📄 তিন ধরনের বিশেষ প্রতিদান
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ: بَعَثَ الْفُقَرَاءُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَسُولًا، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي رَسُولُ الْفُقَرَاءِ إِلَيْكَ. فَقَالَ : مَرْحَبًا بِكَ وَبِمَنْ جِئْتَ مِنْ عِنْدَهُمْ، جِئْتَ مِنْ عِنْدِ قَوْمٍ أَحَبَّهُمُ اللهُ. قَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ يَقُولُ الْفُقَرَاءُ إِنَّ الْأَغْنِيَاءَ قَدْ ذَهَبُوا بِالْخَيْرِ كُلَّهُ، هُمْ يَحُبُّونَ وَلَا نَقْدِرُ عَلَيْهِ، وَيَتَصَدَّقُونَ وَلَا نَقْدِرُ عَلَيْهِ وَإِذَا مَرِضُوا بَعَثُوا بِفَضْلِ أَمْوَالِهِمْ ذُخْرًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: بَلِّغْ عَنِّي الْفُقَرَاءَ أَنَّ مَنْ صَبَرَ مِنْكُمْ وَاحْتَسَبَ فَلَهُ ثَلَاثُ خِصَالٍ لَيْسَ لِلْأَغْنِيَاءِ مِنْهَا شَيْءٌ : أَمَّا الْخَصْلَةُ الْوَاحِدَةُ أَنَّ فِي الْجَنَّةِ غُرْفَةً مِنْ يَاقُونَةٍ حَمْرَاءَ، يَنْظُرُ إِلَيْهَا أَهْلُ الْجَنَّةِ كَمَا يَنْظُرُ أَهْلُ الدُّنْيَا إِلَى النُّجُومِ، لَا يَدْخُلُهَا إِلَّا نَبِيٌّ فَقِيرٌ أَوْ شَهِيدٌ فَقِيرٌ أَوْ مُؤْمِنٌ فَقِيرٌ. وَالثَّانِيَةُ يَدْخُلُ الْفُقَرَاءُ الْجَنَّةَ قَبْلَ الْأَغْنِيَاءِ بِنِصْفِ يَوْمٍ، وَهُوَ مِقْدَارُ خَمْسِ مِائَةِ عَامٍ، يَتَمَتَّعُونَ فِيهَا حَيْثُ شَاءُوا ، وَيَدْخُلُ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ الْجَنَّةَ بَعْدَ دُخُولِ الْأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ بِأَرْبَعِينَ عَامًا بِسَبَبِ الْمُلْكِ الَّذِي أَعْطَاهُ اللَّهُ. وَالْخَصْلَةُ الثَّالِثَةُ: إِذَا قَالَ الْفَقِيرُ: سُبْحَانَ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَ اللَّهُ أَكْبَرُ مُخْلِصًا، وَيَقُولُ الْغَنِيُّ مِثْلَ ذَلِكَ مُخْلِصًا، لَمْ يَلْحَقِ الْغَنِيُّ الْفَقِيرَ وَإِنْ أَنْفَقَ الْغَنِيُّ مَعَهَا عَشْرَةَ آلَافٍ دِرْهَمَ، وَكَذَلِكَ أَعْمَالُ الْبِرِّ كُلُّهَا. فَرَجَعَ إِلَيْهِمُ الرَّسُولُ فَأَخْبَرَهُمْ بِذَلِكَ ، فَقَالُوا : رَضِينَا يَا رَبُّ رَضِينَا يَا رَبُّ.
