📄 কাফেরের জন্য দুনিয়া সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে পরিপূর্ণ
عَنْ خَيْثَمَةَ، قَالَ : تَقُولُ الْمَلَائِكَةُ يَا رَبُّ عَبْدُكَ الْكَافِرُ بَسَطْتَ لَهُ الدُّنْيَا وَتَزْوِي عَنْهُ الْبَلَاءَ فَيَقُولُ لِلْمَلَائِكَةِ اكْشِفُوا عَنْ عِقَابِهِ. فَإِذَا رَأَوْهُ قَالُوا : يَا رَبُّ لَا يَنْفَعُهُ مَا أَصَابَ مِنَ الدُّنْيَا وَتَقُولُ : يَا رَبُّ عَبْدُكَ الْمُؤْمِنُ تَزْوِي عَنْهُ الدُّنْيَا وَتُعَرِّضُهُ لِلْبَلَاءِ، فَيَقُولُ : اكْشِفُوا عَنْ ثَوَابِهِ. فَإِذَا رَأَوْهُ قَالُوا : يَا رَبُّ مَا يَضُرُّهُ مَا أَصَابَهُ مِنَ الدُّنْيَا.
হযরত খাইসামা হতে বর্ণিত। ফেরেশতাগণ আরজ করল, হে রব! আপনার কাফের বান্দার জন্য দুনিয়াকে প্রশস্ত করে দিয়েছেন এবং বিপদাপদ থেকে মুক্ত রেখেছেন। তখন আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদেরকে বলেন, তাদের জন্য কী শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তা দেখ। শাস্তি দেখে বলল, হে রব! দুনিয়াতে তারা যা পেয়েছে তা কোনো কাজেই আসবে না। ফেরেশতারা বলল, হে রব! আপনার মুমিন বান্দার জন্য দুনিয়া সংকুচিত এবং তাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন? তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন, তাদের জন্য যে প্রতিদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তা দেখে এসো। প্রতিদান দেখে তারা বলে, হে রব! তারা দুনিয়ার যে কষ্ট ভোগ করছে, তা তাদের কোনো ক্ষতিই করতে পারবে না।
📄 কিয়ামতের দিন ধনীরা গরীবদের তুলনায় নিম্নস্তরের হবে
عَنْ أَبِي ذَرِّ الْغِفَارِيَّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : الْمُكْثِرُونَ هُمُ الْأَقَلُّونَ، إِلَّا مَنْ قَالَ بِالْمَالِ هَكَذَا وَهَكَذَا أَرْبَعَ مَرَّاتٍ وَقَلِيلٌ مَا هُمْ.
হযরত আবু যর গিফারী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, কিয়ামতের দিন অধিক সম্পদশালীরা দরিদ্রের তুলনায় নিম্নস্তরের হবে। তবে যারা সম্পদকে এভাবে ব্যয় করেছে। একথাটি তিনি চারবার বললেন। আর এ ধরনের লোকের সংখ্যা খুবই কম হবে।
ইমাম সমরকান্দী রহ. বলেন, এই হাদীসের মর্মার্থ হলো, ধনীরা জান্নাতবাসী হলেও তারা দরিদ্র জান্নাতবাসীর তুলনায় নিম্নস্তরের হবে। আর যদি তারা জাহান্নামী হয়, তাহলে জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে থাকবে। তবে যদি তারা ডানে ও বামে, সামনে ও পিছনে সর্বত্র দান খয়রাত করে, তাহলে তার বিষয়টি ভিন্ন। তারা দরিদ্রদের তুলনায় নিম্নস্তরের হবে না। আর ধনীদের মধ্যে এমন ব্যক্তির সংখ্যা খুব কমই হবে। কারণ, শয়তান তাদের সম্মুখে সম্পদকে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করে।
رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ أَنَّهُ قَالَ : إِنَّ الشَّيْطَانَ يَقُولُ : لَنْ يَنْجُوَ الْغَنِيُّ مِنْ إِحْدَى ثَلَاثٍ : إِإِمَّا أَنْ أُزَيَّنَهُ فِي عَيْنِهِ فَيَمْنَعُهُ مِنْ حَقِّهِ، وَإِمَّا أَنْ أُسَهِّلَ عَلَيْهِ سَبِيلَهُ فَيُنْفِقُهُ فِي غَيْرِ حَقِّهِ، وَإِمَّا أَنْ أُحَبِّبَهُ فِي قَلْبِهِ فَيَكْسِبُهُ بِغَيْرِ حَقِّهِ .
