📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সবর-ই মূল/সবর শ্রেষ্ঠ সম্পদ

📄 সবর-ই মূল/সবর শ্রেষ্ঠ সম্পদ


عَنْ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ أَنَّهُ قَالَ : أَيُّهَا النَّاسُ، احْفَظُوا عَنِّي خَمْسًا: احْفَظُوا عَنِّي اثْنَتَيْنِ، وَاثْنَتَيْنِ وَوَاحِدَةً، أَلَا لَا يَخَافَنَّ أَحَدٌ مِنْكُمْ إِلَّا ذَنْبَهُ، وَلَا يَرْجُو إِلَّا رَبَّهُ، وَلَا يَسْتَحِي مِنْكُمْ أَحَدٌ إِذَا لَمْ يَعْلَمْ أَنْ يَتَعَلَّمَ، وَلَا يَسْتَحِي أَحَدٌ مِنْكُمْ إِنْ سُئِلَ وَهُৱ لَا يَعْلَمُ، أَنْ يَقُولُ لَا أَعْلَمُ. وَاعْلَمُوا أَنَّ الصَّبْرَ مِنَ الْأُمُورِ بِمَنْزِلَةِ الرَّأْسِ مِنَ فَإِذَا فَارَقَ الرَّأْسُ الْجَسَدَ فَسَدَ الْجَسَدُ، وَإِذَا فَارَقَ الصَّبْرُ الْأُمُورَ فَسَدَتِ الْأُمُورُ. ثُمَّ قَالَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ : أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى الْفَقِيهِ كُلِّ الْفَقِيهِ? قَالُوا: بَلَى يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ. قَالَ: مَنْ لَمْ يُؤَيِّسِ النَّاسَ مِنْ رَوْحِ اللهِ، وَمَنْ لَمْ يُقَنَّطِ النَّاسَ مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ تَعَالَى، وَمَنْ لَمْ يُؤَمِّنِ النَّاسَ مِنْ مَكْرِ اللَّهِ، وَمَنْ لَمْ يُزَيِّنْ لِلنَّاسِ مَعَاصِيَ اللهِ، وَلَا يُنْزِلُ الْعَارِفِينَ الْمُوَحَدِينَ الْجَنَّةَ، وَلَا يُنْزِلُ الْعَاصِينَ الْمُذْنِبِينَ النَّارَ، حَتَّى يَكُونَ الرَّبُّ هُৱ الَّذِي يَقْضِي بَيْنَهُمْ. لَا يَأْمَنَنَّ خَيْرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ مِنْ عَذَابِ اللهِ، وَ اللهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى يَقُولُ : فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ (الأعراف: ৯৯) وَلَا يَيْأَسُ شَرُّ هَذِهِ الْأُمَّةِ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ، وَاللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ : إِنَّهُ لا يَيْأَسُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ (يوسف: ৮৭)

আমিরুল মুমিনীন হযরত আলী রাযি. বলেন, হে লোক সকল! তোমরা আমার থেকে পাঁচটি বিষয় গ্রহণ কর। যথা-
১. তোমাদের নিজের গুনাহকে ভয় কর।
২. রবের কাছেই আশা কর।
৩. যা জানো না তা জানতে লজ্জাবোধ কর না।
৪. যে জানে না তার কাছে জানতে চাইলে সে যেন জানি না বলতে লজ্জাবোধ না করে।
৫. জেনে রাখো! দেহের মধ্যে মাথা যেমন, যাবতীয় বিষয়ে ধৈর্যধারণ তেমন। দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হলে যেমন তা বেকার হয়ে যায়, তেমনি কাজ কর্মে ধৈর্য না থাকলে তা অসার হয়ে যায়।

অতঃপর তিনি বলেন, আমি কি তোমাদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানীর সন্ধান দেব? লোকেরা বলল, অবশ্যই হে আমিরুল মুমিনীন! তিনি বললেন, সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী হলো সে, যে মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে না, আল্লাহর ক্ষমা থেকে মানুষকে হতাশ করে না, মানুষকে আল্লাহর কৌশল থেকে নির্ভয় করে না, আল্লাহর অবাধ্যতাকে সজ্জিতরূপে উপস্থাপন করে না, তাওহীদের প্রবক্তা আরেফদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেয় না, গুনাহগারদের জাহান্নামের নিশ্চয়তা দেয় না, যতক্ষণ না আল্লাহ তা'আলা তাদের মাঝে ফায়সালা করেন, এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকেও আল্লাহর শাস্তি থেকে নিরাপদ মনে করে না এবং সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তিকেও আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে হতাশ করে না। কারণ, কুরআনে এসেছে-
ফলা ইয়ামানু মাকরাল্লা-হি ইল্লাল ক্বাওমুল খাসিরুন (فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ) অর্থ: সুতরাং কেবল ধ্বংসপ্রাপ্ত সম্প্রদায়ই নিজেদেরকে আল্লাহর কৌশল থেকে নিরাপদ ভাবে।