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার দরিদ্র সাহাবীরা রাসূল ﷺ-এর নিকট এক ব্যক্তিকে প্রতিনিধি বানিয়ে পাঠাল। সে এসে আরজ করল, হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার নিকট দরিদ্রদের পক্ষ থেকে প্রেরিত প্রতিনিধি। রাসূল ﷺ বললেন, তোমাকে এবং যাদের পক্ষ থেকে তুমি এসেছ, তাদেরকে স্বাগতম। তুমি এমন এক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এসেছ, যাদেরকে আল্লাহ ভালোবাসেন। উক্ত প্রতিনিধি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! দরিদ্ররা মনে করে যে, ধনীরা সমস্ত কল্যাণ নিয়ে যাচ্ছে। তারা হজ্ব করে, অথচ আমরা তা করতে সক্ষম নই। তারা সদকা করে, অথচ আমাদের পক্ষে তা সম্ভব নয়। যখন তারা অসুস্থ হয়, অতিরিক্ত সম্পদকে আখেরাতের সঞ্চয় হিসাবে পাঠিয়ে দেয়। তখন রাসূল ﷺ বললেন, আমার পক্ষ থেকে তুমি দরিদ্রদেরকে এ বার্তা পৌঁছে দাও, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সওয়াবের উদ্দেশ্যে ধৈর্যধারণ করবে, তাকে এমন বৈশিষ্ট্য দান করা হবে, যা ধনীরা পাবে না।
প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো, জান্নাতে লাল ইয়াকূতের একটি গৃহ থাকবে জান্নাতবাসীগণ তার দিকে এমনভাবে তাকাবে, যেভাবে দুনিয়াবাসীরা তারকার দিকে তাকায়। যেখানে শুধু দরিদ্র নবী, দরিদ্র শহীদ এবং দরিদ্র মুমিনগণ প্রবেশ করবে।
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো, দরিদ্রগণ ধনীদের অর্ধেক দিন পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সে অর্ধ দিনের দৈর্ঘ্য হবে পাঁচ শত বছরের সমপরিমাণ। তারা সেখানে ইচ্ছামত উপভোগ করবে। সুলাইমান ইবনে দাউদ আ. অন্যান্য নবীদের জান্নাতে প্রবেশের চল্লিশ বছর পর জান্নাতে প্রবেশ করবেন। এর কারণ হলো, আল্লাহ তাকে দুনিয়াতে রাজত্ব দান করেছিলেন।
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো, দরিদ্ররা যখন ইখলাসের সঙ্গে পাঠ করে, سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَ اللَّهُ أَكْبَرُ আর ধনীরাও তা পাঠ করে এবং সাথে দশ হাজার দিরহাম দান করে, এতেও তারা দরিদ্রদের সমপরিমাণ সওয়াব পায় না। অন্যান্য যাবতীয় ভালো কাজের বেলায় একই কথা।
অতঃপর দরিদ্রদের প্রতিনিধি ফিরে গেল। তাদেরকে এ সংবাদ জানালো। তখন তারা বলল, হে রব, আমরা সন্তুষ্ট! হে রব, আমরা সন্তুষ্ট!!
টিকাঃ
৪৯৮ তাখরীজুল এহইয়া ৪/২৪৮; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৩৫৩; মুসনাদে আহমাদ: হাদীস- ১০৬৫৪; আল্লামা ইরাকী বলেন, 'হাদীসটি হুবহু এরুপ বর্ণনায় আমি পাইনি। 'তবে হাদীসটির কিছু কিছু অংশ সহীহ বর্ণনায় এসেছে।
📄 হযরত আবূ যর রাযি.কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাতটি অসিয়ত
عَنْ أَبِي ذَرِّ الْغِفَارِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ: أَوْصَانِي خَلِيلِي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسَبْعٍ لَمْ أَتْرُكْهُنَّ وَلَا أَتْرُكُهُنَّ : أَوْصَانِي بِحُبُّ الْمَسَاكِينِ وَالدُّنُو مِنْهُمْ، وَأَنْ أَنْظُرَ إِلَى مَنْ هُوَ أَسْفَلَ مِنِّي، وَلَا أَنْظُرَ إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقِي, وَأَنْ أَصِلَ رَحِمِي، وَإِنْ أَدْبَرَتْ وَقَطَعَتْ، وَأَنْ أَسْتَكْثَرَ مِنْ قَوْلِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ، فَإِذَا هِيَ مِنْ كُنُوزِ الْبِرِّ وَأَنْ لَا أَسْأَلَ النَّاسَ شَيْئًا، وَأَنْ لَا أَخَافَ فِي اللهِ لَوْمَةَ لائِمٍ، وَأَنْ أَقُولَ الْحَقَّ كَانَ مُرَّا. وَكَانَ أَبُو ذَرَّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ إِذَا سَقَطَ مِنْ يَدِهِ سَوْطُهُ يَكْرَهُ أَنْ يَقُولَ لِأَحَدٍ نَاوِلْنِيهِ.
