📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আল্লাহ গুনাহীকে ঢিল দেন

📄 আল্লাহ গুনাহীকে ঢিল দেন


عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: إِذَا رَأَيْتُمُ الرَّجُلَ يُعْطِيهِ اللهُ تَعَالَى مَا يُحِبُّ، وَهُৱ مُقِيمٌ عَلَى مَعْصِيَتِهِ فَاعْلَمُوا أَنَّ ذَلِكَ اسْتِدْرَاجٌ. ثُمَّ قَرَأَ قَوْلَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ: فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلَّ شَيْءٍ (الأنعام : ৪৪) যানি লাম্মা তারাকু মা উমিরু বিহি ফাতাহনা আলাইহিম আবওয়াবাল খাইরি হাত্তা ইযা ফারিহু বিমা উতু (يَعْنِي لَمَّا تَرَكُوا مَا أُمِرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ الْخَيْرِ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا), يَعْنِي لَمَّا أُعْطُوا مِنَ الخَيْرِ، أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً يَعْنِي فَجْأَةً، فَإِذَا هُمْ مُبْلِسُونَ آبِسِينَ مِنْ كُلِّ خَيْرٍ.

হযরত উকবা বিন আমের রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তোমরা যদি দেখ যে, পাপে অটল থাকা সত্ত্বেও কাউকে আল্লাহ তার পছন্দনীয় বিষয় দান করে যাচ্ছেন, তবে জেনে রাখ, এটা তাকে ঢিল দেওয়া হলো। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করলেন-

ফাল্লাম্মা নাসূ মা যুক্কিরূ বিহি ফাতাহনা- আলাইহিম আবওয়া-বা কুল্লি শাইয়িন হাত্তা- ইযা- ফারিহু বিমা- ঊতূ আখাযনা-হুম বাগ তাতান ফাইযা- হুম মুবলিসূন।

অর্থ: অতঃপর তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, তারা যখন তা ভুলে গেল, আমি তাদের উপর সব কিছুর দরজা খুলে দিলাম। অবশেষে তাদেরকে যা প্রদান করা হয়েছিল তার কারণে তারা উৎফুল্ল হলো, আর আমি হঠাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম। ফলে তারা হতাশ হয়ে গেল।

টিকাঃ
৫৪৭. মুসনাদে আহমাদ: ২৮/৫৪৭; শুআবুল ঈমান: হাদীস-৪৫৪০; তাফসীরে ত্ববারী: ৭/১৯৫। শায়েখ আলবানী ও শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
৫৪৮. সূরা আনআম: আয়াত-৪৪

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সর্বাধিক বিপদগ্রস্থ ব্যক্তি

📄 সর্বাধিক বিপদগ্রস্থ ব্যক্তি


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ سُئِلَ أَيُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلَاءً? قَالَ: الْأَنْبِيَاءُ ثُمَّ الصَّالِحُونَ ثُمَّ الْأَمْثَلُ فَالْأَمْثَلُ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলকে জিজ্ঞেস করা হলো কোন ব্যক্তির উপর সবচেয়ে বেশি বিপদ আসে? তিনি বললেন, প্রথমত নবীদের উপর, তারপর সালেহীনের উপর। অতঃপর পর্যায়ক্রমে যারা ভালো কাজে তাদের সাথে সাদৃশ্য রাখে তাদের উপর।

টিকাঃ
৫৪৯. সুনানে তিরমিযী : হাদীস-২৩৯৮; সুনানে ইবনে মাজাহ : হাদীস-৪০২৩; মুসনাদে আহমাদ : হাদীস-১৪৮১। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কল্যাণের খাজানা

📄 কল্যাণের খাজানা


বলা হয়, তিনটি বিষয় কল্যাণের খাজানার অন্তর্ভুক্ত। ১. সদকা গোপন করা। ২. দুঃখ কষ্ট গোপন করা। ৩. বিপদ গোপন করা।

