📄 কিয়ামতের দিন দরিদ্রদেরকে সুপারিশের অনুমতি দেওয়া হবে
رَوَى الْحَسَنُ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : يُؤْتَى بِالْعَبْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَعْتَذِرُ اللَّهُ تَعَالَى إِلَيْهِ كَمَا يَعْتَذِرُ الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ فِي الدُّنْيَا. فَيَقُولُ جَلَّ سُلْطَانُهُ وَعَظُمَ شَأْنُهُ : وَعِزَّتِي وَجَلَالِي، مَا زَوَيْتُ الدُّنْيَا عَنْكَ لِهَوَانِكَ عَلَيَّ، وَلَكِنْ لِمَا أَعْدَدْتُ لَكَ مِنَ الْكَرَامَةِ وَالْفَضِيلَةِ اخْرُجْ يَا عَبْدِي إِلَى هَذِهِ الصُّفُوفِ وَانْظُرْ مَنْ أَطْعَمَكَ فِيمَا كَانَ يُرِيدُ بِذلِكَ وَجْهِي. فَخُذْ بِيَدِهِ فَهُৱ لَكَ وَالنَّاسُ يَوْمَئِذٍ قَدْ أَلْجَمَهُمُ الْعَرَقُ. فَيَتَخَلَّلُ الصُّفُوفَ وَيَنْظُرُ مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ بِهِ فَيَأْখُذُ بِيَدِهِ فَيُدْخِلُهُ الْجَنَّةَ .
হযরত হাসান বসরী রহ. রাসূল ﷺ থেকে বর্ণনা করেন। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তা'আলা তার সাথে এমনভাবে কথোপকথন করবেন, যেভাবে দুনিয়াতে কোনো ব্যক্তি কারো কাছে ওজর পেশ করে। মহা-মহিয়ান আল্লাহ বলবেন, আমর ইজ্জত ও জালালতের কসম! তোমাকে অপমান করার জন্য দুনিয়াকে তোমার থেকে দূরে রাখিনি। বরং তোমার জন্য যে সম্মান ও ফযীলত প্রস্তুত করে রেখেছি, তার জন্য দূরে রেখেছি। তুমি এ কাতারগুলোর মধ্যে গিয়ে দেখ, কে তোমাকে অন্ন দান করেছে, কে তোমাকে বস্ত্র দান করেছে। তার হাত ধরে জান্নাতে নিয়ে যাও। সে দিন মানুষের অবস্থা এমন হবে যে, ঘাম তাদের নাক অবধি পৌঁছে যাবে। সে কাতারগুলোতে প্রবেশ করবে। দুনিয়াতে কে তার সঙ্গে এমন আচরণ করেছে, তাকে খুঁজে বের করবে এবং তার হাত ধরে জান্নাতে নিয়ে যাবে।
رَوَى الْحَسَنُ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : أَكْথِرُوا مَعْرِفَةَ الْفُقَرَاءِ وَاتَّخِذُوا عِنْدَهُمُ الْأَيَادِي، فَإِنَّ لَهُمْ دَوْلَةً قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا دَوْلَتُهُمْ? قَالَ : إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ؛ قِيلَ لَهُمُ انْظُرُوا مَنْ أَطْعَمَكُمْ كِسْرَةً، أَوْ سَقَاكُمْ شَرْبَةً، أَوْ كَسَاكُمْ ثَوْبًا، فَخُذُوا بِيَدِهِ ثُمَّ امْضُوا بِهِ إِلَى الْجَنَّةِ.
