📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসা
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُৱ مُسْتَلْقٍ فَقَالَ : مِنْ أَيِّ شَيْءٍ تَشْتَكِي? قَالَ : الْخَمْصُ يَعْنِي الْجُوعَ، فَبَكَى الرَّجُلُ، ثُمَّ ذَهَبَ يَعْمَلُ فَاسْتَقَى لِرَجُلٍ دِلَاءً كُلُّ دَلْוٍ بِتَمْرَةٍ، ثُمَّ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَيْءٍ مِنْ تَمْرٍ فَقَالَ: مَا أَرَاكَ فَعَلْتَ هَذَا إِلَّا وَأَنْتَ تُحِبُّنِي. قَالَ: إِي وَاللَّهِ، إِنِّي لَأُحِبُّكَ. قَالَ: إِنْ كُنْتَ صَادِقًا فَأَعِدَّ لِلْبَلاءِ جِلْبَابًا، فَوَاللهِ لَلْبَلَاءُ أَسْرَعُ إِلَى مَنْ يُحِبُّنِي مِنَ السَّيْلِ مِنْ أَعْلَى الْجَبَلِ إلى الحضيض.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। একবার জনৈক ব্যক্তি রাসূল-এর দরবারে উপস্থিত হলো। রাসূল ﷺ তখন চিৎ হয়ে শুয়েছিলেন। লোকটি জিজ্ঞেস করল, কী কারণে চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন? তিনি বললেন, ক্ষুধার কারণে। একথা শুনে লোকটি কেঁদে ফেলল এবং এরপর কাজ করতে চলে গেল। এক ব্যক্তিকে পানি এনে দিল। বালতিপ্রতি একটি করে খেজুর পেল। অতঃপর সে রাসূলের নিকট কিছু খেজুর নিয়ে উপস্থিত হলো। রাসূল ﷺ বললেন, তুমি নিশ্চয় আমাকে ভালোবেসে এ কাজ করেছ? লোকটি বলল, অবশ্যই, আল্লাহর শপথ! আমি আপনাকে ভালোবাসি। রাসূল ﷺ বললেন, যদি তুমি সত্যবাদী হও, তাহলে বিপদের জন্য প্রস্তুত হও। কারণ, উঁচু ভূমি থেকে নিচু ভূমিতে পানির স্রোত যতটা গতিশীল, যে আমাকে ভালোবাসি, তার দিকে বিপদাপদ এর চেয়ে দ্রুত গতিশীল।
টিকাঃ
৫৪৬. তারীখে বাগদাদ: ৩/১৫৫; আত-তারগীব: হাদীস-৮৫৫; জয়ীফুল জামে: হাদীস-১২৯৭
📄 আল্লাহ গুনাহীকে ঢিল দেন
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: إِذَا رَأَيْتُمُ الرَّجُلَ يُعْطِيهِ اللهُ تَعَالَى مَا يُحِبُّ، وَهُৱ مُقِيمٌ عَلَى مَعْصِيَتِهِ فَاعْلَمُوا أَنَّ ذَلِكَ اسْتِدْرَاجٌ. ثُمَّ قَرَأَ قَوْلَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ: فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلَّ شَيْءٍ (الأنعام : ৪৪) যানি লাম্মা তারাকু মা উমিরু বিহি ফাতাহনা আলাইহিম আবওয়াবাল খাইরি হাত্তা ইযা ফারিহু বিমা উতু (يَعْنِي لَمَّا تَرَكُوا مَا أُمِرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ الْخَيْرِ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا), يَعْنِي لَمَّا أُعْطُوا مِنَ الخَيْرِ، أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً يَعْنِي فَجْأَةً، فَإِذَا هُمْ مُبْلِسُونَ آبِسِينَ مِنْ كُلِّ خَيْرٍ.
