📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে মুআয রাযি. কে ওসিয়তনামা
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : مَاتَ ابْنُ لِي فَكَتَبَ إِلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللهِ إِلَى مُعَاذِ بْنِ جَبَلِ السَّلَامُ عَلَيْكَ، فَإِنِّي أَحْمَدُ اللَّهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، أَمَّا بَعْدُ، فَعَظَمَ اللهُ لَكَ الْأَجْرَ وَأَلْهَمَكَ، وَرَزَقَنَا وَإِيَّاكَ الشَّكْرَ. ثُمَّ إِنَّ نُফُوسَنَا وَأَمْوَالَنَا وَأَهَالِينَا وَأَوْلَادَنَا وَأَمْوَالَهُمْ مِنْ مَوَاهِبِ اللَّهِ الْهَنِيئَةِ، وَعَوَارِيهِ الْمُسْتَوْدَعَةِ نَتَمَتَّعُ بِهَا إِلَى أَجَلٍ مَعْدُودٍ، وَيَقْبِضُهَا لِوَقْتٍ مَعْلُومٍ ثُمَّ افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَيْنَا الشَّكْرَ إِذَا أَعْطَى، وَالصَّبْرَ إِذَا ابْتَلَى وَكَانَ ابْنُكَ هُذَا مِنْ مَوَاهِبِ اللهِ الْهَنِيئَةِ، وَعَوَارِيهِ الْمُسْتَوْدَعَةِ مَتَّعَكَ اللهُ بِهِ فِي غِبْطَةٍ وَسُرُورٍ، وَقَبَضَهُ بِأَجْرٍ كَبِيرٍ إِنْ صَبَرْتَ وَاحْتَسَبْتَ فَلَا تَجْمَعَنَّ عَلَيْكَ يَا مُعَاذُ أَنْ يُحْبِطَ جَزَعُكَ أَجْرَكَ، فَتَنْدَمَ عَلَى مَا فَاتَكَ. فَلَوْ قَدِمْتَ عَلَى ثَوَابِ مُصِيبَتِكَ عَرَفْتَ أَنَّ الْمُصِيبَةَ قَدْ قَصُرَتْ عَنْهُ. وَاعْلَمْ أَنَّ الْجَزَعَ لَا يَرُدُّ مَيِّتًا، وَلَا يَدْخُلُ حُزْنًا فَلْيَذْهَبْ عَنْكَ أَسَفُكَ بِمَا هُৱ نَازِلٌ بِكَ، فَكَأَنَّكَ قَدْ نَزَلَ بِكَ وَالسَّلَامُ.
হযরত মুআয বিন জাবাল রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পুত্র মৃত্যুবরণ করলে রাসূল ﷺ আমার নিকট চিঠি লেখেন। তিনি লেখেন-
আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদের পক্ষ থেকে মুআয বিন জাবালের প্রতি। আস-সালামু আলাইকুম। আমি প্রশংসা করছি আল্লাহর প্রতি, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। অতঃপর আল্লাহ তোমাকে বিশাল সওয়াব দান করুন এবং তোমাকে ধৈর্যের শক্তি দান করুন। তোমাকে এবং আমাদেরকে কৃতজ্ঞতা দান করুন। নিশ্চয় আমাদের আত্মা, ধন-সম্পদ, পরিবার-পরিজন, আমাদের সন্তান-সন্ততি, তাদের ধন-সম্পদ আল্লাহর উত্তম দান এবং আমাদের নিকট রক্ষিত আমানত। নির্দিষ্ট একটি সময় পর্যন্ত আমরা এগুলো উপভোগ করি এবং নির্ধারিত এক সময়ে তা আমাদের থেকে কেড়ে নেয়া হয়। অতঃপর যখন আমাদেরকে আল্লাহ দান করেন, সে দানের শুকর আদায় ওয়াজিব করে দেন এবং যখন পরীক্ষায় ফেলেন, তখন ধৈর্যধারণ আবশ্যক করে দেন। তোমার এ পুত্রও আল্লাহর বিশেষ দান ছিল এবং তোমার নিকট রক্ষিত আমানত ছিল। আল্লাহ এর মাধ্যমে তোমাকে কয়েক দিন আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ দিয়েছিলেন। এরপর বিশাল সওয়াবের বিনিময়ে তাকে তুলে নিয়েছেন। সওয়াব প্রাপ্তির জন্য শর্ত হলো, তোমাকে ধৈর্যধারণ করতে হবে এবং সওয়াবের আশা রাখতে হবে।
সুতরাং হে মুয়ায! তোমার কান্নাকাটি ও শোক-কাতরতা যেন সওয়াবকে নষ্ট না করে। তাহলে তোমাকে অনুতাপ করতে হবে। যদি তুমি তোমার বিপদের প্রতিদান দেখতে পেতে, তাহলে দেখতে তোমার সওয়াবের তুলনায় মসীবত খুবই স্বল্প। জেনে রাখ, কান্নাকাটি ও শোক-কাতরতার কারণে মৃত ব্যক্তি ফিরে আসবে না এবং দুঃখও দূর হয় না। অচিরেই যা তোমার উপর আপতিত হবে, তার চিন্তাই তোমার আফসোস ও হতাশা দূর হওয়ার কারণ হোক। অচিরেই যা আসছে, তাকে এমনভাবে কল্পনা কর, যেন তা হাজির।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, অর্থাৎ, অচিরেই যে মৃত্যু তোমার দিকে ধেয়ে আসছে, তা এমনভাবে কল্পনা কর যেন তা এসে হাজির। এমন কল্পনার ফলে তোমার দুঃখ শোককাতর অবস্থা কাটিয়ে উঠা সহজ হবে। ব্যক্তি যখন নিজের মৃত্যুর ব্যাপারে চিন্তা করবে এবং তার মধ্যে এই ভাবনা জেগে উঠবে যে, অচিরেই আমাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে, তখন অন্যের মৃত্যুতে সে অস্থিরতা প্রকাশ করবে না। কারণ, কান্নাকাটি ও অস্থিরতা কোনোভাবেই মৃতকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। বরং তা মুসীবতের প্রতিদানকে নষ্ট করে দেয়। যে ব্যক্তি কান্নাকাটি ও অস্থিরতা প্রকাশ করে, সে যেন আল্লাহর উপরই অভিযোগ করে এবং তাঁর ফয়সালাকে ফিরিয়ে দিতে চায়।
টিকাঃ
৫৫৫. মুসতাদরাকে হাকেম : ৩/৩০৬, হিলইয়াতুল আউলিয়া : ১/২৪৩; হাদীসের সনদটি জয়ীফ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ৩/৩]।
📄 ধৈর্যহীনতার প্রতিফল
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ أَصْبَحَ حَزِينًا عَلَى الدُّنْيَا أَصْبَحَ سَاخِطًا عَلَى رَبِّهِ، وَمَنْ أَصْبَحَ يَشْكُو مُصِيبَتَهُ نَزَلَتْ بِهِ فَإِنَّمَا يَشْكُو اللهَ تَعَالَى، وَمَنْ تَوَاضَعَ لِغَنِيٍّ لِيَنَالَ مَا فِي يَدِهِ أَحْبَطَ اللَّهُ ثُلُثَيْ عَمَلِهِ، وَمَنْ أُعْطِيَ الْقُرْآنَ فَدَخَلَ النَّارَ أَبَدَهُ اللَّهُ مِنْ رَحْمَتِهِ.
হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, দুনিয়ার কোনো কারণে দুঃখে কাতর হওয়া আপন রবের উপর ক্রোধান্বিত হওয়ারই নামান্তর। যে মুসীবতের অনুযোগ করে, সে যেন আল্লাহকেই অভিযুক্ত করেছে। যে ব্যক্তি ধনীর নিকট কোনো কিছু পাওয়ার আশায় বিনয় প্রদর্শন করে, আল্লাহ তার দুই তৃতীয়াংশ আমল বিনষ্ট করে দেন। আল্লাহ কাউকে কুরআন দান করার পরও যে জাহান্নামী হয়েছে, মূলত আল্লাহ তাকে আপন রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।
অর্থাৎ, কুরআনের নেয়ামত লাভের পরও যে তার উপর আমল না করে, আল্লাহ তাকে আপন রহমত থেকে বঞ্চিত করেন এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করেন। কারণ, সে কুরআনের মর্যাদার বিষয়ে অজ্ঞের মতো আচরণ করেছে।
টিকাঃ
৫৫৬. ত্ববারানী, সগীর: ২/৩০; ইবনুল জাওযী হাদীসটিকে জাল বলেছেন। আল্লামা হাইসামী বলেন, হাদীসের সনদে মাতরূক রাবী বিদ্যমান [আল-মাওযুয়াত: ৩/১৩৩; মাজমা: ১০/২৪৮]।
📄 তাওরাতের চারটি লেখা
عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّةٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ : وَجَدْتُ فِي التَّوْرَاةِ أَرْبَعَةَ أَسْطُرٍ مُتَوَالِيَاتٍ: أَحَدُهَا مَنْ قَرَأَ كِتَابَ اللهِ تَعَالَى، فَظَنَّ أَنَّهُ لَمْ يُغْفَرْ لَهُ فَهُৱ مِنَ الْمُسْتَهْزِئِينَ بِآيَاتِ اللَّهِ تَعَالَى وَالثَّانِي: مَنْ شَكَا مُصِيبَةً نَزَلَتْ بِهِ فَإِنَّمَا يَشْكُو رَبَّهُ. وَالثَّالِثُ: مَنْ حَزِنَ عَلَى مَا فَاتَهُ سَخِطَ عَلَى قَضَاءِ رَبِّهِ وَالرَّابِعُ مَنْ تَوَاضَعَ لِغَنِيٍّ ذَهَبَ ثُلُثَا دِينِهِ. যানি নাকাসোয়া মিন ইয়াক্বীনিহি (يَعْنِي نَقَصَ مِنْ يَقِينِهِ)।
হযরত ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ রহ. বলেন, আমি তাওরাতে পরপর চারটি লেখা পেয়েছি। যথা-
১. যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, তারপরও এ ধারণা পোষণ করে যে, তাকে ক্ষমা করা হবে না, সে যেন আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে বিদ্রূপ করে।
২. মুসীবতে আক্রান্ত হয়ে কেউ যদি তার জন্য অনুযোগ করে, সে যেন আপন রবকেই দোষারোপ করে।
৩. যা হাতছাড়া হয়েছে, তার জন্য যে শোককাতর হয়, সে যেন আল্লাহর ফায়সালার উপর অসন্তুষ্ট হয়।
৪. ধনীর প্রতি যে বিনয় প্রদর্শন করে তার দ্বীনের এক তৃতীয়াংশ বিনষ্ট হয়ে যায়। অর্থাৎ তার ইয়াকীনে ঘাটতি দেখা দেয়।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : لَا يَمُوْتُ لِمُسْلِمٍ ثَلَاثَةٌ مِنَ الْوَلَدِ فَيَلِجُ النَّارَ إِلَّا تَحْلَةَ الْقَسَمِ।
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, যার তিনটি সন্তান মৃত্যুবরণ করেছে, সে কেবল আল্লাহ তা'আলার শপথ পূর্ণ করার জন্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
ইমাম বুখারী রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন- وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا অর্থ : তোমাদের প্রত্যেকেই জাহান্নামে উপনীত হবে। এখানে তিনি শপথ করে বলেছেন যে, সব মানুষই কিছু সময়ের জন্য হলেও জাহান্নামে যাবে। যে ব্যক্তির তিনটি সন্তান মৃত্যুবরণ করেছে, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন এবং সে কেবল উক্ত শপথ পূর্ণ করার খাতিরেই জাহান্নামে যাবে, অন্যথায় জান্নাতই হবে তার আসল ঠিকানা।
টিকাঃ
৫৫৭. সহীহ বুখারী: হাদীস-১২৫১; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৬৩২。
৫৫৮. সূরা মারইয়াম: আয়াত-৭১
৫৫৯. মুফতী তাকী উসমানী হাফি. এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, 'এর দ্বারা পুলসিরাত বোঝানো হয়েছে, যা জাহান্নামের উপর স্থাপিত। মুসলিম-কাফের ও পুন্যবান-পাপিষ্ঠ নির্বিশেষে সকলকেই তা পার হতে হবে। হ্যাঁ, পার হতে গিয়ে কার অবস্থা কেমন হবে তা পরবর্তী আয়াতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মুমিন ও নেককার লোক তা এমনভাবে পার হবে যে, জাহান্নামের কোনো কষ্ট তাদেরকে স্পর্শ করবে না।' -তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন: খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৩২৪
📄 আল্লাহর নিকট হযরত মূসা আ.-এর প্রশ্ন
ফকীহ আবুল লাইস সমরকন্দী রহ. বলেন, আমার পিতা হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, মূসা আ. আপন রবকে প্রশ্ন করলেন, হে রব! অসুস্থকে দেখতে গেলে তার সওয়াব কী? আল্লাহ বললেন, আমি তাকে এমন নিষ্পাপ করে দেই, তার মা তাকে জন্ম দেওয়ার সময় যেমন নিষ্পাপ ছিল।
মূসা আ. বললেন, হে রব! মৃতের জানাযার সঙ্গে গমনকারীর সওয়াব কী? আল্লাহ বললেন, আমি তার মৃত্যুর কালে কয়েকজন ফেরেশতা প্রেরণ করব, যারা নিশানা নিয়ে তার সঙ্গে প্রথমে কবর পর্যন্ত, অতঃপর হাশর পর্যন্ত গমন করবে। মূসা বললেন, হে রব! বিপদগ্রস্তকে সান্ত্বনা দিলে সওয়াব কী? আল্লাহ বললেন, আমি তাকে সেদিন আমার ছায়ায় আশ্রয় দেব, যেদিন আমার ছায়া ব্যতীত কোনো ছায়া থাকবে না। অর্থাৎ, তাকে আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন।
টিকাঃ
৫৬২. শুআবুল ঈমান: হাদীস-৮৩২৫; তাফসীরে কুরতুবী: ৯/২৪৭।