📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 নীরবতার মাধ্যমে শয়তানের উপর বিজয়ী হওয়া যায়

📄 নীরবতার মাধ্যমে শয়তানের উপর বিজয়ী হওয়া যায়


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوْصِنِي. قَالَ: عَلَيْكَ بِتَقْوَى اللَّهِ فَإِنَّهَا جِمَاعُ كُلَّ خَيْرٍ، وَعَلَيْكَ بِالْجِهَادِ فَإِنَّهُ رَهْبَانِيَّةُ الْمُسْلِمِينَ أَوْ قَالَ: الْمُسْلِمَ، وَعَلَيْكَ بِذِكْرِ اللهِ تَعَالَى وَتِلَاوَةِ الْقُرْآنِ، فَإِنَّهُ نُورٌ لَكَ فِي الْأَرْضِ وَذِكْرٌ لَكَ فِي السَّمَاءِ، وَاخْزُنْ لِسَانَكَ إِلَّا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّكَ بِذَلِكَ تَغْلِبُ الشَّيْطَانَ।

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ-এর দরবারে জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে উপদেশ দান করুন। রাসূল ﷺ ইরশাদ করলেন, তুমি তাকওয়া অবলম্বন কর। কারণ, তা যাবতীয় কল্যাণের আধার। আর জিহাদ কর। কারণ, এটিই হলো, মুসলমানদের বৈরাগ্য। তুমি আল্লাহর যিকির কর এবং কুরআন তিলাওয়াত কর। কারণ, এটা তোমার জন্য জমিনের নূর এবং আসমানে তোমাকে নিয়ে আলোচনার কারণ হবে। কল্যাণ ব্যতীত যাবতীয় বিষয় থেকে তোমার জবানকে হেফাজত কর। কেননা এর মাধ্যমে তুমি শয়তানের উপর বিজয়ী হবে।

ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, তাকওয়ার অর্থ হলো, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন, তা থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং যা করার আদেশ দিয়েছেন, তা পালন করা। বান্দা যখন এরূপ করবে, তার মাঝে যাবতীয় কল্যাণের সমাবেশ ঘটবে। জবানের হেফাজত অর্থ হলো, বললে ভালো কথা বলবে, যেন উপকৃত হওয়া যায়। অথবা চুপ থাকবে, যেন নিরাপদ থাকা যায়। কারণ, নীরবতার মাধ্যমেই নিরাপদ থাকা যায় এবং নীরবতার মাধ্যমেই শয়তানকে পরাভূত করা যায়। অতএব, মুসলমানের কর্তব্য হলো, আপন জবানকে হেফাজত করা, যাতে সে শয়তানের প্রভাব থেকে নিরাপদ থাকে এবং আল্লাহ তার গোপনীয় দোষ-ত্রুটিও ঢেকে রাখেন।

عَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ لَطَمَ عَبْدَهُ كَانَ كَفَّارَتُهُ عِنْقَهُ، وَمَنْ مَلَكَ لِسَانَهُ سَتَرَ اللهُ عَلَيْهِ عَوْرَتَهُ. وَمَنْ كَظَمَ غَيْظَهُ وَقَاهُ اللَّهُ تَعَالَى عَذَابَهُ وَمَنِ اعْتَذَرَ إِلَى رَبِّهِ قَبِلَ اللَّهُ مَعْذِرَتَهُ.

হযরত উমর রাযি. থেকে বর্ণিত রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি তার দাসকে চড় মারে তার কাফফারা হলো, তাকে মুক্ত করে দেওয়া। যে ব্যক্তি তার জবানকে হেফাজত করবে, আল্লাহ তার গোপন বিষয়গুলোকে ঢেকে রাখবেন। যে ক্রোধ সংবরণ করবে আল্লাহ তাকে আযাব থেকে রক্ষা করবেন। যে ব্যক্তি তার রবের দরবারে ওজর পেশ করবে, আল্লাহ তার ওজর কবুল করবেন।

টিকাঃ
৪৬৭. মুসনাদে আবী ইয়ালা: হাদীস-১০০০; আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব: হাদীস-১৩৬৩; মাজমাউয যাওয়ায়েদ: হাদীস-৭১১১। আল্লামা হাইসামীর ভাষ্যমতে, হাদীসটি সহীহ।
৪৬৮. সহীহ মুসলিম: হাদীস-১৬৫৭; সুনানে আবী দাউদ হাদীস-৫১৬৮; তাখরীজুল এহইয়া: ৩/১৩৬। আল্লামা ইরাকী হাদীসটির সনদটিকে হাসান বলেছেন।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 অর্থহীন বাক্যালাপ