অতঃপর বলেছেন- ইন্নাহু লা ইয়াইয়াসু মির রাওহিল্লা-হি ইল্লাল ক্বাওমুল কা-ফিরুন (إِنَّهُ لَا يَيْئَسُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ) অর্থ: আল্লাহর করুণা থেকে হতাশ হয়ো না। আল্লাহর করুণা থেকে কেবল কাফের সম্প্রদায়ই হতাশ হয়।

টিকাঃ
৫০০. সূরা আরাফ: আয়াত-৯৯
৫০১. সূরা ইউসুফ: আয়াত-৮৭

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সবর (ধৈর্য) সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

📄 সবর (ধৈর্য) সর্বশ্রেষ্ঠ আমল


হযরত ইয়াযিদ রাকাশী রহ. বলেন, মানুষ কবরে গমনের পর নামায তার ডানে দাঁড়ায়, যাকাত তার বামে দাঁড়ায়, তার ভালোকাজগুলো উপর থেকে তাকে ছায়া দেয়, আর ধৈর্য তার পক্ষে যুক্তিতর্কে লিপ্ত হয় এবং অন্যান্য আমলকে লক্ষ্য করে বলে, তোমরা তোমাদের সঙ্গীকে রক্ষা কর। যদি পারো তাহলে তো ভালো। অন্যথায় আমি তার পিছনে-ই আছি।

এ হাদীসে এ বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ধৈর্য হলো, সর্বোত্তম আমল। উপরন্তু পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন-
ইন্নামা ইউওয়াফ্ফাস সা-বিরুনা আজরাহুম বিগাইরি হিসা-ব (إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ) অর্থ: নিশ্চয় ধৈর্যশীলদেরকে তাদের প্রতিদান বেহিসাব দান করা হবে।

টিকাঃ
৫০২. সূরা যুমার: আয়াত-১০

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 বিপদাপদ গুনাহের কাফ্ফারা স্বরূপ

📄 বিপদাপদ গুনাহের কাফ্ফারা স্বরূপ


عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ يَرْفَعُهُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَجُلًا قَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَهَبَ مَالِي وَسَقِمَ جِسْمِي. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ : لَا خَيْرَ فِي عَبْدٍ لَا يَذْهَبُ مَالُهُ وَلَا يَسْقَمُ جِسْمُهُ، إِنَّ اللَّهَ إِذَا أَحَبَّ عَبْدًا ابْتَلَاهُ. وَإِذَا ابْتَلَاهُ صَبَّرَهُ.

মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি রাসূল ﷺ কে বলল, আমার সম্পদ নিঃশেষ হয়ে গেছে, আমার দেহ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। রাসূল ﷺ বললেন, যার সম্পদ নিঃশেষ হয় না এবং দেহ অসুস্থ হয় না এমন ব্যক্তির মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। কারণ, আল্লাহ যখন বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তাকে পরীক্ষা করেন। যখন তাকে পরীক্ষা করেন, তখন তাকে ধৈর্য ধারণের শক্তি দান করেন।

হযরত আলী রাযি. বলেন, কোনো ব্যক্তিকে যদি অন্যায়ভাবে বাদশাহ বন্দি করে, আর এতে তার মৃত্যু হয়, তাহলে সে শহীদ। অনুরূপ যদি সে বাদশাহর হাতে প্রহৃত হয়ে মৃত্যুবরণ করে, তাহলেও সে শহীদ।

عَنْ أَبِي فَاطِمَةَ الضَّمْرِيُّ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ الرَّجُلَ لَتَكُونُ لَهُ الدَّرَجَةُ عِنْدَ اللهِ لَا يَبْلُغُهَا بِعَمَلِهِ حَتَّى يُبْتَلَى بِبَلَاءٍ فِي جِسْمِهِ فَيَبْلُغَهَا بِذَلِكَ.