হযরত ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ রহ. বলেন, ঈসা আ.-এর এক সঙ্গীর লেখায় পাওয়া গেছে, যখন তোমাকে মুসীবতে ফেলা হবে, তখন খুশি হও। কারণ, তোমাকে আম্বিয়া ও সালেহীনের পথে চালিত করা হলো, আর যখন তোমাকে স্বাচ্ছন্দ্য দান করা হয়, তখন তুমি নিজের জন্য কাঁদো। কারণ, তোমাকে ভিন্নপথে ঠেলে দেয়া হলো। বলা হয়, আল্লাহ তা'আলা মূসা আ.-এর নিকটও এরূপ ওহী প্রেরণ করেছিলেন।

ফাতহ মুসেলী থেকে বর্ণিত। তার পরিবারে একবার অভাব-অনটন দেখা দিল। তখন তিনি বলতে লাগলেন, ইলাহী! যদি জানতে পেতাম কী আমলের দরুন আমাকে এ বিপদ দিয়েছেন, তবে তা বেশি করে করতাম।

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ قَلَّ مَالُهُ وَكَثُرَ عِيَالُهُ وَحَسُنَتْ صَلَاتُهُ، وَلَمْ يَغْتَبِ الْمُسْلِمِينَ، جَاءَ مَعِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ هَكَذَا، وَجَمَعَ إِصْبَعَيْهِ.

হাদীসে এসেছে, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, যার সম্পদ কম, পরিবার বড়, সালাত সুন্দর এবং সে মুসলমানদের গীবত করে না। কিয়ামতের দিন সে আমার সাথে এভাবে উপস্থিত হবে। এই বলে তিনি দু'আঙ্গুলকে একত্রিত করলেন। ধৈর্য অবলম্বনকারীদেরকে আল্লাহ সচ্ছলতা দান করেন।

টিকাঃ
৫৫০. মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৪/৭৩; আল ইলালুল মুতানাহিয়া ২/৮০৪; ইবনুল জাওযী বলেন, হাদীসটি সহীহ নয়। শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে অত্যন্ত জয়ীফ/ জাল বলেছেন [সিলসিলাহ জয়ীফাহ: হাদীস-৫২৭০, ৫৫২৪]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ধৈর্যশীলদের থেকে মসীবত দূর করে দেওয়া হবে

