📄 বনী ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ঈসা আ.-এর সম্বোধন
এরপর রাসূল ﷺ বললেন একবার ঈসা আ. বনী ইসরাঈলকে লক্ষ্য করে বলেন, হে বনী ইসরাঈল! মূর্খদেরকে হিকমত ও প্রজ্ঞার কথা বল না। কারণ, এতে প্রজ্ঞার প্রতি জুলুম করা হবে। আর যারা হিকমত ও প্রজ্ঞার যোগ্য ব্যক্তি, তাদেরকে তা থেকে বঞ্চিত কর না। কারণ, এতে প্রজ্ঞার প্রতি জুলুম করা হবে। তোমরা জালেমকে তার জুলুমের বদলা দিয়ো না। কারণ, এতে তোমাদের রবের নিকট তোমাদের ফযীলত নষ্ট হয়ে যাবে।
হে বনী ইসরাঈল! যাবতীয় বিষয় তিন ধরনের।
১. যা সঠিক হওয়াটা সুস্পষ্ট। তোমরা তার অনুসরণ করবে।
২. কিংবা যা ভুল হওয়াটা সুস্পষ্ট। তোমরা তা পরিহার করবে।
৩. অথবা যার কোনো দিক সুস্পষ্ট নয়। অর্থাৎ, তার ভালো মন্দের ব্যাপারে মতভেদ দেখা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তোমরা বিষয়টিকে আল্লাহ ও তার রাসূলের নিকট সোপর্দ করবে।
📄 যুহদের প্রকারভেদ
জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি বলেন, দুনিয়াতে যুহদ চার ধরনের। যথা-
১. التَّقَةُ بِاللَّهِ تَعَالَى فِيمَا وَعَدَ مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا بِأَمْرِ الْآخِرَةِ অর্থাৎ, দুনিয়া ও আখেরাতের বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার প্রতি দৃঢ় আস্থা পোষণ করা।
২. أَنْ يَكُونَ مَدْحُ الْخَلْقِ وَذَمُّهُمْ عِنْدَهُ وَاحِدًا অর্থাৎ, মানুষের প্রশংসা সমালোচনা একই মনে হওয়া।
৩. الإِخْلَاصُ فِي عَمَلِهِ অর্থাৎ, আমলের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ ইখলাস অবলম্বন করা।
৪. أَنْ يَتَجَاوَزَ عَمَّنْ ظَلَمَهُ، وَلَا يَغْضَبَ عَلَى مَا مَلَكَتْ يَمِينُهُ، وَيَكُونَ حَلِيمًا صَبُورًا অর্থাৎ, যে তার প্রতি জুলুম করে তাকে এড়িয়ে যাওয়া। অধীনস্থদের বিষয়ে ক্রোধের বশবর্তী না হওয়া এবং সহনশীল ও ধৈর্যশীল হওয়া।
📄 উপকারী কয়েকটি প্রবাদবচন
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَجُلًا قَالَ لَهُ عَلَّمْنِي كَلِمَاتٍ يَنْفَعُنِي اللَّهُ تَعَالَى بِهِنَّ. قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ : أُوصِيكَ بِكَلِمَاتٍ مَنْ عَمِلَ بِهِنَّ كَانَ ثَوَابُهُ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ الدَّرَجَاتِ الْعُلَى: لَا تَأْكُلْ إِلَّا طَيِّبًا، وَاسْأَلِ اللهَ تَعَالَى رِزْقَ يَوْمِ بِيَوْمٍ، وَعُدَّ نَفْسَكَ مِنَ الْمَوْتَى، وَهَبْ عِرْضَكَ للهِ تَعَالَى فَمَنْ شَتَمَكَ أَوْ أَذَاكَ فَقُلْ : وَهَبْتُ عِرْضِيَ اللَّهِ تَعَالَى. وَإِذَا أَسَأْتَ فَاسْتَغْفِرِ اللَّهَ تَعَالَى.
