📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 কিয়ামতের দিন ধনীরা গরীবদের তুলনায় নিম্নস্তরের হবে

📄 কিয়ামতের দিন ধনীরা গরীবদের তুলনায় নিম্নস্তরের হবে


عَنْ أَبِي ذَرِّ الْغِفَارِيَّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : الْمُكْثِرُونَ هُمُ الْأَقَلُّونَ، إِلَّا مَنْ قَالَ بِالْمَالِ هَكَذَا وَهَكَذَا أَرْبَعَ مَرَّاتٍ وَقَلِيلٌ مَا هُمْ.

হযরত আবু যর গিফারী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, কিয়ামতের দিন অধিক সম্পদশালীরা দরিদ্রের তুলনায় নিম্নস্তরের হবে। তবে যারা সম্পদকে এভাবে ব্যয় করেছে। একথাটি তিনি চারবার বললেন। আর এ ধরনের লোকের সংখ্যা খুবই কম হবে।

ইমাম সমরকান্দী রহ. বলেন, এই হাদীসের মর্মার্থ হলো, ধনীরা জান্নাতবাসী হলেও তারা দরিদ্র জান্নাতবাসীর তুলনায় নিম্নস্তরের হবে। আর যদি তারা জাহান্নামী হয়, তাহলে জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে থাকবে। তবে যদি তারা ডানে ও বামে, সামনে ও পিছনে সর্বত্র দান খয়রাত করে, তাহলে তার বিষয়টি ভিন্ন। তারা দরিদ্রদের তুলনায় নিম্নস্তরের হবে না। আর ধনীদের মধ্যে এমন ব্যক্তির সংখ্যা খুব কমই হবে। কারণ, শয়তান তাদের সম্মুখে সম্পদকে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করে।

رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ أَنَّهُ قَالَ : إِنَّ الشَّيْطَانَ يَقُولُ : لَنْ يَنْجُوَ الْغَنِيُّ مِنْ إِحْدَى ثَلَاثٍ : إِإِمَّا أَنْ أُزَيَّنَهُ فِي عَيْنِهِ فَيَمْنَعُهُ مِنْ حَقِّهِ، وَإِمَّا أَنْ أُسَهِّلَ عَلَيْهِ سَبِيلَهُ فَيُنْفِقُهُ فِي غَيْرِ حَقِّهِ، وَإِمَّا أَنْ أُحَبِّبَهُ فِي قَلْبِهِ فَيَكْسِبُهُ بِغَيْرِ حَقِّهِ .

এক হাদীসে আছে, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, শয়তান বলে, তিন পরিস্থিতির কোনো একটি থেকে ধনীর মুক্তি নেই। ১. হয়ত আমি তার জন্য সম্পদকে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করব। ফলে সে সম্পদের হক আদায়ে বাধাগ্রস্ত হবে। ২. নতুবা সম্পদ ব্যয় করাকে আমি এমন তুচ্ছ করে উপস্থাপন করবো যে, সে তা অপাত্রে খরচ করবে। ৩. অথবা তার মধ্যে সম্পদের এমন ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেব যে, সে তা অন্যায়ভাবে উপার্জন করবে।

টিকাঃ
৫০০. সুনানে ইবনে মাজাহ : হাদীস-৪১৩১; মুসনাদে আহমাদ : হাদীস-৯৫২৬। হাফেজ সুয়ুতী, আলবানী ও আরনাউত প্রমুখগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ব্যবসা ও ইবাদত উভয়টা একসাথে করা কষ্টসাধ্য

📄 ব্যবসা ও ইবাদত উভয়টা একসাথে করা কষ্টসাধ্য


عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ : بُعِثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ وَأَنَا تَاجِرٌ فَأَرَدْتُ أَنْ تَجْتَمِعَ لِي التِّجَارَةُ مَعَ الْعِبَادَةِ فَلَمْ تَجْتَمِعَا، فَرَفَضْتُ التِّجَارَةَ وَأَقْبَلْتُ عَلَى الْعِبَادَةِ، فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا أُحِبُّ أَنَّ لِي حَانُوتًا عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ لَا تُخْطِئُنِي فِيهِ صَلَاةٌ فَأَرْبَحُ كُلَّ يَوْمٍ أَرْبَعِينَ دِينَارًا، فَأَتَصَدَّقُ بِهَا فِي سَبِيلِ اللهِ. قِيلَ يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ : لِمَ تَكْرَهُ ذَلِكَ? قَالَ : لِسُوءِ الْحِسَابِ.