📄 ধৈর্যশীলদের থেকে মসীবত দূর করে দেওয়া হবে


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : وَالَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُৱ، إِنِّي كُنْتُ لَأَعْتَمِدُ بِكَبِدِي عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْجُوعِ، وَإِنِّي كُنْتُ لَأَشَدُّ الْحَجَرَ عَلَى بَطْنِي مِنَ الْجُوعِ، وَلَقَدْ قَعَدْتُ يَوْمًا عَلَى طَرِيقِهِمُ الَّذِي يَخْرُجُونَ مِنْهُ، ফামাররা আবু বকরিন (فَمَرَّ أَبُو بَكْرٍ) ফাসায়ালতুহু আইয়াতান মিঁন কিতা-বিল্লা-হি তা’আলা মা সায়ালতুহু আনহা ইল্লা লিইয়াসতাতবিয়ানি (فَسَأَلْتُهُ آيَةً مِنْ كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى مَا سَأَلْتُهُ عَنْهَا إِلَّا لِيَسْتَتْبِعَنِي), যানি লিকাই ইয়াযহাবা বী ইলা মানজিলিহি (يَعْنِي لِكَيْ يَذْهَبَ بِي إِلَى مَنْزِلِهِ), ফামাররা ওলাম ইয়াফ্ আল (فَمَرَّ وَلَمْ يَفْعَلْ), ছুম্মা মাররা বী উমারু ফাসায়ালতুহু আন আয়াতিন মা সায়ালতুহু আনহা ইল্লা লিইয়াসতাতবিয়ানি (ثُمَّ مَرَّ بِي عُمَرُ فَسَأَلْتُهُ عَنْ آيَةٍ مَا سَأَلْتُهُ عَنْهَا إِلَّا لِيَسْتَتْبِعَنِي), ফামাররা ওলাম ইয়াফ্ আল (فَمَرَّ وَلَمْ يَفْعَلْ), ছুম্মা মাররান নাবিয়্যু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ফাতাবাস্সামা হীনা রয়ানী ওয়া আরাফা মা ফী নাফসী (ثُمَّ مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَبَسَّمَ حِينَ رَآنِي وَعَرَفَ مَا فِي نَفْسِي) ছুম্মা ক্বলা: ইয়া আবা হুরাইরাহ ক্বুলতু: লাব্বাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ (ثُمَّ قَالَ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ قُلْتُ: لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ). ক্বলাল হিক্ক বী (قَالَ: الْحَقِّ بِي). ওয়ামাদ্বা ফাত্তাবাতুহু ওসতাজানতু ফাউযিনা লী (وَمَضَى فَاتَّبَعْتُهُ وَاسْتَأْذَنْتُ فَأُذِنَ لِي), ফাদাখালতু ফাওয়াজাতু লাবানান ফী আহলিস সুফফাহ? কুনতু আহাক্কু আন উসীবু মিন হাযাল লাবানি শারবাতান আত্যাক্বাউয়্যা বিহা (فَدَخَلْتُ فَوَجَدْتُ لَبَنًا فِي أَهْلِ الصُّفَةِ? كُنْتُ أَحَقُّ أَنْ أُصِيبَ مِنْ هَذَا اللَّبَنِ شَرْبَةً أَتَقَوَّى بِهَا), অলা-কিন লাম ইয়াকুম বুদ্দুন মিন তওয়াআতিল্লাহি ওয়া