📄 বিখ্যাত চারজন সম্রাটের উক্তি
হযরত আবু বকর বিন আইয়াশ বলেন, চারজন বাদশাহ একই উক্তি করেছেন, যেন তা তৃণীর থেকে ছোড়া তীর।
১. কিসরা বলেছেন, যা বলিনি, তার জন্য আমার কোনো অনুতাপ নেই। বরং যা বলেছি তার জন্যই কেবল আমার অনুতাপ।
২. চীনের বাদশাহ বলেছেন, যে কথা আমি বলিনি, সেটার উপর আমার কর্তৃত্ব রয়েছে। যখন বলেছি, তখন আমার উপর তার কর্তৃত্ব হয়ে গেছে।
৩. রোমের বাদশাহ কায়সার বলেছেন, আমি যা বলেছি, তার তুলনায় যা বলিনি, তাকে প্রতিহত করা অধিক সহজ।
৪. হিন্দুস্তানের বাদশাহ বলেছেন, আমি এমন ব্যক্তির জন্য বিস্মিত হই, যার কথা আলোচনা করলে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর আলোচনা না করলে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।
📄 নফসের মুহাসাবা
হযরত রাবে বিন খায়সাম থেকে বর্ণিত। সকালে উঠেই তিনি খাতা কলম সঙ্গে নিতেন, সারাদিন যা বলতেন, তাতে লিখে রাখতেন এবং সন্ধ্যায় হিসাব নিতেন। ফকীহ আবুল লাইস সমরকন্দী রহ. বলেন, যাহেদগণের আমল এমনই ছিলো। তারা জবানের হেফাজতের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতেন এবং দুনিয়াতেই নিজেদের হিসাব সম্পন্ন করতেন। প্রতিটি মুসলমানের এমন হওয়াই উচিত যে, আখেরাতের হিসাব নেওয়ার আগে দুনিয়াতেই নিজের হিসাব নিবে। কারণ, দুনিয়ার হিসাব আখেরাতের হিসাবের তুলনায় অতি সহজ। আর আখেরাতের লজ্জার তুলনায় দুনিয়াতে জবানের হেফাজত অতি সহজ।
ইবরাহীম তাইমী রহ. থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি রাবে বিন খায়সামের সঙ্গে দীর্ঘ বিশ বছর অতিবাহিত করেছেন, কিন্তু কখনো তার মুখ থেকে দোষণীয় কিছু শ্রবণ করেননি। মূসা বিন সাঈদ বলেন, যখন হুসাইন বিন আলী রাযি.-কে শহীদ করা হয়, তখন রাবে বিন খায়সামের এক শিষ্য বললেন, রাবে যদি কথা বলে, তাহলে আজই বলবেন। অতঃপর তিনি রবির নিকট এসে জানালেন যে, হুাসাইন রাযি.-কে শহীদ করা হয়েছে। রাবে তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করলেন- اللهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ. (হে আল্লাহ, আসমানসমূহ ও জমিনের স্রষ্টা, অনুপস্থিতি ও উপস্থিতির জ্ঞানের অধিকারী, আপনিই আপনার বান্দাগণের মধ্যে ফয়সালা করবেন, যে ব্যাপারে তারা মতবিরোধে লিপ্ত রয়েছে)। তিনি এ আয়াত ছাড়া কিছু বললেন না।
টিকাঃ
৪৭৪. সূরা যুমার: আয়াত-৪৬
📄 মূর্খের পরিচয়
জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি বলেছেন, ছয়টি স্বভাবের মাধ্যমে মূর্খকে চেনা যায়। যথা-
১. তুচ্ছ বিষয়ে রেগে যাওয়া। অর্থাৎ, মানুষ, চতুষ্পদ প্রাণী কিংবা অপ্রিয় কোনো জড় পদার্থের ব্যাপারে রেগে উঠা। এটি মূর্খতার লক্ষণ।
২. অর্থহীন কথা বলা। অতএব, বোধসম্পন্ন ব্যক্তির উচিত নয় এমন কথা বলা, যাতে না দুনিয়াবী উপকার আছে, না পরকালীন উপকার আছে। এটি মূর্খতার লক্ষণ। সুতরাং তার উচিত এমন কথা বলা, যাতে দুনিয়া ও আখিরাতে উপকার রয়েছে।
৩. অপাত্রে দান করা। অর্থাৎ, মূর্খরা এমন ব্যক্তিকে দান করে, যাতে কোনো সওয়াব হয় না। এটি মূর্খতার লক্ষণ।
৪. যার তার কাছে গোপন কথা ফাঁস করা।
৫. যার তার উপর ভরসা করা।
