📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কিয়ামতের দিন চার নবীকে চার ধরনের ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসাবে পেশ করা হবে

📄 কিয়ামতের দিন চার নবীকে চার ধরনের ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসাবে পেশ করা হবে


বলা হয়, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা চার শ্রেণির মানুষের জন্য চারজন নবীকে প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করবেন।
১. ধনী শ্রেণীর সামনে হযরত সুলাইমান আ.কে প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করা হবে। সুতরাং ধনীরা যখন বলবে যে, ধনৈশ্বর্য আমাদেরকে আপনার ইবাদত থেকে বিরত রেখেছে, তখন সুলাইমান আ.-এর উদাহরণ পেশ করে আল্লাহ বলবেন, তুমি তো সুলায়মান আ. থেকে অধিক ধনী ছিলে না। ধনৈশ্বর্য তাকে আমার ইবাদত থেকে বিরত রাখেনি।
২. গোলামদের সামনে ইউসুফ আ. কে প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করা হবে। যখন গোলামরা বলবে যে, আমি গোলাম ছিলাম বিধায় আপনার ইবাদত করতে পারিনি তখন আল্লাহ ইউসুফ আ.-এর উদাহরণ পেশ করে বলবেন, গোলামী তো ইউসুফকে আমার ইবাদত থেকে বিরত রাখেনি।
৩. অভাবীদের সামনে ঈসা আ.কে প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করা হবে। অভাবীরা যখন অভিযোগ করবে যে, আমার অভাব আমাকে আপনার ইবাদত থেকে বিরত রেখেছে, তখন আল্লাহ তা'আলা ঈসা আ.-এর উদাহরণ উপস্থাপন করে বলবেন, তুমি কি ঈসার চেয়েও অধিক অভাবী ছিলে? ঈসাকে তো তার অভাব-অনটন আমার ইবাদত থেকে বিরত রাখেনি।
৪. অসুস্থদের সামনে আইয়ূব আ.কে প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করা হবে। অসুস্থ ব্যক্তিরা যখন অভিযোগ করবে যে, অসুস্থতা আমাকে আপনার ইবাদত থেকে বিরত রেখেছে, তখন আল্লাহ তা'আলা আইয়ূব আ.কে উপস্থাপন করে বলবেন, তুমি কি আইয়ূব এর তুলনায় অধিক অসুস্থ ছিলে? অসুস্থতা তো তাকে আমার ইবাদত থেকে বিরত রাখেনি।
ফলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলার সামনে পেশ করার মতো কোনো ওযরই থাকবে না। সালেহীন ও সৎপথের পথিকরা অসুস্থতা ও কঠিন অবস্থায় নিপতিত হয়ে আনন্দিত হতেন। কারণ, এর মাধ্যমে পাপ মোচন হয়।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ

📄 দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ


عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : ثَلَاثُ مَنْ رُزِقَهُنَّ فَقَدْ رُزِقَ خَيْرَيِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ الرِّضَا بِالْقَضَاءِ، وَالصَّبْرُ عَلَى الْبَلَاءِ وَالدُّعَاءُ عِنْدَ الرَّخَاءِ.

হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, তিনটি বিষয় যাকে দান করা হয়েছে, তাকে দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত কল্যাণ দান করা হয়েছে। যথা-
১. তকদীরের প্রতি সন্তুষ্টি।
২. বিপদে ধৈর্যধারণ।
৩. সচ্ছল অবস্থাতে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা জানানো।

টিকাঃ
৫৪৫. হাদীসটি আবুশ শায়েখ তাঁর সাওয়াবে ও দাইলামী তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন [ফাইযুল কাদীর: ৩/৩১৪; জয়ীফুল জামে: হাদীস-২৫৭০]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসা

📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসা


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُৱ مُسْتَلْقٍ فَقَالَ : مِنْ أَيِّ شَيْءٍ تَشْتَكِي? قَالَ : الْخَمْصُ يَعْنِي الْجُوعَ، فَبَكَى الرَّجُلُ، ثُمَّ ذَهَبَ يَعْمَلُ فَاسْتَقَى لِرَجُلٍ دِلَاءً كُلُّ دَلْוٍ بِتَمْرَةٍ، ثُمَّ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشَيْءٍ مِنْ تَمْرٍ فَقَالَ: مَا أَرَاكَ فَعَلْتَ هَذَا إِلَّا وَأَنْتَ تُحِبُّنِي. قَالَ: إِي وَاللَّهِ، إِنِّي لَأُحِبُّكَ. قَالَ: إِنْ كُنْتَ صَادِقًا فَأَعِدَّ لِلْبَلاءِ جِلْبَابًا، فَوَاللهِ لَلْبَلَاءُ أَسْرَعُ إِلَى مَنْ يُحِبُّنِي مِنَ السَّيْلِ مِنْ أَعْلَى الْجَبَلِ إلى الحضيض.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। একবার জনৈক ব্যক্তি রাসূল-এর দরবারে উপস্থিত হলো। রাসূল ﷺ তখন চিৎ হয়ে শুয়েছিলেন। লোকটি জিজ্ঞেস করল, কী কারণে চিৎ হয়ে শুয়ে আছেন? তিনি বললেন, ক্ষুধার কারণে। একথা শুনে লোকটি কেঁদে ফেলল এবং এরপর কাজ করতে চলে গেল। এক ব্যক্তিকে পানি এনে দিল। বালতিপ্রতি একটি করে খেজুর পেল। অতঃপর সে রাসূলের নিকট কিছু খেজুর নিয়ে উপস্থিত হলো। রাসূল ﷺ বললেন, তুমি নিশ্চয় আমাকে ভালোবেসে এ কাজ করেছ? লোকটি বলল, অবশ্যই, আল্লাহর শপথ! আমি আপনাকে ভালোবাসি। রাসূল ﷺ বললেন, যদি তুমি সত্যবাদী হও, তাহলে বিপদের জন্য প্রস্তুত হও। কারণ, উঁচু ভূমি থেকে নিচু ভূমিতে পানির স্রোত যতটা গতিশীল, যে আমাকে ভালোবাসি, তার দিকে বিপদাপদ এর চেয়ে দ্রুত গতিশীল।

টিকাঃ
৫৪৬. তারীখে বাগদাদ: ৩/১৫৫; আত-তারগীব: হাদীস-৮৫৫; জয়ীফুল জামে: হাদীস-১২৯৭

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আল্লাহ গুনাহীকে ঢিল দেন

📄 আল্লাহ গুনাহীকে ঢিল দেন


عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: إِذَا رَأَيْتُمُ الرَّجُلَ يُعْطِيهِ اللهُ تَعَالَى مَا يُحِبُّ، وَهُৱ مُقِيمٌ عَلَى مَعْصِيَتِهِ فَاعْلَمُوا أَنَّ ذَلِكَ اسْتِدْرَاجٌ. ثُمَّ قَرَأَ قَوْلَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ: فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلَّ شَيْءٍ (الأنعام : ৪৪) যানি লাম্মা তারাকু মা উমিরু বিহি ফাতাহনা আলাইহিম আবওয়াবাল খাইরি হাত্তা ইযা ফারিহু বিমা উতু (يَعْنِي لَمَّا تَرَكُوا مَا أُمِرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ الْخَيْرِ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا), يَعْنِي لَمَّا أُعْطُوا مِنَ الخَيْرِ، أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً يَعْنِي فَجْأَةً، فَإِذَا هُمْ مُبْلِسُونَ آبِسِينَ مِنْ كُلِّ خَيْرٍ.

হযরত উকবা বিন আমের রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তোমরা যদি দেখ যে, পাপে অটল থাকা সত্ত্বেও কাউকে আল্লাহ তার পছন্দনীয় বিষয় দান করে যাচ্ছেন, তবে জেনে রাখ, এটা তাকে ঢিল দেওয়া হলো। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করলেন-

ফাল্লাম্মা নাসূ মা যুক্কিরূ বিহি ফাতাহনা- আলাইহিম আবওয়া-বা কুল্লি শাইয়িন হাত্তা- ইযা- ফারিহু বিমা- ঊতূ আখাযনা-হুম বাগ তাতান ফাইযা- হুম মুবলিসূন।

অর্থ: অতঃপর তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল, তারা যখন তা ভুলে গেল, আমি তাদের উপর সব কিছুর দরজা খুলে দিলাম। অবশেষে তাদেরকে যা প্রদান করা হয়েছিল তার কারণে তারা উৎফুল্ল হলো, আর আমি হঠাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম। ফলে তারা হতাশ হয়ে গেল।

টিকাঃ
৫৪৭. মুসনাদে আহমাদ: ২৮/৫৪৭; শুআবুল ঈমান: হাদীস-৪৫৪০; তাফসীরে ত্ববারী: ৭/১৯৫। শায়েখ আলবানী ও শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
৫৪৮. সূরা আনআম: আয়াত-৪৪

ফন্ট সাইজ
15px
17px