📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ধন-সম্পদ ফেতনা তুল্য

📄 ধন-সম্পদ ফেতনা তুল্য


عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ أَتَى بِغَنَائِمَ مِنْ غَنَائِمِ الْقَادِسِيَّةِ فَجَعَلَ يَتَصَفَّحُهَا وَيَنْظُرُ إِلَيْهَا وَيَبْكِي . فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ: هُذَا يَوْمُ السُّرُورِ وَالْفَرَحِ، وَأَنْتَ تَبْكِي يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَالَ : أَجَلْ وَلَكِنْ مَا أُوتِيَ هَذَا قَوْمٌ إِلَّا أَوْقَعَ بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ.

হযরত উমর বিন খাত্তাব রাযি. থেকে বর্ণিত। কাদিসিয়া যুদ্ধের গনীমতের মাল তাঁর সামনে উপস্থিত করা হলে, তিনি তা নাড়াচাড়া দিলেন এবং এর দিকে তাকিয়ে কেঁদে উঠলেন। আব্দুর রহমান বিন আউফ রাযি. বললেন, হে আমীরুল মুমিনীন! আজ আনন্দিত ও উৎফুল্ল হওয়ার দিন অথচ আপনি কাঁদছেন! উমর রাযি. বললেন, ঠিক বলেছ। তবে যখন কোনো সম্প্রদায়ের নিকট ধন-সম্পদ আসতে শুরু করে, তখন তাদের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়।

عَنْ كَعْبِ بْنِ عِيَاضٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ لِكُلِّ أُمَّةٍ فِتْنَةً وَإِنَّ فِتْنَةَ أُمَّتِي الْمَالُ.

কাব ইবনে ইয়াজ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ-কে আমি বলতে শুনেছি, প্রত্যেক উম্মতের জন্য একটি করে ফেতনা থাকে, আমার উম্মতের ফেতনা হলো, সম্পদ।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ أَحَبَّ الْخَلْقِ إِلَى اللهِ الْفُقَرَاءُ لِأَنَّهُ كَانَ أَحَبَّ الْخَلْقِ إِلَى اللَّهِ الْأَنْبِيَاءُ فَابْتَلَاهُمْ بِالْفَقْرِ.

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, দরিদ্ররাই আল্লাহ তা'আলার নিকট সৃষ্টিকুলের সর্বাধিক পছন্দনীয় ব্যক্তি। কারণ, তাঁর নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় ব্যক্তি ছিলেন নবীগণ। আর তাদেরকে তিনি দারিদ্র্যের অবস্থায় রেখেছেন।

টিকাঃ
৫১০. সুনানে তিরমিযী : হাদীস-২৩৩৬; মুসনাদে আহমাদ : হাদীস-১৭৪৭১। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাকে দুনিয়া থেকে দূরে রাখেন

📄 আল্লাহ তার প্রিয় বান্দাকে দুনিয়া থেকে দূরে রাখেন


হযরত ইমাম হাসান বসরী রহ. বলেন, আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা আ.কে ওহীর মাধ্যমে জানালেন যে, আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় বান্দা এবং জমিনবাসীরও সর্বাধিক পছন্দনীয় ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করবে। তুমি তাঁর নিকট যাও। তাঁর কাফন-দাফনের ব্যবস্থা কর এবং তাঁর কবরে গিয়ে দণ্ডায়মান হও।

নির্দেশ পেয়ে মূসা আ. লোকালয়ে উক্ত বান্দার অনুসন্ধান করলেন। কোথাও তাঁর খোঁজ পেলেন না। অতঃপর তিনি বিরান ভূমিতে তার সন্ধান করলেন। কিন্তু সেখানেও পেলেন না। ইত্যবসরে মাটি বহনকারী একদল লোকের দেখা পেলেন। তাদেরকে বললেন, তোমরা কি কোনো অসুস্থ বা মৃত ব্যক্তিকে দেখেছ? তাদের কেউ বলল, আমরা বিরান ভূমিতে একজনকে অসুস্থ অবস্থায় দেখেছি। আপনি হয়তো তাকেই খুঁজছেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাকেই আমি খুঁজছি। অতঃপর সে স্থানে গিয়ে তিনি দেখতে পেলেন, এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে মাটিতে শুয়ে আছে। তাঁর মাথার নিচে একটি কাঁচা ইট রাখা। সে নড়ে উঠলে ইট থেকে মাথা পড়ে গেল। এ ব্যক্তির অবস্থা দেখে মূসা আ. দাঁড়িয়ে কাঁদতে লাগলেন। আর বললেন, হে রব! ইনি আপনার সর্বাধিক প্রিয় বান্দা। অথচ তাঁর খবর নেওয়ার মতো কেউ নেই। আল্লাহ তা'আলা ওহী পাঠালেন, হে মূসা! যখন আমি কোনো বান্দাকে ভালোবাসি, তখন তার থেকে দুনিয়াকে দূরে সরিয়ে দেই।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 বিভিন্নভাবে শয়তান মানুষকে বিভ্রান্ত করে

📄 বিভিন্নভাবে শয়তান মানুষকে বিভ্রান্ত করে


হযরত হাসান রহ. বলেন, সর্বপ্রথম যখন মুদ্রা বানানো হয়, ইবলীস সেটাকে দু'চোখে রেখে বলে ছিল, যে তোমাকে ভালোবাসবে, সে আমার গোলাম।

