📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দরিদ্রদের প্রতি ভালোবাসা ও তাদের সাহচর্য

📄 দরিদ্রদের প্রতি ভালোবাসা ও তাদের সাহচর্য


ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, মুসলমানের উচিত দরিদ্রতা ও দরিদ্রদেরকে ভালোবাসা, যদিও সে ধনী হয়। কারণ, দরিদ্রদেরকে ভালোবাসা প্রকারান্তরে রাসূল ﷺ-কেই ভালোবাসা। আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং তার রাসূলকে দরিদ্রদেরকে ভালোবাসতে এবং তাদের নৈকট্য অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। কুরআনে এসেছে- وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا। অর্থ: তুমি নিজেকে ধৈর্যের সঙ্গে তাদের সাথে রাখবে, যারা সকাল সন্ধ্যা ডাকে তাদের রবকে, তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এবং পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য লাভের জন্য তুমি তাদের থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে রেখ না। তুমি তার অনুগত্য কর না, যার কলবকে আমি আমার যিকির থেকে অমনোযোগী করে দিয়েছি এবং যে তার খেয়াল খুশির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

এ আয়াত নাযিলের প্রেক্ষাপট হলো, একদা উয়াইন বিন হাসান রাসূল ﷺ-এর দরবারে উপস্থিত হয়। সে রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে হযরত সালমান ফারসী, হযরত সুহাইব বিন সিনান রূমী, হযরত বেলাল হাবশী রাযি. ও অন্যান্য কয়েকজন দরিদ্র সাহাবী দেখতে পায়, যাদের দেহ ছিল ঘর্মাক্ত, পরনে ছিল পুরোনো কাপড়। উয়াইনা তখন বলল, আমাদের তো বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। যখন আমরা আপনার নিকট আসি, তখন এদেরকে বের করে দিবেন। কারণ, এদের দেহের গন্ধ আমাদেরকে কষ্ট দেয়। অথবা আমাদের জন্য ভিন্ন ও বিশেষ মজলিসের ব্যবস্থা করবেন। তখন আল্লাহ তা'আলা উক্ত আয়াত নাযিল করলেন।

টিকাঃ
৫০৩. সূরা কাহফ: আয়াত-২৮

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কিয়ামতের দিন দরিদ্রদেরকে সুপারিশের অনুমতি দেওয়া হবে

📄 কিয়ামতের দিন দরিদ্রদেরকে সুপারিশের অনুমতি দেওয়া হবে


رَوَى الْحَسَنُ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : يُؤْتَى بِالْعَبْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَعْتَذِرُ اللَّهُ تَعَالَى إِلَيْهِ كَمَا يَعْتَذِرُ الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ فِي الدُّنْيَا. فَيَقُولُ جَلَّ سُلْطَانُهُ وَعَظُمَ شَأْنُهُ : وَعِزَّتِي وَجَلَالِي، مَا زَوَيْتُ الدُّنْيَا عَنْكَ لِهَوَانِكَ عَلَيَّ، وَلَكِنْ لِمَا أَعْدَدْتُ لَكَ مِنَ الْكَرَامَةِ وَالْفَضِيلَةِ اخْرُجْ يَا عَبْدِي إِلَى هَذِهِ الصُّفُوفِ وَانْظُرْ مَنْ أَطْعَمَكَ فِيمَا كَانَ يُرِيدُ بِذلِكَ وَجْهِي. فَخُذْ بِيَدِهِ فَهُৱ لَكَ وَالنَّاسُ يَوْمَئِذٍ قَدْ أَلْجَمَهُمُ الْعَرَقُ. فَيَتَخَلَّلُ الصُّفُوفَ وَيَنْظُرُ مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ بِهِ فَيَأْখُذُ بِيَدِهِ فَيُدْخِلُهُ الْجَنَّةَ .

হযরত হাসান বসরী রহ. রাসূল ﷺ থেকে বর্ণনা করেন। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তা'আলা তার সাথে এমনভাবে কথোপকথন করবেন, যেভাবে দুনিয়াতে কোনো ব্যক্তি কারো কাছে ওজর পেশ করে। মহা-মহিয়ান আল্লাহ বলবেন, আমর ইজ্জত ও জালালতের কসম! তোমাকে অপমান করার জন্য দুনিয়াকে তোমার থেকে দূরে রাখিনি। বরং তোমার জন্য যে সম্মান ও ফযীলত প্রস্তুত করে রেখেছি, তার জন্য দূরে রেখেছি। তুমি এ কাতারগুলোর মধ্যে গিয়ে দেখ, কে তোমাকে অন্ন দান করেছে, কে তোমাকে বস্ত্র দান করেছে। তার হাত ধরে জান্নাতে নিয়ে যাও। সে দিন মানুষের অবস্থা এমন হবে যে, ঘাম তাদের নাক অবধি পৌঁছে যাবে। সে কাতারগুলোতে প্রবেশ করবে। দুনিয়াতে কে তার সঙ্গে এমন আচরণ করেছে, তাকে খুঁজে বের করবে এবং তার হাত ধরে জান্নাতে নিয়ে যাবে।

رَوَى الْحَسَنُ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : أَكْথِرُوا مَعْرِفَةَ الْفُقَرَاءِ وَاتَّخِذُوا عِنْدَهُمُ الْأَيَادِي، فَإِنَّ لَهُمْ دَوْلَةً قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا دَوْلَتُهُمْ? قَالَ : إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ؛ قِيلَ لَهُمُ انْظُرُوا مَنْ أَطْعَمَكُمْ كِسْرَةً، أَوْ سَقَاكُمْ شَرْبَةً، أَوْ كَسَاكُمْ ثَوْبًا، فَخُذُوا بِيَدِهِ ثُمَّ امْضُوا بِهِ إِلَى الْجَنَّةِ.

হযরত হাসান রহ. বলেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, তোমরা অধিকহারে দরিদ্রদেরকে দেখা-শোনা কর এবং তাদের নিকট সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দাও। কারণ, একদিন তাদেরও পালা আসবে। সাহাবীগণ বললেন, তাদের পালা কী? রাসূল ﷺ বলেন, কিয়ামতের দিন তাদেরকে বলা হবে, দেখ! কে তেমাদেরকে পানাহার করিয়েছে। তাদের হাত ধরে তাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাও।

টিকাঃ
৫০৪. তাবাকাতুশ শাফিইয়াহ, ইবনুস সুবকী:৬/৩৬৭; কাশফুল খাফা: ১/৩৭; আল-ফিরদাউস: হাদীস-২৬১; ফায়যুল কাদীর ১/১১৩। আল্লামা সাখাবীসহ অধিকাংশ হাদীসবেত্তাগণের মতে, এই মর্মের হাদীসগুলো বাতিল। তবে কেউ কেউ জয়ীফও বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দরিদ্রদের জন্য পাঁচ ধরনের মর্যাদা

📄 দরিদ্রদের জন্য পাঁচ ধরনের মর্যাদা


ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, দরিদ্রদের জন্য রয়েছে পাঁচ ধরনের মর্যাদা। যথা- ১. সালাত, সদকা ইত্যাদি আমলের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিদান ধনীদের তুলনায় বেশি। ২. কোনো কিছুর ইচ্ছা করে না পেলেও তার জন্য সওয়াব লিখা হয়। ৩. সবার আগে জান্নাতে যাবে। ৪. আখেরাতে তাদের হিসাব কম হবে। ৫. ধনীদের তুলনায় তাদের অনুতাপ কম। ফলে ধনীগণ আখেরাতে প্রবল আকাঙ্ক্ষা করবে, হায়! যদি আমি দরিদ্র হতাম। কিন্তু দরিদ্রদেরকে এ কারণে আক্ষেপ করতে হবে না।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 এক দিরহাম সদকা করা এক লক্ষ দিরহাম হতেও উত্তম

📄 এক দিরহাম সদকা করা এক লক্ষ দিরহাম হতেও উত্তম


عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: دِرْهَمٌ مِنَ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ مِنْ مِائَةِ أَلْفِ قِيلَ ك وَكَيْفَ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ? قَالَ : أَخْرَجَ رَجُلٌ مِنْ عَرْضِ مَالِهِ مِائَةَ أَلْفٍ وَتَصَدَّقَ بِهَا، وَأَخَّرَ رَجُلٌ دِرْهَمًا مِنْ دِرْهَمَيْنِ لَمْ يَمْلِكُ غَيْرَهُمَا طِيبَةً مِنْ نَفْسِهِ، فَصَارَ صَاحِبُ الدَّرْهَمِ أَفْضَلُ مِنْ صَاحِبِ الْمِائَةِ أَلْفِ.

হযরত যায়েদ বিন আসলাম রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, কখনো কখনো এক দিরহামের সদকা এক লক্ষ দিরহামের সদকার তুলনায় উত্তম। জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! তা কীভাবে? রাসূল ﷺ বললেন, এক ব্যক্তির বিশাল ধনভাণ্ডার আছে। সেখান থেকে সে এক লক্ষ দিরহাম দান করল। অপরদিকে এক ব্যক্তির মাত্র দুই দিরহাম সম্পদ আছে। এছাড়া তার কোনো সম্পদ নাই। সেখান থেকে সে সন্তুষ্ট চিত্তে এক দিরহাম দান করল। এই এক দিরহামের দানকারী এক লক্ষ দিরহাম দানকরীর তুলনায় অনেক উত্তম।

عَنِ الْحَسَنِ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالَى عَنِ النَّبِيِّ اللهِ أَنَّهُ سَأَلَهُ بَعْضُ أَصْحَابِهِ إِذَا رَأَيْنَا أَشْيَاءَ نَشْتَهِيهَا لَا نَقْدِرُ عَلَيْهَا فَهَلْ لَنَا فِيهَا أَجْرٌ ? قَالَ : فَبِمَ تُؤْجَرُونَ إِنْ لَمْ تُؤْجَرُوا فِيهَا.

হযরত হাসান রহ. বলেন, রাসূল ﷺ-কে জনৈক সাহাবী জিজ্ঞেস করল, আমরা এমন কিছু দেখি, যা পাওয়ার সাধ জাগে আমাদের। কিন্তু আমরা তাতে সক্ষম হই না। এতে কি আমাদেরকে সওয়াব দেয়া হবে? রাসূল ﷺ বললেন, এতে যদি সওয়াব না দেওয়া হয় তাহলে আর কোথায় সওয়াব দেয়া হবে?

হযরত যাহ্হাক রহ. বলেন, যে বাজারে প্রবেশ করল। সেখানে মনের চাহিদা মতো কোনো কিছু দেখে সওয়াবের আশায় সে ধৈর্যধারণ করল, তবে তার জন্য এ ধৈর্যধারণ আল্লাহর রাস্তায় এক লক্ষ্য দীনার দান করার তুলনায় উত্তম।

টিকাঃ
৫০৫. সহীহ ইবনে হিব্বান ৫/১৪৪; নাসায়ী কুবরা ৫/৫৯; মুস্তাদরাকে হাকেম: ১/৪১৬। হাদীসটিকে হাকেম সহীহ বলেছেন; ইমাম যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px