হযরত হাসান রহ. বলেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, তোমরা অধিকহারে দরিদ্রদেরকে দেখা-শোনা কর এবং তাদের নিকট সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দাও। কারণ, একদিন তাদেরও পালা আসবে। সাহাবীগণ বললেন, তাদের পালা কী? রাসূল ﷺ বলেন, কিয়ামতের দিন তাদেরকে বলা হবে, দেখ! কে তেমাদেরকে পানাহার করিয়েছে। তাদের হাত ধরে তাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাও।
টিকাঃ
৫০৪. তাবাকাতুশ শাফিইয়াহ, ইবনুস সুবকী:৬/৩৬৭; কাশফুল খাফা: ১/৩৭; আল-ফিরদাউস: হাদীস-২৬১; ফায়যুল কাদীর ১/১১৩। আল্লামা সাখাবীসহ অধিকাংশ হাদীসবেত্তাগণের মতে, এই মর্মের হাদীসগুলো বাতিল। তবে কেউ কেউ জয়ীফও বলেছেন।
📄 দরিদ্রদের জন্য পাঁচ ধরনের মর্যাদা
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, দরিদ্রদের জন্য রয়েছে পাঁচ ধরনের মর্যাদা। যথা- ১. সালাত, সদকা ইত্যাদি আমলের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিদান ধনীদের তুলনায় বেশি। ২. কোনো কিছুর ইচ্ছা করে না পেলেও তার জন্য সওয়াব লিখা হয়। ৩. সবার আগে জান্নাতে যাবে। ৪. আখেরাতে তাদের হিসাব কম হবে। ৫. ধনীদের তুলনায় তাদের অনুতাপ কম। ফলে ধনীগণ আখেরাতে প্রবল আকাঙ্ক্ষা করবে, হায়! যদি আমি দরিদ্র হতাম। কিন্তু দরিদ্রদেরকে এ কারণে আক্ষেপ করতে হবে না।
📄 এক দিরহাম সদকা করা এক লক্ষ দিরহাম হতেও উত্তম
عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: دِرْهَمٌ مِنَ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ مِنْ مِائَةِ أَلْفِ قِيلَ ك وَكَيْفَ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ? قَالَ : أَخْرَجَ رَجُلٌ مِنْ عَرْضِ مَالِهِ مِائَةَ أَلْفٍ وَتَصَدَّقَ بِهَا، وَأَخَّرَ رَجُلٌ دِرْهَمًا مِنْ دِرْهَمَيْنِ لَمْ يَمْلِكُ غَيْرَهُمَا طِيبَةً مِنْ نَفْسِهِ، فَصَارَ صَاحِبُ الدَّرْهَمِ أَفْضَلُ مِنْ صَاحِبِ الْمِائَةِ أَلْفِ.
হযরত যায়েদ বিন আসলাম রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, কখনো কখনো এক দিরহামের সদকা এক লক্ষ দিরহামের সদকার তুলনায় উত্তম। জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! তা কীভাবে? রাসূল ﷺ বললেন, এক ব্যক্তির বিশাল ধনভাণ্ডার আছে। সেখান থেকে সে এক লক্ষ দিরহাম দান করল। অপরদিকে এক ব্যক্তির মাত্র দুই দিরহাম সম্পদ আছে। এছাড়া তার কোনো সম্পদ নাই। সেখান থেকে সে সন্তুষ্ট চিত্তে এক দিরহাম দান করল। এই এক দিরহামের দানকারী এক লক্ষ দিরহাম দানকরীর তুলনায় অনেক উত্তম।
عَنِ الْحَسَنِ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى عَنِ النَّبِيِّ اللهِ أَنَّهُ سَأَلَهُ بَعْضُ أَصْحَابِهِ إِذَا رَأَيْنَا أَشْيَاءَ نَشْتَهِيهَا لَا نَقْدِرُ عَلَيْهَا فَهَلْ لَنَا فِيهَا أَجْرٌ ? قَالَ : فَبِمَ تُؤْجَرُونَ إِنْ لَمْ تُؤْجَرُوا فِيهَا.
হযরত হাসান রহ. বলেন, রাসূল ﷺ-কে জনৈক সাহাবী জিজ্ঞেস করল, আমরা এমন কিছু দেখি, যা পাওয়ার সাধ জাগে আমাদের। কিন্তু আমরা তাতে সক্ষম হই না। এতে কি আমাদেরকে সওয়াব দেয়া হবে? রাসূল ﷺ বললেন, এতে যদি সওয়াব না দেওয়া হয় তাহলে আর কোথায় সওয়াব দেয়া হবে?