ওহাব বিন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার বৃদ্ধের আকৃতিতে শয়তান সুলাইমান আ.-এর নিকট উপস্থিত হলো। সুলাইমান আ. তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমাকে বল, ঈসা বিন মারইয়ামের উম্মতের জন্য তুমি কী ফন্দি এঁটে রেখেছ? সে বলল, আমি তাদেরকে আহ্বান করব, যেন আল্লাহ ছাড়াও আরো দুই খোদার উপাসনা করে। সুলাইমান আ. আবার জিজ্ঞেস করলেন, বলো, মুহাম্মদ ﷺ-এর উম্মতের জন্য তুমি কী ফাঁদ এঁটে রেখেছো? সে বলল, আমি তাদেরকে টাকা-পয়সার দিকে আহ্বান করবো। এমনকি টাকা-পয়সা তাদের নিকট 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-র চেয়েও অধিক প্রিয় বস্তু হয়ে উঠবে। সুলাইমান আ. বললেন, আমি আল্লাহর নিকট তোমার থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এরপর তাকিয়ে দেখলেন, ইবলীস পালিয়েছে。

সারকথা: ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, দরিদ্রের উচিত আল্লাহর অনুগ্রহ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখা। সেই সাথে একথাও মনে রাখা যে, আল্লাহ তা'আলা তার প্রতি দয়া দেখিয়েই দুনিয়াকে তার থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন আর তাকে নবী ও আউলিয়াগণের সম্মানে ভূষিত করেছেন। তার উচিত সর্বদা আল্লাহর প্রশংসা করা, দারিদ্র্যের কারণে ভেঙ্গে না পড়া, জীবন যাপনের সঙ্কট ও বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করা। মনে রাখা যে, দুনিয়াতে তাকে যা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এর চেয়ে আখেরাতে তার জন্য প্রস্তুতকৃত নেয়ামতরাজী বহুগুণ উত্তম ও মূল্যবান। দরিদ্রের ফযীলতের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, এটা ছিল রাসূল ﷺ-এর পেশা।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 রাসূলের সামনে সমস্ত সম্পদের চাবি পেশ করা

📄 রাসূলের সামনে সমস্ত সম্পদের চাবি পেশ করা


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا ، قَالَ : بَيْنَمَا رَسُولُ اللهِ ﷺ جَالِسٌ وَجِبْرِيلُ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ مَعَهُ، قَالَ جِبْرِيلُ : هَذَا مَلَكَ قَدْ نَزَلَ مِنَ السَّمَاءِ لَمْ يَنْزِلْ قَطُّ. اسْتَأْذَنَ رَبَّهُ فِي زِيَارَتِكَ. فَلَمْ يَمْكُثْ إِلَّا قَلِيلًا حَتَّى جَاءَ الْمَلَكُ فَقَالَ : السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ فَقَالَ: وَعَلَيْكَ السَّلَامُ، قَالَ الْمَلَكُ : فَإِذَا اللهُ تَعَالَى يُخْبِرُكَ أَنْ يُعْطِيَكَ خَزَائِنَ كُلَّ شَيْءٍ، وَمَفَاتِيحَ كُلِّ شَيْءٍ لَمْ يُعْطِهِ أَحَدًا قَبْلَكَ، وَلَا يُعْطِهِ أَحَدًا بَعْدَكَ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يُنْقِصَكَ مِمَّا ادَّخَرَ لَكَ شَيْئًا، أَوْ يَجْمَعَهَا لَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ. فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : بَلْ يَجْمَعُهَا إِلَى يَوْমِ الْقِيَامَةِ.

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূল ﷺ বসা ছিলেন। তাঁর সাথে জিবরাঈল আ.ও ছিলেন। জিবরাঈল আ. বললেন, আপনার যিয়ারত লাভের জন্য আসমান থেকে একজন ফেরেশতা আসবেন, যিনি ইতঃপূর্বে কখনো পৃথিবীতে আগমন করেননি। ইতিমধ্যে সে ফেরেশতা উপস্থিত হলেন। রাসূল ﷺ-কে সালাম দিলেন। রাসূল ﷺ সালামের উত্তর দিলেন। ফেরেশতা বললেন, আল্লাহ তা'আলা আপনাকে ইখতিয়ার দিয়েছেন যে, আপনি চাইলে প্রতিটি বস্তুর খাজানা এবং প্রতিটি বস্তুর চাবি আপনাকে দান করবেন, যা ইতঃপূর্বে কাউকে দেওয়া হয়নি এবং পরেও দেয়া হবে না। এর ফলে কিয়ামতের দিন আপনার জন্য যা সঞ্চয় করে রাখা হয়েছে, তাতে বিন্দুমাত্র কম করা হবে না। রাসূল ﷺ বললেন, বরং, তিনি আমার জন্য তা কিয়ামত দিনের জন্য সঞ্চয় করে রাখুক।

عَنْ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ مُجَيْدٍ أَنَّ النَّبِيُّ ﷺ قَالَ : عُرِضَ عَلَى بَطْحَاءُ مَكَّةَ ذَهَبًا وَفِضَّةً، قُلْتُ يَا رَبُّ أَشْبَعُ يَوْمًا، وَأَجُوعُ يَوْমًا، فَأَحْمَدُكَ إِذَا شَبِعْتُ وَأَضْرَعُ إِلَيْكَ إِذَا جُعتُ.

আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহ্হাব বিন বুজাইদ থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, আমার সম্মুখে মক্কার বাতহা উপত্যকা স্বর্ণ-রুপায় পূর্ণ করে উপস্থাপন করা হয়েছিল। আমি বললাম, হে রব! একদিন তৃপ্তি হলে আপনার শুকরিয়া আদায় করবো। আর ক্ষুধার্ত হলে আপনার নিকট মিনতি জানাব।

টিকাঃ
৫১১. সুনানে তিরমিযী : হাদীস-২৩৪৭; মুসনাদে আহমাদ: ৩৬/৫২৮। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বললেও শায়েখ আরনাউত সনদটিকে অত্যন্ত জয়ীফ বলেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px