হযরত আবু যর গিফারী রাযি. বলেন, আমার বন্ধু রাসূল ﷺ আমাকে সাতটি অসিয়ত করেছেন, যা আমি ত্যাগ করিনি এবং ভবিষ্যতেও ত্যাগ করব না।
১. তিনি আমাকে অসিয়ত করেছেন, মিসকীনদেরকে ভালোবাসতে এবং তাদের নৈকট্য অবম্বলন করতে।
২. যে সম্পদে আমার চেয়ে ছোট তার দিকে দৃষ্টি দিতে। আর যে আমার চেয়ে বড় তার দিকে দৃষ্টি না দিতে।
৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে, যদিও আমাকে ত্যাগ করা হয় এবং আমার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়।
৪. 'লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' (لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ) অধিকহারে পড়তে। কারণ, তা জান্নাতের খাযানার অন্তর্ভুক্ত।
৫. মানুষের কাছে হাত না পাততে।
৬. আল্লাহর ব্যাপারে কারো তিরস্কারের ভয় না করতে।
৭. তিক্ত হলেও সত্য কথা বলতে।
হযরত আবু যর রাযি. এমন ছিলেন যে হাতের চাবুক পড়ে গেলেও কাউকে তুলে দিতে বলতেন না।
টিকাঃ
৪৯৯. আওসাত, তুবারানী ৭/৩৬৪; আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব: ২/৩৮; মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৩/৯৬; হাদীসটির সনদটিকে হাফেজ যাহাবী, মুনযিরী, আলবানী, আরনাউতপ্রমুখ মুহাদ্দিসগণ হাসান বলেছেন।
📄 কাফেরের জন্য দুনিয়া সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে পরিপূর্ণ
عَنْ خَيْثَمَةَ، قَالَ : تَقُولُ الْمَلَائِكَةُ يَا رَبُّ عَبْدُكَ الْكَافِرُ بَسَطْتَ لَهُ الدُّنْيَا وَتَزْوِي عَنْهُ الْبَلَاءَ فَيَقُولُ لِلْمَلَائِكَةِ اكْشِفُوا عَنْ عِقَابِهِ. فَإِذَا رَأَوْهُ قَالُوا : يَا رَبُّ لَا يَنْفَعُهُ مَا أَصَابَ مِنَ الدُّنْيَا وَتَقُولُ : يَا رَبُّ عَبْدُكَ الْمُؤْمِنُ تَزْوِي عَنْهُ الدُّنْيَا وَتُعَرِّضُهُ لِلْبَلَاءِ، فَيَقُولُ : اكْشِفُوا عَنْ ثَوَابِهِ. فَإِذَا رَأَوْهُ قَالُوا : يَا رَبُّ مَا يَضُرُّهُ مَا أَصَابَهُ مِنَ الدُّنْيَا.