হযরত আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তাকে বলল, আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন, যার মাধ্যমে আল্লাহ আমার উপকার করবেন। আবু দারদা রাযি. বললেন, আমি তোমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিব যে তার উপর আমল করবে, আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন।
১. সর্বদা পবিত্র খাবার গ্রহণ করবে।
২. প্রতিদিনের রিযিক প্রতিদিন আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে নিবে।
৩. নিজেকে মৃত মনে করবে।
৪. নিজের মর্যাদাকে আল্লাহর তরে লুটে দেবে। কাজেই কেউ তোমাকে গাল-মন্দ করলে বা কষ্ট দিলে, বলবে আমি তো আমার মর্যাদা আল্লাহর জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছি।
৫. মন্দ কাজ করলে, আল্লাহর নিকট ইস্তিগফার করবে।
📄 মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল আচরণ
রূবিয়া আন রাসুলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা আন্নাহু লাম্মা কুছিরাত রাবা-ঈয়াতুহু ফী ইয়াওমি উহুদিন শাক্কা যালিকা আলা আছহা-বিহি মাশাক্কাতান শাদিদাহ, ফাক্বলু: ইয়া রাসুলাল্লাহ লাও দাওয়াতাল্লাহা তা’আলা আলা হ-উলাইল্লাযিনা ছানাউ বিকা মা নারা। ফাক্বলান নাবিয়্যু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা: ইন্নি লাম উব্আছ লা’আনান ওয়ালা-কিন্নী বুইছতু দা-ইইয়াতান ওয়া রাহমাহ, আল্লাহুম্মাহদি ক্বাওমী ফাইন্নাহুম লা ইয়া’লামুন।
বর্ণিত আছে, উহুদের যুদ্ধে রাসূল ﷺ-এর দাঁত মুবারক শহীদ হলে সাহাবায়ে কেরামের পক্ষে তা সহ্য করা কষ্টকর হয়ে পড়ল। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যারা আপনার সঙ্গে এমন আচরণ করেছে, তাদের জন্য যদি বদদোয়া করতেন! নবী ইরশাদ করলেন, আমি অভিশাপ দেয়ার জন্য প্রেরিত হইনি। বরং আমি প্রেরিত হয়েছি দায়ী ও রহমতরূপে। হে আল্লাহ! আমার কওমকে হেদায়াত করুন, তারা তো বুঝে না। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন-
مَنْ كَفَّ لِسَانَهُ عَنْ أَعْرَاضِ الْمُسْلِمِينَ أَقَالَ اللهُ تَعَالَى عَثْرَتَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ كَفَّ غَضَبَهُ أَقَالَ اللهُ تَعَالَى غَضَبَهُ عَنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
যে ব্যক্তি তার জবানকে মুসলমানদের অসম্মান করা থেকে হেফাজত করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে ক্ষমা করে দিবেন। আর যে ব্যক্তি তার ক্রোধ সংবরণ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ আপন ক্রোধকে তার থেকে দমিয়ে রাখবেন।
রূবিয়া আন রাসুলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা আন্নাহু ইয়াকুল: ইউনদী মুনা-দিন ইয়াওমাল ক্বিয়ামাতি আয়িনাল্লাযিনা কা-নাত উযুরুহুম আলাল্লাহি আয্যা ওয়াজাল্লা, ফাইয়াক্বুমুল আ-ফুনা আনিন্নাসি, ফাইয়াদখুলুনাল জান্নাহ।
বর্ণিত আছে রাসূল ﷺ বলেছেন, কিয়ামতের দিন ঘোষণা করা হবে, ঐ সমস্ত ব্যক্তিরা কোথায়, যাদের প্রতিদান আল্লাহ তা'আলা নিজ হাতে রেখেছেন? তখন ক্ষমাকারীগণ দাঁড়াবেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করবেন।
আহনাফ বিন কায়েসকে জিজ্ঞাসা করা হলো, মানবতা কী? তিনি বললেন ধন সম্পদের ব্যাপারে বিনয় অবলম্বন করা, প্রতিশোধের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করা এবং খোঁটা দেওয়া ছাড়া দান করা।
টিকাঃ
৪৬২. সহীহ মুসলিম: হাদীস-২৫৯৯; মুসনাদে আহমাদ: ৭/৩৫১। হাদীসটি সহীহ।
৪৬৩. কিতাবুয যুহদ, ইবনুল মুবারক: হাদীস-৭৪৫; জয়ীফুল জামে': হাদীস-৫৮২৪।
৪৬৫. তাফসীরে কুরতুবী ৪/২০৮; তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/৪০৭; হিলইয়াহ ৬/১৮৭। শায়েখ আলবানী হাদীসটিকে জয়ীফ বলেছেন।