তওয়াআতি রাসুলিহি ফান্তাহাইতু ফাদাউয়্যাতুহুম (وَلَكِنْ لَمْ يَكُنْ بُدَّ مِنْ طَاعَةِ اللهِ وَطَاعَةِ رَسُولِهِ فَانْتَهَيْتُ فَدَعَوْتُهُمْ), ফাক্ববালু হাত্তাস তাজানু ফাউযিনা লাহুম ফআখাযু মাজা-লিসাহুম ফাক্বলা: ইয়া আবা হুরাইরাহ খুয ওয়া আ’তিহিম ফআখাযতুল ক্বদাহা ফাজায়ালতু উ’তীর রাজুলা ফায়াশরাবু হাত্তা ইউরউয়া (فَأَقْبَلُوا حَتَّى اسْتَأْذَنُوا فَأُذِنَ لَهُمْ فَأَخَذُوا مَجَالِسَهُمْ فَقَالَ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ خُذْ وَأَعْطِهِمْ فَأَخَذْتُ الْقَدَحَ فَجَعَلْتُ أُعْطِي الرَّجُلَ فَيَشْرَبُ حَتَّى يُرْوَى), ছুম্মা ইয়ারুদ্দু আল্লাইয়্যাল ফাদ্বহা হাত্তান্তাহাইতু ইলা রাসুলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা (ثُمَّ يَرُدُّ عَلَيَّ الْفَدَحَ حَتَّى انْتَهَيْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ), অ ক্বাদ রউয়িয়াল ক্বাওমু কুল্লাহুম (وَقَدْ رُوِيَ الْقَوْمُ كُلُّهُمْ), ফআখাযাল ক্বদাহা ও ওদ্বাআহু আলা ইয়াদাইহি ফাক্বলা: ইয়া আবা হুরাইরাহ (فَأَخَذَ الْقَدَحَ وَوَضَعَهُ عَلَى يَدَيْهِ فَقَالَ : يَا أَبَا هُرَيْرَةَ) ক্বুলতু: লাব্বাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ ক্বলা: বাক্বীতু আনা ওয়া আনতা (قُلْتُ : لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ : بَقِيتُ أَنَا وَأَنْتَ) ক্বুলতু: সাদ্বাক্বতা ইয়া রাসুলাল্লাহ (قُلْتُ: صَدَقْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ). ক্বলাক্ব উদ ওয়াশরাব (قَالَ اقْعُدْ وَاشْرَبْ), ফক্ব আ’দতু ওয়া শারাবতু ক্বলা: ইশরাব ফাশারাবতু (فَقَعَدْتُ وَشَرِبْتُ قَالَ: اشْرَبْ فَشَرِبْتُ). ফামা যা-লা ইয়াকুলু ইশরাব ফআশরাবু হাত্তা ক্বুলতু ওয়াল্লাযী বাআছাকা বিল হাক্কি নাবিয়্যান মা আজিদু মাসলাকান ফআ’তাইতুহুল ক্বদাহা ফহামিদ্যাল্লাহা ও শারিবান নাবিয়্যু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামাল ফাদ্বল (فَمَا زَالَ يَقُولُ اشْرَبْ فَأَشْرَبُ حَتَّى قُلْتُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ نَبِيًّا مَا أَجِدُ مَسْلَكًا فَأَعْطَيْتُهُ الْقَدَحَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَشَرِبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْفَضْلَ).

