📄 ক্রোধ সংবরণের ফযীলত
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِي رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: مَنْ كَظَمَ غَيْظًا وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَى أَنْ يُمْضِيَهُ، فَلَمْ يُمْضِيَهُ، مَلَأَ اللَّهُ قَلْبَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رِضًا.
হযরত আবূ উমামা বাহিলী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ক্রোধ প্রয়োগ করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা সংবরণ করল, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার অন্তরকে সন্তুষ্টি দ্বারা ভরে দিবেন।
বলা হয়, ইঞ্জিলে লেখা ছিল,
يَا ابْنَ آدَمَ اذْكُرْنِي حِينَ تَغْضَبُ أَذْكُرُكَ حِينَ أَغْضَبُ، وَارْضَ بِنُصْرَتِي لَكَ، فَإِنَّ نُصْرَتِي لَكَ خَيْرٌ مِنْ نُصْرَتِكَ لِنَفْسِكَ.
হে আদম সন্তান! তোমাদের ক্রোধের সময় আমাকে স্মরণ কর, তাহলে আমার ক্রোধের সময়ও আমি তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর তোমার প্রতি আমার সাহায্য নিয়ে সন্তুষ্ট থাক। কারণ, আমার সাহায্য তোমার নিজের জন্য নিজের সাহায্যের চেয়ে উত্তম।
হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয রহ. থেকে বর্ণিত- জনৈক ব্যক্তিকে তিনি রাগানোর নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বললেন, যদি তুমি আমাকে না রাগাতে, তবে আমি তোমাকে শাস্তি দিতাম। তার উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণীর উপর আমল করা - وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ অর্থ : আর যারা ক্রোধ সংবরণ করে।
বর্ণিত আছে, একদা তিনি এক মাতালকে দেখতে পেলেন। অতঃপর তাকে শাস্তি দেওয়ার ইচ্ছা করলেন। তখন মাতাল তাকে গালি দিয়ে উঠল। গালি দিলে হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয রহ. সেখান থেকে চলে গেলেন। তাকে বলা হলো, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনাকে গালি দেওয়ার পরও তাকে ছেড়ে দিলেন? তিনি বললেন, সে তো আমাকে গালি দিয়েছে। এখন যদি আমি তাকে শাস্তি দিতাম তবে তা হতো নিজের রাগের বশবর্তী হয়ে। ব্যক্তিগত ক্রোধের কারণে কাউকে প্রহার করা আমার পছন্দনীয় নয়।
হযরত মায়মূন বিন মাহরান বর্ণনা করেন, একদা তার এক দাসী কোথাও থেকে ঝোল নিয়ে আসল। সে (দাসী) হোঁচট খেলে ঝোল তার (মায়মূনের) উপর পড়ে যায়। তখন মায়মূন তাকে প্রহারে উদ্যত হলেন। তখন দাসী বলল, মনিব! আপনি আল্লাহ তা'আলা নিম্নোক্ত বাণীর উপর আমল করুন- ‘আর ক্রোধ সংবরণকারীগণ’ (وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ)। তিনি বললেন, আমল করলাম। অতঃপর দাসী বলল, পরবর্তী অংশের উপর আমল করুন - ‘এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল’ (وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ)। তিনি বললেন, ক্ষমা করে দিলাম। অতঃপর দাসী বলল, এরপর পরের অংশের উপর আমল করুন - ‘আর আল্লাহ ইহসানকারীদেরকে ভালোবাসেন’ (وَ اللهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ)। তখন মায়মূন রহ. বললেন, আমি তোমার প্রতি ইহসান করলাম। আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে তোমাকে আযাদ করে দিলাম।
টিকাঃ
৪৫০. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৪৭৭৭; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২০২১; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪১৮৬; তবে হাদীসে এসেছে, তাকে ইচ্ছামত হুর দেওয়া হবে।
৪৫১. সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৩৪
📄 তিনটি গুণ ব্যতীত ঈমানের স্বাদ লাভ অসম্ভব
رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: مَنْ لَمْ يَكُنْ فِيهِ ثَلَاثُ خِصَالٍ لَمْ يَجِدْ طَعْمَ الْإِيمَانَ حِلْمٌ يَرُدُّ بِهِ جَهْلَ الْجَانِلِ، وَوَرَعٌ يُحْرِزُهُ عَنِ الْمَحَارِمِ، وَخُلُقٌ يُدَارِي بِهِ النَّاسَ.
রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যার মধ্যে তিন গুণ নেই, সে ঈমানের স্বাদ পাবে না। যথা-
১. এমন সহনশীলতা, যার মাধ্যমে মূর্খের মূর্খতা দূর করা যায়।
২. এমন ভয়, যা তাকে হারাম থেকে বিরত রাখে।
৩. এমন স্বভাব, যা মানুষকে আনন্দিত করে।
টিকাঃ
৪৫২. আল-হিল্য লি-ইবনে আবিদ দুনিয়া: হাদীস-৫৩; মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৮/২৪। হাইসামী বলেছেন, সনদে অনেক অপরিচিত রাবী রয়েছে।
📄 ধৈর্য ও সহনশীলতার ফযীলত
অতীত যুগের জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণিত আছে- তার একটি ঘোড়া ছিল। ঘোড়াটি ছিল তার খুব প্রিয় ও আদরের। একদিন সে দেখল ঘোড়া তিন পায়ে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি গোলামকে বললেন, কেন এমন করল? গোলাম বলল, আমি করেছি। তিনি বললেন, কেন করেছ? সে বলল, এর মাধ্যমে আমি আপনাকে ক্রুদ্ধ করতে চেয়েছি। তিনি বললেন, যে (শয়তান) তোমাকে এ নির্দেশ দিয়েছে আমিও তাকে রাগাব। যাও, আজ থেকে তুমি স্বাধীন এবং ঘোড়াও তোমার।
📄 ধৈর্য ও সহনশীলতার প্রতিফল
ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, মুসলমানের উচিত সহনশীল ও ধৈর্যশীল হওয়া। কেন না, তা মুত্তাকীদের স্বভাব। আল্লাহ তা'আলা সহনশীলের প্রশংসা করে বলেছেন-
وَلَمَنْ صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ
অর্থ: যে ব্যক্তি জুলুমের উপর ধৈর্য ধারণ করবে, জালেমকে এড়িয়ে চলবে এবং তাকে ক্ষমা করে দেবে। নিশ্চয় এটি বড় সাহসিকতার কাজ।
অপর আয়াতে এসেছে-
وَلَا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلَا السَّيِّئَةُ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ
অর্থ: ভালো কথা মন্দ কথার সাথে তুলনীয় নয়। তোমরা প্রতিউত্তর কর এমন কথার মাধ্যমে, যা উত্তম। এর ফলে তোমার সাথে যার শত্রুতা রয়েছে, সেও পরিণত হবে উষ্ণ বন্ধুতে।
আল্লাহ তা'আলা তার বন্ধু ইবরাহীম আ.-এর সহনশীলতার প্রশংসা করে বলেছেন-
إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَأَوَّاهُ حَلِيمٌ
অর্থ : নিশ্চয় ইবরাহীম অতি সহনশীল, বেদনাকাতর এবং প্রবলভাবে আল্লাহমুখী।
আল্লাহ তা'আলা নবীদেরকে ধৈর্য ও সহনশীলতার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর পূর্ববর্তী নবীগণও এ গুণের অধিকারী ছিলেন। কুরআনে এসেছে- فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُولُو الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ অর্থ : সুতরাং আপনি ধৈর্য ধারণ করুন, যেরূপ ধৈর্যধারণ করেছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাসূলগণ। 'উলুল আযম' (أُولُو الْعَزْم) বলতে এমন লোকদেরকে বলা হয়েছে, যারা সর্বক্ষেত্রে অটল থাকে।
হযরত হাসান রহ. নিম্নোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন- وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا অর্থ : যখন তাদেরকে মূর্খরা সম্বোধন করে, তখন তারা বলে, সালাম। উল্লিখিত আয়াতে মূর্খদের কথার জবাবে তারা সহনশীল বাক্য বলে ধৈর্যের কারণে। তাদের সাথে মূর্খতাসুলভ আচরণ করলেও তারা সহনশীলতা দেখায় ধৈর্যের কারণে।
টিকাঃ
৪৫৩. সূরা শুরা: আয়াত-৪৩
৪৫৪. সূরা ফুসসিলাত: আয়াত-৩৪
৪৫৫. সূরা হুদ: আয়াত-৭৫
৪৫৬. সূরা আহকাফ: আয়াত-৩৫