📄 মানুষের অশেষ আকাঙ্ক্ষা
عَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ : قُلْتُ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا : يَا أُمَّاهُ مَا أَكْثَرَ مَا كَانَ يَقُولُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا دَخَلَ الْبَيْتَ? قَالَتْ أَكْثَرُ مَا سَمِعْتُهُ يَقُولُ إِذَا دَخَلَ الْبَيْتَ : لَوْ أَنَّ لِابْنِ آدَمَ وَادِيَيْنِ مِنْ ذَهَبٍ لَتَمَنَّى إِلَيْهِمَا ثَالِثًا، وَلَا يَمْلَأُ جَوْفَ ابْنِ آدَمَ إِلَّا التُّرَابُ، وَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَى مَنْ تَابَ وَإِنَّمَا جَعَلَ اللهُ تَعَالَى هُذَا الْمَالَ لِيُقَامَ بِهِ الصَّلَاةُ وَيُؤْتَى بِهِ الزَّكَاةُ.
হযরত মাসরুক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা রাযি.কে বললাম, হে উম্মুল মুমিনিন! রাসূল ﷺ অধিকাংশ সময় ঘরে প্রবেশের সময় কী বলতেন? তিনি বললেন, অধিকাংশ সময় শুনতে পেতাম, তিনি ঘরে প্রবেশের সময় বলতেন, কোনো আদম সন্তানের যদি দুটি স্বর্ণের উপত্যকা থাকে, তবে সে এর সঙ্গে তৃতীয় আরেকটির আকাঙ্ক্ষা করতে থাকবে। কেবল মাটিই আদম সন্তানের উদর পূর্ণ করতে পারে। যে ব্যক্তি তাওবা করে, আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন। আল্লাহ তা'আলা এই সম্পদরাজি সৃষ্টি করেছেন, যাতে এর মাধ্যমে সালাত কায়েম করা হয় এবং যাকাত আদায় করা হয়।
টিকাঃ
৪৮৩. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৪৩৬; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১০৪৯।
📄 লোভ ও দীর্ঘ আশার পরিণতি
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : يَهْرَمُ مِنَ ابْنِ آدَمَ كُلُّ شَيْءٍ إِلَّا اثْنَتَانِ : الْحِرْصُ وَالْأَمَلُ .
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, আদম সন্তানের সব কিছুই বৃদ্ধ হয়। তবে দুটি জিনিস বৃদ্ধ হয় না। যথা- ১. লোভ। ২. দীর্ঘ আশা।
عَنْ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّهُ قَالَ : أَخْوَفُ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ اثْنَتَانِ: طُولُ الْأَمَلِ، وَاتَّبَاعُ الْهَوَى وَإِنَّ طُولَ الْأَمَلِ يُنْسِي الْآخِرَةَ، وَاتَّبَاعُ الْهَوَى يَصُدُّ عَنِ الْحَقِّ.
আমীরুল মুমিনিন আলী ইবনে আবু তালেব রাযি. বলেন, তোমাদের দুটি বিষয় আমার জন্য সর্বাধিক ভয়ের। ১. দীর্ঘ আশা। ২. প্রবৃত্তির অনুসরণ। দীর্ঘ আশা মানুষকে আখেরাতের কথা ভুলিয়ে দেয়। আর প্রবৃত্তির অনুসরণ সত্যপথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : أَنَا زَعِيمٌ لِثَلَاثَةٍ بِثَلَاثَةٍ لِلْمُكِبّ عَلَى الدُّنْيَا، وَالْحَرِيصِ عَلَيْهَا، وَالشَّحِيحِ بِهَا بِفَقْرٍ لَا غِنِّى بَعْدَهُ، وَشُغْلٍ لَا فَرَاغَ مِنْهُ وَهَمَّ لَا فَرَحَ مَعَهُ .
রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিন ব্যক্তির জন্য আমি তিন ধরনের পরিণতির নিশ্চয়তা দিচ্ছি। ১. যে দুনিয়ার উপর উপড়ে পড়েছে, তার জন্য এমন দারিদ্রতার নিশ্চয়তা দিচ্ছি, যার পরে আর কোনো সচ্ছলতা নেই। ২. যে দুনিয়া লোভী, তার জন্য এমন ব্যস্ততার নিশ্চয়তা দিচ্ছি, যা থেকে তার কোনো মুক্তি নেই। ৩. দুনিয়ার ব্যাপারে কৃপণের জন্য এমন দুশ্চিন্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছি, যার পরে কোনো প্রশান্তি নেই।
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ أَشْرَفَ عَلَى أَهْلِ حِمْصٍ، فَقَالَ : أَلَا تَسْتَحْيُونَ? تَبْنُونَ مَا لَا تَسْكُنُونَ، وَتأْمَلُونَ مَا لَا تُدْرِكُونَ، وَتَجْمَعُونَ مَا لَا تَأْكُلُونَ. إِنَّ الَّذِينَ كَانُوا قَبْلَكُمْ بَنَوْا مَشِيدًا، وَجَمَعُوا كَثِيرًا، وَأَمَّلُوا بَعِيدًا، فَأَصْبَحَتْ مَسَاكِنُهُمْ قُبُورًا، وَآمَالُهُمْ عَنْهُ غُرُورًا وَجَمْعُهُمْ بُورًا.
