📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 হযরত আবূ যর গিফারী রাযি.-এর নসীহত

📄 হযরত আবূ যর গিফারী রাযি.-এর নসীহত


عَنْ أَبِي ذَرِّ الْغِفَارِيِّ، رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، أَنَّهُ قَامَ عِنْدَ الْكَعْبَةِ فَقَالَ: أَلَّا مَنْ عَرَفَنِي فَقَدْ عَرَفَنِي، وَمَنْ لَمْ يَعْرِفْنِي فَأَنَا جُنْدُبُ بْنُ جِنَادَةَ الْغِفَارِيُّ أَبُو ذَرِّ، هَلُمُّوا إِلَى أَخٍ نَاصِحٍ شَفِيقٍ عَلَيْكُمْ. فَاجْتَمَعَ النَّاسُ حَوْلَهُ فَقَالَ : يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَنْ أَرَادَ مِنْكُمْ سَفَرًا مِنْ أَسْفَارِ الدُّنْيَا لَا يَفْعَلُ ذَلِكَ إِلَّا بِزَادٍ، فَكَيْفَ مَنْ يُرِيدُ سَفَرَ الْآخِرَةِ بِلَا زَادٍ. قَالُوا : وَمَا زَادُنَا يَا أَبَا ذَرٍّ? قَالَ : صَلَاةُ رَكْعَتَيْنِ فِي سَوَادِ اللَّيْلِ لِوَحْشَةِ الْقُبُورِ، وَصَوْمٌ فِي حَرٍّ شَدِيدٍ لِيَوْمِ النُّشُورِ، وَصَدَقَةٌ عَلَى الْمَسَاكِينِ لَعَلَّكُمْ تَنْجُونَ مِنْ عَذَابِ يَوْمٍ عَسِيرٍ، وَحَجٌّ لِعَظَائِمِ الْأَمُورِ. وَاجْعَلُوا الدُّنْيَا مَجْلِسَيْنِ: مَجْلِسًا فِي طَلَبِ الدُّنْيَا وَمَجْلِسًا فِي طَلَبِ الْآخِرَةِ. وَالثَّالِثُ يَضُرُّ وَلَا يَنْفَعُ وَاجْعَلُوا الْكَلَامَ كَلِمَتَيْنِ : كَلَمَةٌ نَافِعَةٌ فِي أَمْرِ دُنْيَاكُمْ، وَكَلَمَةً بَاقِيَةً فِي أَمْرِ آخِرَتِكُمْ. وَالثَّالِثُ يَضُرُّ وَلَا يَنْفَعُ. ثُمَّ قَالَ : أَوْهِ. قَتَلَنِي هَمُّ يَوْمٍ لَا أُدْرِكُهُ. قِيلَ : وَمَا ذَاكَ? قَالَ : إِنَّ أَمَلِي قَدْ جَاوَزَ أَجَلِي.

হযরত আবু যর গিফারী রাযি. থেকে বর্ণিত। একবার তিনি কা'বার সম্মুখে দণ্ডায়মান হয়ে বললেন, আমাকে যারা চেন, তারা তো চেনই। যারা চেনে না, তাদের নিকট আমার পরিচয় পেশ করছি। আমি জুন্দুব বিন জুনাদাহ আবূ যর গিফারী। তোমরা একজন কল্যাণকামী ভাই ও সহমর্মী বন্ধুর নিকট এসো। লোকেরা তাকে ঘিরে বসল। তিনি বললেন, হে লোক সকল! তোমাদের কেউ যখন দুনিয়াতে সফরের মনস্থ করে, পাথেয় ব্যতীত সফরে বের হয় না। সুতরাং যে আখেরাতের অনন্ত সফর পাথেয় ছাড়া করতে চায় তার অবস্থা কী হবে? লোকেরা বলল, হে আবু যর! আমাদের পাথেয় কী? তিনি বললেন, কবরের বিভীষিকার জন্য রাতের আঁধারে দু'রাকাত সালাত। কিয়ামতের প্রচণ্ড গরমের দিনে রোযা। শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার দিনের জন্য দরিদ্রদের তরে দান। আর অন্যান্য বড় বড় বিষয়ের জন্য হজ্ব। তোমরা তোমাদের মজলিসকে দুইভাগে ভাগ কর। এক ধরনের মজলিস দুনিয়ার জন্য। আরেক ধরনের মজলিস আখেরাতের জন্য। এ ছাড়া তৃতীয় কোনো মজলিস তোমাদের কেবল অপকার ও ক্ষতিই বৃদ্ধি করবে, উপকারে আসবে না। তোমরা তোমাদের কথাকে দুইভাগে ভাগ করে নাও। এক ধরনের কথা, যা দুনিয়াতে কাজে আসবে। আরেক ধরনের কথা, যা আখেরাতে কাজে আসবে। এ ছাড়া তৃতীয় কোনো কথা তোমাদের কেবল অপকার ও ক্ষতিই বৃদ্ধি করবে, উপকার পৌঁছাবে না। তোমরা তোমাদের সম্পদকে দুইভাগে ভাগ করে নাও। এক ভাগ, যাকে তোমরা পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করবে। অপর ভাগ, যা তোমরা পরকালের জন্য সঞ্চয় করবে। এ ছাড়া তৃতীয় কোনো সম্পদ তোমাদের কেবল অপকার ও ক্ষতিই বৃদ্ধি করবে, উপকারে আসবে না। এরপর তিনি বললেন, আহ্! সে দিনের চিন্তা আমাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, যার নাগাল আমি পাবো না। লোকেরা বললেন, সে দিন কী? তিনি বললেন, আমার দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষা আমার জন্য নির্ধারিত সময়কেও অতিক্রম করেছে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 অধিক বাক্যালাপে অন্তর রূঢ় হয়ে যায়

📄 অধিক বাক্যালাপে অন্তর রূঢ় হয়ে যায়


হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আল্লাহর যিকর ব্যতীত তোমরা অধিক কথা বলো না। কারণ, এতে তোমাদের অন্তর রূঢ় হয়ে যায়। আর রূঢ় অন্তরকে আল্লাহ দূরে ঠেলে দেন, কিন্তু তোমরা তা জান না।

তিনি আরও বলেন, মানুষের গুনাহের দিকে মনিবের মতো দেখো না, বরং নিজের গুনাহ একজন গোলামের মতো দেখো। কারণ, মানুষ দু'ধরনের। ১. কাউকে ক্ষমা করা হবে। ২. কাউকে শাস্তি দেওয়া হবে। সুতরাং ক্ষমা পেলে আল্লাহর প্রশংসা কর। আর শাস্তির উপযুক্ত হলে, তাকে ক্ষমা করে দাও।

তিনি তার জনৈক সঙ্গীকে বললেন, তুমি যখন তোমার কলবের কঠোরতা, দেহের দুর্বলতা অনুভব করবে এবং রিযিকের বঞ্চনা দেখবে, তখন নিশ্চিত জেনে নাও, তুমি অনর্থক কথায় লিপ্ত হয়েছিলে। আল্লাহই ভালো জানেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px