📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 হযরত ঈসা আ.-এর উক্তি

📄 হযরত ঈসা আ.-এর উক্তি


বর্ণিত আছে, হযরত ঈসা বিন মারইয়াম আ. বলেন, কী আশ্চর্য! দুনিয়ার জন্য তোমরা কষ্ট করছ অথচ সেখানে কষ্ট ছাড়াই তোমাদেরকে রিযিক দেওয়া হবে। পক্ষান্তরে আখেরাত নিয়ে মেহনত করছ না, অথচ সেখানে মেহনত ব্যতীত কিছুই উপকারে আসবে না।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দুনিয়ার ভালোবাসার ক্ষতিসমূহ

📄 দুনিয়ার ভালোবাসার ক্ষতিসমূহ


رَوَى أَبُو عُبَيْدَةُ الْأَسَدِيُّ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : مَنْ أُشْرِبَ قَلْبُهُ حُبَّ الدُّنْيَا الْتَاطَ قَلْبُهُ مِنْهَا بِثَلَاثٍ: شُغْلٍ لَا يَنْفَكُ عَنَاؤُهُ، وَأَمَلٍ لَا يَبْلُغُ مُنْتَهَاهُ، وَحِرْصٍ لَا يُدْرَكُ عَنَاهُ. وَالدُّنْيَا طَالِبَةٌ وَمَطْلُوبَةٌ. فَمَنْ طَلَبَ الْآخِرَةَ طَلَبَتْهُ الدُّنْيَا حَتَّى يَسْتَوْفِي مِنْهَا رِزْقَهُ، وَمَنْ طَلَبَ الدُّنْيَا طَلَبَتْهُ الْآخِرَةُ حَتَّى يَأْتِيَهُ الْمَوْتُ فَيَأْخُذَهُ بَغْتَةً.

হযরত আবূ উবাইদা আসাদী বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রেমের সুধা পান করেছে, সে তার অন্তরে তিনটি বিষয়কে অবিচ্ছেদ্য করে নিয়েছে। যথা-
১. এমন ব্যস্ততা, যা থেকে কখনো মুক্তি নেই।
২. এমন আকাঙ্ক্ষা, যার কোনো শেষ নেই।
৩. এমন লোভ, যার কোনো সীমা নেই।
দুনিয়া একই সাথে সন্ধানকারী ও সন্ধানকৃত। অনুরূপ আখেরাত সন্ধানকারী ও সন্ধানকৃত। যে ব্যক্তি আখেরাত সন্ধান করে, দুনিয়া তাকে সন্ধান করে, যতক্ষণ না তার রিযিক পূর্ণ বুঝিয়ে দেয়। আর যে ব্যক্তি দুনিয়া সন্ধান করে, আখেরাত তাকে সন্ধান করে, যতক্ষণ না তার মৃত্যু আসে।

টিকাঃ
৫২৩. ত্ববারানী: ১০/১৬২; আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব : হাদীস-৪৯০৫। আল্লামা মুনযিরী ও হাইসামী প্রমুখের মতে, হাদীসটি সহীহ [মাজমা: ১০/৪৩৬]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দুনিয়ার দুই বস্তু

📄 দুনিয়ার দুই বস্তু


عَنْ أَبِي حَازِمٍ أَنَّهُ قَالَ : أَوْجَدَتِ الدُّنْيَا شَيْئَيْنِ : شَيْئًا مِنْهَا هُৱ لِي لَا يَفُوتُنِي، وَشَيْئًا مِنْهَا لِغَيْرِي فَلَا أُدْرِكُهُ مُنِعَ الَّذِي لِي مِنْ غَيْرِي، كَمَا مُنِعَ الَّذِي لِغَيْرِي مِنِّي، فَفِي أَيِّ هَذَيْنِ أُغْنِي عُمْرِي? وَوَجَدْتُ مَا أُعْطِيَتُ مِنَ الدُّنْيَا شَيْئَيْنِ : شَيْئًا مِنْهَا يَأْتِي أَجَلُهُ قَبْلَ أَجَلِي فَأَغْلِبُ عَلَيْهِ، وَشَيْئًا مِنْهَا يَأْتِي أَجَلِي قَبْلَ أَجَلِهِ فَأَمُوتُ وَأَتْرُكُهُ لِغَيْرِي. فَفِي أَيِّ هَذَيْنِ أَعْصِي رَبِّي?

