📄 আল্লাহর প্রশংসা করার ফল
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : أَوَّلُ مَنْ يُدْعَى إِلَى الْجَنَّةِ الْحَمَّادُونَ اللهِ ، الَّذِينَ يَحْمَدُونَ اللَّهَ عَلَى السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, সর্বপ্রথম জান্নাতের দিকে আহ্বান করা হবে তাদেরকে যারা দুর্যোগে ও স্বাচ্ছন্দ্যে আল্লাহর প্রশংসা করেছে। তাই বান্দার কর্তব্য হলো, বিপদাপদে ধৈর্য ধারণ করা। সেই সাথে এ বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ তাকে যে মুসীবাতে ফেলেছেন, এর চেয়ে বেশি মুসীবত দূর করে দিয়েছেন এবং সর্বদা বিপদে আল্লাহর প্রশংসা করা।
টিকাঃ
৫৪১. সিফাতুল জান্নাত লিআবী নুয়াইম: ১/১১৫; হিলইয়াহ ৫/৬৯; মুস্তাদরাকে হাকেম: ১/৫০২। হাদীসটি হাসান সহীহ [তাখরীজুল মিশকাত লি-ইবনে হাজার ২/৪৩৬]।
📄 কাফের কর্তৃক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কষ্টভোগ
মুশরিকদের হাতে সীমাহীন কষ্টভোগের পরও রাসূল ﷺ যেভাবে ধৈর্য ধারণ করেছেন, তা দেখে নবীজীর অনুসরণ করা কর্তব্য।
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، قَالَ : بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي عِنْدَ الْبَيْتِ، وَأَبُو جَهْلٍ وَأَصْحَابُهُ جُلُوسٌ، وَقَدْ نُحِرَتْ جَزُورٌ بِالْأَمْسِ فَقَالَ أَبُو جَهْلٍ لَعَنَهُ اللهُ : أَيُّكُمْ يَقُومُ إِلَى سَلَا الْجَزُورِ فَيُلْقِيهِ عَلَى كَتِفِ مُحَمَّدٍ إِذَا سَجَدَ? فَانْبَعَثَ أَشْقَى الْقَوْمِ فَأَخَذَهُ فَلَمَّا سَجَدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَضَعَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ فَاسْتَضْحَكُوا وَأَنَا قَائِمٌ أَنْظُرُ. قُلْتُ : لَوْ كَانَ لِي مَنْعَةٌ لَطَرَحْتُهُ عَنْ ظَهْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَاجِدٌ مَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ، حَتَّى انْطَلَقَ إِنْسَانٌ فَأَخْبَرَ فَاطِمَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا وَجَاءَتْ، وَهِيَ جُوَيْرِيَّةٌ، فَطَرَحَتْهُ ثُمَّ أَقْبَلَتْ عَلَيْهِمْ تَسُبُّهُمْ. فَلَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ صَلَاتَهُ رَفَعَ صَوْتَهُ فَدَعَا عَلَيْهِمْ فَقَالَ : اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِقُرَيْشٍ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ فَلَمَّا سَمِعُوا صَوْتَهُ وَدُعَاءَهُ ذَهَبَ عَنْهُمُ الضَّحِكُ، وَخَافُوا دَعْوَتَهُ. فَقَالَ: اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِأَبِي جَهْلٍ وَعُقْبَةَ وَعُتْبَةَ وَشَيْبَةَ وَالْوَلِيدِ بْنِ الْمُغِيرَةِ وَأُمَيَّةَ بْنِ خَلَفٍ. قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ : وَالَّذِي بَعَثَ مُحَمَّدًا بِالْحَقِّ، لَقَدْ رَأَيْتُ الَّذِينَ سَمَّاهُمْ صَرْعَى يَوْمَ بَدْرٍ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, একবার রাসূল ﷺ বাইতুল্লাহর পাশে সালাত আদায় করছিলেন। তখন