📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 বিপদাপদ গুনাহের কাফ্ফারা স্বরূপ

📄 বিপদাপদ গুনাহের কাফ্ফারা স্বরূপ


عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ يَرْفَعُهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَجُلًا قَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَهَبَ مَالِي وَسَقِمَ جِسْمِي. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ : لَا خَيْرَ فِي عَبْدٍ لَا يَذْهَبُ مَالُهُ وَلَا يَسْقَمُ جِسْمُهُ، إِنَّ اللَّهَ إِذَا أَحَبَّ عَبْدًا ابْتَلَاهُ. وَإِذَا ابْتَلَاهُ صَبَّرَهُ.

মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি রাসূল ﷺ কে বলল, আমার সম্পদ নিঃশেষ হয়ে গেছে, আমার দেহ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। রাসূল ﷺ বললেন, যার সম্পদ নিঃশেষ হয় না এবং দেহ অসুস্থ হয় না এমন ব্যক্তির মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। কারণ, আল্লাহ যখন বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তাকে পরীক্ষা করেন। যখন তাকে পরীক্ষা করেন, তখন তাকে ধৈর্য ধারণের শক্তি দান করেন।

হযরত আলী রাযি. বলেন, কোনো ব্যক্তিকে যদি অন্যায়ভাবে বাদশাহ বন্দি করে, আর এতে তার মৃত্যু হয়, তাহলে সে শহীদ। অনুরূপ যদি সে বাদশাহর হাতে প্রহৃত হয়ে মৃত্যুবরণ করে, তাহলেও সে শহীদ।

عَنْ أَبِي فَاطِمَةَ الضَّمْرِيُّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ الرَّجُلَ لَتَكُونُ لَهُ الدَّرَجَةُ عِنْدَ اللهِ لَا يَبْلُغُهَا بِعَمَلِهِ حَتَّى يُبْتَلَى بِبَلَاءٍ فِي جِسْمِهِ فَيَبْلُغَهَا بِذَلِكَ.

আবু ফাতিমা যামরী থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, কখনো কখনো আল্লাহ বান্দাকে এমন স্তর দান করেন, কিন্তু সে নিজ আমলের মাধ্যমে সে স্তরে পৌঁছতে সক্ষম না। তখন আল্লাহ তাকে দৈহিকভাবে বিপদে ফেলেন। আর এতে সে ধৈর্য ধারণের ফলে সে উক্ত স্তর লাভ করে।

বলা হয়, যখন কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হলো- মঁই ইয়ামাল সূ-আঁ ইজযা বিহি (مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ) অর্থ: যে ব্যক্তি মন্দ করবে, তাকে তার মন্দ আমলের প্রতিদান দেয়া হবে। তখন আবূ বকর রাযি. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ আয়াত নাযিলের পর আমাদের আনন্দ লাভের সুযোগ রইল না। রাসূল ﷺ বললেন, 'হে আবু বকর, আল্লাহ তোমাকে মাগফেরাত দান করুন। তুমি কি অসুস্থ হও না? কষ্ট, ক্লান্তি ও দুঃখের সম্মুখীন হও না? এগুলোই তোমাদের মন্দ আমলের প্রতিদান।'

عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ : لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ (مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ) خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللهِ ﷺ وَقَالَ: قَدْ أُنْزِلَتْ عَلَيَّ آيَةٌ هِيَ خَيْرٌ لِأُمَّتِي مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا. ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ : مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ (النساء: ১২৩) ثُمَّ قَالَ : إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا أَذْنَبَ ذَنْبًا فَتُصِيبُهُ شِدَّةٌ أَوْ بَلاءٌ فِي الدُّنْيَا، فَاللَّهُ أَكْرَمُ مِنْ أَنْ يُعَذِّبَهُ ثَانِيًا.

হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ (অর্থ: যে ব্যক্তি মন্দ করবে, তাকে তার মন্দ আমলের প্রতিদান দেয়া হবে) এ আয়াত নাযিল হলে রাসূল ﷺ আমাদের সম্মুখে উপস্থিত হয়ে বলতে লাগলেন, আমার নিকট এক আয়াত অবতীর্ণ করা হয়েছে, যা আমার উম্মতের জন্য দুনিয়া ও তৎমধ্যবর্তী সবকিছুর তুলনায় উত্তম। অতঃপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। এরপর বললেন, বান্দা যখন কোনো গুনাহ করে, অতঃপর কোনো কষ্ট বা বিপদে আক্রান্ত হয়, তখন তা তার জন্য ভবিষ্যতের আযাব থেকে মুক্তির কারণ হয়।

টিকাঃ
৫৩৩. আল-মারায লিইবনে আবিদ দুনিয়া; ফায়জুল কাদীর: ৬/৪২৬; জয়ীফুল জামে হাদীস-৬৩০৩।
৫৩৪. সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস-২৮৯৬; আত-তারগীব হাদীস-৪৯৬৩; হাদীসটি সহীহ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ২/২৯২]।
৫৩৫. সূরা নিসা: আয়াত-১২৩
৫৩৬. সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস-২৯১০; মুসনাদে আহমাদ: ১/১১; শায়েখ আরনাউত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
৫৩৭. সুনানে তিরযিমী হাদীস-২৬২৬; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-২৬০৪। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সবর ব্যতীত উচ্চ মর্যাদা হাছিল হয় না

📄 সবর ব্যতীত উচ্চ মর্যাদা হাছিল হয় না


ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, বান্দা বিপদ ও কষ্টে ধৈর্যধারণ ব্যতীত বিশেষ ব্যক্তিদের কাতারে উপনীত হয় না। আল্লাহ তা'আলা তার নবীকেও ধৈর্যের নির্দেশ প্রদান করেছেন। কুরআনে এসেছে- فَاصْبِرُ كَمَا صَبَرَ أُولُو الْحَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ অর্থ: সুতরাং আপনি ধৈর্যধারণ করুন, যেভাবে ধৈর্যধারণ করেছেন পূর্ববর্তী দৃঢ়তাসম্পন্ন রাসূলগণ।

عَنْ خَبَّابِ بْنِ الْأَرَتَّ، رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، قَالَ : أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَهُৱ مُتَوَسِّدٌ بِرِدَائِهِ فِي ظِلَّ الْكَعْبَةِ فَشَكَوْنَا إِلَيْهِ. فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللهِ أَلَا تَدْعُو اللَّهَ? أَلَا تَسْتَنْصِرُ اللَّهَ لَنَا? فَجَلَسَ مُحْمَرًا لَوْنُهُ ثُمَّ قَالَ: إِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، كَانَ لَيُؤْتَى بِالرَّجُلِ فَيُحْفَرُ لَهُ فِي الْأَرْضِ حُفْرَةٌ، وَيُجَاءُ بِالْمِنْشَارِ فَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ فَيُجَعَلُ فِرْقَتَيْنِ، مَا يَصْرِفُهُ ذَلِكَ عَنْ دِينِهِ.

হযরত খাব্বাব বিন আরত্ব রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূল ﷺ-এর নিকট উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলাম যে, তিনি চাদরকে বালিশ বানিয়ে কাবার দিকে মাথা দিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন। আমরা তার নিকট অনুযোগ করে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর নিকট দোয়া করুন, তিনি যেন আমাদেরকে সাহায্য করেন। তিনি উঠে বসলেন। তাঁর মুখমণ্ডল লাল হয়ে গেল। তিনি বললেন, তোমাদের পূর্ববর্তীদের কাউকে ঈমান আনার ফলে ধরে এনে জমিনে গর্ত খোড়া হতো এবং করাত এনে তাদের মাথা দু'ভাগ করে ফেলা হতো। এতো কষ্টও তাদেরকে দীন থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: يُؤْتَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَنْعَمِ أَهْلِ الْأَرْضِ، فَيُعْمَسُ فِي النَّارِ غَمْسَةً فَيَخْرُجُ أَسْوَدَ مُحْتَرِقًا فَيُقَالُ لَهُ: هَلْ مَرَّ بِكَ نَعِيمٌ قَطُّ، إِذْ كُنْتَ فِيهَا? فَيَقُولُ: لَا لَمْ أَزَلْ فِي هَذِهِ الْبَلَاءِ مُنْذُ خَلَقَنِي. وَيُؤْتَى بِأَشَدِّ أَهْلِ الدُّنْيَا بَلَاءً فَيُعْمَسُ فِي الْجَنَّةِ غَمْسَةً، يَعْنِي يَدْخُلُ فِيهَا سَاعَةً، فَيَخْرُجُ كَأَنَّهُ الْقَمَرُ لَيْلَةَ الْبَدْرِ فَيُقَالُ لَهُ : هَلْ مَرَّ بِكَ شِدَّةٌ قَطُّ ? فَيَقُولُ : لَا لَمْ أَزَلْ فِي هَذَا النَّعِيمِ مُنْذُ خَلَقَنِي .

আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, 'কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্য হতে এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, যে দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী ও বিলাসী ছিল। অতঃপর তাকে জাহান্নামে একবার (মাত্র) চুবানো হবে, তারপর তাকে বলা হবে, 'হে আদম সন্তান! তুমি কি কখনো ভালো জিনিস দেখেছ? তোমার নিকটে কি কখনো সুখ-সামগ্রী এসেছে?' সে বলবে, 'না। আমাকে সৃষ্টি করার সময় থেকে এই শাস্তি পর্যন্ত কখনো কোনো ভালো জিনিস দেখিনি, সুখ-সামগ্রীও আসেনি। আর জান্নাতীদের মধ্য হতে এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, যে দুনিয়ার সবচেয়ে দুখী ও অভাবী ছিল। তাকে জান্নাতে (মাত্র একবার) চুবানোর পর বলা হবে, 'হে আদম সন্তান! তুমি কি (দুনিয়াতে) কখনো কষ্ট দেখেছ? তোমার উপরে কি কখনো বিপদ গেছে?' সে বলবে, 'না। আমাকে সৃষ্টি করার সময় থেকে এই নিয়ামত পর্যন্ত কখনো কোনো কষ্টও আসেনি, বিপদও আসেনি।

টিকাঃ
৪৫৮. সূরা আহকাফ: আয়াত-৩৫
৪৫৯. সহীহ বুখারী: হাদীস-৩৬১২; সুনানে আবু দাউদ: হাদীস-২৬৪৯।
৪৬০. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮০৭; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪৩২১।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আল্লাহর প্রশংসা করার ফল

📄 আল্লাহর প্রশংসা করার ফল


عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهُ قَالَ : أَوَّلُ مَنْ يُدْعَى إِلَى الْجَنَّةِ الْحَمَّادُونَ اللهِ ، الَّذِينَ يَحْمَدُونَ اللَّهَ عَلَى السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ.

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, সর্বপ্রথম জান্নাতের দিকে আহ্বান করা হবে তাদেরকে যারা দুর্যোগে ও স্বাচ্ছন্দ্যে আল্লাহর প্রশংসা করেছে। তাই বান্দার কর্তব্য হলো, বিপদাপদে ধৈর্য ধারণ করা। সেই সাথে এ বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ তাকে যে মুসীবাতে ফেলেছেন, এর চেয়ে বেশি মুসীবত দূর করে দিয়েছেন এবং সর্বদা বিপদে আল্লাহর প্রশংসা করা।

টিকাঃ
৫৪১. সিফাতুল জান্নাত লিআবী নুয়াইম: ১/১১৫; হিলইয়াহ ৫/৬৯; মুস্তাদরাকে হাকেম: ১/৫০২। হাদীসটি হাসান সহীহ [তাখরীজুল মিশকাত লি-ইবনে হাজার ২/৪৩৬]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কাফের কর্তৃক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কষ্টভোগ

📄 কাফের কর্তৃক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কষ্টভোগ


মুশরিকদের হাতে সীমাহীন কষ্টভোগের পরও রাসূল ﷺ যেভাবে ধৈর্য ধারণ করেছেন, তা দেখে নবীজীর অনুসরণ করা কর্তব্য।

عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، قَالَ : بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي عِنْدَ الْبَيْتِ، وَأَبُو جَهْلٍ وَأَصْحَابُهُ جُلُوسٌ، وَقَدْ نُحِرَتْ جَزُورٌ بِالْأَمْسِ فَقَالَ أَبُو جَهْلٍ لَعَنَهُ اللهُ : أَيُّكُمْ يَقُومُ إِلَى سَلَا الْجَزُورِ فَيُلْقِيهِ عَلَى كَتِفِ مُحَمَّدٍ إِذَا سَجَدَ? فَانْبَعَثَ أَشْقَى الْقَوْمِ فَأَخَذَهُ فَلَمَّا سَجَدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَضَعَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ فَاسْتَضْحَكُوا وَأَنَا قَائِمٌ أَنْظُرُ. قُلْتُ : لَوْ كَانَ لِي مَنْعَةٌ لَطَرَحْتُهُ عَنْ ظَهْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَاجِدٌ مَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ، حَتَّى انْطَلَقَ إِنْسَانٌ فَأَخْبَرَ فَاطِمَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا وَجَاءَتْ، وَهِيَ جُوَيْرِيَّةٌ، فَطَرَحَتْهُ ثُمَّ أَقْبَلَتْ عَلَيْهِمْ تَسُبُّهُمْ. فَلَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ صَلَاتَهُ رَفَعَ صَوْتَهُ فَدَعَا عَلَيْهِمْ فَقَالَ : اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِقُرَيْشٍ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ فَلَمَّا سَمِعُوا صَوْتَهُ وَدُعَاءَهُ ذَهَبَ عَنْهُمُ الضَّحِكُ، وَخَافُوا دَعْوَتَهُ. فَقَالَ: اللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِأَبِي جَهْلٍ وَعُقْبَةَ وَعُتْبَةَ وَشَيْبَةَ وَالْوَلِيدِ بْنِ الْمُغِيرَةِ وَأُمَيَّةَ بْنِ خَلَفٍ. قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ : وَالَّذِي بَعَثَ مُحَمَّدًا بِالْحَقِّ، لَقَدْ رَأَيْتُ الَّذِينَ سَمَّاهُمْ صَرْعَى يَوْمَ بَدْرٍ.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন, একবার রাসূল ﷺ বাইতুল্লাহর পাশে সালাত আদায় করছিলেন। তখন আবু জাহেল ও তার দলবল সেখানে বসা ছিল। আগের দিন কয়েকটি উট জবাই করা হয়েছিল। সেটার নাড়িভুঁড়ি পড়া ছিল। অভিশপ্ত আবু জাহেল বলল, মুহাম্মদ যখন সেজদায় যাবে, তার কাঁধে উটগুলোর নাড়িভুঁড়ি চাপা দিতে পারবে কে? তাদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্ভাগা উঠে দাঁড়ালো। সে গিয়ে তা নিয়ে এল এবং রাসূল সেজদায় গেলে তার কাঁধে ফেলে দিল। এরপর তারা হেসে উঠল, আমি দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। আমি মনে মনে বলছিলাম, আমার যদি শক্তি থাকত, তবে আমি রাসূলের পিঠ থেকে তা সরিয়ে দিতাম। রাসূল এ অবস্থাতেই সেজদাতেই পড়ে রইলেন, মাথা তুলতে পারছিলেন না। জনৈক ব্যক্তি ফাতেমা রাযি.কে সংবাদ দিলে তিনি ছুটে এলেন। বয়সে তিনি তখনও ছোট। তিনি এসে তা সরিয়ে দিলেন এবং তাদের দিকে ফিরে বকতে লাগলেন। রাসূল ﷺ নামায শেষে উচ্চৈঃস্বরে তাদেরকে বদদোয়া করলেন। তিনি বললেন, 'হে আল্লাহ' কুরাইশকে পাকড়াও করুন। একথাটি তিনি তিনবার বললেন। তারা যখন রাসূলের আওয়াজ ও বদদোয়া শুনতে পেল, তাদের হাসি মুছে গেল এবং বদদোয়ার ফলে তাদের মাঝে ভয়ের সৃষ্টি হলো। রাসূল ﷺ বললেন, 'হে আল্লাহ, আবূ জাহেল, উকবা, উতবা, শায়বা, ওয়ালীদ বিন মুগীরা এবং উমাইয়া বিন খালফকে ধ্বংস করুন। হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. বলেন, সে সত্তার শপথ, যিনি মুহাম্মাদকে সত্য দিয়ে প্রেরণ করেছেন। রাসূল ﷺ বদদোয়ার যাদের নামোচ্চারণ করেছেন, তাদেরকে বদর দিনে ধ্বংস হতে দেখেছি।

টিকাঃ
৫৪২. সহীহ বুখারী: হাদীস-৫২০; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৭৯।

ফন্ট সাইজ
15px
17px