📄 কিয়ামতের দিন দুনিয়ার কুৎসিত রূপ
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا أَنَّهُ قَالَ: يُؤْتَى بِالدُّنْيَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى صُورَةِ عَجُوزٍ شَيْطَاءَ زَرْقَاءَ بَادِيَةٌ أَنْيَابُهَا، مُشَوَّهُ خَلْقُهَا، لَا يَرَاهَا أَحَدٌ إِلَّا كَرِهَهَا، فَتُشْرِفُ عَلَى الْخَلَائِقِ فَيُقَالُ لَهُمْ : أَتَعْرِفُونَ هَذِهِ? فَيَقُولُونَ نَعُوذُ بِاللهِ مِنْ مَعْرِفَتِهَا. فَيُقَالُ : هَذِهِ الدُّنْيَا الَّتِي تَفَاخَرْتُمْ بِهَا وَتَقَاتَلْتُمْ عَلَيْهَا.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন দুনিয়াকে বৃদ্ধার আকৃতিতে হাজির করা হবে। তার চোখ নীল হবে, দাঁত বের হয়ে থাকবে, আর আকৃতি হবে বিশ্রী। যেই তাকে দেখবে, ঘৃণায় থুথু ফেলবে। সকলের সামনে তাকে তুলে ধরে বলা হবে, তোমরা কি একে চিনতে পারছ? সকলে বলবে নাউযুবিল্লাহ! আমরা একে চিনতে চাই না। বলা হবে, এই হলো দুনিয়া, যা নিয়ে তোমরা গর্ব করতে এবং যার জন্য তোমরা পরস্পরে খুনাখুনিতে লিপ্ত হতে।
وَرُوِيَ فِي خَبَرٍ آخَرَ أَنَّهُ يُؤْمَرُ بِهَا فَتُلْقَى فِي النَّارِ فَتَقُولُ يَا رَبُّ أَيْنَ أَتْبَاعِي وَأَصْحَابِي? فَيَلْحَقُونَ بِهَا.
অন্য রেওয়ায়াতে আছে, আল্লাহর নির্দেশে দুনিয়াকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তখন দুনিয়া বলবে, হে রব! আমার অনুসারী ও সঙ্গীরা কোথায়? তাদেরকেও আমার সঙ্গী বানাও। তখন তাদেরকেও তার সাথে দিয়ে দেয়া হবে।
📄 দুনিয়া আগুনে ফেলা হবে
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, জাহান্নামে দুনিয়ার কোনো আযাব হবে না। কারণ, তার কোনো গুনাহ নেই। কিন্তু তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, যাতে দুনিয়াদাররা তার লাঞ্ছনা ও বঞ্চনা স্বচক্ষে দেখতে পারে। মূর্তিপূজকদের সাথে মূর্তিগুলোকেও আগুনে ফেলা হবে।
إِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ أَنْتُمْ لَهَا وَارِدُونَ
অর্থ: নিশ্চয় তোমরা এবং আল্লাহ ব্যতীত তোমরা যাদের পূজা কর, সেগুলো হবে জাহান্নামের জ্বালানী। তোমরা সেখানে প্রবেশ করবে।
বলার অপেক্ষা রাখে না যে, মূর্তিগুলোর আযাব হবে না। তবে মূর্তিপূজকদের আক্ষেপ ও অনুতাপ বৃদ্ধির জন্যই এমন করা হবে। তদ্রূপ দুনিয়াকেও দুনিয়াদারদের আক্ষেপ ও অনুতাপ বৃদ্ধির জন্য আগুনে ফেলা হবে। সুতরাং মুমিনের কর্তব্য হলো, আখেরাতের জন্য আমল করা এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত না হওয়া ও তাতে মনোযোগ না দেওয়া।
টিকাঃ
৫২২. সূরা আম্বিয়া: আয়াত-৯৮
📄 হযরত ঈসা আ.-এর উক্তি
বর্ণিত আছে, হযরত ঈসা বিন মারইয়াম আ. বলেন, কী আশ্চর্য! দুনিয়ার জন্য তোমরা কষ্ট করছ অথচ সেখানে কষ্ট ছাড়াই তোমাদেরকে রিযিক দেওয়া হবে। পক্ষান্তরে আখেরাত নিয়ে মেহনত করছ না, অথচ সেখানে মেহনত ব্যতীত কিছুই উপকারে আসবে না।
📄 দুনিয়ার ভালোবাসার ক্ষতিসমূহ
رَوَى أَبُو عُبَيْدَةُ الْأَسَدِيُّ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : مَنْ أُشْرِبَ قَلْبُهُ حُبَّ الدُّنْيَا الْتَاطَ قَلْبُهُ مِنْهَا بِثَلَاثٍ: شُغْلٍ لَا يَنْفَكُ عَنَاؤُهُ، وَأَمَلٍ لَا يَبْلُغُ مُنْتَهَاهُ، وَحِرْصٍ لَا يُدْرَكُ عَنَاهُ. وَالدُّنْيَا طَالِبَةٌ وَمَطْلُوبَةٌ. فَمَنْ طَلَبَ الْآخِرَةَ طَلَبَتْهُ الدُّنْيَا حَتَّى يَسْتَوْفِي مِنْهَا رِزْقَهُ، وَمَنْ طَلَبَ الدُّنْيَا طَلَبَتْهُ الْآخِرَةُ حَتَّى يَأْتِيَهُ الْمَوْتُ فَيَأْخُذَهُ بَغْتَةً.
হযরত আবূ উবাইদা আসাদী বর্ণনা করেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি দুনিয়ার প্রেমের সুধা পান করেছে, সে তার অন্তরে তিনটি বিষয়কে অবিচ্ছেদ্য করে নিয়েছে। যথা-
১. এমন ব্যস্ততা, যা থেকে কখনো মুক্তি নেই।
২. এমন আকাঙ্ক্ষা, যার কোনো শেষ নেই।
৩. এমন লোভ, যার কোনো সীমা নেই।
দুনিয়া একই সাথে সন্ধানকারী ও সন্ধানকৃত। অনুরূপ আখেরাত সন্ধানকারী ও সন্ধানকৃত। যে ব্যক্তি আখেরাত সন্ধান করে, দুনিয়া তাকে সন্ধান করে, যতক্ষণ না তার রিযিক পূর্ণ বুঝিয়ে দেয়। আর যে ব্যক্তি দুনিয়া সন্ধান করে, আখেরাত তাকে সন্ধান করে, যতক্ষণ না তার মৃত্যু আসে।
টিকাঃ
৫২৩. ত্ববারানী: ১০/১৬২; আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব : হাদীস-৪৯০৫। আল্লামা মুনযিরী ও হাইসামী প্রমুখের মতে, হাদীসটি সহীহ [মাজমা: ১০/৪৩৬]।