📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 অর্থহীন বাক্যালাপ

📄 অর্থহীন বাক্যালাপ


হযরত ইয়া'লা বলেন, একবার আমরা মুহাম্মাদ বিন সাওকা যাহেদ এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি তখন বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন কথা শোনাব, যা দিয়ে আমি উপকৃত হচ্ছি, আশা করি তোমাদের উপকারে আসবে? তিনি বললেন, আতা ইবনে আবূ রাবাহ আমাদেরকে বলেছেন, ভাতিজা! তোমাদের পূর্ববর্তীগণ অনর্থক কথাকে ঘৃণা করতেন এবং আল্লাহর কালাম ব্যতীত সব কিছুই তারা অনর্থক কথা গণ্য করতেন। হয়তো তারা কিতাবুল্লাহ পাঠ করতেন, সৎকাজের আদেশ দিতেন, অসৎকাজে বাধা প্রদান করতেন কিংবা জীবনের এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন, যা না করে উপায় নেই। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা কি আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণীসমূহকে অস্বীকার কর, যেখানে আল্লাহ বলেছেন- وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِينَ كِرَامًا كَاتِبِينَ (অর্থ: নিশ্চয় তোমাদের উপর নিয়োজিত রয়েছে সংরক্ষণকারীগণ, সম্মানিত লিপিকারগণ)। مَا يَلْফِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ (মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তার নিকট রয়েছে ওঁতপাতা প্রহরী)। যদি তোমাদের আমলনামা প্রকাশ করে দেয়া হয়, তবে কি তোমাদের লজ্জা হবে না? কারণ, সকাল থেকেই তা এমন অর্থহীন কথা দ্বারা পরিপূর্ণ করে রাখা হয়েছে, যা তোমাদের দীন ও দুনিয়ার কোনো কাজেই আসে না।

টিকাঃ
৪৭০. সূরা ইনফিতার: আয়াত-১০-১১
৪৭১. সূরা কা-ফ: আয়াত-১৭-১৮

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ইবাদতের মূল ও ইসলামের সৌন্দর্য

📄 ইবাদতের মূল ও ইসলামের সৌন্দর্য


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَرْبَعٌ لَا تَصِيرُ إِلَّا فِي مُؤْمِنٍ : الصَّمْتُ وَهُوَ أَوَّلُ الْعِبَادَةِ، وَالتَّوَاضُعُ، وَذِكْرُ اللهِ تَعَالَى، وَقِلَّةُ الشَّرَّ.

হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, চারটি এমন বিষয় রয়েছে, যা শুধু মুমিনের মধ্যেই রয়েছে। যথা- ১. নীরবতা, যা ইবাদতের মূল। ২. বিনয়। ৩. আল্লাহর যিকির। ৪. মন্দে স্বল্পতা।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, মানুষের ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো, অনর্থক কথা পরিত্যাগ করা।

হযরত লোকমান হাকিম থেকে বর্ণিত। একবার তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, مَا بَلَغَ بِكَ مَا نَرَى অর্থাৎ, এ উচ্চস্তরে আপনি কিভাবে উপনীত হলেন? তিনি বললেন, ১. صِدْقُ الْحَدِيثِ অর্থাৎ, সত্য কথন। ২. وَأَدَاءُ الْأَمَانَةِ অর্থাৎ, আমানতদারী। ৩. وَتَرْكِي مَا لَا يَعْنِينِي অর্থাৎ, অনর্থক কথা বর্জন।

টিকাঃ
৪৭২. মুস্তাদরাকে হাকেম : হাদীস-৭৮৬৪; মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ১০/২৮৫; ফাইযুল কাদীর : হাদীস- ৯২৫। হাদীসটিকে অনেকেই জাল বলেছেন। [আল-মাওযুয়াত: ৩/১৩৫]।
৪৭৩. সুনানে তিরমিযী : হাদীস-২৩১৭; সুনানে ইবনে মাজাহ : হাদীস-৩৯৭৬। আল্লামা হাইসামী বলেন, হাদীসটির সনদ সহীহ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৮/১৮]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 বিখ্যাত চারজন সম্রাটের উক্তি

📄 বিখ্যাত চারজন সম্রাটের উক্তি


হযরত আবু বকর বিন আইয়াশ বলেন, চারজন বাদশাহ একই উক্তি করেছেন, যেন তা তৃণীর থেকে ছোড়া তীর।
১. কিসরা বলেছেন, যা বলিনি, তার জন্য আমার কোনো অনুতাপ নেই। বরং যা বলেছি তার জন্যই কেবল আমার অনুতাপ।
২. চীনের বাদশাহ বলেছেন, যে কথা আমি বলিনি, সেটার উপর আমার কর্তৃত্ব রয়েছে। যখন বলেছি, তখন আমার উপর তার কর্তৃত্ব হয়ে গেছে।
৩. রোমের বাদশাহ কায়সার বলেছেন, আমি যা বলেছি, তার তুলনায় যা বলিনি, তাকে প্রতিহত করা অধিক সহজ।
৪. হিন্দুস্তানের বাদশাহ বলেছেন, আমি এমন ব্যক্তির জন্য বিস্মিত হই, যার কথা আলোচনা করলে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর আলোচনা না করলে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 নফসের মুহাসাবা

📄 নফসের মুহাসাবা


হযরত রাবে বিন খায়সাম থেকে বর্ণিত। সকালে উঠেই তিনি খাতা কলম সঙ্গে নিতেন, সারাদিন যা বলতেন, তাতে লিখে রাখতেন এবং সন্ধ্যায় হিসাব নিতেন। ফকীহ আবুল লাইস সমরকন্দী রহ. বলেন, যাহেদগণের আমল এমনই ছিলো। তারা জবানের হেফাজতের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতেন এবং দুনিয়াতেই নিজেদের হিসাব সম্পন্ন করতেন। প্রতিটি মুসলমানের এমন হওয়াই উচিত যে, আখেরাতের হিসাব নেওয়ার আগে দুনিয়াতেই নিজের হিসাব নিবে। কারণ, দুনিয়ার হিসাব আখেরাতের হিসাবের তুলনায় অতি সহজ। আর আখেরাতের লজ্জার তুলনায় দুনিয়াতে জবানের হেফাজত অতি সহজ।

ইবরাহীম তাইমী রহ. থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি রাবে বিন খায়সামের সঙ্গে দীর্ঘ বিশ বছর অতিবাহিত করেছেন, কিন্তু কখনো তার মুখ থেকে দোষণীয় কিছু শ্রবণ করেননি। মূসা বিন সাঈদ বলেন, যখন হুসাইন বিন আলী রাযি.-কে শহীদ করা হয়, তখন রাবে বিন খায়সামের এক শিষ্য বললেন, রাবে যদি কথা বলে, তাহলে আজই বলবেন। অতঃপর তিনি রবির নিকট এসে জানালেন যে, হুাসাইন রাযি.-কে শহীদ করা হয়েছে। রাবে তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করলেন- اللهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ. (হে আল্লাহ, আসমানসমূহ ও জমিনের স্রষ্টা, অনুপস্থিতি ও উপস্থিতির জ্ঞানের অধিকারী, আপনিই আপনার বান্দাগণের মধ্যে ফয়সালা করবেন, যে ব্যাপারে তারা মতবিরোধে লিপ্ত রয়েছে)। তিনি এ আয়াত ছাড়া কিছু বললেন না।

টিকাঃ
৪৭৪. সূরা যুমার: আয়াত-৪৬

ফন্ট সাইজ
15px
17px