📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জনৈক আবেদর ঘটনা

📄 জনৈক আবেদর ঘটনা


ওহাব বিন মুনাব্বিহ রহ. থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, বনী ইসরাঈলের জনৈক আবেদ ছিল। শয়তান তাকে পথভ্রষ্ট করতে চেষ্টা করে। কিন্তু সক্ষম হয়নি। একদিন উক্ত আবেদ কোথাও বের হলেন। শয়তান সুযোগের অপেক্ষায় তার পিছু নিল। তার প্রবৃত্তি ও ক্রোধের মাধ্যমে ভ্রষ্ট করতে চেষ্টা করল। কিন্তু সক্ষম হলো না। অতঃপর সে ভীতির মাধ্যমে পথভ্রষ্ট করতে চাইল এবং পাহাড়ের বিশাল পাথর তার মাথার দিকে ঝুঁকিয়ে দিল। আবেদ আল্লাহর নাম নেওয়ার সাথে সাথে তা সরে গেল। ফলে শয়তান সফল হলো না। এরপর শয়তান বাঘ ও হিংস্র পশুর বেশে উপস্থিত হলো। আবেদ আল্লাহকে স্মরণ করলেন এবং তার দিকে ভ্রুক্ষেপও করলেন না। আবেদ নামাযে দাঁড়ালে শয়তান সাপের বেশে উপস্থিত হলো। সে তার পায়ে লেপ্টে গেল। এক সময় মাথা পর্যন্ত লেপ্টে ফেলল। এরপর সেজদার জায়গায় পড়ে থাকে। তিনি সেজদার জন্য ঝুঁকলে, সাপটি মুখ হা করে তাকে গিলে ফেলার উপক্রম হয়। তিনি হাত দিয়ে সাপটি সরিয়ে সেজদা করতেন। এভাবে আবেদ নামায শেষ করলেন।

নামায শেষ হলে শয়তান তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, আমিই আপনার সাথে এতক্ষণ এমন করেছি। কিন্তু কোনোভাবেই সফল হয়নি। তাই আপনার সঙ্গে আমি বন্ধুত্ব করতে চাই এবং আজকের পর আপনাকে কখনো পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা করব না।

আবেদ বললেন, আজ তুমি আমাকে ভয় দেখাতে চেয়েছ। কিন্তু আল্লাহর শোকর, আমি ভয় পাইনি। তোমার সাথে বন্ধুত্বের কোনো প্রয়োজন আমার নেই। শয়তান বলল, আপনি আপনার পরিজন সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করুন যে, আপনার পরে আমি তাদেরকে কিভাবে আক্রান্ত করব। আবেদ বললেন, আমি তাদের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করব। শয়তান বলল, তাহলে জিজ্ঞেস করুন, কীভাবে আদম সন্তানদেরকে আমি ভ্রষ্ট করি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাদেরকে কীভাবে ভ্রষ্ট কর, তা বলতে পার। শয়তান বলল, তিনটি উপায়ে আমি তাদেরকে ভ্রষ্ট করি।
১. কৃপণতা।
২. ক্রোধ।
৩. মত্ততা。
কেন না, মানুষ যখন কৃপণ হয়, তখন তার দৃষ্টিতে সম্পদকে অত্যন্ত স্বল্প করে উপস্থাপন করা হয়। ফলে সে হক আদায়ে বিরত থাকে এবং অন্যের সম্পদের প্রতি লোভী হয়ে ওঠে। আর যখন সে ক্রোধান্বিত হয়, তখন তাকে আমাদের মাঝে এমনভাবে ঘুরানো হয়, যেভাবে শিশুরা তাদের খেলায় বল ঘুরায়। আর সে যখন মাতাল হয়, তখন তাকে পশুর মতো কান ধরে যেখানে যেভাবে ইচ্ছা পরিচালনা করা যায়।

ফকীহ সমরকন্দী রহ. বলেন, উক্ত ঘটনা থেকে বুঝা যায় যে, শিশুদের হাতে বল যেমন খেলার উপকরণ, তেমনি ক্রোধান্বিত ব্যক্তিও শয়তানের খেলার উপকরণ। সুতরাং ক্রোধান্বিত ব্যক্তির উচিত ধৈর্যের মাধ্যমে সব কিছুর সমাধা করা, যাতে সে শয়তানের ক্রীড়াকে পরিণত না হয়। অন্যথায় তার আমল নষ্ট হয়ে যাবে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 হযরত মূসা আ.-এর নিকট ইবলিসের আবেদন