📄 অর্থহীন বাক্যালাপ


হযরত ইয়া'লা বলেন, একবার আমরা মুহাম্মাদ বিন সাওকা যাহেদ এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি তখন বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন কথা শোনাব, যা দিয়ে আমি উপকৃত হচ্ছি, আশা করি তোমাদের উপকারে আসবে? তিনি বললেন, আতা ইবনে আবূ রাবাহ আমাদেরকে বলেছেন, ভাতিজা! তোমাদের পূর্ববর্তীগণ অনর্থক কথাকে ঘৃণা করতেন এবং আল্লাহর কালাম ব্যতীত সব কিছুই তারা অনর্থক কথা গণ্য করতেন। হয়তো তারা কিতাবুল্লাহ পাঠ করতেন, সৎকাজের আদেশ দিতেন, অসৎকাজে বাধা প্রদান করতেন কিংবা জীবনের এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন, যা না করে উপায় নেই। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা কি আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণীসমূহকে অস্বীকার কর, যেখানে আল্লাহ বলেছেন- وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِينَ كِرَامًا كَاتِبِينَ (অর্থ: নিশ্চয় তোমাদের উপর নিয়োজিত রয়েছে সংরক্ষণকারীগণ, সম্মানিত লিপিকারগণ)। مَا يَلْফِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ (মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তার নিকট রয়েছে ওঁতপাতা প্রহরী)। যদি তোমাদের আমলনামা প্রকাশ করে দেয়া হয়, তবে কি তোমাদের লজ্জা হবে না? কারণ, সকাল থেকেই তা এমন অর্থহীন কথা দ্বারা পরিপূর্ণ করে রাখা হয়েছে, যা তোমাদের দীন ও দুনিয়ার কোনো কাজেই আসে না।

টিকাঃ
৪৭০. সূরা ইনফিতার: আয়াত-১০-১১
৪৭১. সূরা কা-ফ: আয়াত-১৭-১৮

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ইবাদতের মূল ও ইসলামের সৌন্দর্য

📄 ইবাদতের মূল ও ইসলামের সৌন্দর্য


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَرْبَعٌ لَا تَصِيرُ إِلَّا فِي مُؤْمِنٍ : الصَّمْتُ وَهُوَ أَوَّلُ الْعِبَادَةِ، وَالتَّوَاضُعُ، وَذِكْرُ اللهِ تَعَالَى، وَقِلَّةُ الشَّرَّ.

হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, চারটি এমন বিষয় রয়েছে, যা শুধু মুমিনের মধ্যেই রয়েছে। যথা- ১. নীরবতা, যা ইবাদতের মূল। ২. বিনয়। ৩. আল্লাহর যিকির। ৪. মন্দে স্বল্পতা।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ : مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ.

হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেছেন, মানুষের ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো, অনর্থক কথা পরিত্যাগ করা।

হযরত লোকমান হাকিম থেকে বর্ণিত। একবার তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, مَا بَلَغَ بِكَ مَا نَرَى অর্থাৎ, এ উচ্চস্তরে আপনি কিভাবে উপনীত হলেন? তিনি বললেন, ১. صِدْقُ الْحَدِيثِ অর্থাৎ, সত্য কথন। ২. وَأَدَاءُ الْأَمَانَةِ অর্থাৎ, আমানতদারী। ৩. وَتَرْكِي مَا لَا يَعْنِينِي অর্থাৎ, অনর্থক কথা বর্জন।

টিকাঃ
৪৭২. মুস্তাদরাকে হাকেম : হাদীস-৭৮৬৪; মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ১০/২৮৫; ফাইযুল কাদীর : হাদীস- ৯২৫। হাদীসটিকে অনেকেই জাল বলেছেন। [আল-মাওযুয়াত: ৩/১৩৫]।
৪৭৩. সুনানে তিরমিযী : হাদীস-২৩১৭; সুনানে ইবনে মাজাহ : হাদীস-৩৯৭৬। আল্লামা হাইসামী বলেন, হাদীসটির সনদ সহীহ [মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ৮/১৮]।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 বিখ্যাত চারজন সম্রাটের উক্তি

📄 বিখ্যাত চারজন সম্রাটের উক্তি


হযরত আবু বকর বিন আইয়াশ বলেন, চারজন বাদশাহ একই উক্তি করেছেন, যেন তা তৃণীর থেকে ছোড়া তীর।
১. কিসরা বলেছেন, যা বলিনি, তার জন্য আমার কোনো অনুতাপ নেই। বরং যা বলেছি তার জন্যই কেবল আমার অনুতাপ।
২. চীনের বাদশাহ বলেছেন, যে কথা আমি বলিনি, সেটার উপর আমার কর্তৃত্ব রয়েছে। যখন বলেছি, তখন আমার উপর তার কর্তৃত্ব হয়ে গেছে।
৩. রোমের বাদশাহ কায়সার বলেছেন, আমি যা বলেছি, তার তুলনায় যা বলিনি, তাকে প্রতিহত করা অধিক সহজ।
৪. হিন্দুস্তানের বাদশাহ বলেছেন, আমি এমন ব্যক্তির জন্য বিস্মিত হই, যার কথা আলোচনা করলে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর আলোচনা না করলে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px