আবু ফাতিমা যামরী থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, কখনো কখনো আল্লাহ বান্দাকে এমন স্তর দান করেন, কিন্তু সে নিজ আমলের মাধ্যমে সে স্তরে পৌঁছতে সক্ষম না। তখন আল্লাহ তাকে দৈহিকভাবে বিপদে ফেলেন। আর এতে সে ধৈর্য ধারণের ফলে সে উক্ত স্তর লাভ করে।

বলা হয়, যখন কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হলো- মঁই ইয়ামাল সূ-আঁ ইজযা বিহি (مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ) অর্থ: যে ব্যক্তি মন্দ করবে, তাকে তার মন্দ আমলের প্রতিদান দেয়া হবে। তখন আবূ বকর রাযি. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ আয়াত নাযিলের পর আমাদের আনন্দ লাভের সুযোগ রইল না। রাসূল ﷺ বললেন, 'হে আবু বকর, আল্লাহ তোমাকে মাগফেরাত দান করুন। তুমি কি অসুস্থ হও না? কষ্ট, ক্লান্তি ও দুঃখের সম্মুখীন হও না? এগুলোই তোমাদের মন্দ আমলের প্রতিদান।'

عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ : لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ (مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ) خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللهِ ﷺ وَقَالَ: قَدْ أُنْزِلَتْ عَلَيَّ آيَةٌ هِيَ خَيْرٌ لِأُمَّتِي مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا. ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ : مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ (النساء: ১২৩) ثُمَّ قَالَ : إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا أَذْنَبَ ذَنْبًا فَتُصِيبُهُ شِدَّةٌ أَوْ بَلاءٌ فِي الدُّنْيَا، فَاللَّهُ أَكْرَمُ مِنْ أَنْ يُعَذِّبَهُ ثَانِيًا.

হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- مَنْ يَعْمَلْ سُوءًا يُجْزَ بِهِ (অর্থ: যে ব্যক্তি মন্দ করবে, তাকে তার মন্দ আমলের প্রতিদান দেয়া হবে) এ আয়াত নাযিল হলে রাসূল ﷺ আমাদের সম্মুখে উপস্থিত হয়ে বলতে লাগলেন, আমার নিকট এক আয়াত অবতীর্ণ করা হয়েছে, যা আমার উম্মতের জন্য দুনিয়া ও তৎমধ্যবর্তী সবকিছুর তুলনায় উত্তম। অতঃপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। এরপর বললেন, বান্দা যখন কোনো গুনাহ করে, অতঃপর কোনো কষ্ট বা বিপদে আক্রান্ত হয়, তখন তা তার জন্য ভবিষ্যতের আযাব থেকে মুক্তির কারণ হয়।

টিকাঃ
৫৩৩. আল-মারায লিইবনে আবিদ দুনিয়া; ফায়জুল কাদীর: ৬/৪২৬; জয়ীফুল জামে হাদীস-৬৩০৩।
৫৩৪. সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস-২৮৯৬; আত-তারগীব হাদীস-৪৯৬৩; হাদীসটি সহীহ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ২/২৯২]।
৫৩৫. সূরা নিসা: আয়াত-১২৩
৫৩৬. সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস-২৯১০; মুসনাদে আহমাদ: ১/১১; শায়েখ আরনাউত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
৫৩৭. সুনানে তিরযিমী হাদীস-২৬২৬; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-২৬০৪। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 সবর ব্যতীত উচ্চ মর্যাদা হাছিল হয় না

📄 সবর ব্যতীত উচ্চ মর্যাদা হাছিল হয় না


ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, বান্দা বিপদ ও কষ্টে ধৈর্যধারণ ব্যতীত বিশেষ ব্যক্তিদের কাতারে উপনীত হয় না। আল্লাহ তা'আলা তার নবীকেও ধৈর্যের নির্দেশ প্রদান করেছেন। কুরআনে এসেছে- فَاصْبِرُ كَمَا صَبَرَ أُولُو الْحَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ অর্থ: সুতরাং আপনি ধৈর্যধারণ করুন, যেভাবে ধৈর্যধারণ করেছেন পূর্ববর্তী দৃঢ়তাসম্পন্ন রাসূলগণ।