📄 হযরত মূসা আ.-এর নিকট ইবলিসের আবেদন


বলা হয়, একদা ইবলীস শয়তান হযরত মূসা আ.-এর নিকট এসে বলল, হে মূসা! আপনি এমন ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ তা'আলা তাঁর রেসালাতের জন্য মনোনীত করেছেন এবং আপনার সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি তো আল্লাহরই এক সৃষ্টি, আমি আপনার রবের নিকট তাওবা করতে চাই। আপনি তার কাছে প্রার্থনা করুন, যাতে তিনি আমার তাওবা কবুল করেন। শয়তানের মুখে এ কথা শুনে মূসা আ. অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। তিনি পানি আনিয়ে উযূ করলেন এবং যত মন চায় নামাযে দাঁড়ালেন। নামায শেষে দোয়া করলেন, হে আমার রব, ইবলীস, আপনারই এক সৃষ্টি, আপনার নিকট মাফ চায়, আপনি তাকে মাফ করে দিন। আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী এলো, হে মূসা! সে তো তাওবা করবে না। মূসা বললেন, হে রব, সে তো আপনার কাছে মাফ চায়। তখন আল্লাহ তা'আলা ওহী প্রেরণ করলেন, হে মূসা! তাকে বলো সে যেন আদমের কবরে সেজদা করে। তাহলে আমি তাকে মাফ করে দেব। মূসা আ. খুশি হয়ে ফিরে এলেন এবং শয়তানকে পুরো ঘটনা জানালেন। শয়তান তা শুনে ক্রুদ্ধ হলো এবং দম্ভভরে বলল আমি তাকে জীবিতাবস্থাতেই সেজদা করিনি, এখন মৃত্যুর পর সেজদা করব? অতঃপর শয়তান বলল, হে মূসা! আপনি যেহেতু আমার জন্য সুপারিশ নিয়ে গিয়েছিলেন, তাই আপনাকে আমি তিনটি উপদেশ দিচ্ছি।
১. রেগে গেলে আমাকে স্মরণ করবেন। কারণ, তখন আমি শিরা-উপশিরায় ছড়িয়ে যাই।
২. যুদ্ধে সংখ্যায় বেশি এমন শত্রু দলের মুখোমুখি হলে আমাকে স্মরণ করবেন। কারণ, আদম সন্তান যুদ্ধে গেলে আমি তার নিকট উপস্থিত হই এবং স্ত্রী-পুত্র, পরিবার-পরিজনের কথা স্মরণ করিয়ে দিই, ফলে সে যুদ্ধ ছেড়ে পালায়।
৩. মাহরাম নয় এমন নারীর সঙ্গে নির্জনে মিলিত হওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ, তখন উভয়ের মধ্যে আমি কামনার দূত হয়ে উঠি।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 মানুষ যাচাই

📄 মানুষ যাচাই


হযরত লোকমান হাকীম থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, তিন সময়ে তিন ধরনের লোকের পরিচয় পাওয়া যায়।
১. সহনশীলকে চেনা যায় ক্রোধের সময়।
২. সাহসী চেনা যায় যুদ্ধের সময়।
৩. ভাইকে চেনা যায় অভাবের সময়।

জনৈক তাবেয়ীর ব্যাপারে বর্ণিত আছে, একবার তার সামনেই কেউ তার প্রশংসা করল। তিনি বললেন, হে আল্লাহর বান্দা, আমার প্রশংসা করছ কেন? তুমি কি আমাকে ক্রোধের অবস্থায় যাচাই করেছ এবং তখন আমাকে সহনশীল পেয়েছ? সে বলল, না। তিনি বললেন, তুমি কি আমাকে সফরে যাচাই করেছ এবং তখন আমাকে সদাচারী পেয়েছ? সে বলল, না। তিনি বললেন, তুমি কি আমাকে আমানতদারীতে যাচাই করেছ এবং তখন আমাকে বিশ্বস্ত পেয়েছ? সে বলল, না। তখন তিনি বললেন, ধ্বংস তোমার জন্য। কোনো ব্যক্তিকে এ তিন অবস্থায় যাচাই না করে তার প্রশংসা করা উচিত নয়।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 জান্নাতী ব্যক্তির গুণ

📄 জান্নাতী ব্যক্তির গুণ


তিনি আরো বললেন, জান্নাতীদের তিনটি গুণ, যা কেবল সম্মানিতদের মধ্যেই পাওয়া যায়। যথা- ১. যে তোমার উপর জুলুম করেছে, তাকে ক্ষমা করা। ২. যে তোমাকে বঞ্চিত করেছে, তাকে দান করা। ৩. যে তোমার প্রতি মন্দ আচরণ করেছে, তার প্রতি উত্তম আচরণ করা। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন-
خُذِ الْعَفْوَ وَأَمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ
অর্থ: ক্ষমাকে গ্রহণ কর, ভালো কাজের নির্দেশ প্রদান কর এবং মূর্খদের থেকে বিরত থাক।

হাদীসে এসেছে, উক্ত আয়াত নাযিল হলে রাসূল ﷺ জিবরাঈল আ. কে এ আয়াতের ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করলেন। জিবরাঈল বলল, আমি সর্বজ্ঞানী আল্লাহর নিকট থেকে জেনে আপনাকে জানাব। কিছুক্ষণ পর জিবরাঈল উপস্থিত হয়ে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহ তা'আলা আপনাকে এমন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের আদেশ করেছেন, যে আপনার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে, এমন ব্যক্তিকে দান করতে বলেছেন, যে আপনাকে বঞ্চিত করে এবং এমন ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিতে বলেছেন, যে আপনার প্রতি জুলুম করে।

টিকাঃ
৪৫৭. সূরা আরাফ: আয়াত-১৯৯
৪৫৮. হাদীসটি ইবনে মারদুইয়াহ, ইবনে আবিদ দুনিয়া ও ইবনে আবী হাতেম বর্ণনা করেছেন। তাফসীরে দূররে মানছুর: ৩/৬২৮; জয়ীফুল জামে': হাদীস-৪০২৬।

ফন্ট সাইজ
15px
17px