📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দুনিয়া নয়, আখেরাত কাম্য

📄 দুনিয়া নয়, আখেরাত কাম্য


عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: مَنْ كَانَتْ نِيَّتُهُ الْآخِرَةَ جَمَعَ اللهُ شَمْلَهُ وَجَعَلَ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ، وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا وَهِيَ رَاغِمَةٌ. وَمَنْ كَانَتْ نِيَّتُهُ فِي الدُّنْيَا، فَرَّقَ اللهُ عَلَيْهِ أَمْرَهُ وَجَعَلَ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ، وَلَمْ يَأْتِهِ مِنَ الدُّنْيَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ.

হযরত যায়েদ বিন সাবেত রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, যার দৃষ্টি থাকে আখেরাতের প্রতি, আল্লাহ তার পেরেশানী দূর করে দেন এবং তার মনকে ঐশ্বর্যে ভরে দেন। দুনিয়া তার নিকট লাঞ্ছিত হয়ে ধরা দেয়। আর যার দৃষ্টি থাকে দুনিয়ার প্রতি, আল্লাহ তার পেরেশানী বাড়িয়ে দেন এবং তার চোখের সামনে দরিদ্রতাই ফুটিয়ে তোলেন। কিন্তু সে দুনিয়ার ততটুকুই লাভ করে, যা আল্লাহ তার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছেন।

عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ قَالَ: سَمِعْتُ جُنْدُبًا قَالَ: دَخَلَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ وَهُوَ عَلَى حَصِيرٍ وَقَدْ أَثَرَ بِجَنْبِهِ الشَّرِيفِ فَبَكَى عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : مَا يُبْكِيكَ يَا عُمَرُ ? قَالَ : ذَكَرْتُ كِسْرَى وَقَيْصَرَ وَمَا كَانَا فِيهِ مِنَ الدُّنْيَا، وَأَنْتَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ وَقَدْ أَثَرَ بِجَنْبِكَ الشَّرِيطُ. فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : أُولَئِكَ قَوْمٌ عُجَلَتْ لَهُمْ طَيِّبَاتُهُمْ فِي حَيَاتِهِمُ الدُّنْيَا، وَنَحْنُ قَوْمٌ أُخْرَتْ لَنَا طَيِّبَاتُنَا فِي الْآخِرَةِ.

হযরত আসওয়াদ বিন কায়েস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জুন্দুবকে বলতে শুনেছি। একবার উমর রাযি. রাসূল-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলেন, নবীজী চাটাইয়ের উপর বসে আছেন। তার দেহে চাটাইয়ের দাগ পড়ে গেছে। এটা দেখে উমর রাযি. কেঁদে ফেললেন। রাসূল ﷺ বললেন, কী হলো উমর কাঁদছ যে? উমর বললেন, কায়সার ও কিসরা এবং তাদের ভোগ-বিলাসের কথা মনে পড়ে গেল। আর আপনি আল্লাহর রাসূল অথচ আপনার দেহে চাটাইয়ের দাগ! রাসূল ﷺ বললেন, ওদেরকে ওদের প্রাপ্যটুকু দুনিয়াতেই দিয়ে দেয়া হয়েছে। আর আমাদেরটা আখেরাতের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

عَنْ زُبَيْدٍ قَالَ : قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ : إِنَّمَا أَخْشَى عَلَيْكُمُ اثْنَتَيْنِ : طُولُ الْأَمَلِ وَاتَّبَاعَ الْهَوَى. فَإِنَّ طُولُ الْأَمَلِ يُنْسِي الْآخِرَةَ وَاتَّبَاعَ الْهَوَى يَصُدُّ عَنِ الْحَقِّ، وَإِنَّ الدُّنْيَا قَدِ ارْتَحَلَتْ مُدْبِرَةً وَالآخِرَةُ مُقْبِلَةً، وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا بَنُونَ، فَكُونُوا مِنْ أَبْنَاءِ الْآخِرَةِ وَلَا تَكُونُوا مِنْ أَبْنَاءِ الدُّنْيَا، فَإِنَّ الْيَوْমَ عَمَلٌ وَلا حِسَابٌ، وَإِنَّ غَدًا حِسَابٌ وَلَا عَمَلٌ. যানি আকছিরু মিনাল আমালি ফী হাযাল ইয়াওমি, ফাইনাকুম লা তাক্বদিরুনা গদান আলাল আমাল (يَعْنِي أَكْثِرُوا مِنَ الْعَمَلِ فِي هَذَا الْيَوْمِ، فَإِنَّكُمْ لَا تَقْدِرُونَ غَدًا عَلَى الْعَمَلِ)।

যুবাইদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত আলী রাযি. বলেছেন, আমি তোমাদের দু'টি বিষয়ের ভয় করি। ১. দীর্ঘ আশা। ২. প্রবৃত্তির অনুসরণ। দীর্ঘ আশা আখেরাতের কথা ভুলিয়ে দেয়। আর প্রবৃত্তির অনুসরণ সত্য পথচ্যুত করে। দুনিয়া তো পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে বিগত হয়ে গেছে। আর আখেরাত সামনে থেকে ধেয়ে আসছে। এ দু'টির প্রত্যেকেরই সন্তান রয়েছে। সুতরাং তোমরা আখেরাতের সন্তান হও, দুনিয়ার সন্তান হয়ো না। কারণ, আজ (দুনিয়াতে) কেবল আমলের পালা, হিসাব নেই। আর আগামীকাল (আখেরাতে) হিসাব গ্রহণের পালা, তখন কোনো আমল নেই। অর্থাৎ, দুনিয়ায় তোমরা অধিকহারে আমল করে নাও। কারণ, আখেরাতে তোমাদেরকে আমলের সুযোগ দেয়া হবে না।

টিকাঃ
৫১২. সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৪৬৫; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-৪১০৫। হাদীসটির সনদ সহীহ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ]।
৫১৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-২৪৬৮; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৪৭৯; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-৪১৫৩।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুতবা

📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খুতবা


عَنْ الْحَسَنِ الْبَصْرِيَّ قَالَ : طَلَبْتُ خُطْبَةَ النَّبِيِّ ﷺ الَّتِي كَانَ يَخْطُبُ بِهَا كُلَّ جُمْعَةَ أَرْبَعَ سِنِينَ، فَلَمْ أَقْدِرْ عَلَيْهَا حَتَّى بَلَغَنِي أَنَّهَا عِنْدَ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ، فَأَتَيْتُهُ فَإِذَا هُৱ جَابِرُ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا فَقُلْتُ لَهُ : أَنْتَ سَمِعْتَ خُطْبَةَ النَّبِيِّ ﷺ الَّتِي كَانَ يَخْطُبُ بِهَا كُلَّ جُمْعَةٍ? قَالَ: نَعَمْ. سَمِعْتُهُ يَقُولُ : أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ لَكُمْ مَعَالِمَ فَانْتَهُوا إِلَى مَعَالِمِكُمْ، وَإِنَّ لَكُمْ نِهَايَةً فَانْتَهُوا إِلَى نِهَايَتِكُمْ، وَإِنَّ الْعَبْدَ الْمُؤْمِنَ بَيْنَ مَخَافَتَيْنِ، بَيْنَ أَجَلٍ قَدْ مَضَى لَا يَدْرِي مَا اللَّهُ صَانِعُ بِهِ، وَبَيْنَ أَجَلٍ قَدْ بَقِيَ لَا يَدْرِي مَا اللَّهُ قَاضٍ فِيهِ فَلْيَتَزَوَّدِ الْعَبْدُ مِنْ نَفْسِهِ لِنَفْسِهِ، وَمِنْ حَيَاتِهِ لِمَوْتِهِ، وَمِنْ شَبَابِهِ لِكِبَرِهِ، وَمِنْ دُنْيَاهُ لِآخِرَتِهِ فَإِنَّ الدُّنْيَا خُلِقَتْ لَكُمْ وَأَنْتُمْ خُلِقْتُمْ لِلْآخِرَةِ : فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا بَعْدَ الْمَوْতِ مِنْ مُسْتَعْتَبٍ، وَلَا بَعْدَ الدُّنْيَا دَارٌ إِلَّا الْجَنَّةَ أَوِ النَّارَ ، أَقُولُ قَوْلِي هُذَا وَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ لِي وَلَكُمْ.

হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, জুমআর দিন রাসূল ﷺ যে খুতবা দিতেন দীর্ঘ চার বছর আমি তা অনুসন্ধান করেছি, কিন্তু পাইনি। অবশেষে জানতে পেলাম যে, জনৈক আনসার সাহাবীর নিকট তা রক্ষিত আছে। তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে দেখি, তিনি হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাযি.। তাঁকে বললাম, রাসূল ﷺ জুমআর দিন যে খুতবা দিতেন, আপনি কি তা শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, হে লোক সকল! তোমাদের জন্য ইলমের মজলিস রয়েছে, সেখানে তোমরা গমন কর, তোমাদের শেষ রয়েছে, সেখানে তোমরা উপনীত হও। নিশ্চয় মুমিন বান্দা দুই ধরনের বিপদের মধ্যে রয়েছে। যথা-
১. জীবনের যে অংশ অতিবাহিত হয়েছে। সে জানে না, আল্লাহ এ ব্যাপারে কী ফায়সালা করেছেন।
২. জীবনের যে অংশ অবশিষ্ট রয়েছে। সে জানে না, আল্লাহ তাতে তার জন্য কী ফয়সালা করবেন।

সুতরাং বান্দা যেন নিজ থেকেই নিজের জন্য, জীবন থেকে মৃত্যুর জন্য, যৌবনকাল থেকে বার্ধক্যের জন্য, এবং দুনিয়া থেকে আখেরাতের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করে নেয়। কারণ, দুনিয়া তোমাদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। আর তোমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে আখেরাতের জন্য। সে সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! মৃত্যুর পর কারো তাওবা ও ইস্তেগফারের সুযোগ থাকবে না এবং দুনিয়ার পর জান্নাত ও জাহান্নাম ব্যতীত ভিন্ন কোনো জায়গা থাকবে না। একথাটি আমি আমাকেও বলছি এবং তোমাদেরকেও বলছি। আর আমার ও তোমাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

টিকাঃ
৫১৪ শুআবুল ঈমান: হাদীস-১০৫৮১; তাফসীরে কুরতুবী ১৮/১১৬।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আখেরাত অন্বেষী সম্পদ জমা রাখে না

📄 আখেরাত অন্বেষী সম্পদ জমা রাখে না


হযরত সাহল বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করতেন। তাঁর মা ও ভাইয়েরা আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারকের নিকট অভিযোগ করল। তাঁরা বলল, সে তো কিছুই রাখে না। আমরা আশঙ্কা করছি, সে দরিদ্র হয়ে যাবে। আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক তাদেরকে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে সাহলকে ডেকে পাঠালেন। সাহল তাকে বললেন, হে আবূ আব্দুর রহমান, তোমার কী মত, যদি মদীনার কোনো ব্যক্তি রুস্তাক নামক স্থানে জমি ক্রয় করে। আর সে সেখানে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে কি মদীনায় সে কোনো কিছু রেখে যাবে? হযরত ইবনে মুবারক বললেন, না। মদীনা থেকে সে চলে যাওয়ার সময় সেখানে সে কিছুই রেখে যাবে না। সাহল তখন বললেন, তবে যে ব্যক্তি দুনিয়া থেকে আখেরাতে স্থানান্তরিত হওয়ার ইচ্ছা রাখে, সে কীভাবে দুনিয়াতে কিছু রেখে যাবে?

ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা দুনিয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ও যথেষ্ট পরিমাণের উপরই সন্তুষ্ট থাকে। সম্পদ সঞ্চয় তাদের লক্ষ্য হয় না। বরং তারা আখেরাতের সঞ্চয়ে ব্যস্ত থাকে। কারণ, আখেরাতই স্থায়ী ও নিয়ামতে পরিপূর্ণ ঘর। আর দুনিয়া অস্থায়ী, নশ্বর ও প্রতারণার ঘর।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আখেরাতের প্রতি উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী হাদীস

📄 আখেরাতের প্রতি উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী হাদীস


হযরত যাহহাক রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা হযরত আদম আ. ও তাঁর স্ত্রী হাওয়াকে দুনিয়াতে পাঠানোর পর, দুনিয়ার পচা দুর্গন্ধের ফলে তারা দীর্ঘ চল্লিশ দিন যাবত বেহুঁশ হয়ে পড়ে ছিলেন। রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, ওই ব্যক্তির জন্য বিস্ময় হতে হয় যে স্থায়ী আবাসকে (আখেরাত) সত্য জেনেও প্রতারণার আবাসের (দুনিয়া) জন্য কাজ করে।