عَنْ خَبَّابِ بْنِ الْأَرَتَّ، رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، قَالَ : أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَهُৱ مُتَوَسِّدٌ بِرِدَائِهِ فِي ظِلَّ الْكَعْبَةِ فَشَكَوْنَا إِلَيْهِ. فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللهِ أَلَا تَدْعُو اللَّهَ? أَلَا تَسْتَنْصِرُ اللَّهَ لَنَا? فَجَلَسَ مُحْمَرًا لَوْنُهُ ثُمَّ قَالَ: إِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، كَانَ لَيُؤْتَى بِالرَّجُلِ فَيُحْفَرُ لَهُ فِي الْأَرْضِ حُفْرَةٌ، وَيُجَاءُ بِالْمِنْشَارِ فَيُوضَعُ عَلَى رَأْسِهِ فَيُجَعَلُ فِرْقَتَيْنِ، مَا يَصْرِفُهُ ذَلِكَ عَنْ دِينِهِ.

হযরত খাব্বাব বিন আরত্ব রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূল ﷺ-এর নিকট উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলাম যে, তিনি চাদরকে বালিশ বানিয়ে কাবার দিকে মাথা দিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন। আমরা তার নিকট অনুযোগ করে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর নিকট দোয়া করুন, তিনি যেন আমাদেরকে সাহায্য করেন। তিনি উঠে বসলেন। তাঁর মুখমণ্ডল লাল হয়ে গেল। তিনি বললেন, তোমাদের পূর্ববর্তীদের কাউকে ঈমান আনার ফলে ধরে এনে জমিনে গর্ত খোড়া হতো এবং করাত এনে তাদের মাথা দু'ভাগ করে ফেলা হতো। এতো কষ্টও তাদেরকে দীন থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: يُؤْتَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَنْعَمِ أَهْلِ الْأَرْضِ، فَيُعْمَسُ فِي النَّارِ غَمْسَةً فَيَخْرُجُ أَسْوَدَ مُحْتَرِقًا فَيُقَالُ لَهُ: هَلْ مَرَّ بِكَ نَعِيمٌ قَطُّ، إِذْ كُنْتَ فِيهَا? فَيَقُولُ: لَا لَمْ أَزَلْ فِي هَذِهِ الْبَلَاءِ مُنْذُ خَلَقَنِي. وَيُؤْتَى بِأَشَدِّ أَهْلِ الدُّنْيَا بَلَاءً فَيُعْمَسُ فِي الْجَنَّةِ غَمْسَةً، يَعْنِي يَدْخُلُ فِيهَا سَاعَةً، فَيَخْرُجُ كَأَنَّهُ الْقَمَرُ لَيْلَةَ الْبَدْرِ فَيُقَالُ لَهُ : هَلْ مَرَّ بِكَ شِدَّةٌ قَطُّ ? فَيَقُولُ : لَا لَمْ أَزَلْ فِي هَذَا النَّعِيمِ مُنْذُ خَلَقَنِي .

আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, 'কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্য হতে এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, যে দুনিয়ার সবচেয়ে সুখী ও বিলাসী ছিল। অতঃপর তাকে জাহান্নামে একবার (মাত্র) চুবানো হবে, তারপর তাকে বলা হবে, 'হে আদম সন্তান! তুমি কি কখনো ভালো জিনিস দেখেছ? তোমার নিকটে কি কখনো সুখ-সামগ্রী এসেছে?' সে বলবে, 'না। আমাকে সৃষ্টি করার সময় থেকে এই শাস্তি পর্যন্ত কখনো কোনো ভালো জিনিস দেখিনি, সুখ-সামগ্রীও আসেনি। আর জান্নাতীদের মধ্য হতে এমন এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসা হবে, যে দুনিয়ার সবচেয়ে দুখী ও অভাবী ছিল। তাকে জান্নাতে (মাত্র একবার) চুবানোর পর বলা হবে, 'হে আদম সন্তান! তুমি কি (দুনিয়াতে) কখনো কষ্ট দেখেছ? তোমার উপরে কি কখনো বিপদ গেছে?' সে বলবে, 'না। আমাকে সৃষ্টি করার সময় থেকে এই নিয়ামত পর্যন্ত কখনো কোনো কষ্টও আসেনি, বিপদও আসেনি।

টিকাঃ
৪৫৮. সূরা আহকাফ: আয়াত-৩৫
৪৫৯. সহীহ বুখারী: হাদীস-৩৬১২; সুনানে আবু দাউদ: হাদীস-২৬৪৯।
৪৬০. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৮০৭; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪৩২১।

ফন্ট সাইজ
15px
17px