আবু জাহেল ও তার দলবল সেখানে বসা ছিল। আগের দিন কয়েকটি উট জবাই করা হয়েছিল। সেটার নাড়িভুঁড়ি পড়া ছিল। অভিশপ্ত আবু জাহেল বলল, মুহাম্মদ যখন সেজদায় যাবে, তার কাঁধে উটগুলোর নাড়িভুঁড়ি চাপা দিতে পারবে কে? তাদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্ভাগা উঠে দাঁড়ালো। সে গিয়ে তা নিয়ে এল এবং রাসূল সেজদায় গেলে তার কাঁধে ফেলে দিল। এরপর তারা হেসে উঠল, আমি দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। আমি মনে মনে বলছিলাম, আমার যদি শক্তি থাকত, তবে আমি রাসূলের পিঠ থেকে তা সরিয়ে দিতাম। রাসূল এ অবস্থাতেই সেজদাতেই পড়ে রইলেন, মাথা তুলতে পারছিলেন না। জনৈক ব্যক্তি ফাতেমা রাযি.কে সংবাদ দিলে তিনি ছুটে এলেন। বয়সে তিনি তখনও ছোট। তিনি এসে তা সরিয়ে দিলেন এবং তাদের দিকে ফিরে বকতে লাগলেন। রাসূল ﷺ নামায শেষে উচ্চৈঃস্বরে তাদেরকে বদদোয়া করলেন। তিনি বললেন, 'হে আল্লাহ' কুরাইশকে পাকড়াও করুন। একথাটি তিনি তিনবার বললেন। তারা যখন রাসূলের আওয়াজ ও বদদোয়া শুনতে পেল, তাদের হাসি মুছে গেল এবং বদদোয়ার ফলে তাদের মাঝে ভয়ের সৃষ্টি হলো। রাসূল ﷺ বললেন, 'হে আল্লাহ, আবূ জাহেল, উকবা, উতবা, শায়বা, ওয়ালীদ বিন মুগীরা এবং উমাইয়া বিন খালফকে ধ্বংস করুন। হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. বলেন, সে সত্তার শপথ, যিনি মুহাম্মাদকে সত্য দিয়ে প্রেরণ করেছেন। রাসূল ﷺ বদদোয়ার যাদের নামোচ্চারণ করেছেন, তাদেরকে বদর দিনে ধ্বংস হতে দেখেছি।
টিকাঃ
৫৪২. সহীহ বুখারী: হাদীস-৫২০; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৭৯।
📄 বিপদাপদে ধৈর্যধারণের সওয়াব
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، قَالَ : شَكَا نَبِيٌّ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ إِلَى رَبِّهِ، فَقَالَ : يَا رَبُّ الْعَبْدُ الْمُؤْمِنُ يُطِيعُكَ وَيَجْتَنِبُ مَعَاصِيكَ، تَزْوِي عَنْهُ الدُّنْيَا وَتَعْرِضُ لَهُ الْبَلَاءُ. وَيَكُونُ الْعَبْدُ الْكَافِرُ لَا يُطِيعُكَ وَيَجْتَرِئُ عَلَى مَعَاصِيكَ، تَزْوِي عَنْهُ الْبَلَاءَ وَتَبْسُطُ لَهُ الدُّنْيَا. فَأَوْحَى اللَّهُ تَعَالَى إِلَيْهِ أَنْ الْعِبَادَ لِي، وَالْبَلاءَ لِي، وَكُلُّ يُسَبِّحُ بِحَمْدِي. فَيَكُونُ الْمُؤْمِنُ عَلَيْهِ مِنَ الذُّنُوبِ فَأَزْوِي عَنْهُ الدُّنْيَا، وَأَعْرِضُ لَهُ الْبَلَاءَ فَيَكُونُ كَفَّارَةً لِذُنُوبِهِ، حَتَّى يَلْقَانِي فَأَجْزِيَهُ بِحَسَنَاتِهِ. وَيَكُونُ الْكَافِرُ لَهُ السَّيِّئَاتُ، فَأَبْسُطُ لَهُ فِي الرِّزْقِ فَأَزْوِي عَنْهُ الْبَلاءَ حَتَّى يَلْقَانِي فَأَجْزِيهِ بِسَيِّئَاتِهِ.