৬. শত্রু মিত্রের পার্থক্য করতে না পারা। অর্থাৎ, ব্যক্তির উচিত তার বন্ধুকে শনাক্ত করতে পারা, যাতে তাকে সঙ্গ দিতে পারে। শত্রুকে শনাক্ত করা, যাতে তাকে পরিহার করতে পারে। শয়তান হলো, মানুষের প্রধান শত্রু। সুতরাং শয়তান যা নির্দেশ করে, তা বর্জন করতে হবে।
📄 হযরত ঈসা আ.-এর বাণী
হযরত ঈসা বিন মারইয়াম আ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে কথায় আল্লাহর যিকির নেই, তা অনর্থক। যে নীরবতায় ফিকির নেই, তা উদাসীনতা এবং যে দৃষ্টিতে শিক্ষাগ্রহণ নেই, তা অর্থহীন। সুতরাং সৌভাগ্যবান ব্যক্তি সে, যার কথায় আল্লাহর যিকির রয়েছে, নীরবতায় ফিকির রয়েছে এবং দৃষ্টিতে শিক্ষাগ্রহণ রয়েছে।
হযরত আওযাঈ রহ. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, মুমিনের কথা স্বল্প, কর্ম অধিক। মুনাফিকের কথা বেশি, কর্ম কম।
رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: خَمْسٌ لَا تَكُونُ فِي الْمُنَافِقِ الْفِقْهُ فِي الدِّينِ، وَالْوَرَعُ بِاللَّسَانِ، وَالتَّبَسُمُ فِي الْوَجْهِ، وَالنُّورُ فِي الْقَلْبِ، وَالْمَوَدَّةُ فِي الْمُسْلِمِينَ.
রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, পাঁচটি বিষয় মুনাফিকের মধ্যে পাওয়া যাবে না। ১. দীনী বিষয়ের গভীর জ্ঞান। ২. যবানের ব্যাপারে সাবধানতা। ৩. চেহারায় উৎফুল্ল। ৪. অন্তরে নূর। ৫. এবং মুসলমানদের প্রতি ভালোবাসা।
হযরত ইয়াসিন বিন আকসাম রহ. বলেন- مَا صَلُحَ مَنْطِقُ رَجُلٍ إِلَّا عُرِفَ ذَلِكَ فِي سَائِرِ عَمَلِهِ، وَلَا فَسَدَ مَنْطِقُ رَجُلٍ إِلَّا عُرِفَ ذَلِكَ فِي سائرِ عَمَلِهِ. যে ব্যক্তির কথা-বার্তা শুদ্ধ হয়ে যায়, তার যাবতীয় কর্মে এর ছাপ পরিলক্ষিত হয়। আর যার কথা অশুদ্ধ ও অনিষ্টকর, তার ছাপও কাজ-কর্মে পরিলক্ষিত হয়। হযরত লোকমান হাকীম থেকে বর্ণিত। একবার তিনি তার পুত্রকে লক্ষ্য করে বললেন- يَا بُنَيَّ مَنْ يَصْحَبُ صَاحِبَ السُّوءِ لَمْ يَسْلَمْ، وَمَنْ يَدْخُلْ مَدْخَلَ السُّوءِ يُتَّهَمْ، وَمَنْ لَا يَمْلِكُ لِسَانَهُ يَنْدَمْ (বৎস! যে অসৎ লোকের সঙ্গ গ্রহণ করে, সে নিরাপদ নয়। যে মন্দস্থানে প্রবেশ করে, সে কলুষতার অভিযোগে দুষ্ট হয়। আর যে জবানকে হেফাজত করে না, সে অনুতপ্ত হয়)।
عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : طُوبَى لِمَنْ مَلَكَ لِسَانَهُ، وَوَسِعَهُ بَيْتُهُ وَبَكَى عَلَى خَطِيئَتِهِ.
রাসূল ﷺ বলেছেন- সৌভাগ্যবান সে ব্যক্তি যে আপন জবানকে নিয়ন্ত্রণ করেছে, নিজগৃহে থাকে এবং নিজের কৃত গুনাহের জন্য ক্রন্দন করে।
ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, আমার পিতা হাসান বসরী রহ. থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, লোকেরা বলতো, প্রজ্ঞাবানের কথা থাকে কলবের আড়ালে। যখন তিনি কিছু বলার ইচ্ছা করেন, তখন কলবের সম্মতি নিয়ে বলেন। কলব অসম্মত হলে বিরত থাকেন। আর মূর্খদের কলব থাকে কথার আড়ালে। ফলে তা অন্তর দিয়ে যাচাই করা সম্ভব হয় না। ফলে মুখে যা আসে তাই বলে।
টিকাঃ
৪৭৫. মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ১০/২৯৯; ফায়জুল কাদীর: ৪/২৮২। আল্লামা হাইসামীর ভাষ্যমতে, হাদীসটি ত্ববারানী বর্ণনা করে সনদটিকে হাসান বলেছেন।