হযরত আবূ দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি হিমসের অধিবাসীদের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, তোমাদের কি লজ্জা হয় না? তোমরা এমন গৃহ নির্মাণ করছ, যাতে তোমরা বসবাস করবে না। এমন সম্পদ পুঞ্জিভূত করছো, যা তোমরা ভোগ করবে না। তোমাদের পূর্ববর্তীরা মজবুত গৃহ নির্মাণ করেছিল এবং অনেক সম্পদ পুঞ্জিভূত করেছিল দীর্ঘ আশা পোষণ করে ছিল, যা লাভ করা তোমাদের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। কিন্তু আজ তাদের গৃহগুলো কবরে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ আশা তাদের সাথে প্রতারণা করেছে এবং সে অঢেল সঞ্চয় ধ্বংস হয়ে গেছে।
عَنْ عَلَى بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ : إِذَا أَرَدْتَ أَنْ تَلْقَى صَاحِبَكَ فَارْفَعْ قَمِيصَكَ، وَاخْصِفُ نَعْلَكَ، وَاقْصُرْ أَمَلَكَ، وَكُلْ دُونَ الشَّبَع.
হযরত আলী ইবনে আবু তালেব রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. কে বললেন, তুমি যদি তোমার বন্ধু (রাসূল ﷺ)-এর সঙ্গে সাক্ষাতের আশা রাখ, তবে তোমার জামাকে ছোট কর, জুতা মেরামত (করে হলেও পরিধান) কর, তোমার আকাঙ্ক্ষা কে ছোট কর এবং তৃপ্ত হওয়ার আগেই খাবার শেষ কর।
عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيَّ أَنَّهُ قَالَ : رَأَيْتُ عَلَى عُمَرَ قَمِيصًا فِيهِ اثْنَتَا عَشْرَةَ رُقْعَةً، وَهُৱ عَلَى الْمِنْبَرِ يَخْطُبُ.
আবু উসমান হিন্দী বলেন, আমি উমর রাযি. কে মিম্বরে খুতবা দানকালে তার দেহে এমন কাপড় দেখেছি, যাতে বারটি তালি লাগানো ছিল।
وَرُوِيَ عَنْ عَلِيَّ بْنْ أَبِي طَالِبٍ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهُ، أَنَّهُ دَخَلَ السُّوقَ وَعَلَيْهِ ثِيَابٌ غَلِيظَةٌ غَيْرُ مَغْسُولَةٍ. فَقِيلَ : يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ لَوْ لَبِسْتَ أَلْيَنَ مِنْ هُذَا? قَالَ : هُذَا أَخْشَعُ لِلْقَلْبِ وَأَشْبَهُ بِشِعَارِ الصَّالِحِينَ، وَأَحْسَنُ لِلْمُؤْمِنِ أَنْ يُقْتَدَى بِهِ.
বর্ণিত আছে, একবার আলী রাযি. বাজারে গেলেন। তখন তার গায়ে ছিল মোটা ও অধোয়া কাপড়। কেউ তাকে লক্ষ্য করে বলল, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনি যদি এর চেয়ে উত্তম ও নরম কাপড় পরিধান করতেন! তিনি বললেন, এ ধরনের কাপড় অন্তরে ভীতি সৃষ্টির পক্ষে অতি উত্তম, সালেহীনের সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মুমিনের অনুসরণযোগ্য হওয়ার অধিক উপযুক্ত।
টিকাঃ
৪৮৪. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬৪২১; সহীহ মুসলিম: হাদীস-১০৪৭।
৪৮৫. শুআবুল ঈমান: হাদীস-১০৭৩৯; আল-ফেরদাউস, দাইলামী: ১/৫০।
📄 ভালো মানুষ ও মন্দ মানুষ
وَرُوِيَ عَنْ أَبِي ذَرِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ: إِنِّي لَأَعْرَفُ بِالنَّاسِ مِنَ الْبِيطَارِ بِالدَّوَابِّ. أَمَّا خِيَارُهُمْ فَالزَّاهِدُونَ فِي الدُّنْيَا، وَأَمَّا شِرَارُهُمْ فَمَنْ أَخَذَ مِنَ الدُّنْيَا فَوْقَ مَا يَكْفِيهِ.
হযরত আবু যর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মানুষকে চেনার ক্ষেত্রে পশুর জাতিবিশেষজ্ঞের তুলনায় আমি অধিক দক্ষ। মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলো, যাহেদ তথা দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তিরা। এবং তাদের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট হলো, যে দুনিয়া থেকে অপ্রয়োজনীয় অংশ গ্রহণ করে।
📄 গুনাহের মূল
কোনো বিদ্বান ব্যক্তি বলেন- أُمَّهَاتُ الْخَطَايَا ثَلَاثَةُ أَشْيَاءَ الْحَسَدُ وَالْحِرْصُ وَالْكِبْرُ অর্থাৎ, গুনাহের মূল তিনটি বিষয়। ১. হিংসা। ২. লোভ। ৩. অহংকার। অহংকারের সূচনা ইবলীস শয়তান থেকে। যখন আদমকে সেজদা করার আদেশ দেওয়া হয়ে ছিল, সে অহংকার বশত তা অস্বীকার করল। ফলে সে অভিশপ্ত হলো। লোভের উৎপত্তি হযরত আদম আ. থেকে। তাকে বলা হলো, জান্নাতের সবকিছু তোমার জন্য হালাল, তবে নির্দিষ্ট বৃক্ষের ফল ব্যতীত। কিন্তু তিনি লোভে আক্রান্ত হয়ে উক্ত বৃক্ষ থেকেই ফল ভক্ষণ করলেন। ফলে তাকে জান্নাত থেকে বের করে দেয়া হলো। হিংসার উৎপত্তি আদম আ.-এর পুত্র কাবিল থেকে। যখন সে হিংসার বশবর্তী হয়ে ভাই হাবীলকে হত্যা করল। ফলে সে কাফের হলো এবং তার ঠিকানা হলো চিরস্থায়ী জাহান্নাম।
টিকাঃ
৪৮৬. আল-ফাওয়ায়েদ, ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ: পৃষ্ঠা-১০৫।