📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 দেহের সর্বোৎকৃষ্ট ও সর্বনিকৃষ্ট অংশ

📄 দেহের সর্বোৎকৃষ্ট ও সর্বনিকৃষ্ট অংশ


বলা হয়, লোকমান হাকীম একজন হাবশী দাস ছিলেন। প্রথম তার হিকমত প্রকাশ পায় এক ঘটনার মধ্য দিয়ে। ঘটনাটি হলো- একবার তার মনিব বলল, হে গোলাম! একটি বকরী জবাই কর এবং সর্বোৎকৃষ্ট দু'টি টুকরা আমার নিকট নিয়ে এসো। লোকমান হাকীম জিহ্বা ও কলব নিয়ে এলেন। এরপর মনিব বলল, আরেকটি বকরী জবাই কর এবং এর সর্বনিকৃষ্ট দু'টি টুকরা আমার নিকট নিয়ে এসো। তিনি আবার বকরীর জিহ্বা ও কলব নিয়ে এলেন। মনিব এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বললেন, দেহের এ দু'টি অংশ যখন ভালো থাকে, তখন দেহে এর চেয়ে ভালো আর কোনো অঙ্গ নেই। আর যখন তা নষ্ট হয়ে যায়, তখন দেহে এর চেয়ে খারাপ আর কোনো অঙ্গ নেই।

عَنِ الْحَسَنِ قَالَ : نَظَرَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ إِلَى شَابٍّ فَقَالَ : يَا شَابُّ إِنْ وُقِيتَ شَرَّ ثَلَاثٍ فَقَدْ وُقِيتَ شَرَّ الشَّبَابِ: إِنْ وُقِيتَ شَرَّ لَقْلَقِكَ يَعْنِي لِسَانَكَ، وَذَبْذَبِكَ يَعْنِي فَرْجَكَ، وَقَبْقَبِكَ يَعْنِي بَطْنَكَ.

হযরত হাসান রহ. থেকে বর্ণিত। হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. জনৈক যুবককে বললেন, হে যুবক! যদি তিন জিনিসের অনিষ্টতা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পার, তবে যৌবনের অনিষ্টতা থেকে তুমি রক্ষা পাবে। যথা- ১. জিহ্বা, ২. লজ্জাস্থান ৩. এবং উদর।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 হযরত মুআয রাযি. কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপদেশ

📄 হযরত মুআয রাযি. কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপদেশ


রূবিয়া আন রাসুলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা আন্নাহু লাম্মা বাআছা মুআযান ইলাল ইয়ামানি, ফাক্বলা: ইয়া নাবীয়্যাল্লাহি আওসিনী, ফাআশারা ইলা লিসানিহি। ইয়ানি আলাইকা বিহিফজিল লিসানি। ফাকাআন্নাহু তাহাওয়ানা বিহি। ফাক্বলা: ইয়া নাবীয়্যাল্লাহি আওসিনী ক্বলা: ছাকিলতকা উম্মুকা। ওয়াহাল ইয়াকুব্বুন্নাসা ফী নারি জাহান্নামা ইল্লা হাসাইদু আলসিনতিহিম।

রাসূল ﷺ মুআয রাযি. কে ইয়ামানে প্রেরণ করার সময় তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে উপদেশ দিন! রাসূল ﷺ তখন তার জিহ্বার দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, এটা হেফাজত কর। মুআয একে তুচ্ছ জ্ঞান করে পুনরায় বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমাকে উপদেশ দিন! তখন রাসূল ﷺ বললেন, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক! মানুষকে তার জিহ্বার কারণেই মুখ থুবড়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হতে হবে।

টিকাঃ
৪৭৯. সুনানে তিরমিযী : হাদীস-২৬১৬; সুনানে ইবনে মাজাহ : হাদীস-৩৯৭৩। হাদীসটিকে ইমাম তিরমিযী হাসান সহীহ বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 বুজুর্গদের উক্তি

📄 বুজুর্গদের উক্তি


হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, যার কথা বেশি, তার ভুল বেশি। যার সম্পদ বেশি, তার গুনাহ বেশি এবং যার আচরণ মন্দ, সে নিজেই শাস্তি দেয়।

হযরত সুফইয়ান সাওরী রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিজেকে কোনো ব্যক্তি তীরের বিদ্ধ করা, আমার নিকট অধিক প্রিয় কথার বিদ্ধ করার চেয়ে। কারণ, তিরের নিশানা অনেক সময় ভুল হয়, কিন্তু জিহ্বার নিশানা কখনো ভুল হয় না।

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ : إِذَا أَصْبَحَ ابْنُ آدَمَ سَأَلَتِ الْأَعْضَاءُ كُلُّهَا اللَّسَانَ، وَقُلْنَ يَا لِسَانُ. تُنْشِدُكَ اللَّهَ أَنْ تَسْتَقِيمَ، فَإِنَّهُ إِنِ اسْتَقَمْتَ اسْتَقَمْنَا وَإِنِ اعْوَجَجْتَ اعْوَجَجْنَا.

হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. বলেন, ব্যক্তি সকালে উপনীত হলে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জিহ্বাকে ডেকে বলে, সত্য-ন্যায়ের পথে থেকো। কারণ, তুমি সত্য-ন্যায়ের পথে থাকলে আমরাও সত্য-ন্যায়ের পথে থাকি। আর তুমি পদচ্যুত হলে আমরাও বাঁকা হয়ে যাই।

টিকাঃ
৪৮০ সুনানে তিরমিযী : হাদীস-২৪০৭; মুসনাদে আহমদ : ১৮/৪০২। শায়েখ আরনাউত সনদটিকে হাসান বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 হযরত আবূ যর গিফারী রাযি.-এর নসীহত

📄 হযরত আবূ যর গিফারী রাযি.-এর নসীহত


عَنْ أَبِي ذَرِّ الْغِفَارِيِّ، رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، أَنَّهُ قَامَ عِنْدَ الْكَعْبَةِ فَقَالَ: أَلَّا مَنْ عَرَفَنِي فَقَدْ عَرَفَنِي، وَمَنْ لَمْ يَعْرِفْنِي فَأَنَا جُنْدُبُ بْنُ جِنَادَةَ الْغِفَارِيُّ أَبُو ذَرِّ، هَلُمُّوا إِلَى أَخٍ نَاصِحٍ شَفِيقٍ عَلَيْكُمْ. فَاجْتَمَعَ النَّاسُ حَوْلَهُ فَقَالَ : يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَنْ أَرَادَ مِنْكُمْ سَفَرًا مِنْ أَسْفَارِ الدُّنْيَا لَا يَفْعَلُ ذَلِكَ إِلَّا بِزَادٍ، فَكَيْفَ مَنْ يُرِيدُ سَفَرَ الْآخِرَةِ بِلَا زَادٍ. قَالُوا : وَمَا زَادُنَا يَا أَبَا ذَرٍّ? قَالَ : صَلَاةُ رَكْعَتَيْنِ فِي سَوَادِ اللَّيْلِ لِوَحْشَةِ الْقُبُورِ، وَصَوْمٌ فِي حَرٍّ شَدِيدٍ لِيَوْمِ النُّشُورِ، وَصَدَقَةٌ عَلَى الْمَسَاكِينِ لَعَلَّكُمْ تَنْجُونَ مِنْ عَذَابِ يَوْمٍ عَسِيرٍ، وَحَجٌّ لِعَظَائِمِ الْأَمُورِ. وَاجْعَلُوا الدُّنْيَا مَجْلِسَيْنِ: مَجْلِسًا فِي طَلَبِ الدُّنْيَا وَمَجْلِسًا فِي طَلَبِ الْآخِرَةِ. وَالثَّالِثُ يَضُرُّ وَلَا يَنْفَعُ وَاجْعَلُوا الْكَلَامَ كَلِمَتَيْنِ : كَلَمَةٌ نَافِعَةٌ فِي أَمْرِ دُنْيَاكُمْ، وَكَلَمَةً بَاقِيَةً فِي أَمْرِ آخِرَتِكُمْ. وَالثَّالِثُ يَضُرُّ وَلَا يَنْفَعُ. ثُمَّ قَالَ : أَوْهِ. قَتَلَنِي هَمُّ يَوْمٍ لَا أُدْرِكُهُ. قِيلَ : وَمَا ذَاكَ? قَالَ : إِنَّ أَمَلِي قَدْ جَاوَزَ أَجَلِي.

হযরত আবু যর গিফারী রাযি. থেকে বর্ণিত। একবার তিনি কা'বার সম্মুখে দণ্ডায়মান হয়ে বললেন, আমাকে যারা চেন, তারা তো চেনই। যারা চেনে না, তাদের নিকট আমার পরিচয় পেশ করছি। আমি জুন্দুব বিন জুনাদাহ আবূ যর গিফারী। তোমরা একজন কল্যাণকামী ভাই ও সহমর্মী বন্ধুর নিকট এসো। লোকেরা তাকে ঘিরে বসল। তিনি বললেন, হে লোক সকল! তোমাদের কেউ যখন দুনিয়াতে সফরের মনস্থ করে, পাথেয় ব্যতীত সফরে বের হয় না। সুতরাং যে আখেরাতের অনন্ত সফর পাথেয় ছাড়া করতে চায় তার অবস্থা কী হবে? লোকেরা বলল, হে আবু যর! আমাদের পাথেয় কী? তিনি বললেন, কবরের বিভীষিকার জন্য রাতের আঁধারে দু'রাকাত সালাত। কিয়ামতের প্রচণ্ড গরমের দিনে রোযা। শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার দিনের জন্য দরিদ্রদের তরে দান। আর অন্যান্য বড় বড় বিষয়ের জন্য হজ্ব। তোমরা তোমাদের মজলিসকে দুইভাগে ভাগ কর। এক ধরনের মজলিস দুনিয়ার জন্য। আরেক ধরনের মজলিস আখেরাতের জন্য। এ ছাড়া তৃতীয় কোনো মজলিস তোমাদের কেবল অপকার ও ক্ষতিই বৃদ্ধি করবে, উপকারে আসবে না। তোমরা তোমাদের কথাকে দুইভাগে ভাগ করে নাও। এক ধরনের কথা, যা দুনিয়াতে কাজে আসবে। আরেক ধরনের কথা, যা আখেরাতে কাজে আসবে। এ ছাড়া তৃতীয় কোনো কথা তোমাদের কেবল অপকার ও ক্ষতিই বৃদ্ধি করবে, উপকার পৌঁছাবে না। তোমরা তোমাদের সম্পদকে দুইভাগে ভাগ করে নাও। এক ভাগ, যাকে তোমরা পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করবে। অপর ভাগ, যা তোমরা পরকালের জন্য সঞ্চয় করবে। এ ছাড়া তৃতীয় কোনো সম্পদ তোমাদের কেবল অপকার ও ক্ষতিই বৃদ্ধি করবে, উপকারে আসবে না। এরপর তিনি বললেন, আহ্! সে দিনের চিন্তা আমাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, যার নাগাল আমি পাবো না। লোকেরা বললেন, সে দিন কী? তিনি বললেন, আমার দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষা আমার জন্য নির্ধারিত সময়কেও অতিক্রম করেছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية