📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সম্পদের আধিক্যে ভয় এবং স্বল্পতায় সন্তোষ

📄 সম্পদের আধিক্যে ভয় এবং স্বল্পতায় সন্তোষ


عَنْ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ: قَدِمْتُ الْبَحْرَيْنِ فَأَضَافَتْنِي امْرَأَةٌ لَهَا بَنُونَ وَرَقِيقٌ وَمَالٌ وَيَسَارٌ، فَكُنْتُ أَرَاهَا مَحْزُونَةً فَلَمَّا خَرَجْتُ مِنْ عِنْدِهَا قُلْتُ لَهَا: أَلَكِ حَاجَةٌ? قَالَتْ: نَعَمْ إِنْ أَنْتَ قَدِمْتَ بَلْدَتَنَا هَذِهِ أَنْ تَنْزِلَ عَلَيَّ. فَغِبْتُ عَنْهَا كَذَا وَكَذَا سَنَةً، ثُمَّ أَتَيْتُهَا فَلَمْ أَرَ بِبَابِهَا إِنْسِيًّا فَاسْتَأْذَنْتُ عَلَيْهَا فَإِذَا هِيَ ضَاحِكَةٌ مَسْرُورَةٌ. قُلْتُ لَهَا: مَا شَأْنُكِ? قَالَتْ : إِنَّكَ لَمَّا غِبْتَ عَنَّا لَمْ نُرْسِلَ فِي الْبَحْرِ شَيْئًا إِلَّا غَرِقَ، وَلَا فِي الْبَرِّ شَيْئًا إِلَّا عَطِبَ، وَذَهَبَ আলররকীকু, ওয়ামাতাল বানূন, ফাকুলতু লাহা: ইয়ারহামুকিল্লা-হু, রায়াইতুকি মাহযূনাতান ফী যালিকাল ইয়াওমি ওয়া মাসরূরাতান ফী হাযাল ইয়াওম। ফাক্বলাত: নাআম, ইন্নী লিমা কুনতু ফীহি মিন সিআতিলদ্দুনইয়া খাশীতু আইঁ ইয়াকূনাল্লা-হু ক্বাদ আজ্জ্বালা হাসানাতী ফিদ্দুনইয়া, ফালাম্মা যাহাবা মা-লী ওয়া রাকীকি রাজাওতু আইঁ ইয়াকূনাল্লা-হু ক্বাদিয়াদ্দ খারালি ইন্দাহু খাইরান ফাফারাহতু.

হযরত মুসলিম বিন ইয়াসার রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বাহরাইনে উপস্থিত হলে জনৈকা নারী আমাকে মেহমানরূপে গ্রহণ করেন। তার অঢেল ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্তুতি, দাস-দাসী ছিল। কিন্তু আমি তাকে দুঃখ ভারাক্রান্ত দেখতে পেলাম। তার কাছ থেকে বিদায়কালে আমি বললাম, তোমার কোনো প্রয়োজন থাকলে বলো। সে বলল, হ্যাঁ, আবার কখনো যদি আমাদের এলাকায় আসেন, তবে আমার এখানেই মেহমান হিসাবে থাকবেন। কয়েক বছর সে এলাকায় যাওয়া হয়নি। অতঃপর সেখানে গেলাম। তার দরজায় কোনো দারোয়ান পেলাম না। অনুমতি নিয়ে তার গৃহে প্রবেশ করলাম। প্রবেশ করে দেখতে পেলাম, সে হাস্যমুখর ও আনন্দিত হয়ে বসে আছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তোমার অবস্থা কী? সে বলল, আপনি চলে যাওয়ার পর সমুদ্র পথে যে পণ্যই পাঠিয়েছি, তা ডুবে গেছে এবং স্থল পথে যা পাঠিয়েছি, তা ধ্বংস হয়ে গেছে। দাস-দাসীরা মুক্ত হয়ে চলে গেছে, সন্তান-সন্ততিরা মৃত্যুবরণ করেছে। আমি বললাম, আল্লাহ তোমাকে রহম করুন! তখন তো আমি তোমাকে দুঃখ ভরাক্রান্ত দেখেছিলাম, এখন হাসিমুখে আনন্দমুখর দেখছি? সে বলল, হ্যাঁ, তখন আমি পার্থিব সচ্ছলতায় ছিলাম। তাই আমার আশঙ্কা ছিল যে, আল্লাহ হয়তো আমার সব ভালো কাজের বিনিময় দুনিয়াতেই দিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু যখন আমার ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্তুতি ও দাস-দাসী সব শেষ হয়ে গেল তখন আমার মাঝে আবার এ আশা ফিরে এলো যে, হয়তো আল্লাহ আমার জন্য আখেরাতে কল্যাণ সঞ্চয় করে রেখেছেন। তাই আজ আমি হাস্যমুখর।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আল্লাহ যার ভালো চান তার শাস্তি দুনিয়াতেই দিয়ে দেন

📄 আল্লাহ যার ভালো চান তার শাস্তি দুনিয়াতেই দিয়ে দেন


রওয়াল হাসানুল বাসরীয়্যু রহেমাহুল্লাহু তা'আলা, আন্না রাজুলাম মিনাস্ সাহাবাতি রয়াইমরা আতান কানা ইয়ারিফুহা ফিল জাহেলিয়াতি ফাকাল্লামাহা ছুম্মা তারাকাহা, ফাজায়ালার রাজুলুই ইয়ালতাফিতু ওয়াহইয়া তামশী ফাসাদামাহু হাইয়িতুন ফাআচ্ছারা ফী ওয়াজহিহি, ফাআতান্নাবীয়্যা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ফাআখবারাহু ফাক্বলান্নাবীয়ু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা: ইজা আরাদাল্লাহু বিআবদিন খাইরান আজ্জ্বালা উকুবাতাহু ফিদ্দুনইয়া.

হযরত হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণিত। জনৈক সাহাবী এক নারীকে দেখতে পেলেন। তিনি তাকে জাহেলী যুগ থেকেই চিনতেন। তিনি তার সঙ্গে কথা বললেন। কথা শেষ করে চলে গেলেন। যাওয়ার পথে সাহাবী বারবার তার দিকে ফিরে তাকালেন। ফলে তিনি দেয়ালে আঘাত পেলেন। ফলে তার মুখে দাগ পড়ে গেল। তিনি রাসূল ﷺ-এর নিকট উক্ত ঘটনা বর্ণনা করলে, তিনি বললেন, আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন দুনিয়াতেই তার শাস্তি দিয়ে দেন।

عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، وَ أَنَّهُ قَالَ : أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِأَرْجَى آيَةٍ فِي كِتَابِ اللهِ تَعَالَى? قَالُوا: بَلَى فَقَرَأَ عَلَيْهِمْ وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ (الشورى : ৩০) فَالْمَصَائِبُ فِي الدُّنْيَا بِكَسْبِ الْأَوْزَارِ، فَإِذَا عَاقَبَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَاء فَاللَّهُ أَكْرَمُ مِنْ أَنْ يُعَذِّبَهُ ثَانِيًا. وَإِذَا عَفَا عَنْهُ فِي الدُّنْيَا فَهُৱ أَكْرَمُ مِنْ أَنْ يُعَذِّبَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.

হযরত আলী ইবনে আবু তালেব রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি কি তোমাদের নিকট কিতাবুল্লাহর সর্বাধিক আশাব্যঞ্জক আয়াত উল্লেখ করব না? লোকেরা বলল, অবশ্যই। তখন তিনি নিম্নোক্ত আয়াতটি লোকদেরকে শোনালেন-
ওমা- আসোয়া-বাকুম মিম মুসীবাতিন ফাবিমা কাসাবাত আইদীকুম ওয়াইয়ারফূ আন কাছীর (وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ) অর্থ: আর তোমাদের প্রতি যে মুসীবত আপতিত হয়, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল। আর অনেক কিছুই তিনি ক্ষমা করে দেন। সুতরাং দুনিয়ার মুসীবত গুনাহেরই ফসল। আল্লাহ যদি বান্দাকে দুনিয়াতেই শাস্তি দেন, তবে এর মাধ্যমে তাকে দ্বিতীয়বার শাস্তির মুখোমুখি হওয়া থেকে রক্ষা করেন। আর যদি দুনিয়াতেই তাকে ক্ষমা করে দেন, তাহলে কিয়ামতের দিন শাস্তিভোগের পরিবর্তে আল্লাহর পক্ষ থেকে এটা তার সম্মানি।

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: مَا يُصِيبُ الْمُؤْمِنَ مُصِيبَةٌ حَتَّى شَوْكَةٍ فَمَا فَوْقَهَا إِلَّا حَطَّ اللَّهُ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةً.

হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, মুমিন ব্যক্তি যে মুসীবতেই আক্রান্ত হয়, এমনকি কাঁটা কিংবা তার চেয়েও নগণ্যতর জিনিস, যা তার শরীরে বিঁধে আল্লাহ তার মাধ্যমে একটি গুনাহ মুছে দেন।

টিকাঃ
৫৫২. সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস-২৯১১; মুস্তাদরাকে হাকেম: ১/৩৪৯; সুনানে তিরমিযী: হাদীস- ২৩৯৬; আল্লামা হাইসামী, হাকেম, যাহাবী আরনাউত প্রমুখের মতে, হাদীসটি সহীহ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/১৯২]।
৫৫৩. সূরা আশ শুরা: আয়াত-৩০
৫৫৪. সহীহ বুখারী: হাদীস-৫৬৪০; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৫৭২।

ফন্ট সাইজ
15px
17px