📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আখেরাত অন্বেষী সম্পদ জমা রাখে না

📄 আখেরাত অন্বেষী সম্পদ জমা রাখে না


হযরত সাহল বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করতেন। তাঁর মা ও ভাইয়েরা আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারকের নিকট অভিযোগ করল। তাঁরা বলল, সে তো কিছুই রাখে না। আমরা আশঙ্কা করছি, সে দরিদ্র হয়ে যাবে। আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক তাদেরকে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে সাহলকে ডেকে পাঠালেন। সাহল তাকে বললেন, হে আবূ আব্দুর রহমান, তোমার কী মত, যদি মদীনার কোনো ব্যক্তি রুস্তাক নামক স্থানে জমি ক্রয় করে। আর সে সেখানে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে কি মদীনায় সে কোনো কিছু রেখে যাবে? হযরত ইবনে মুবারক বললেন, না। মদীনা থেকে সে চলে যাওয়ার সময় সেখানে সে কিছুই রেখে যাবে না। সাহল তখন বললেন, তবে যে ব্যক্তি দুনিয়া থেকে আখেরাতে স্থানান্তরিত হওয়ার ইচ্ছা রাখে, সে কীভাবে দুনিয়াতে কিছু রেখে যাবে?

ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা দুনিয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ও যথেষ্ট পরিমাণের উপরই সন্তুষ্ট থাকে। সম্পদ সঞ্চয় তাদের লক্ষ্য হয় না। বরং তারা আখেরাতের সঞ্চয়ে ব্যস্ত থাকে। কারণ, আখেরাতই স্থায়ী ও নিয়ামতে পরিপূর্ণ ঘর। আর দুনিয়া অস্থায়ী, নশ্বর ও প্রতারণার ঘর।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আখেরাতের প্রতি উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী হাদীস

📄 আখেরাতের প্রতি উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী হাদীস


হযরত যাহহাক রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা হযরত আদম আ. ও তাঁর স্ত্রী হাওয়াকে দুনিয়াতে পাঠানোর পর, দুনিয়ার পচা দুর্গন্ধের ফলে তারা দীর্ঘ চল্লিশ দিন যাবত বেহুঁশ হয়ে পড়ে ছিলেন। রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, ওই ব্যক্তির জন্য বিস্ময় হতে হয় যে স্থায়ী আবাসকে (আখেরাত) সত্য জেনেও প্রতারণার আবাসের (দুনিয়া) জন্য কাজ করে।

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا قَالَ : شَهِدْتُ مَجْلِسًا مِنْ مَجَالِسِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ أَتَاهُ رَجُلٌ أَبْيَضُ الْوَجْهِ، حَسِنَ الشَّعْرِ وَاللَّوْنِ، عَلَيْهِ ثِيَابٌ بِيضٌ، فَقَالَ السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ . فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ. فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ مَا الدُّنْيَا? قَالَ: حُلْمُ الْمَنَامِ وَأَهْلُهَا مُجَازَوْنَ وَمُعَاقَبُونَ. قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْآخِرَةُ? قَالَ: الْأَبَدُ فَرِيقٌ فِي الْجَنَّةِ وَفَرِيقٌ فِي السَّعِيرِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْجَنَّةُ? قَالَ : بَدَلُ الدُّنْيَا لِتَارِكِهَا نَعِيمُهَا أَبَدًا قَالَ : فَمَا جَهَنَّمُ? قَالَ : بَدَلُ الدُّنْيَا لِطَالِبِهَا لَا يُفَارِقُهَا أَهْلُهَا أَبَدًا. قَالَ : فَمَنْ خَيْرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ? قَالَ : الَّذِي يَعْمَلُ فِيهَا بِطَاعَةِ اللهِ تَعَالَى، قَالَ: فَكَيْفَ يَكُونُ الرَّجُلُ فِيهَا ? قَالَ : مُشَمَّرًا كَطَالِبِ الْقَافِلَةِ قَالَ : فَكَمِ الْقَرَارُ بِهَا? قَالَ: كَقَدْرِ الْمُتَخَلَّفِ عَنِ الْقَافِلَةِ قَالَ: فَكَمْ مَا بَيْنَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ? قَالَ: كَغَمْضَةِ عَيْنٍ قَالَ : فَذَهَبَ الرَّجُلُ فَلَمْ يَرَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : هَذَا جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ لِيُزَهَدَكُمْ فِي الدُّنْيَا وَيُرَغْبَكُمْ فِي الْآخِرَةِ.

হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল-এর এক মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। ইত্যবসরে এক ব্যক্তি এলো। তার মুখমণ্ডল শুভ্র, গায়ের রং সুন্দর। আর গায়ে ছিল সাদা ধবধবে পোশাক। লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আপনার উপর সালাম। রাসূল ﷺ সালামের উত্তর দিয়ে বললেন, তোমার উপরও সালাম ও আল্লাহর করুণা। লোকটি আরজ করল, হে আল্লাহর রাসূল! দুনিয়া কী? রাসূল ﷺ বললেন, দুনিয়া স্বপ্নের ন্যায়। আর এ স্বপ্নদ্রষ্টাদেরকে শাস্তি ও প্রতিদান দেয়া হবে। লোকটি আবার বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আখেরাত কী? রাসূল ﷺ বললেন, আখেরাত হলো, অনন্তকালের আবাস। সেখানে একদলকে জান্নাত দান করা হবে, অপরদলকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। লোকটি আবার বলল, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাত কী? রাসূল ﷺ বললেন, দুনিয়ার বদল, যারা দুনিয়া ত্যাগ করবে তাদের জন্য অনন্তকালীন সুখ-সমৃদ্ধির ঠিকানা। সে বলল, জাহান্নাম কী? রাসূল ﷺ বললেন, দুনিয়ার বদল, যারা দুনিয়া অন্বেষণ করবে তাদের জন্য অনন্তকালীন দুঃখ-যাতনার ঠিকানা। লোকটি বলল, এ উম্মতের সর্বোত্তম ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, যে আল্লাহর আনুগত্য করে। লোকটি বলল, ওই ব্যক্তি দুনিয়া কীভাবে কাটাবে? তিনি বললেন, সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে কাফেলার পথ চেয়ে উম্মুখ ব্যক্তির ন্যায়। লোকটি বলল, দুনিয়াতে মানুষ কতটা সময় অতিবাহিত করবে? তিনি বললেন, কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির কিছুটা সময় অতিবাহিত করার ন্যায়। লোকটি বলল, দুনিয়া ও আখেরাতের মধ্যবর্তী সময় কী পরিমাণ? তিনি বললেন, চোখের পলক ফেলার পরিমাণ। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকটি অদৃশ্য হয়ে গেল। তখন রাসূল ﷺ বললেন, ইনি ছিলেন জিবরাঈল, তিনি এসেছিলেন তোমাদের দুনিয়ার ব্যাপারে অনীহা এবং আখেরাতের ব্যাপারে আগ্রহী করতে।

টিকাঃ
৫১৫. শুআবুল ঈমান: ৭/৩৪০৪; তাখরীজুল এহইয়া : ৩/২৫০। হাদীসটি মুরসাল।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ইবরাহীম আ.-এর তিনটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য

📄 ইবরাহীম আ.-এর তিনটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য


وَذُكِرَ أَنَّ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلَ الرَّحْمَنِ صَلَّواتُ اللهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِ، قِيلَ لَهُ : بِأَيِّ شَيْءٍ اتَّخَذَكَ اللهُ خَلِيلًا? قَالَ: بِثَلَاثَةِ أَشْيَاءَ : أَوَّلُهَا: مَا خُيَّرْتُ بَيْنَ أَمْرَيْنِ إِلَّا اخْتَرْتُ الَّذِي لِلَّهِ عَلَى غَيْرِهِ وَالثَّانِي: مَا اهْتَمَمْتُ فِيمَا تَكَفَّلَ اللهُ لِي فِي أَمْرِ رِزْقِي. وَالثَّالِثُ: مَا تَغَذَّيْتُ وَلَا تَعَشَّيْتُ إِلَّا مَعَ الضَّيْفِ.

বর্ণিত আছে, একবার ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আ. কে বলা হলো, কী কারণে আল্লাহ আপনাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন? তিনি বললেন, তিনটি কারণে তিনি আমাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন। যথা-
১. যখনই আমাকে দু'টি বিষয়ের একটি গ্রহণের ইচ্ছাধিকার দেওয়া হয়েছে, যেটির মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টি আমি সেটিই গ্রহণ করেছি।
২. আমার রিযিক, আল্লাহ তা'আলা যে বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, তাতে ব্যতিব্যস্ত হইনি।
৩. আমি দুপুরে কিংবা রাতে, কখনো মেহমান ব্যতীত খাবার গ্রহণ করিনি।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কলব বেঁচে থাকে চার জিনিসের মাধ্যমে

📄 কলব বেঁচে থাকে চার জিনিসের মাধ্যমে


জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি বলেন, কলব বেঁচে থাকে চার জিনিসের মাধ্যমে। যথা- ১. ইলম। ২. সন্তুষ্টি। ৩. স্বল্পেতুষ্টি। ৪. যুহদ। ইলম তাকে সন্তুষ্টি দান করে, সন্তুষ্টি তাকে রেজার দরজায় উপনীত করে, রেজা তাকে স্বল্পেতুষ্টির গুণে গুণান্বিত করে, অল্পেতুষ্টি তাকে যুহদের দরজায় উপনীত করে। আর যুহদের পরিণতি হলো, দুনিয়াকে তুচ্ছ জ্ঞান করা।

ফন্ট সাইজ
15px
17px