হযরত উকবা বিন আমের রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তোমরা যদি দেখ যে, পাপে অটল থাকা সত্ত্বেও কাউকে আল্লাহ তার পছন্দনীয় বিষয় দান করে যাচ্ছেন, তবে জেনে রাখ, এটা তাকে ঢিল দেওয়া হলো। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করলেন-
ফাল্লাম্মা নাসূ মা যুক্কিরূ বিহি ফাতাহনা- আলাইহিম আবওয়া-বা কুল্লি শাইয়িন হাত্তা- ইযা- ফারিহু বিমা- ঊতূ আখাযনা-হুম বাগ তাতান ফাইযা- হুম মুবলিসূন।
অর্থ: অতঃপর তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, তারা যখন তা ভুলে গেল, আমি তাদের উপর সব কিছুর দরজা খুলে দিলাম। অবশেষে তাদেরকে যা প্রদান করা হয়েছিল তার কারণে তারা উৎফুল্ল হলো, আর আমি হঠাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম। ফলে তারা হতাশ হয়ে গেল।
টিকাঃ
৫৪৭. মুসনাদে আহমাদ: ২৮/৫৪৭; শুআবুল ঈমান: হাদীস-৪৫৪০; তাফসীরে ত্ববারী: ৭/১৯৫। শায়েখ আলবানী ও শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
৫৪৮. সূরা আনআম: আয়াত-৪৪
📄 সর্বাধিক বিপদগ্রস্থ ব্যক্তি
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ سُئِلَ أَيُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلَاءً? قَالَ: الْأَنْبِيَاءُ ثُمَّ الصَّالِحُونَ ثُمَّ الْأَمْثَلُ فَالْأَمْثَلُ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলকে জিজ্ঞেস করা হলো কোন ব্যক্তির উপর সবচেয়ে বেশি বিপদ আসে? তিনি বললেন, প্রথমত নবীদের উপর, তারপর সালেহীনের উপর। অতঃপর পর্যায়ক্রমে যারা ভালো কাজে তাদের সাথে সাদৃশ্য রাখে তাদের উপর।
টিকাঃ
৫৪৯. সুনানে তিরমিযী : হাদীস-২৩৯৮; সুনানে ইবনে মাজাহ : হাদীস-৪০২৩; মুসনাদে আহমাদ : হাদীস-১৪৮১। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।
📄 কল্যাণের খাজানা
বলা হয়, তিনটি বিষয় কল্যাণের খাজানার অন্তর্ভুক্ত। ১. সদকা গোপন করা। ২. দুঃখ কষ্ট গোপন করা। ৩. বিপদ গোপন করা।
হযরত ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ রহ. বলেন, ঈসা আ.-এর এক সঙ্গীর লেখায় পাওয়া গেছে, যখন তোমাকে মুসীবতে ফেলা হবে, তখন খুশি হও। কারণ, তোমাকে আম্বিয়া ও সালেহীনের পথে চালিত করা হলো, আর যখন তোমাকে স্বাচ্ছন্দ্য দান করা হয়, তখন তুমি নিজের জন্য কাঁদো। কারণ, তোমাকে ভিন্নপথে ঠেলে দেয়া হলো। বলা হয়, আল্লাহ তা'আলা মূসা আ.-এর নিকটও এরূপ ওহী প্রেরণ করেছিলেন।
ফাতহ মুসেলী থেকে বর্ণিত। তার পরিবারে একবার অভাব-অনটন দেখা দিল। তখন তিনি বলতে লাগলেন, ইলাহী! যদি জানতে পেতাম কী আমলের দরুন আমাকে এ বিপদ দিয়েছেন, তবে তা বেশি করে করতাম।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ: مَنْ قَلَّ مَالُهُ وَكَثُرَ عِيَالُهُ وَحَسُنَتْ صَلَاتُهُ، وَلَمْ يَغْتَبِ الْمُسْلِمِينَ، جَاءَ مَعِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ هَكَذَا، وَجَمَعَ إِصْبَعَيْهِ.
হাদীসে এসেছে, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, যার সম্পদ কম, পরিবার বড়, সালাত সুন্দর এবং সে মুসলমানদের গীবত করে না। কিয়ামতের দিন সে আমার সাথে এভাবে উপস্থিত হবে। এই বলে তিনি দু'আঙ্গুলকে একত্রিত করলেন। ধৈর্য অবলম্বনকারীদেরকে আল্লাহ সচ্ছলতা দান করেন।
টিকাঃ
৫৫০. মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৪/৭৩; আল ইলালুল মুতানাহিয়া ২/৮০৪; ইবনুল জাওযী বলেন, হাদীসটি সহীহ নয়। শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে অত্যন্ত জয়ীফ/ জাল বলেছেন [সিলসিলাহ জয়ীফাহ: হাদীস-৫২৭০, ৫৫২৪]।