এক হাদীসে আছে, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, শয়তান বলে, তিন পরিস্থিতির কোনো একটি থেকে ধনীর মুক্তি নেই। ১. হয়ত আমি তার জন্য সম্পদকে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করব। ফলে সে সম্পদের হক আদায়ে বাধাগ্রস্ত হবে। ২. নতুবা সম্পদ ব্যয় করাকে আমি এমন তুচ্ছ করে উপস্থাপন করবো যে, সে তা অপাত্রে খরচ করবে। ৩. অথবা তার মধ্যে সম্পদের এমন ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেব যে, সে তা অন্যায়ভাবে উপার্জন করবে।
টিকাঃ
৫০০. সুনানে ইবনে মাজাহ : হাদীস-৪১৩১; মুসনাদে আহমাদ : হাদীস-৯৫২৬। হাফেজ সুয়ুতী, আলবানী ও আরনাউত প্রমুখগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
📄 ব্যবসা ও ইবাদত উভয়টা একসাথে করা কষ্টসাধ্য
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ : بُعِثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ وَأَنَا تَاجِرٌ فَأَرَدْتُ أَنْ تَجْتَمِعَ لِي التِّجَارَةُ مَعَ الْعِبَادَةِ فَلَمْ تَجْتَمِعَا، فَرَفَضْتُ التِّجَارَةَ وَأَقْبَلْتُ عَلَى الْعِبَادَةِ، فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا أُحِبُّ أَنَّ لِي حَانُوتًا عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ لَا تُخْطِئُنِي فِيهِ صَلَاةٌ فَأَرْبَحُ كُلَّ يَوْمٍ أَرْبَعِينَ دِينَارًا، فَأَتَصَدَّقُ بِهَا فِي سَبِيلِ اللهِ. قِيلَ يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ : لِمَ تَكْرَهُ ذَلِكَ? قَالَ : لِسُوءِ الْحِسَابِ.
হযরত আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ-কে যখন রাসূল হিসেবে প্রেরণ করা হয়, তখন আমি একজন ব্যবসায়ী ছিলাম। আমার ইচ্ছা ছিল ব্যবসা ও ইবাদত একসাথে করবো। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। ফলে আমি ব্যবসা ত্যাগ করে সম্পূর্ণ ইবাদতে আত্মনিয়োগ করি। সে সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! এমন অবস্থাও আমার পক্ষে এখন বরদাশত করা সম্ভব নয় যে, মসজিদের দরজার নিকটে আমার একটি দোকান থাকবে, যা আমাকে এক ওয়াক্ত সালাতেও ব্যাঘাত ঘটাবে না, আমি সেখান থেকে দৈনিক চল্লিশ দীনার লাভ করব এবং আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করব। কেউ বলল, হে আবু দারদা! কেন এমন সুযোগকে আপনি অপছন্দ করেন? তিনি বললেন, হিসাবের ভয়ে।
📄 দারিদ্র্য ও ধনাঢ্যতা প্রসঙ্গে রাসূলের হাদীস
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ أَنَّهُ قَالَ : اللَّهُمَّ مَنْ أَحَبَّنِي فَارْزُقْهُ الْعَفَافَ وَالْكَفَافَ، وَمَنْ أَبْغَضَنِي فَأَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, হে আল্লাহ! যে আমাকে ভালোবাসে, তাকে এমন সম্পদ দান করুন, যা তার জন্য যথেষ্ট এবং তাকে অন্যের কাছে হাত পাততে না হয়। আর যে আমাকে ঘৃণা করে, তাকে সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিন।
رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: الْفَقْرُ مَشَقَّةٌ فِي الدُّنْيَا، مَسَرَّةٌ فِي الْآخِرَةِ. وَالْغِنَى مَسَرَّةٌ فِي الدُّنْيَا، مَشَقَّةٌ فِي الْآخِرَةِ.
রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দারিদ্র্য হলো, দুনিয়ার কষ্ট আর আখেরাতের আনন্দ। আর ধনাট্যতা হলো, দুনিয়ার আনন্দ আর আখেরাতের কষ্ট।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ أَنَّهُ قَالَ: إِنَّ لِكُلِّ أَحَدٍ حِرْفَةً، وَحِرْفَتِي اثْنَتَانِ: الْفَقْرُ وَالْجِهَادُ. فَمَنْ أَحَبَّهُمَا فَقَدْ أَحَبَّنِي وَمَنْ أَبْغَضَهُمَا فَقَدْ أَبْغَضَنِي.
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তিরই একটি পেশা রয়েছে। আমার পেশা হলো, দু'টি। ১. জিহাদ ও ২. দারিদ্র্য। যে এ দুটিকে ভালোবেসেছে, সে যেন আমাকেই ভালোবাসে। আর যে এ দু'টিকে ঘৃণা করেছে, সে যেন আমাকেই ঘৃণা করে。
টিকাঃ
৫০২. আল-ফিরদাউস: ৩/১৯৯; হাদীসটিকে মুনযিরী ও হাইসামী রহ. হাসান বলেছেন। [আত-তারগীব : হাদীস-৪৭৪৩; মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১০/২৪৫]