম পদক্ষেপ কোনো বান্দা করেনি। একটি হলো, ফরজ সালাত আদায়ের জন্য পদক্ষেপ, অপরটি আত্মীয়তা রক্ষার পদক্ষেপ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px