হযরত আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ-কে যখন রাসূল হিসেবে প্রেরণ করা হয়, তখন আমি একজন ব্যবসায়ী ছিলাম। আমার ইচ্ছা ছিল ব্যবসা ও ইবাদত একসাথে করবো। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। ফলে আমি ব্যবসা ত্যাগ করে সম্পূর্ণ ইবাদতে আত্মনিয়োগ করি। সে সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! এমন অবস্থাও আমার পক্ষে এখন বরদাশত করা সম্ভব নয় যে, মসজিদের দরজার নিকটে আমার একটি দোকান থাকবে, যা আমাকে এক ওয়াক্ত সালাতেও ব্যাঘাত ঘটাবে না, আমি সেখান থেকে দৈনিক চল্লিশ দীনার লাভ করব এবং আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করব। কেউ বলল, হে আবু দারদা! কেন এমন সুযোগকে আপনি অপছন্দ করেন? তিনি বললেন, হিসাবের ভয়ে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দারিদ্র্য ও ধনাঢ্যতা প্রসঙ্গে রাসূলের হাদীস

📄 দারিদ্র্য ও ধনাঢ্যতা প্রসঙ্গে রাসূলের হাদীস


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ أَنَّهُ قَالَ : اللَّهُمَّ مَنْ أَحَبَّنِي فَارْزُقْهُ الْعَفَافَ وَالْكَفَافَ، وَمَنْ أَبْغَضَنِي فَأَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, হে আল্লাহ! যে আমাকে ভালোবাসে, তাকে এমন সম্পদ দান করুন, যা তার জন্য যথেষ্ট এবং তাকে অন্যের কাছে হাত পাততে না হয়। আর যে আমাকে ঘৃণা করে, তাকে সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিন।

رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: الْفَقْرُ مَشَقَّةٌ فِي الدُّنْيَا، مَسَرَّةٌ فِي الْآخِرَةِ. وَالْغِنَى مَسَرَّةٌ فِي الدُّنْيَا، مَشَقَّةٌ فِي الْآخِرَةِ.

রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দারিদ্র্য হলো, দুনিয়ার কষ্ট আর আখেরাতের আনন্দ। আর ধনাট্যতা হলো, দুনিয়ার আনন্দ আর আখেরাতের কষ্ট।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ لِكُلِّ أَحَدٍ حِرْفَةً، وَحِرْفَتِي اثْنَتَانِ: الْفَقْرُ وَالْجِهَادُ. فَمَنْ أَحَبَّهُمَا فَقَدْ أَحَبَّنِي وَمَنْ أَبْغَضَهُمَا فَقَدْ أَبْغَضَنِي.

হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তিরই একটি পেশা রয়েছে। আমার পেশা হলো, দু'টি। ১. জিহাদ ও ২. দারিদ্র্য। যে এ দুটিকে ভালোবেসেছে, সে যেন আমাকেই ভালোবাসে। আর যে এ দু'টিকে ঘৃণা করেছে, সে যেন আমাকেই ঘৃণা করে。

টিকাঃ
৫০২. আল-ফিরদাউস: ৩/১৯৯; হাদীসটিকে মুনযিরী ও হাইসামী রহ. হাসান বলেছেন। [আত-তারগীব : হাদীস-৪৭৪৩; মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১০/২৪৫]

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দরিদ্রদের প্রতি ভালোবাসা ও তাদের সাহচর্য

📄 দরিদ্রদের প্রতি ভালোবাসা ও তাদের সাহচর্য


ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, মুসলমানের উচিত দরিদ্রতা ও দরিদ্রদেরকে ভালোবাসা, যদিও সে ধনী হয়। কারণ, দরিদ্রদেরকে ভালোবাসা প্রকারান্তরে রাসূল ﷺ-কেই ভালোবাসা। আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং তার রাসূলকে দরিদ্রদেরকে ভালোবাসতে এবং তাদের নৈকট্য অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। কুরআনে এসেছে- وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا। অর্থ: তুমি নিজেকে ধৈর্যের সঙ্গে তাদের সাথে রাখবে, যারা সকাল সন্ধ্যা ডাকে তাদের রবকে, তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এবং পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য লাভের জন্য তুমি তাদের থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে রেখ না। তুমি তার অনুগত্য কর না, যার কলবকে আমি আমার যিকির থেকে অমনোযোগী করে দিয়েছি এবং যে তার খেয়াল খুশির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

এ আয়াত নাযিলের প্রেক্ষাপট হলো, একদা উয়াইন বিন হাসান রাসূল ﷺ-এর দরবারে উপস্থিত হয়। সে রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে হযরত সালমান ফারসী, হযরত সুহাইব বিন সিনান রূমী, হযরত বেলাল হাবশী রাযি. ও অন্যান্য কয়েকজন দরিদ্র সাহাবী দেখতে পায়, যাদের দেহ ছিল ঘর্মাক্ত, পরনে ছিল পুরোনো কাপড়। উয়াইনা তখন বলল, আমাদের তো বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। যখন আমরা আপনার নিকট আসি, তখন এদেরকে বের করে দিবেন। কারণ, এদের দেহের গন্ধ আমাদেরকে কষ্ট দেয়। অথবা আমাদের জন্য ভিন্ন ও বিশেষ মজলিসের ব্যবস্থা করবেন। তখন আল্লাহ তা'আলা উক্ত আয়াত নাযিল করলেন।

টিকাঃ
৫০৩. সূরা কাহফ: আয়াত-২৮

ফন্ট সাইজ
15px
17px