📄 সর্বাধিক মন্দ ব্যক্তি
অতঃপর রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আমি তোমাদেরকে তোমাদের সর্বাধিক মন্দ ব্যক্তি সম্পর্কে বলব? উপস্থিত লোকেরা বলল, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল! সর্বাধিক মন্দ ব্যক্তি হলো সে, যে একাকী খায়, দান করে না এবং কৃতদাসকে প্রহার করে। এরপর তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়েও মন্দ ব্যক্তির সম্পর্কে বলবো? সাহাবীগণ বললেন অবশ্যই বলুন হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন, যে মানুষকে ঘৃণা করে এবং মানুষ যাকে ঘৃণা করে। এরপর বললেন, আমি তোমাদেরকে এর চেয়েও মন্দ ব্যক্তি সম্পর্কে বলব? তারা বলল, জী, বলুন। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি কারো ওযর গ্রহণ করে না এবং ভুল ক্ষমা করে না। রাসূল বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এরচেয়েও মন্দ ব্যক্তি সম্পর্কে বলব? সকলে বললেন হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন যার থেকে ভালো ও কল্যাণকর কিছুর আশা করা হয় না এবং যার মন্দ থেকে নিরাপদ থাকা যায় না।
টিকাঃ
৪৬১. সুনানে আবী দাউদ হাদীস-১৪৮৫; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-১১৮১; ইমাম আবু দাউদ হাদীসটিকে জয়ীফ বলেছেন। তবে আবূ দাউদের হাদীসে বেশ কিছু বাক্য নেই।
📄 বনী ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ঈসা আ.-এর সম্বোধন
এরপর রাসূল ﷺ বললেন একবার ঈসা আ. বনী ইসরাঈলকে লক্ষ্য করে বলেন, হে বনী ইসরাঈল! মূর্খদেরকে হিকমত ও প্রজ্ঞার কথা বল না। কারণ, এতে প্রজ্ঞার প্রতি জুলুম করা হবে। আর যারা হিকমত ও প্রজ্ঞার যোগ্য ব্যক্তি, তাদেরকে তা থেকে বঞ্চিত কর না। কারণ, এতে প্রজ্ঞার প্রতি জুলুম করা হবে। তোমরা জালেমকে তার জুলুমের বদলা দিয়ো না। কারণ, এতে তোমাদের রবের নিকট তোমাদের ফযীলত নষ্ট হয়ে যাবে।
হে বনী ইসরাঈল! যাবতীয় বিষয় তিন ধরনের।
১. যা সঠিক হওয়াটা সুস্পষ্ট। তোমরা তার অনুসরণ করবে।
২. কিংবা যা ভুল হওয়াটা সুস্পষ্ট। তোমরা তা পরিহার করবে।
৩. অথবা যার কোনো দিক সুস্পষ্ট নয়। অর্থাৎ, তার ভালো মন্দের ব্যাপারে মতভেদ দেখা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তোমরা বিষয়টিকে আল্লাহ ও তার রাসূলের নিকট সোপর্দ করবে।
📄 যুহদের প্রকারভেদ
জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি বলেন, দুনিয়াতে যুহদ চার ধরনের। যথা-
১. التَّقَةُ بِاللَّهِ تَعَالَى فِيمَا وَعَدَ مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا بِأَمْرِ الْآخِرَةِ অর্থাৎ, দুনিয়া ও আখেরাতের বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার প্রতি দৃঢ় আস্থা পোষণ করা।
২. أَنْ يَكُونَ مَدْحُ الْخَلْقِ وَذَمُّهُمْ عِنْدَهُ وَاحِدًا অর্থাৎ, মানুষের প্রশংসা সমালোচনা একই মনে হওয়া।
৩. الإِخْلَاصُ فِي عَمَلِهِ অর্থাৎ, আমলের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ ইখলাস অবলম্বন করা।
৪. أَنْ يَتَجَاوَزَ عَمَّنْ ظَلَمَهُ، وَلَا يَغْضَبَ عَلَى مَا مَلَكَتْ يَمِينُهُ، وَيَكُونَ حَلِيمًا صَبُورًا অর্থাৎ, যে তার প্রতি জুলুম করে তাকে এড়িয়ে যাওয়া। অধীনস্থদের বিষয়ে ক্রোধের বশবর্তী না হওয়া এবং সহনশীল ও ধৈর্যশীল হওয়া।
📄 উপকারী কয়েকটি প্রবাদবচন
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، أَنَّ رَجُلًا قَالَ لَهُ عَلَّمْنِي كَلِمَاتٍ يَنْفَعُنِي اللَّهُ تَعَالَى بِهِنَّ. قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ : أُوصِيكَ بِكَلِمَاتٍ مَنْ عَمِلَ بِهِنَّ كَانَ ثَوَابُهُ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ الدَّرَجَاتِ الْعُلَى: لَا تَأْكُلْ إِلَّا طَيِّبًا، وَاسْأَلِ اللهَ تَعَالَى رِزْقَ يَوْمِ بِيَوْمٍ، وَعُدَّ نَفْسَكَ مِنَ الْمَوْتَى، وَهَبْ عِرْضَكَ للهِ تَعَالَى فَمَنْ شَتَمَكَ أَوْ أَذَاكَ فَقُلْ : وَهَبْتُ عِرْضِيَ اللَّهِ تَعَالَى. وَإِذَا أَسَأْتَ فَاسْتَغْفِرِ اللَّهَ تَعَالَى.
হযরত আবু দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তাকে বলল, আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন, যার মাধ্যমে আল্লাহ আমার উপকার করবেন। আবু দারদা রাযি. বললেন, আমি তোমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিব যে তার উপর আমল করবে, আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন।
১. সর্বদা পবিত্র খাবার গ্রহণ করবে।
২. প্রতিদিনের রিযিক প্রতিদিন আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে নিবে।
৩. নিজেকে মৃত মনে করবে।
৪. নিজের মর্যাদাকে আল্লাহর তরে লুটে দেবে। কাজেই কেউ তোমাকে গাল-মন্দ করলে বা কষ্ট দিলে, বলবে আমি তো আমার মর্যাদা আল্লাহর জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছি।
৫. মন্দ কাজ করলে, আল্লাহর নিকট ইস্তিগফার করবে।