📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 গুনাহের মূল

📄 গুনাহের মূল


কোনো বিদ্বান ব্যক্তি বলেন- أُمَّهَاتُ الْخَطَايَا ثَلَاثَةُ أَشْيَاءَ الْحَسَدُ وَالْحِرْصُ وَالْكِبْرُ অর্থাৎ, গুনাহের মূল তিনটি বিষয়। ১. হিংসা। ২. লোভ। ৩. অহংকার। অহংকারের সূচনা ইবলীস শয়তান থেকে। যখন আদমকে সেজদা করার আদেশ দেওয়া হয়ে ছিল, সে অহংকার বশত তা অস্বীকার করল। ফলে সে অভিশপ্ত হলো। লোভের উৎপত্তি হযরত আদম আ. থেকে। তাকে বলা হলো, জান্নাতের সবকিছু তোমার জন্য হালাল, তবে নির্দিষ্ট বৃক্ষের ফল ব্যতীত। কিন্তু তিনি লোভে আক্রান্ত হয়ে উক্ত বৃক্ষ থেকেই ফল ভক্ষণ করলেন। ফলে তাকে জান্নাত থেকে বের করে দেয়া হলো। হিংসার উৎপত্তি আদম আ.-এর পুত্র কাবিল থেকে। যখন সে হিংসার বশবর্তী হয়ে ভাই হাবীলকে হত্যা করল। ফলে সে কাফের হলো এবং তার ঠিকানা হলো চিরস্থায়ী জাহান্নাম।

টিকাঃ
৪৮৬. আল-ফাওয়ায়েদ, ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ: পৃষ্ঠা-১০৫।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 হযরত আদম আ.-এর অসিয়ত

📄 হযরত আদম আ.-এর অসিয়ত


বর্ণিত আছে, আদম আ. তাঁর পুত্র শীস আ. কে পাঁচটি বিষয়ে অসিয়ত করেছিলেন। আর নির্দেশ দিয়েছিলেন, তুমিও আপন পুত্রদেরকে এ অসিয়তগুলো করবে।
১. তুমি তোমার সন্তানদেরকে বলবে, তারা যেন দুনিয়ার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত না হয়। কারণ, আমি চিরস্থায়ী জান্নাতের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তা পছন্দ করেননি। ফলে আমাকে সেখান থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।
২. তাদেরকে বলবে, তারা যেন স্ত্রীগণের প্রবৃত্তি অনুসারে কাজ না করে। কারণ, আমি আমার স্ত্রীর ইচ্ছানুসারে ঐ বৃক্ষ থেকে ভক্ষণ করেছিলাম। ফলে আমাকে লজ্জিত হতে হয়েছে।
৩. তাদেরকে বলবে, কোনো কর্মে ইচ্ছা করলে, তার পরিণতি নিয়ে ভাব। কারণ, আমি যদি আমার পরিণতি নিয়ে ভাবতাম, তাহলে আমাকে এ দুর্দশা পোহাতে হতো না।
৪. কোনো বিষয়ে তোমাদের মনে খটকা লাগলে তা বর্জন কর। কারণ, যখন আমি উক্ত বৃক্ষ থেকে ভক্ষণ করছিলাম, তখন আমার মনে খটকা লেগেছিলো। আমি তা বর্জন করিনি। ফলে আমাকে অনুতপ্ত হতে হয়েছে।
৫. সব বিষয়ে পরামর্শ কর। কারণ, আমি যদি ফেরেশতাদের সঙ্গে পরামর্শ করতাম, তাহলে আমাকে এ দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 চার হাজার প্রবচন থেকে চারটি নিবার্চন

📄 চার হাজার প্রবচন থেকে চারটি নিবার্চন


হযরত শাকীক বলখী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, চার হাজার প্রবচন ঘেঁটে আমি চার শত প্রবচন নির্বাচন করেছি। সে চারশত প্রবচন থেকে চল্লিশটি বাছাই করেছি। সে চল্লিশটি থেকে চারটি প্রবচন নির্বাচন করেছি। সে চারটি হলো-
১. لَا تَعْقِدْ قَلْبَكَ مَعَ الْمَرْأَةِ অর্থাৎ, পর নারীকে মন দিয়ো না। কেন না, সে আজ তোমার, কাল আরেকজনের। সুতরাং যদি তাকে মান্য কর, তবে সে তোমাকে জাহান্নামে নিয়ে ফেলবে।
২. لَا تَعْقِدْ قَلْبَكَ مَعَ الْمَالِ অর্থাৎ, সম্পদে আসক্ত হয়ো না। কেন না, সম্পদ হলো ধার করা বস্তুর মতো। আজ তোমার কাল আরেকজনের। সুতরাং যা অন্যের, তার পিছনে নিজেকে ক্লান্ত কর না। কারণ, ক্লান্তি হবে তোমার আর ফসল ভোগ করবে অন্য জন। সম্পদের প্রতি আসক্ত হলে তা তোমাকে আল্লাহর হক আদায়ে বাধা দেবে এবং তোমার ভিতরে দারিদ্র্যের ভয় জাগাবে। আর তুমি শয়তানের দাসে পরিণত হবে।
৩. رُدَّ مَا حَاكَ فِي صَدْرِكَ অর্থাৎ, যে বিষয়ে তোমার অন্তরে খটকা দেখা দেয়, তা পরিত্যাগ কর। কারণ, মুমিনের অন্তর সাক্ষীতুল্য। সংশয় দেখা দিলে খটকা সৃষ্টি হয় এবং হালাল থেকে পালায়ন করে আর হালাল দ্বারা প্রশান্তি লাভ করে।
৪. لَا تَعْمَلْ شَيْئًا حَتَّى تَحْكُمَ الْإِجَابَةُ অর্থাৎ, পরিণামের বিষয়ে লক্ষ্য না রেখে কোনো কাজ কর না।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের রেওয়ায়াত

📄 হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের রেওয়ায়াত


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنْ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ سَبِيلِ، وَعُدَّ نَفْسَكَ مِنْ أَهْلِ الْقُبُورِ

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, দুনিয়াতে এমনভাবে বসবাস কর যেমন কোনো অপরিচিত আগন্তুক অথবা পথচারী বসবাস করে। আর নিজেকে কবরবাসীদের একজন গণ্য কর। হযরত মুজাহিদ বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. আমাকে বলেছেন- إِذَا أَصْبَحْتَ فَلَا تُحَدِّثْ نَفْسَكَ بِالْمَسَاءِ، وَإِذَا أَمْسَيْتَ فَلَا تُحَدِّثْ نَفْسَكَ بِالصَّبَاحِ، وَخُذْ مِنْ حَيَاتِكَ قَبْلَ مَوْتِكَ، وَمِنْ صِحَّتِكَ قَبْلَ سَقَمِكَ، فَإِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا اسْمُكَ غَدًا. সকাল হলে সন্ধ্যার আশা কর না। আর সন্ধ্যা হলে সকালের আশা কর না। মৃত্যুর পূর্বের জীবন দ্বারা উপকৃত হও এবং অসুস্থতার পূর্বে সুস্থতা দ্বারা উপকৃত হও। কারণ, তোমার জানা নেই আগামীকাল তোমাকে কী নামে ডাকা হবে।

টিকাঃ
৪৮৭. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৪১৬; সুননে তিরমিযী: হাদীস-২৩৩৩।

ফন্ট সাইজ
15px
17px