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক নবী আল্লাহর নিকট অনুযোগ করে বললেন, হে রব! মুমিন বান্দা আপনার আনুগত্য করে এবং আপনার অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকে। অথচ আপনি তার দুনিয়ার নিয়ামত নিয়ে যান আর তাকে বিপদের মুখোমুখি করেন। পক্ষান্তরে কাফের বান্দা, যে আপনার আনুগত্য করে না, আপনার অবাধ্যতা করে, তার থেকে আপনি বিপদকে দূরে রাখেন এবং দুনিয়ার নিয়ামত দান করেন। তখন আল্লাহ তার নিকট ওহী পাঠালেন, মুমিন বান্দাগণও আমার এবং বিপদাপদও আমার সৃষ্টি। সকলেই আমার প্রশংসা করে ও তাসবীহ পড়ে। মুমিনের কিছু গুনাহ থাকে, ফলে আমি তার থেকে দুনিয়াকে দূরে সরিয়ে দিই এবং তাকে বিপদের মুখোমুখি করি। যেন এগুলো তার গুনাহের কাফ্ফারা হয়ে যায়। এভাবে সে আমার সাথে পাপমুক্ত হয়ে সাক্ষাৎ করে। তখন আমি তাকে তার ভালো কর্মের প্রতিদান দিই। আর কাফেরেরও কিছু নেকি থাকে। ফলে তার বিপদাপদ দূর করি, তাকে পর্যাপ্ত রিযিক দান করি। এভাবে সে আমার সাথে নেকিমুক্ত হয়ে সাক্ষাৎ করে। তখন তাকে আমি তার কৃত যাবতীয় মন্দকর্মের শাস্তি দিই。
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدِ خَيْرًا، أَوْ أَرَادَ أَنْ يُصَافِيَهُ، صَبَّ عَلَيْهِ الْبَلَاءَ صَبًّا، وَتَجَهُ عَلَيْهِ تَجَا، وَإِذَا دَعَاهُ قَالَتِ الْمَلَائِكَةُ: يَا رَبُّ صَوْتٌ مَعْرُوفٌ، فَإِذَا دَعَاهُ الثَّانِيَةَ فَقَالَ : يَا رَبُّ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ، لَا تَسْأَلْنِي شَيْئًا إِلَّا أُعْطِيكَ، أَوْ دَفَعْتُ عَنْكَ مَا هُৱ شَرٌّ، وَادَّخَرْتُ عِنْدِي لَكَ مَا هُৱ أَفْضَلُ مِنْهُ. فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ جِيءَ بِأَهْلِ الْأَعْمَالِ فَוُقُوا أَعْمَالَهُمْ بِالْمِيزَانِ، وَلَا يُنْشَرُ لَهُمُ الدِّيوَانُ، وَيُصَبُّ عَلَيْهِمُ الْأَجْرُ صَبًّا، كَمَا يُصَبُّ عَلَيْهِمُ الْبَلَاءُ، فَيَוَدُّ أَهْلُ الْعَافِيَةِ فِي الدُّنْيَا لَوْ أَنَّهُمْ كَانَتْ تُقْرَضُ أَجْسَادُهُمْ بِالْمَقَارِيضِ لِمَا يَرَوْنَ مِمَّا يَذْهَبُ بِهِ أَهْلُ الْبَلَاءِ مِنَ الثَّוَابِ، فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى: إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ (الزمر : ১০)
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, যখন আল্লাহ তা'আলা কোনো বান্দার কল্যাণ কামনা করেন, কিংবা তাকে আন্তরিক বন্ধুরূপে গ্রহণ করার ইচ্ছা করেন, তখন তার উপর বিপদাপদ ও দুর্ভোগ চাপিয়ে দেন। আর যখন সে চিৎকার করে দোয়া করে, তখন ফেরেশতাগণ বলেন, হে রব! এ তো পরিচিত আওয়াজ। এরপর বান্দা যখন পুনরায় আল্লাহকে ডাকে, তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন, হে আমার বান্দা, আমি হাজির! তুমি যা চাও, তাই তোমাকে দিব অথবা যা তোমার জন্য অকল্যাণকর, তা দূর করে দিব। আর আমার নিকট তোমার জন্য এমন কিছু সঞ্চয় করে রাখবো, যা তোমার কাম্য বস্তু থেকেও উত্তম ও শ্রেষ্ঠ। কিয়ামতের দিন আমলকারীদেরকে উপস্থিত করে মীযানের পাল্লায় মেপে মেপে তাদেরকে প্রতিদান পূর্ণ প্রদান করা হবে। সালাত, সিয়াম, সদকা, ও হজ্ব পালনকারীদেরকে তাদের প্রতিদান মেপে দেয়া হবে। অতঃপর বিপদগ্রস্থদেরকে উপস্থিত করা হবে। তাদের জন্য কোনো পাল্লা স্থাপন করা হবে না, কিতাব খোলা হবে না, বরং তাদের সওয়াব ঢেলে দেওয়া হবে। তখন দুনিয়াতে বিপদমুক্ত জীবন যাপনকারীরা বিপদগ্রস্তদের বিপুল সওয়াব দেখে আফসোস করতে থাকবে। তাদের মনে এ আকাঙ্ক্ষা জাগবে যে, হায় যদি দুনিয়াতে তাদের দেহকে কেটে ফেলা হতো। এ বিষয়টিকেই কুরআনে এভাবে বলা হয়েছে-