হযরত খাইসামা হতে বর্ণিত। ফেরেশতাগণ আরজ করল, হে রব! আপনার কাফের বান্দার জন্য দুনিয়াকে প্রশস্ত করে দিয়েছেন এবং বিপদাপদ থেকে মুক্ত রেখেছেন। তখন আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদেরকে বলেন, তাদের জন্য কী শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তা দেখ। শাস্তি দেখে বলল, হে রব! দুনিয়াতে তারা যা পেয়েছে তা কোনো কাজেই আসবে না। ফেরেশতারা বলল, হে রব! আপনার মুমিন বান্দার জন্য দুনিয়া সংকুচিত এবং তাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন? তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন, তাদের জন্য যে প্রতিদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তা দেখে এসো। প্রতিদান দেখে তারা বলে, হে রব! তারা দুনিয়ার যে কষ্ট ভোগ করছে, তা তাদের কোনো ক্ষতিই করতে পারবে না।
📄 কিয়ামতের দিন ধনীরা গরীবদের তুলনায় নিম্নস্তরের হবে
عَنْ أَبِي ذَرِّ الْغِفَارِيَّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : الْمُكْثِرُونَ هُمُ الْأَقَلُّونَ، إِلَّا مَنْ قَالَ بِالْمَالِ هَكَذَا وَهَكَذَا أَرْبَعَ مَرَّاتٍ وَقَلِيلٌ مَا هُمْ.
হযরত আবু যর গিফারী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, কিয়ামতের দিন অধিক সম্পদশালীরা দরিদ্রের তুলনায় নিম্নস্তরের হবে। তবে যারা সম্পদকে এভাবে ব্যয় করেছে। একথাটি তিনি চারবার বললেন। আর এ ধরনের লোকের সংখ্যা খুবই কম হবে।
ইমাম সমরকান্দী রহ. বলেন, এই হাদীসের মর্মার্থ হলো, ধনীরা জান্নাতবাসী হলেও তারা দরিদ্র জান্নাতবাসীর তুলনায় নিম্নস্তরের হবে। আর যদি তারা জাহান্নামী হয়, তাহলে জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে থাকবে। তবে যদি তারা ডানে ও বামে, সামনে ও পিছনে সর্বত্র দান খয়রাত করে, তাহলে তার বিষয়টি ভিন্ন। তারা দরিদ্রদের তুলনায় নিম্নস্তরের হবে না। আর ধনীদের মধ্যে এমন ব্যক্তির সংখ্যা খুব কমই হবে। কারণ, শয়তান তাদের সম্মুখে সম্পদকে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করে।
رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ أَنَّهُ قَالَ : إِنَّ الشَّيْطَانَ يَقُولُ : لَنْ يَنْجُوَ الْغَنِيُّ مِنْ إِحْدَى ثَلَاثٍ : إِإِمَّا أَنْ أُزَيَّنَهُ فِي عَيْنِهِ فَيَمْنَعُهُ مِنْ حَقِّهِ، وَإِمَّا أَنْ أُسَهِّلَ عَلَيْهِ سَبِيلَهُ فَيُنْفِقُهُ فِي غَيْرِ حَقِّهِ، وَإِمَّا أَنْ أُحَبِّبَهُ فِي قَلْبِهِ فَيَكْسِبُهُ بِغَيْرِ حَقِّهِ .
এক হাদীসে আছে, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, শয়তান বলে, তিন পরিস্থিতির কোনো একটি থেকে ধনীর মুক্তি নেই। ১. হয়ত আমি তার জন্য সম্পদকে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করব। ফলে সে সম্পদের হক আদায়ে বাধাগ্রস্ত হবে। ২. নতুবা সম্পদ ব্যয় করাকে আমি এমন তুচ্ছ করে উপস্থাপন করবো যে, সে তা অপাত্রে খরচ করবে। ৩. অথবা তার মধ্যে সম্পদের এমন ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেব যে, সে তা অন্যায়ভাবে উপার্জন করবে।
টিকাঃ
৫০০. সুনানে ইবনে মাজাহ : হাদীস-৪১৩১; মুসনাদে আহমাদ : হাদীস-৯৫২৬। হাফেজ সুয়ুতী, আলবানী ও আরনাউত প্রমুখগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।