📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ক্রোধের চিকিৎসা

📄 ক্রোধের চিকিৎসা


عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّ الْغَضَبَ جَمْرَةٌ مِنَ النَّارِ، فَمَنْ وَجَدَ ذلِكَ مِنْكُمْ، فَإِنْ كَانَ قَائِمًا فَلْيَجْلِسُ، وَإِنْ كَانَ جَالِسًا فَلْيضْطَجِعْ.

হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত- রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, ক্রোধ হলো, আগুনের একটি জ্বলন্ত অঙ্গার। তোমাদের যে তা অনুভব করবে, সে যদি দাঁড়ানো থাকে, তাহলে যেন বসে পড়ে। আর যদি বসা থাকে, তাহলে যেন শুয়ে পড়ে।

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ ، عَنْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَالَ : إِيَّاكُمْ وَالْغَضَبَ فَإِنَّهُ يُوقِدُ فِي فُؤَادِ ابْنِ آدَمَ النَّارَ، أَلَمْ تَرَ إِلَى أَحَدِكُمْ إِذَا غَضِبَ كَيْفَ تَحْمَرُّ عَيْنَاهُ وَتَنْتَفِخُ أَوْدَاجُهُ، فَإِذَا أَحَسَّ أَحَدُكُمْ بِشَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ فَلْيَضْطَجِعْ، وَلْيَلْصَقُ بِالْأَرْضِ. وَقَالَ : إِنَّ مِنْكُمْ مَنْ يَكُونُ سَرِيعَ الْغَضَبِ، سَرِيعَ الْفَيْءِ فَأَحَدُهُمَا بِالْآخَرِ অর্থাৎ, একটি অপরটির জন্য প্রতিষেধক হয়। وَمِنْكُمْ مَنْ يَكُونُ بَطِيءَ الْغَضَبِ، بَطِيءَ الْفَيْءِ، وَيَكُونُ أَحَدُهُمَا بِالْآخَرِ وَخَيْرُكُمْ مَنْ كَانَ بَطِيءَ الْغَضَبِ، سَرِيعَ الْفَيْءِ، وَشَرُّكُمْ مَنْ كَانَ سَرِيعَ الْغَضَبِ بَطِيءَ الْفَيْءِ.

হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত অপর হাদীসে এসেছে, রাসূল ﷺ বলেছেন, তোমরা ক্রোধ থেকে বেঁচে থাক। কারণ, তা আদম সন্তানের অন্তরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তোমরা ক্রুদ্ধ ব্যক্তিকে দেখনি? তার চোখ কেমন লাল হয়ে যায় এবং তার রগগুলো ফুলে ওঠে? তোমাদের কেউ যখন তা অনুভব করে, সে যেন শুয়ে পড়ে এবং মাটির সাথে মিশে যায়।

তিনি আরো বলেন, যদি তোমাদের কেউ অত্যন্ত দ্রুত রেগে যায় এবং দ্রুতই তার রাগ অস্তমিত হয়ে যায়। ফলে একটি অপরটির জন্য প্রতিষেধক হয়। আর তোমাদের কেউ কেউ ধীরে রেগে যায় এবং তার রাগও ধীরে ধীরে অস্তমিত হয়ে যায়। তার ক্ষেত্রেও একটি অপরটির প্রতিষেধক। তবে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যার রাগ ধীরে আসে এবং দ্রুত চলে যায় এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট সে, যার রাগ আসে দ্রুত, আর যায় দেরীতে।

টিকাঃ
৪৪৭. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৪৭৮২; মুসনাদে আহমাদ: ৩৫/২৭৮। হাদীসটি সহীহ।
৪৪৮. সুনানে তিরমিযী হাদীস-২১৯১। ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।
৪৪৯. প্রাগুক্ত।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ক্রোধ সংবরণের ফযীলত

📄 ক্রোধ সংবরণের ফযীলত


عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِي رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: مَنْ كَظَمَ غَيْظًا وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَى أَنْ يُمْضِيَهُ، فَلَمْ يُمْضِيَهُ، مَلَأَ اللَّهُ قَلْبَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رِضًا.

হযরত আবূ উমামা বাহিলী রাযি. থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ক্রোধ প্রয়োগ করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা সংবরণ করল, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার অন্তরকে সন্তুষ্টি দ্বারা ভরে দিবেন।

বলা হয়, ইঞ্জিলে লেখা ছিল,
يَا ابْنَ آدَمَ اذْكُرْنِي حِينَ تَغْضَبُ أَذْكُرُكَ حِينَ أَغْضَبُ، وَارْضَ بِنُصْرَتِي لَكَ، فَإِنَّ نُصْرَتِي لَكَ خَيْرٌ مِنْ نُصْرَتِكَ لِنَفْسِكَ.
হে আদম সন্তান! তোমাদের ক্রোধের সময় আমাকে স্মরণ কর, তাহলে আমার ক্রোধের সময়ও আমি তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর তোমার প্রতি আমার সাহায্য নিয়ে সন্তুষ্ট থাক। কারণ, আমার সাহায্য তোমার নিজের জন্য নিজের সাহায্যের চেয়ে উত্তম।

হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয রহ. থেকে বর্ণিত- জনৈক ব্যক্তিকে তিনি রাগানোর নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বললেন, যদি তুমি আমাকে না রাগাতে, তবে আমি তোমাকে শাস্তি দিতাম। তার উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণীর উপর আমল করা - وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ অর্থ : আর যারা ক্রোধ সংবরণ করে।

বর্ণিত আছে, একদা তিনি এক মাতালকে দেখতে পেলেন। অতঃপর তাকে শাস্তি দেওয়ার ইচ্ছা করলেন। তখন মাতাল তাকে গালি দিয়ে উঠল। গালি দিলে হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয রহ. সেখান থেকে চলে গেলেন। তাকে বলা হলো, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনাকে গালি দেওয়ার পরও তাকে ছেড়ে দিলেন? তিনি বললেন, সে তো আমাকে গালি দিয়েছে। এখন যদি আমি তাকে শাস্তি দিতাম তবে তা হতো নিজের রাগের বশবর্তী হয়ে। ব্যক্তিগত ক্রোধের কারণে কাউকে প্রহার করা আমার পছন্দনীয় নয়।

হযরত মায়মূন বিন মাহরান বর্ণনা করেন, একদা তার এক দাসী কোথাও থেকে ঝোল নিয়ে আসল। সে (দাসী) হোঁচট খেলে ঝোল তার (মায়মূনের) উপর পড়ে যায়। তখন মায়মূন তাকে প্রহারে উদ্যত হলেন। তখন দাসী বলল, মনিব! আপনি আল্লাহ তা'আলা নিম্নোক্ত বাণীর উপর আমল করুন- ‘আর ক্রোধ সংবরণকারীগণ’ (وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ)। তিনি বললেন, আমল করলাম। অতঃপর দাসী বলল, পরবর্তী অংশের উপর আমল করুন - ‘এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল’ (وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ)। তিনি বললেন, ক্ষমা করে দিলাম। অতঃপর দাসী বলল, এরপর পরের অংশের উপর আমল করুন - ‘আর আল্লাহ ইহসানকারীদেরকে ভালোবাসেন’ (وَ اللهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ)। তখন মায়মূন রহ. বললেন, আমি তোমার প্রতি ইহসান করলাম। আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে তোমাকে আযাদ করে দিলাম।

টিকাঃ
৪৫০. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৪৭৭৭; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২০২১; সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদীস-৪১৮৬; তবে হাদীসে এসেছে, তাকে ইচ্ছামত হুর দেওয়া হবে।
৪৫১. সূরা আলে ইমরান: আয়াত-১৩৪

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 তিনটি গুণ ব্যতীত ঈমানের স্বাদ লাভ অসম্ভব

📄 তিনটি গুণ ব্যতীত ঈমানের স্বাদ লাভ অসম্ভব


رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: مَنْ لَمْ يَكُنْ فِيهِ ثَلَاثُ خِصَالٍ لَمْ يَجِدْ طَعْمَ الْإِيمَانَ حِلْمٌ يَرُدُّ بِهِ جَهْلَ الْجَانِلِ، وَوَرَعٌ يُحْرِزُهُ عَنِ الْمَحَارِمِ، وَخُلُقٌ يُدَارِي بِهِ النَّاسَ.

রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যার মধ্যে তিন গুণ নেই, সে ঈমানের স্বাদ পাবে না। যথা-
১. এমন সহনশীলতা, যার মাধ্যমে মূর্খের মূর্খতা দূর করা যায়।
২. এমন ভয়, যা তাকে হারাম থেকে বিরত রাখে।
৩. এমন স্বভাব, যা মানুষকে আনন্দিত করে।

টিকাঃ
৪৫২. আল-হিল্য লি-ইবনে আবিদ দুনিয়া: হাদীস-৫৩; মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৮/২৪। হাইসামী বলেছেন, সনদে অনেক অপরিচিত রাবী রয়েছে।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 ধৈর্য ও সহনশীলতার ফযীলত

📄 ধৈর্য ও সহনশীলতার ফযীলত


অতীত যুগের জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণিত আছে- তার একটি ঘোড়া ছিল। ঘোড়াটি ছিল তার খুব প্রিয় ও আদরের। একদিন সে দেখল ঘোড়া তিন পায়ে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি গোলামকে বললেন, কেন এমন করল? গোলাম বলল, আমি করেছি। তিনি বললেন, কেন করেছ? সে বলল, এর মাধ্যমে আমি আপনাকে ক্রুদ্ধ করতে চেয়েছি। তিনি বললেন, যে (শয়তান) তোমাকে এ নির্দেশ দিয়েছে আমিও তাকে রাগাব। যাও, আজ থেকে তুমি স্বাধীন এবং ঘোড়াও তোমার।

ফন্ট সাইজ
15px
17px