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا قَالَ : شَهِدْتُ مَجْلِسًا مِنْ مَجَالِسِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ أَتَاهُ رَجُلٌ أَبْيَضُ الْوَجْهِ، حَسِنَ الشَّعْرِ وَاللَّوْنِ، عَلَيْهِ ثِيَابٌ بِيضٌ، فَقَالَ السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ . فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ. فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ مَا الدُّنْيَا? قَالَ: حُلْمُ الْمَنَامِ وَأَهْلُهَا مُجَازَوْنَ وَمُعَاقَبُونَ. قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْآخِرَةُ? قَالَ: الْأَبَدُ فَرِيقٌ فِي الْجَنَّةِ وَفَرِيقٌ فِي السَّعِيرِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْجَنَّةُ? قَالَ : بَدَلُ الدُّنْيَا لِتَارِكِهَا نَعِيمُهَا أَبَدًا قَالَ : فَمَا جَهَنَّمُ? قَالَ : بَدَلُ الدُّنْيَا لِطَالِبِهَا لَا يُفَارِقُهَا أَهْلُهَا أَبَدًا. قَالَ : فَمَنْ خَيْرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ? قَالَ : الَّذِي يَعْمَلُ فِيهَا بِطَاعَةِ اللهِ تَعَالَى، قَالَ: فَكَيْفَ يَكُونُ الرَّجُلُ فِيهَا ? قَالَ : مُشَمَّرًا كَطَالِبِ الْقَافِلَةِ قَالَ : فَكَمِ الْقَرَارُ بِهَا? قَالَ: كَقَدْرِ الْمُتَخَلَّفِ عَنِ الْقَافِلَةِ قَالَ: فَكَمْ مَا بَيْنَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ? قَالَ: كَغَمْضَةِ عَيْنٍ قَالَ : فَذَهَبَ الرَّجُلُ فَلَمْ يَرَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : هَذَا جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ لِيُزَهَدَكُمْ فِي الدُّنْيَا وَيُرَغْبَكُمْ فِي الْآخِرَةِ.

হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল-এর এক মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। ইত্যবসরে এক ব্যক্তি এলো। তার মুখমণ্ডল শুভ্র, গায়ের রং সুন্দর। আর গায়ে ছিল সাদা ধবধবে পোশাক। লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আপনার উপর সালাম। রাসূল ﷺ সালামের উত্তর দিয়ে বললেন, তোমার উপরও সালাম ও আল্লাহর করুণা। লোকটি আরজ করল, হে আল্লাহর রাসূল! দুনিয়া কী? রাসূল ﷺ বললেন, দুনিয়া স্বপ্নের ন্যায়। আর এ স্বপ্নদ্রষ্টাদেরকে শাস্তি ও প্রতিদান দেয়া হবে। লোকটি আবার বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আখেরাত কী? রাসূল ﷺ বললেন, আখেরাত হলো, অনন্তকালের আবাস। সেখানে একদলকে জান্নাত দান করা হবে, অপরদলকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। লোকটি আবার বলল, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাত কী? রাসূল ﷺ বললেন, দুনিয়ার বদল, যারা দুনিয়া ত্যাগ করবে তাদের জন্য অনন্তকালীন সুখ-সমৃদ্ধির ঠিকানা। সে বলল, জাহান্নাম কী? রাসূল ﷺ বললেন, দুনিয়ার বদল, যারা দুনিয়া অন্বেষণ করবে তাদের জন্য অনন্তকালীন দুঃখ-যাতনার ঠিকানা। লোকটি বলল, এ উম্মতের সর্বোত্তম ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, যে আল্লাহর আনুগত্য করে। লোকটি বলল, ওই ব্যক্তি দুনিয়া কীভাবে কাটাবে? তিনি বললেন, সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে কাফেলার পথ চেয়ে উম্মুখ ব্যক্তির ন্যায়। লোকটি বলল, দুনিয়াতে মানুষ কতটা সময় অতিবাহিত করবে? তিনি বললেন, কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির কিছুটা সময় অতিবাহিত করার ন্যায়। লোকটি বলল, দুনিয়া ও আখেরাতের মধ্যবর্তী সময় কী পরিমাণ? তিনি বললেন, চোখের পলক ফেলার পরিমাণ। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকটি অদৃশ্য হয়ে গেল। তখন রাসূল ﷺ বললেন, ইনি ছিলেন জিবরাঈল, তিনি এসেছিলেন তোমাদের দুনিয়ার ব্যাপারে অনীহা এবং আখেরাতের ব্যাপারে আগ্রহী করতে।

টিকাঃ
৫১৫. শুআবুল ঈমান: ৭/৩৪০৪; তাখরীজুল এহইয়া : ৩/২৫০। হাদীসটি মুরসাল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px