আবূ হুরায়রা রাযি. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সেই আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই! আমি ক্ষুধার জ্বালায় মাটিতে কলিজা (পেট) লাগাতাম এবং পেটে পাথর বাঁধতাম। একদিন আমি পথে বসে ছিলাম, যে পথে সাহাবায়ে কেরাম যাতায়াত করতেন। তখন আবু বকর রাযি. সে পথে যাচ্ছিলেন, আমি তাঁকে কুরআনের একটি আয়াতের প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলাম। আমার উদ্দেশ্য ছিল, যেন তিনি আমাকে কথার প্রসঙ্গে বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু তিনি চলে গেলেন, আমাকে সঙ্গে নিলেন না। অতঃপর হযরত উমর রাযি. এলেন, তাঁকেও কুরআনের একটি আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। উদ্দেশ্য ছিল, যেন তিনি আমাকে সঙ্গে করে বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু তিনিও চলে গেলেন এবং আমাকে সঙ্গে নিলেন না। এরপর রাসূল ﷺ বেরিয়ে এলেন, আমাকে দেখে মুচকি হাসলেন এবং আমার চেহারার অবস্থা ও মনের কথা বুঝে ফেলে বললেন, আবু হুরায়রা! আমি বললাম, 'খিদমতে হাযির, হে আল্লাহর রাসূল!' তিনি বললেন, আমার পিছন ধর। সুতরাং তিনি চলতে লাগলেন এবং আমি তাঁর অনুসরণ করতে লাগলাম। তিনি (নিজ ঘরে) প্রবেশ করলেন। অতঃপর তিনি আমার জন্য অনুমতি চাইলেন। তারা আমার জন্য অনুমতি দিলে আমি প্রবেশ করলাম। ঘরে এক পিয়ালা দুধ (দেখতে) পেলেন। তিনি বললেন, এ দুধ কোত্থেকে এল? তারা বলল, 'আপনার জন্য অমুক লোক উপঢৌকন পাঠিয়েছে।' তিনি বললেন, আবু হুরায়রা! আমি বললাম, 'খিদমতে হাযির, হে আল্লাহর রাসূল!' তিনি বললেন, আহলে সুফফাদের ডেকে আন। তাঁরা ইসলামের মেহমান ছিলেন, তাঁদের কোনো আশ্রয় ছিল না। ছিল না কোনো পরিবার ও ধন-সম্পদ বা অন্য কিছু। (সাদকাহ ও হাদিয়াতে তাঁদের জীবন কাটত।) তাঁর নিকট কোনো সাদকাহ এলে তিনি সবটুকুই তাঁদের নিকট পাঠিয়ে দিতেন। তা থেকে তিনি কিছুই গ্রহণ করতেন না। আর কোনো হাদিয়া বা উপঢৌকন এলেও তাঁদের নিকট পাঠাতেন। কিন্তু তা থেকে কিছু গ্রহণ করতেন এবং তাঁদেরকে তাতে শরীক করতেন। (তিনি যখন তাঁদেরকে ডাকতে বললেন,) তখন আমার খারাপ লাগল। আমি (মনে মনে) বললাম, এই টুকু দুধে আহলে সুফফাদের কী হবে? আমিই তো বেশি হকদার যে, এই দুধ পান করে একটু শক্তিশালী হতাম। কিন্তু যখন তাঁরা আসবেন এবং তিনি আমাকে আদেশ করলে আমি তাঁদেরকে দুধ পরিবেশন করব। তারপর আমার ভাগে এই দুধের কতটুকুই বা জুটবে!' অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কথা মান্য করা ছাড়া অন্য কোনো উপায়ও ছিল না। সুতরাং, আমি তাঁদের নিকট এসে তাঁদেরকে ডাকলাম। তাঁরা এসে প্রবেশের অনুমতি নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করলেন। তিনি বললেন, আবূ হুরায়রা! আমি বললাম, 'খিদমতে হাযির, হে আল্লাহর রাসূল!' তিনি বললেন, পিয়ালা নাও এবং ওদেরকে দাও। সুতরাং আমি পিয়ালাটি নিয়ে একজনকে দিলাম। তিনি তৃপ্তিসহকারে পান করে আমাকে পিয়ালা ফেরত দিলেন। অতঃপর আর একজনকে দিলাম। তিনি তৃপ্তিসহকারে পান করে আমাকে পিয়ালা ফেরত দিলেন। অতঃপর আর একজনকে দিলাম। তিনি তৃপ্তিসহকারে পান করে আমাকে পিয়ালা ফেরত দিলেন। এইভাবে পরিশেষে নবী ﷺ-এর নিকট এসে উপস্থিত হলাম। এতক্ষণে তাঁদের সবাই পান করে পরিতৃপ্ত হয়ে গেছেন। অতঃপর তিনি পিয়ালাটি নিয়ে নিজের হাতে রাখলেন এবং আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন, আবু হুরায়রা! আমি বললাম, 'খিদমতে হাযির, হে আল্লাহর রাসূল!' তিনি বললেন, এখন বাকি আমি আর তুমি। আমি বললাম, 'ঠিকই বলেছেন হে আল্লাহর রাসূল!' তিনি বললেন, বসো এবং পান কর। আমি বসে পান করলাম। তিনি আবার বললেন, পান কর। সুতরাং আমি আবার পান করলাম। অতঃপর তিনি আমাকে পান করার কথা বলতেই থাকলেন। পরিশেষে আমি বললাম, 'না। (আর পারব না।) সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, এর জন্য আমার পেটে আর কোনো জায়গা নেই!' অতঃপর তিনি বললেন, আমাকে দাও। সুতরাং আমি তাঁকে পিয়ালা দিলে তিনি মহান আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং 'বিসমিল্লাহ' বলে অবশিষ্ট দুধ পান করলেন।

ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, রাসূল-এর সাহাবীগণ কাফেরদের নির্যাতনে এবং ক্ষুধায় খুবই কষ্টে ছিলেন। তারা এতে ধৈর্য ধারণ করেছেন। ফলে আল্লাহ তাদের বিপদ দূর করেছেন। যে ব্যক্তিই ধৈর্য অবলম্বন করবে, আল্লাহ তাকে বিপদ থেকে মুক্তি দিবেন। কারণ, ধৈর্যের সঙ্গেই মুক্তি এবং কঠিনতার পরই সহজতা। সালেহীন প্রতিদানের আশায় কঠিন অবস্থাতে আনন্দিত হতেন। কারণ, তারা এর সওয়াবের আশা রাখতেন。

টিকাঃ
৫৫১. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৪৫২; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৪৭৭।

ফন্ট সাইজ
15px
17px