📄 মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল আচরণ
রূবিয়া আন রাসুলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা আন্নাহু লাম্মা কুছিরাত রাবা-ঈয়াতুহু ফী ইয়াওমি উহুদিন শাক্কা যালিকা আলা আছহা-বিহি মাশাক্কাতান শাদিদাহ, ফাক্বলু: ইয়া রাসুলাল্লাহ লাও দাওয়াতাল্লাহা তা’আলা আলা হ-উলাইল্লাযিনা ছানাউ বিকা মা নারা। ফাক্বলান নাবিয়্যু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা: ইন্নি লাম উব্আছ লা’আনান ওয়ালা-কিন্নী বুইছতু দা-ইইয়াতান ওয়া রাহমাহ, আল্লাহুম্মাহদি ক্বাওমী ফাইন্নাহুম লা ইয়া’লামুন।
বর্ণিত আছে, উহুদের যুদ্ধে রাসূল ﷺ-এর দাঁত মুবারক শহীদ হলে সাহাবায়ে কেরামের পক্ষে তা সহ্য করা কষ্টকর হয়ে পড়ল। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যারা আপনার সঙ্গে এমন আচরণ করেছে, তাদের জন্য যদি বদদোয়া করতেন! নবী ইরশাদ করলেন, আমি অভিশাপ দেয়ার জন্য প্রেরিত হইনি। বরং আমি প্রেরিত হয়েছি দায়ী ও রহমতরূপে। হে আল্লাহ! আমার কওমকে হেদায়াত করুন, তারা তো বুঝে না। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন-
مَنْ كَفَّ لِسَانَهُ عَنْ أَعْرَاضِ الْمُسْلِمِينَ أَقَالَ اللهُ تَعَالَى عَثْرَتَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ كَفَّ غَضَبَهُ أَقَالَ اللهُ تَعَالَى غَضَبَهُ عَنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
যে ব্যক্তি তার জবানকে মুসলমানদের অসম্মান করা থেকে হেফাজত করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে ক্ষমা করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি তার ক্রোধ সংবরণ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ আপন ক্রোধকে তার থেকে দমিয়ে রাখবেন।
রূবিয়া আন রাসুলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা আন্নাহু ইয়াকুল: ইউনদী মুনা-দিন ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি আয়িনাল্লাযিনা কা-নাত উযুরুহুম আলাল্লাহি আয্যা ওয়াজাল্লা, ফাইয়াক্বুমুল আ-ফুনা আনিন্নাসি, ফাইয়াদখুলুনাল জান্নাহ।
বর্ণিত আছে রাসূল ﷺ বলেছেন, কিয়ামতের দিন ঘোষণা করা হবে, ঐ সমস্ত ব্যক্তিরা কোথায়, যাদের প্রতিদান আল্লাহ তা'আলা নিজ হাতে রেখেছেন? তখন ক্ষমাকারীগণ দাঁড়াবেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করবেন।
আহনাফ বিন কায়েসকে জিজ্ঞাসা করা হলো, মানবতা কী? তিনি বললেন ধন সম্পদের ব্যাপারে বিনয় অবলম্বন করা, প্রতিশোধের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করা এবং খোঁটা দেওয়া ছাড়া দান করা।
টিকাঃ
৪৬২. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৫৯৯; মুসনাদে আহমাদ: ৭/৩৫১। হাদীসটি সহীহ।
৪৬৩. কিতাবুয যুহদ, ইবনুল মুবারক: হাদীস-৭৪৫; জয়ীফুল জামে': হাদীস-৫৮২৪।
৪৬৫. তাফসীরে কুরতুবী ৪/২০৮; তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/৪০৭; হিলইয়াহ ৬/১৮৭। শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে জয়ীফ বলেছেন।
📄 সর্বাধিক শক্তির অধিকারী
عَنْ مُجَاهِدٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنْ رَسُولَ اللهِ ﷺ مَرَّ بِقَوْمٍ يَرْبَعُونَ حَجَرًا، يَعْنِي يَرْفَعُونَ حَجَرًا، وَيَنْظُرُونَ أَيُّهُمْ أَقْوَى فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : مَا هَذَا قَالُوا حَجَرُ الْأَشِدَّاءِ. فَقَالَ: أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِمَا هُوَ أَشَدُّ مِنْهُ? قَالُوا : بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ. قَالَ : الَّذِي يَكُونُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ، فَيَغْلِبُ شَيْطَانَهُ وَشَيْطَانَ صَاحِبِهِ فَيَأْتِيهِ حَتَّى يُكَلِّمَهُ.
মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণিত। একবার রাসূল ﷺ কোনো সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছিলেন। তারা পাথর উত্তোলন করছিল। অর্থাৎ, পাথর উত্তোলন করে দেখছিল, তাদের মধ্যে সর্বাধিক শক্তিশালী কে? রাসূল বললেন, কী হলো, এখানে? তারা বলল, পাথর তুলে শক্তি পরীক্ষা করা হচ্ছে। রাসূল বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়েও শক্তিশালী বিষয়ের কথা বলব না? লোকেরা বলল, অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, যার সাথে তার ভাইদের সাথে বিদ্বেষ রয়েছে, সে তার ও তার ভাইয়ের শয়তানকে পরাভূত করে তার সাথে মিলিত হয় এবং কথা বলে।
ওয়া ফী রওয়াতিন উখরা আন্নাহু মাররা বিক্বাওমিঁই ইয়ারফাউ’নাল হাজারা ফাক্বালা আতা’রিফুনাল সিদ্দাতা বিরফই’ল হিজা-রাতি, আলা উনাব্বিউকুম বিআশাদ্দা মিনকুম? ক্বলু: বালা ইয়া রাসুলাল্লাহ। ক্বলাল্লাযী ইয়ামতারী গাদ্বাবান ছুম্মা ইয়াসবির।
অপর রেওয়ায়েতে আছে, রাসূল ﷺ একদা কোনো এক সম্প্রদায়ের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, যারা পাথর তুলে শক্তির পরীক্ষা নিচ্ছিল। তিনি বললেন, তোমরা পাথর তুলে শক্তির পরীক্ষা করলে? আমি কি তোমাদেরকে এরচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তির কথা বলব না? সকলে বলল, অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল! রাসূল বললেন, এমন ব্যক্তি, যে ক্রোধে পরিপূর্ণ হয়েও ধৈর্যধারণ করে।
রওয়া আতিয়্যাতু আন রাসুলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা আন্নাহু ক্বলা: আল মু’মিনুনা হাইয়িনুনা লাইয়িনুনা কালজামালিল আনীফ, ইন ক্বিদা ইনক্বাদা ওয়া ইন উনীহা আলা ছাখরাতিন ইস্তানা-খা।
হযরত আতিয়া রহ. রাসূল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, মুমিনগণ লাগাম লাগানো উটের ন্যায় ধীর স্বভাবের, নরম প্রকৃতির হয়। চলতে বললে চলে। আর বসিয়ে দেয়া হলে বসে যায়।
টিকাঃ
৪৬৪. সহীহ বুখারী: হাদীস-৬১১৪; সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৬০৯ (সামান্য শাব্দিক তারতম্যে)
৪৬৬. আয-যুহদ, আহমাদ ইবনে হামাল : হাদীস-২২৯৩; হিলইয়াতুল আউলিয়া : হাদীস-৫/১৮০ [শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। সহীহুল জামে' : হাদীস-৬৬৬৯]
📄 জুলুমকারীর উপর বদদোয়া
عَنْ يَحْيَى بْنِ مُعَادٍ أَنَّهُ قَالَ : مَنْ دَعَا عَلَى ظَالِمِهِ فَقَدْ أَحْزَنَ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ، وَسَرَّ اللَّعِينَ إِبْلِيسَ فِي الْكَفَرَةِ وَالشَّيَاطِينِ. وَمَنْ عَفَا عَنْ ظَالِمٍ فَقَدْ أَحْزَنَ اللَّعِينَ فِي الْكَفَرَةِ وَالشَّيَاطِينِ وَسَرَّ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْأَنْبِيَاءِ وَالصَّالِحِينَ صَلَوَاتُ اللَّهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ.
ইয়াহইয়া বিন মুআয রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি তার উপর জুলুমকারীর জন্য বদদোয়া করে সে মুহাম্মাদ ﷺ কে সমস্ত নবীদের মাঝে দুঃখ প্রদান করে এবং কাফের ও শয়তানদের মধ্যে অভিশপ্ত ইবলীসকে অধিক আনন্দিত করে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি জালেমকে ক্ষমা করে দেয়, সে কাফের ও শয়তানদের মাঝে অভিশপ্ত ইবলীসকে সর্বাধিক বেশি দুঃখ দেয় এবং নবী ও সালিহীনের মধ্যে মুহাম্মাদ ﷺ কে সর্বাধিক আনন্দ দান করে।
📄 ত্বরাপ্রবণতা ও ধৈর্যশীলতার প্রতিফল
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, ক্রোধের সময় তোমরা অবশ্যই ধৈর্যধারণ করবে এবং রাগের সময় হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া থেকে বিরত থাকবে। কারণ, হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাঝে তিন ধরনের ক্ষতি রয়েছে। অপরদিকে ধৈর্য অবলম্বনে তিন ধরনের কল্যাণ রয়েছে।