📄 মর্যাদা ও মহত্ত্ব
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : لِكُلِّ شَيْءٍ شَرَفٌ، وَإِنَّ أَشْرَفَ الْمَجَالِسِ مَا اسْتُقْبِلَ بِهِ الْقِبْلَةَ. وَإِنَّمَا تُجَالِسُونَ بِالْأَمَانَةِ، وَلَا تُصَلُّوا خَلْفَ النَّائِمِ وَالْمُحْدِثِ، وَاقْتُلُوا الْحَيَّةَ وَالْعَقْرَبَ، وَإِنْ كُنْتُمْ فِي صَلَاتِكُمْ، وَلَا تَسْتُرُوا الْجُدْرَانَ بِالثَّيَابِ. وَمَنْ نَظَرَ فِي كِتَابِ أَخِيهِ بِغَيْرِ إِذْنِهِ فَكَأَنَّمَا يَنْظُرُ فِي النَّارِ، وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَكُونَ أَقْوَى النَّاسِ فَلْيَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِ تَعَالَى، وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَكُونَ أَكْرَمَ النَّاسِ فَلْيَتَّقِ اللهَ تَعَالَى، وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَكُونَ أَغْنَى النَّاسِ فَلْيَكُنْ بِمَا فِي يَدِ اللَّهِ تَعَالَى أَوْثَقَ مِنْهُ بِمَا فِي يَدِهِ.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, প্রত্যেকটি জিনিসের একটি মর্যাদা ও মাহাত্ম্য রয়েছে। আর মজলিসের মর্যাদা ও মাহাত্ম্য হলো কিবলামুখী হওয়া আর তোমরা পারস্পরিক মজলিসে আমানতদারী রক্ষা করবে। কখনো লিপ্ত বা ঘুমন্ত এমন ব্যক্তির পিছনে নামায পড়বে না। আর নামাযে থাকলেও সাপ ও বিচ্ছুকে মারবে। দেয়ালকে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখবে না। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের লেখার দিকে অনুমতি ব্যতীত তাকায়, সে যেন দোযখের আগুনের দিকেই তাকায়। যে ব্যক্তি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক শক্তিশালী হতে চায়, সে যেন আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে। আর যে ব্যক্তি সর্বাধিক সম্মানিত হতে চায়, সে যেন তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যে ব্যক্তি সর্বাধিক ধনী হতে চায়, সে যেন তার হাতে যা রয়েছে সে তুলনায় আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তার প্রতি অধিক নির্ভর করে।
টিকাঃ
৪৫৯. সুনানে আবী দাউদ হাদীস-৪৮৯৬; মুসনাদে আহমাদ: ১৫/৩৯০। শায়েখ শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন。
৪৬০. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৬৯৪; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-১১৮১, মুসনাদে হুমাইদী: হাদীস-৯৭৫। হাদীসের কিছু অংশ সহীহ।
📄 সর্বাধিক মন্দ ব্যক্তি
অতঃপর রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আমি তোমাদেরকে তোমাদের সর্বাধিক মন্দ ব্যক্তি সম্পর্কে বলব? উপস্থিত লোকেরা বলল, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল! সর্বাধিক মন্দ ব্যক্তি হলো সে, যে একাকী খায়, দান করে না এবং কৃতদাসকে প্রহার করে। এরপর তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়েও মন্দ ব্যক্তির সম্পর্কে বলবো? সাহাবীগণ বললেন অবশ্যই বলুন হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন, যে মানুষকে ঘৃণা করে এবং মানুষ যাকে ঘৃণা করে। এরপর বললেন, আমি তোমাদেরকে এর চেয়েও মন্দ ব্যক্তি সম্পর্কে বলব? তারা বলল, জী, বলুন। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি কারো ওযর গ্রহণ করে না এবং ভুল ক্ষমা করে না। রাসূল বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এরচেয়েও মন্দ ব্যক্তি সম্পর্কে বলব? সকলে বললেন হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন যার থেকে ভালো ও কল্যাণকর কিছুর আশা করা হয় না এবং যার মন্দ থেকে নিরাপদ থাকা যায় না।
টিকাঃ
৪৬১. সুনানে আবী দাউদ হাদীস-১৪৮৫; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-১১৮১; ইমাম আবু দাউদ হাদীসটিকে জয়ীফ বলেছেন। তবে আবূ দাউদের হাদীসে বেশ কিছু বাক্য নেই।
📄 বনী ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ঈসা আ.-এর সম্বোধন
এরপর রাসূল ﷺ বললেন একবার ঈসা আ. বনী ইসরাঈলকে লক্ষ্য করে বলেন, হে বনী ইসরাঈল! মূর্খদেরকে হিকমত ও প্রজ্ঞার কথা বল না। কারণ, এতে প্রজ্ঞার প্রতি জুলুম করা হবে। আর যারা হিকমত ও প্রজ্ঞার যোগ্য ব্যক্তি, তাদেরকে তা থেকে বঞ্চিত কর না। কারণ, এতে প্রজ্ঞার প্রতি জুলুম করা হবে। তোমরা জালেমকে তার জুলুমের বদলা দিয়ো না। কারণ, এতে তোমাদের রবের নিকট তোমাদের ফযীলত নষ্ট হয়ে যাবে।
হে বনী ইসরাঈল! যাবতীয় বিষয় তিন ধরনের।
১. যা সঠিক হওয়াটা সুস্পষ্ট। তোমরা তার অনুসরণ করবে।
২. কিংবা যা ভুল হওয়াটা সুস্পষ্ট। তোমরা তা পরিহার করবে।
৩. অথবা যার কোনো দিক সুস্পষ্ট নয়। অর্থাৎ, তার ভালো মন্দের ব্যাপারে মতভেদ দেখা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে তোমরা বিষয়টিকে আল্লাহ ও তার রাসূলের নিকট সোপর্দ করবে।
📄 যুহদের প্রকারভেদ
জনৈক বিদ্বান ব্যক্তি বলেন, দুনিয়াতে যুহদ চার ধরনের। যথা-
১. التَّقَةُ بِاللَّهِ تَعَالَى فِيمَا وَعَدَ مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا بِأَمْرِ الْآخِرَةِ অর্থাৎ, দুনিয়া ও আখেরাতের বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার প্রতি দৃঢ় আস্থা পোষণ করা।
২. أَنْ يَكُونَ مَدْحُ الْخَلْقِ وَذَمُّهُمْ عِنْدَهُ وَاحِدًا অর্থাৎ, মানুষের প্রশংসা সমালোচনা একই মনে হওয়া।
৩. الإِخْلَاصُ فِي عَمَلِهِ অর্থাৎ, আমলের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ ইখলাস অবলম্বন করা।
৪. أَنْ يَتَجَاوَزَ عَمَّنْ ظَلَمَهُ، وَلَا يَغْضَبَ عَلَى مَا مَلَكَتْ يَمِينُهُ، وَيَكُونَ حَلِيمًا صَبُورًا অর্থাৎ, যে তার প্রতি জুলুম করে তাকে এড়িয়ে যাওয়া। অধীনস্থদের বিষয়ে ক্রোধের বশবর্তী না হওয়া এবং সহনশীল ও ধৈর্যশীল হওয়া।