📄 পথিকের পাথেয়ের ন্যায় দুনিয়া অবলম্বন কর
عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَشْيَاخِهِ قَالَ : دَخَلَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ عَلَى سَلْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ يَعُودُهُ وَهُৱ مَرِيضٌ، فَبَكَى سَلْمَانُ فَقَالَ لَهُ سَعْدُ : مَا يُبْكِيكَ يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ? تُوُفِّيَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُৱ عَنْكَ رَاضٍ فَقَالَ سَلْمَانُ : أَمَا إِنِّي لَا أَبْكِي جَزَعًا مِنَ الْمَوْতِ وَلَا حِرْصًا عَلَى الدُّنْيَا، وَلَكِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ عَهِدَ إِلَيْنَا عَهْدًا، فَقَالَ : لِيَكُنْ بُلْغَةُ أَحَدِكُمْ مِنَ الدُّنْيَا مِثْلَ زَادِ الرَّاكِبِ، وَحَوْلِي هَذِهِ الْأَسَاوِدُ. قَالَ : وَإِنَّمَا كَانَ حَوْلَهُ إِجَانَةٌ وَجَفْنَةٌ وَمِطْهَرَةٌ. فَقَالَ سَعْدُ : يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ اعْهَدْ إِلَيْنَا عَهْدًا، فَنَأْخُذْهُ بَعْدَكَ. فَقَالَ : يَا سَعْدُ اذْكُرِ الله تَعَالَى عِنْدَ هَمِّكَ إِذَا هَمَمْتَ، وَعِنْدَ حُكْمِكَ إِذَا حَكَمْتَ، وَعِنْدَ بِرَّكَ إِذَا أَقْسَمْتَ.
সুফইয়ান সাওরী রহ. তাঁর উস্তাদ থেকে বর্ণনা করেন। হযরত সালমান রাযি. অসুস্থ হলে তাঁকে দেখার উদ্দেশ্যে সাআদ বিন আবু ওয়াক্কাস তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন। তাঁকে দেখে হযরত সালমান কেঁদে উঠলেন। সাআদ বললেন, আবূ আব্দুল্লাহ, কাঁদছেন কেন? রাসূল ﷺ তো মৃত্যুকালে আপনার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন। হযরত সালমান বললেন, আমি মৃত্যুর ভয়ে কাঁদছি না। কিংবা দুনিয়ার লোভেও কাঁদছি না। বরং রাসূল ﷺ আমাদের থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়ে বলেছিলেন যে, তোমরা দুনিয়া থেকে ততটা গ্রহণ করবে, যতটা একজন পথচারী পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করে। অথচ দেখো আমার চারপাশ দুনিয়ার সম্পদরূপে এই সাপ-বিচ্ছুগুলো দিয়ে ভরা। সাআদ বলেন, এ সময় তার পাশে ছিল একটি পেয়ালা, পানির পাত্র এবং একটি তুচ্ছ সামগ্রী। তখন তিনি বললেন, হে আবূ আব্দুল্লাহ! আমাদেরকে নসীহত করুন, আপনার মৃত্যুর পর যার উপর আমরা আমল করব। সালমান রাযি. বললেন, হে সাআদ! যখন তুমি কোনো কিছুর ইচ্ছা কর, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর, যখন কোনো ফায়সালা কর, তখনও তাকে স্মরণ কর এবং যখন শপথ কর তা পূরণ করার সময়ও আল্লাহকে স্মরণ কর。
টিকাঃ
৫২৪. সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-৪১০৪; মুসনাদে আহমাদ হাদীস-২৩৭১১। শায়েখ শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
📄 সবচেয়ে বড় যাহেদ
عَنْ مِنَ الضَّحَاكِ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ أَنَّهُ قِيلَ لَهُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَزْهَدُ النَّاسِ? قَالَ : مَنْ لَمْ يَنْسَ الْمَقَابِرَ وَالْبِلَى، وَتَرَكَ فُضُولَ زِينَةِ الدُّنْيَا، وَآثَرَ مَا يَبْقَى عَلَى مَا يَفْنَى، وَلَمْ يَعُدَّ أَيَّامَهُ وَعَدَّ نَفْسَهُ مِنَ الْمَوْتَى.
হযরত যাহ্হাক রহ. থেকে বর্ণিত। একবার রাসূলকে প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মাঝে সর্বোত্তম যাহেদ কে? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি কবর ও কবরের বিপদাপদের কথা বিস্মৃত হয় না, দুনিয়ার অনর্থক সাজ-সজ্জা পিছে পড়ে না, অবিনশ্বরকে নশ্বরের উপর অগ্রাধিকার দেয় না, সর্বোপরি নিজেকে মৃতের দলভুক্ত মনে করে।
টিকাঃ
৫২৫. আল জামে সগীর হাদীস-৯৬৩; ফায়যুল কাদীর: ১/৪৮২। হাদীসটি জয়ীফ [জয়ীফাহ-হাদীস-১২৯২]।
📄 চার বিষয়ের অনুসন্ধান
জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি বলেন, ভুল পথে আমি চারটি বিষয়ের অনুসন্ধান করেছি। যথা-
১. সম্পদে আমার ধনী হবার পথ খুঁজেছি অথচ তা স্বল্প তুষ্টিতায় নিহিত।
২. সম্পদের আধিক্যে আমার প্রশান্তি খুঁজেছি অথচ স্বল্পতায় তা লুকায়িত।
৩. সম্পদে আমি সম্মান খুঁজেছি অথচ তা তাকওয়া অবলম্বনে নিহিত।
৪. আহার ও পোশাক আশাককে নেয়ামত মনে করেছি অথচ প্রকৃত নিআমত হলো, ইসলাম এবং আল্লাহ কর্তৃক গুনাহ ও দোষ-ত্রুটি গোপন করা।
📄 দুনিয়াদারীর প্রতিফল
عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : مَنْ أَصْبَحَ وَالدُّنْيَا أَكْبَرُ هَمِّهِ يُلْزِمُ اللَّهُ تَعَالَى قَلْبَهُ ثَلَاثَ خِصَالٍ : هَمَّا لَا يَنْقَطِعُ عَنْهُ أَبَدًا، وَشُغْلًا لَا يَتَفَرَّغُ مِنْهُ أَبَدًا، وَفَقْرًا لَا يَبْلُغُ مُنْتَهَاهُ أَبَدًا.
বর্ণিত আছে, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, সকালে উঠেই যে দুনিয়াকে সর্বাধিক চিন্তার বিষয় করে নেয়, আল্লাহ তার অন্তরে তিন ধরনের যন্ত্রণা ভরে দেন। যথা-
১. এমন পেরেশানী, যা কখনো দূর হয় না।
২. এমন ব্যস্ততা, যা কখনো শেষ হয় না।
৩. এমন দারিদ্র্যতা, যা কখনো শেষ হয় না।
টিকাঃ
৫২৬. আল-ফিরদাউস: হাদীস-৫৮১৮।