ইন্নামা ইউওয়াফ্ফাস সা-বিরুনা আজরাহুম বিগাইরি হিসা-ব (إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ) অর্থ: নিশ্চয় ধৈর্যধারণকারীদেরকে তাদের প্রতিদান বেহিসাব প্রদান করা হবে।
বর্ণিত আছে, মুমিন ও কাফের একদা মাছ ধরতে গেলে কাফের তার উপাস্যদের নামে জাল ফেলে অনেক মাছ পেলো। মুমিন আল্লাহর নাম নিয়ে জাল ফেলে কিছুই পেলো না। সন্ধ্যায় একটি মাছ পেলেও তা পালিয়ে গেল। মুমিনের ফেরেশতা আল্লাহর দরবারে অভিযোগ করলে আল্লাহ তাকে জান্নাতে মুমিনের এবং জাহান্নামে কাফেরের আবাস দেখালেন। ফেরেশতা তখন শান্ত হয়ে বলল, আখেরাতের এই নিআমত ও আযাবের তুলনায় দুনিয়ার লাভ-লোকসান কিছুই না।
টিকাঃ
৫৪৩. আল-মারায : হাদীস-২২০; আল-ফিরদাউস, দাইলামী : হাদীস-৯৭২। আল্লামা ইরাকী হাদীসটিকে জয়ীফ বলেছেন [তাখরীজুল এহইয়া: ১/৪০৪৫]。
৫৪৪. সূরা যুমার: আয়াত-১০
📄 কিয়ামতের দিন চার নবীকে চার ধরনের ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসাবে পেশ করা হবে
বলা হয়, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা চার শ্রেণির মানুষের জন্য চারজন নবীকে প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করবেন।
১. ধনী শ্রেণীর সামনে হযরত সুলাইমান আ.কে প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করা হবে। সুতরাং ধনীরা যখন বলবে যে, ধনৈশ্বর্য আমাদেরকে আপনার ইবাদত থেকে বিরত রেখেছে, তখন সুলাইমান আ.-এর উদাহরণ পেশ করে আল্লাহ বলবেন, তুমি তো সুলায়মান আ. থেকে অধিক ধনী ছিলে না। ধনৈশ্বর্য তাকে আমার ইবাদত থেকে বিরত রাখেনি।
২. গোলামদের সামনে ইউসুফ আ. কে প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করা হবে। যখন গোলামরা বলবে যে, আমি গোলাম ছিলাম বিধায় আপনার ইবাদত করতে পারিনি তখন আল্লাহ ইউসুফ আ.-এর উদাহরণ পেশ করে বলবেন, গোলামী তো ইউসুফকে আমার ইবাদত থেকে বিরত রাখেনি।
৩. অভাবীদের সামনে ঈসা আ.কে প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করা হবে। অভাবীরা যখন অভিযোগ করবে যে, আমার অভাব আমাকে আপনার ইবাদত থেকে বিরত রেখেছে, তখন আল্লাহ তা'আলা ঈসা আ.-এর উদাহরণ উপস্থাপন করে বলবেন, তুমি কি ঈসার চেয়েও অধিক অভাবী ছিলে? ঈসাকে তো তার অভাব-অনটন আমার ইবাদত থেকে বিরত রাখেনি।
৪. অসুস্থদের সামনে আইয়ূব আ.কে প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করা হবে। অসুস্থ ব্যক্তিরা যখন অভিযোগ করবে যে, অসুস্থতা আমাকে আপনার ইবাদত থেকে বিরত রেখেছে, তখন আল্লাহ তা'আলা আইয়ূব আ.কে উপস্থাপন করে বলবেন, তুমি কি আইয়ূব এর তুলনায় অধিক অসুস্থ ছিলে? অসুস্থতা তো তাকে আমার ইবাদত থেকে বিরত রাখেনি।
ফলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলার সামনে পেশ করার মতো কোনো ওযরই থাকবে না। সালেহীন ও সৎপথের পথিকরা অসুস্থতা ও কঠিন অবস্থায় নিপতিত হয়ে আনন্দিত হতেন। কারণ, এর মাধ্যমে পাপ মোচন হয়।