হযরত যাহ্হাক রহ. বলেন, যে বাজারে প্রবেশ করল। সেখানে মনের চাহিদা মতো কোনো কিছু দেখে সওয়াবের আশায় সে ধৈর্যধারণ করল, তবে তার জন্য এ ধৈর্যধারণ আল্লাহর রাস্তায় এক লক্ষ্য দীনার দান করার তুলনায় উত্তম।
টিকাঃ
৫০৫. সহীহ ইবনে হিব্বান ৫/১৪৪; নাসায়ী কুবরা ৫/৫৯; মুস্তাদরাকে হাকেম: ১/৪১৬। হাদীসটিকে হাকেম সহীহ বলেছেন; ইমাম যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।
📄 দরিদ্রদের ফযীলত
ফকীহ সমরকান্দী রহ. বলেন, নিম্নোক্ত আয়াত দরিদ্রদের ফযীলতেরই প্রমাণ বহন করে- وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ অর্থ: আর তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত আদায় কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর, যাতে তোমরা করুণাপ্রাপ্ত হও। অর্থাৎ, সালাত আদায় কর আমার জন্য এবং যাকাত দাও দরিদ্রদেরকে। আল্লাহ এখানে আপন হকের পরই দরিদ্রদের হকের উল্লেখ করেছেন।
কথিত আছে, দরিদ্ররা হলো, ধনীদের চিকিৎসক, তাদের ধোপা, প্রতিনিধি, প্রহরী এবং তাদের জন্য সুপারিশকারী। ধনীদের চিকিৎসক এভাবে যে, যখন ধনীরা অসুস্থ হয় তখন দরিদ্রদেরকে দান করার দ্বারা তারা সুস্থতা লাভ করে। ধোপা এভাবে যে, ধনীরা দরিদ্রকে দান করলে সে তার জন্য দোয়া করে, ফলে ধনীরা গুনাহ মুক্ত হয় এবং তাদের সম্পদও পাক হয়ে যায়। প্রতিনিধি এভাবে যে, ধনীরা যখন তার মৃত পিতা-মাতা বা নিকটাত্মীয়ের জন্য দরিদ্রদেরকে দান করে তখন মৃত ব্যক্তি কবরে বসে তা প্রাপ্ত হয়। যেন দরিদ্র ব্যক্তি তার প্রতিনিধি হয়ে কবরে তা পৌঁছে দেয়। প্রহরী এভাবে যে, দরিদ্র ব্যক্তিকে দান করার ফলে তার দুআর বরকতেই ধনী ব্যক্তির সম্পদের সুরক্ষা হয়。
رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : أَلَا أُخْبِرُكُمْ عَنْ مُلُوكِ الْجَنَّةِ فَقَالُوا : نَعَمْ. قَالَ : هُمُ الضُّعَفَاءُ الْمَظْلُومُونَ الَّذِينَ لَا يُزَوَّجُونَ الْمُتَنَعَمَاتِ وَلَا تُفْتَحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السُّدَدِ، يَمُوتُ أَحَدُهُمْ وَحَاجَتُهُ تَتَلَجْلَجُ فِي صَدْرِهِ، وَلَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لَأَبَرَّهُ.
রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত। তিনি ইরশাদ করেন, আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতের বাদশাহদের সম্পর্কে বলবো না? তারা বলল, বলুন। তিনি বললেন, জান্নাতের বাদশাহ হলো, ওই সমস্ত দুর্বল মজলুম ব্যক্তি, যারা উপভোগ্য রমণীদের বিবাহ করতে পারে না, যাদের প্রায়োজন পুরণের দরজাসমূহ উন্মুক্ত হয় না। প্রয়োজন পুরণের দুশ্চিন্তা নিয়েই তারা মৃত্যুবরণ করে। এরা যদি আল্লাহর উপর শপথ করে, তবে তিনি তা পূরণ করেন।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا : مَلْعُونَ مَنْ أَكْرَمَ بِالْغِنَى وَأَهَانَ بِالْفَقْرِ.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. বর্ণনা করেন, ঐ ব্যক্তি অভিশপ্ত যে ধনাট্যতার কারণে কাউকে সম্মান করছে, আর দরিদ্রকে অসম্মান করেছে।
টিকাঃ
৫০৬. সূরা নুর: আয়াত-৫৬
৫০৭. সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-৪৩৩৩; [হাদীসটির প্রথম অংশ মুনকার; তবে এর কাছাকাছি অর্থে সহীহ বুখারী (৬২৮১), সহীহ মুসলিম (২৮৫২), মুস্তাদরাকে হাকেম (৭৯৩২), সহীহ ইবনে হিব্বান (৫৬৭৯), সুনানে তিরমিযী (২৬০৫) তে সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে। যার সারবাণী হলো: রাসূলুল্লাহ বলেছেন- 'আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতীদের সম্পর্কে বলবো? তারা হলো সেসব লোক, যারা দুর্বল, যাদেরকে লোকেরা দুর্বল মনে করে। এমনকি তাদের জন্যে কারো ঘরের দরজাও খোলা হয় না। অথচ তারা আল্লাহর নামে কোনো কসম করে ফেললে আল্লাহ পাক নিজেই তার বোঝা থেকে তাকে মুক্ত করেন। '...