হযরত আবূ হাযেম বলেন, আমি দুনিয়াতে দু'ধরনের জিনিস পেয়েছি। এক ধরনের জিনিস যা আমার, তা কোনোভাবেই আমার হাতছাড়া হবে না। আরেক জিনিস যা অন্যের, তা কখনো আমার হবার নয়। যা আমার, তা থেকে সবাইকে বিরত রাখা হবে। এমনি ভাবে যা অন্যের, তা থেকে আমাকে বিরত রাখা হবে। সুতরাং এ দুয়ের কোনটির পিছনে আমার জীবনকে নিঃশেষ করে বেড়াব?

দুনিয়ার যে ভোগ্যবস্তু আমাকে দেয়া হয়েছে, তা দু'ধরনের। এক, যা আমার মৃত্যুর পূর্বেই নিঃশেষ হয়ে যায়, ফলে আমি রয়ে যাবো। দুই, যা নিঃশেষ হওয়ার পূর্বেই আমার মৃত্যু এসে যাবে, ফলে অন্যের জন্য তা রেখে যাবো। সুতরাং এ দুইয়ের কোনটির জন্য আমি আমার রবের নাফরমানি করব?

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 পথিকের পাথেয়ের ন্যায় দুনিয়া অবলম্বন কর

📄 পথিকের পাথেয়ের ন্যায় দুনিয়া অবলম্বন কর


عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَشْيَاخِهِ قَالَ : دَخَلَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ عَلَى سَلْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ يَعُودُهُ وَهُৱ مَرِيضٌ، فَبَكَى سَلْمَانُ فَقَالَ لَهُ سَعْدُ : مَا يُبْكِيكَ يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ? تُوُفِّيَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُৱ عَنْكَ رَاضٍ فَقَالَ سَلْمَانُ : أَمَا إِنِّي لَا أَبْكِي جَزَعًا مِنَ الْمَوْতِ وَلَا حِرْصًا عَلَى الدُّنْيَا، وَلَكِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ عَهِدَ إِلَيْنَا عَهْدًا، فَقَالَ : لِيَكُنْ بُلْغَةُ أَحَدِكُمْ مِنَ الدُّنْيَا مِثْلَ زَادِ الرَّاكِبِ، وَحَوْلِي هَذِهِ الْأَسَاوِدُ. قَالَ : وَإِنَّمَا كَانَ حَوْلَهُ إِجَانَةٌ وَجَفْنَةٌ وَمِطْهَرَةٌ. فَقَالَ سَعْدُ : يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ اعْهَدْ إِلَيْنَا عَهْدًا، فَنَأْخُذْهُ بَعْدَكَ. فَقَالَ : يَا سَعْدُ اذْكُرِ الله تَعَالَى عِنْدَ هَمِّكَ إِذَا هَمَمْتَ، وَعِنْدَ حُكْمِكَ إِذَا حَكَمْتَ، وَعِنْدَ بِرَّكَ إِذَا أَقْسَمْتَ.

সুফইয়ান সাওরী রহ. তাঁর উস্তাদ থেকে বর্ণনা করেন। হযরত সালমান রাযি. অসুস্থ হলে তাঁকে দেখার উদ্দেশ্যে সাআদ বিন আবু ওয়াক্কাস তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন। তাঁকে দেখে হযরত সালমান কেঁদে উঠলেন। সাআদ বললেন, আবূ আব্দুল্লাহ, কাঁদছেন কেন? রাসূল ﷺ তো মৃত্যুকালে আপনার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন। হযরত সালমান বললেন, আমি মৃত্যুর ভয়ে কাঁদছি না। কিংবা দুনিয়ার লোভেও কাঁদছি না। বরং রাসূল ﷺ আমাদের থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়ে বলেছিলেন যে, তোমরা দুনিয়া থেকে ততটা গ্রহণ করবে, যতটা একজন পথচারী পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করে। অথচ দেখো আমার চারপাশ দুনিয়ার সম্পদরূপে এই সাপ-বিচ্ছুগুলো দিয়ে ভরা। সাআদ বলেন, এ সময় তার পাশে ছিল একটি পেয়ালা, পানির পাত্র এবং একটি তুচ্ছ সামগ্রী। তখন তিনি বললেন, হে আবূ আব্দুল্লাহ! আমাদেরকে নসীহত করুন, আপনার মৃত্যুর পর যার উপর আমরা আমল করব। সালমান রাযি. বললেন, হে সাআদ! যখন তুমি কোনো কিছুর ইচ্ছা কর, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর, যখন কোনো ফায়সালা কর, তখনও তাকে স্মরণ কর এবং যখন শপথ কর তা পূরণ করার সময়ও আল্লাহকে স্মরণ কর。

টিকাঃ
৫২৪. সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-৪১০৪; মুসনাদে আহমাদ হাদীস-২৩৭১১। শায়েখ শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px