📄 মানুষ যাচাই
হযরত লোকমান হাকীম থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, তিন সময়ে তিন ধরনের লোকের পরিচয় পাওয়া যায়।
১. সহনশীলকে চেনা যায় ক্রোধের সময়।
২. সাহসী চেনা যায় যুদ্ধের সময়।
৩. ভাইকে চেনা যায় অভাবের সময়।
জনৈক তাবেয়ীর ব্যাপারে বর্ণিত আছে, একবার তার সামনেই কেউ তার প্রশংসা করল। তিনি বললেন, হে আল্লাহর বান্দা, আমার প্রশংসা করছ কেন? তুমি কি আমাকে ক্রোধের অবস্থায় যাচাই করেছ এবং তখন আমাকে সহনশীল পেয়েছ? সে বলল, না। তিনি বললেন, তুমি কি আমাকে সফরে যাচাই করেছ এবং তখন আমাকে সদাচারী পেয়েছ? সে বলল, না। তিনি বললেন, তুমি কি আমাকে আমানতদারীতে যাচাই করেছ এবং তখন আমাকে বিশ্বস্ত পেয়েছ? সে বলল, না। তখন তিনি বললেন, ধ্বংস তোমার জন্য। কোনো ব্যক্তিকে এ তিন অবস্থায় যাচাই না করে তার প্রশংসা করা উচিত নয়।
📄 জান্নাতী ব্যক্তির গুণ
তিনি আরো বললেন, জান্নাতীদের তিনটি গুণ, যা কেবল সম্মানিতদের মধ্যেই পাওয়া যায়। যথা- ১. যে তোমার উপর জুলুম করেছে, তাকে ক্ষমা করা। ২. যে তোমাকে বঞ্চিত করেছে, তাকে দান করা। ৩. যে তোমার প্রতি মন্দ আচরণ করেছে, তার প্রতি উত্তম আচরণ করা। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
خُذِ الْعَفْوَ وَأَمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ
অর্থ: ক্ষমাকে গ্রহণ কর, ভালো কাজের নির্দেশ প্রদান কর এবং মূর্খদের থেকে বিরত থাক।
হাদীসে এসেছে, উক্ত আয়াত নাযিল হলে রাসূল ﷺ জিবরাঈল আ. কে এ আয়াতের ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করলেন। জিবরাঈল বলল, আমি সর্বজ্ঞানী আল্লাহর নিকট থেকে জেনে আপনাকে জানাব। কিছুক্ষণ পর জিবরাঈল উপস্থিত হয়ে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহ তা'আলা আপনাকে এমন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের আদেশ করেছেন, যে আপনার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে, এমন ব্যক্তিকে দান করতে বলেছেন, যে আপনাকে বঞ্চিত করে এবং এমন ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিতে বলেছেন, যে আপনার প্রতি জুলুম করে।
টিকাঃ
৪৫৭. সূরা আরাফ: আয়াত-১৯৯
৪৫৮. হাদীসটি ইবনে মারদুইয়াহ, ইবনে আবিদ দুনিয়া ও ইবনে আবী হাতেম বর্ণনা করেছেন। তাফসীরে দূররে মানছুর: ৩/৬২৮; জয়ীফুল জামে': হাদীস-৪০২৬।
📄 মর্যাদা ও মহত্ত্ব
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : لِكُلِّ شَيْءٍ شَرَفٌ، وَإِنَّ أَشْرَفَ الْمَجَالِسِ مَا اسْتُقْبِلَ بِهِ الْقِبْلَةَ. وَإِنَّمَا تُجَالِسُونَ بِالْأَمَانَةِ، وَلَا تُصَلُّوا خَلْفَ النَّائِمِ وَالْمُحْدِثِ، وَاقْتُلُوا الْحَيَّةَ وَالْعَقْرَبَ، وَإِنْ كُنْتُمْ فِي صَلَاتِكُمْ، وَلَا تَسْتُرُوا الْجُدْرَانَ بِالثَّيَابِ. وَمَنْ نَظَرَ فِي كِتَابِ أَخِيهِ بِغَيْرِ إِذْنِهِ فَكَأَنَّمَا يَنْظُرُ فِي النَّارِ، وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَكُونَ أَقْوَى النَّاسِ فَلْيَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِ تَعَالَى، وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَكُونَ أَكْرَمَ النَّاسِ فَلْيَتَّقِ اللهَ تَعَالَى، وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَكُونَ أَغْنَى النَّاسِ فَلْيَكُنْ بِمَا فِي يَدِ اللَّهِ تَعَالَى أَوْثَقَ مِنْهُ بِمَا فِي يَدِهِ.
হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, প্রত্যেকটি জিনিসের একটি মর্যাদা ও মাহাত্ম্য রয়েছে। আর মজলিসের মর্যাদা ও মাহাত্ম্য হলো কিবলামুখী হওয়া আর তোমরা পারস্পরিক মজলিসে আমানতদারী রক্ষা করবে। কখনো লিপ্ত বা ঘুমন্ত এমন ব্যক্তির পিছনে নামায পড়বে না। আর নামাযে থাকলেও সাপ ও বিচ্ছুকে মারবে। দেয়ালকে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখবে না। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের লেখার দিকে অনুমতি ব্যতীত তাকায়, সে যেন দোযখের আগুনের দিকেই তাকায়। যে ব্যক্তি মানুষের মধ্যে সর্বাধিক শক্তিশালী হতে চায়, সে যেন আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে। আর যে ব্যক্তি সর্বাধিক সম্মানিত হতে চায়, সে যেন তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যে ব্যক্তি সর্বাধিক ধনী হতে চায়, সে যেন তার হাতে যা রয়েছে সে তুলনায় আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, তার প্রতি অধিক নির্ভর করে।
টিকাঃ
৪৫৯. সুনানে আবী দাউদ হাদীস-৪৮৯৬; মুসনাদে আহমাদ: ১৫/৩৯০। শায়েখ শুয়াইব আরনাউত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন。
৪৬০. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৬৯৪; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-১১৮১, মুসনাদে হুমাইদী: হাদীস-৯৭৫। হাদীসের কিছু অংশ সহীহ।
📄 সর্বাধিক মন্দ ব্যক্তি
অতঃপর রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, আমি তোমাদেরকে তোমাদের সর্বাধিক মন্দ ব্যক্তি সম্পর্কে বলব? উপস্থিত লোকেরা বলল, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল! সর্বাধিক মন্দ ব্যক্তি হলো সে, যে একাকী খায়, দান করে না এবং কৃতদাসকে প্রহার করে। এরপর তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়েও মন্দ ব্যক্তির সম্পর্কে বলবো? সাহাবীগণ বললেন অবশ্যই বলুন হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন, যে মানুষকে ঘৃণা করে এবং মানুষ যাকে ঘৃণা করে। এরপর বললেন, আমি তোমাদেরকে এর চেয়েও মন্দ ব্যক্তি সম্পর্কে বলব? তারা বলল, জী, বলুন। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি কারো ওযর গ্রহণ করে না এবং ভুল ক্ষমা করে না। রাসূল বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এরচেয়েও মন্দ ব্যক্তি সম্পর্কে বলব? সকলে বললেন হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন যার থেকে ভালো ও কল্যাণকর কিছুর আশা করা হয় না এবং যার মন্দ থেকে নিরাপদ থাকা যায় না।
টিকাঃ
৪৬১. সুনানে আবী দাউদ হাদীস-১৪৮৫; সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস-১১৮১; ইমাম আবু দাউদ হাদীসটিকে জয়ীফ বলেছেন। তবে আবূ দাউদের হাদীসে বেশ কিছু বাক্য নেই।