📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 নয়টি পরিত্যাগে নয়টি বিষয় লাভ

📄 নয়টি পরিত্যাগে নয়টি বিষয় লাভ


মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আবেদ রহ. বলেন, যে ব্যক্তি নয়টি বিষয় পরিত্যাগ করবে আল্লাহ তাকে নয়টি বিষয় দান করবেন-
১. مَنْ تَرَكَ فُضُولَ النَّظَرِ ওফফিকা লীল খুশুয়ী (وُفِّقَ لِلْخُشُوعِ) অর্থাৎ, যে ব্যক্তি অর্থহীন দৃষ্টিপাত পরিত্যাগ করবে আল্লাহ তাকে খুশু বা খোদাভীতি দান করবেন।
২. وَمَنْ تَرَكَ الْكِبْرَ ওফফিকা লীত্ তাওয়াজুয়ী অর্থাৎ, যে ব্যক্তি অহংকার থেকে বেঁচে থাকবে আল্লাহ তাকে বিনয় দান করবেন。
৩. وَمَنْ تَرَكَ فُضُولَ الْكَلَامِ ওফফিকা লীল হিকমাতি অর্থাৎ, যে ব্যক্তি অর্থহীন কথা পরিত্যাগ করবে আল্লাহ তাকে প্রজ্ঞা দান করবেন。
৪. وَمَنْ تَرَكَ فُضُولَ الطَّعَامِ ওফফিকা লীহালাওয়াতীল ইবাদাতি অর্থাৎ, যে ব্যক্তি অপ্রয়োজনীয় খাবার বর্জন করবে আল্লাহ তাকে ইবাদতের স্বাদ দান করবেন。
৫. وَمَنْ تَرَكَ الْمُزَاحَ ওফফিকা লীল বাহা-ই অর্থাৎ, যে ব্যক্তি ঠাট্টা-তামাশা পরিত্যাগ করে চলবে আল্লাহ তার স্বভাবে গাম্ভীর্য দান করবেন。
৬. وَمَنْ تَرَكَ الضَّحِكَ ওফফিকা লীল হাইবাতি অর্থাৎ, যে ব্যক্তি হাসি-তামাশা পরিত্যাগ করে চলবে আল্লাহ তার স্বভাবে গাম্ভীর্য দান করবেন。
৭. وَمَنْ تَرَكَ الرَّغْبَةَ ওফফিকা লীল মাহাব্বাতি অর্থাৎ, যে ব্যক্তি অপরের সম্পদের লোভ বর্জন করবে আল্লাহ তাকে জনপ্রিয়তা ও মানুষের ভালোবাসা দান করবেন。
৮. وَمَنْ تَرَكَ التَّجَسُّسَ ওফফিকা লীইছলাহী উয়ূবিহি অর্থাৎ, যে ব্যক্তি অন্যের দোষ খোঁজার অভ্যাস পরিত্যাগ করবে আল্লাহ তাকে নিজের ত্রুটি সংশোধনের তাওফীক দান করবেন。
৯. وَمَنْ تَرَكَ التَّوَهُمَ فِي صِفَاتِ اللهِ تَعَالَى، ওফফিকা লীন নাজতি মীন আশশাক্কি ওয়ান নিফাক্বি অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আল্লাহর সিফাত বা গুণাবলী নিয়ে সন্দেহ করা বর্জন করবে আল্লাহ তাকে সংশয় ও মুনাফিকী থেকে রক্ষা করবেন。

আল্লাহ তা'আলা বলেন- وَكَانَ تَحْتَهُ كَنْزُ لَّهُمَا অর্থ : তার নিচে তাদের জন্য এক ধনভাণ্ডার রক্ষিত ছিল। এই আয়াতের ব্যাখ্যায় রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, তার নিচে মূলত একটি স্বর্ণ ফলক রক্ষিত ছিল, যাতে পাঁচটি লাইন লেখা ছিল। যথা-
১. عَجِبْتُ لِمَنْ أَيْقَنَ بِالْمَوْتِ كَيْفَ يَفْرَحُ অর্থাৎ, আশ্চর্য সে ব্যক্তির জন্য যে তার মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েও আনন্দ উল্লাস করে।
২. عَجِبْتُ لِمَنْ أَيْقَنَ بِالنَّارِ كَيْفَ يَضْحَكُ অর্থাৎ, আশ্চর্য সে ব্যক্তির জন্য যে জাহান্নাম নিশ্চিত জানা সত্ত্বেও হাসি-তামাশা করতে পারে!
৩. وَعَجِبْتُ لِمَنْ أَيْقَنَ بِالْقَدَرِ كَيْفَ يَحْزَنُ অর্থাৎ, আশ্চর্য সে ব্যক্তির জন্য যে তকদীর বা ভাগ্য বিশ্বাস করে কোনো কারণে বিষণ্ণ হয়।
৪. وَعَجِبْتُ لِمَنْ أَيْقَنَ بِزَوَالِ الدُّنْيَا وَتَقَلُّبِهَا بِأَهْلِهَا كَيْفَ يَطْمَئِنُّ إِلَيْهَا অর্থাৎ, আশ্চর্য সে ব্যক্তির জন্য যে দুনিয়া ও দুনিয়ার উত্থান-পতন দেখে এবং সে দুনিয়ার ধ্বংস সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েও দুনিয়াদারী করে।
৫. পঞ্চম লাইনটিতে কালেমায়ে তাইয়িবা লেখা ছিল। لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ الله অর্থাৎ, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল।

সাবেত বুনানী রহ. বলেন, মুমিন যখন হাসে, তখন আখেরাতের কথা ভুলে হাসে। তা ভুলে না গেলে সে হাসতে পারে না। হযরত ইয়াহইয়া ইবনে মুআজ রাজী রহ. বলেন, দুঃখের মাধ্যমে এমন আনন্দ তালাশ কর, যাতে কোনো দুঃখ নেই। অর্থাৎ, তুমি যদি জান্নাতে সুখ পেতে চাও, তাহলে দুনিয়াতে দুঃখ-দুর্দশা এবং কষ্ট সহ্য কর।

বলা হয়ে থাকে, তিনটি বিষয় অন্তরকে কঠিন করে দেয়। ১. অকারণে হাসা। ২. ক্ষুধা ছাড়াই খাওয়া। ৩. অপ্রয়োজনে কথা বলা।

عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدَّهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ قَالَ : وَيْلٌ لِمَنْ يَكْذِبُ لِيُضْحِكَ بِهِ النَّاسَ، وَيْلٌ لَهُ وَيْلٌ لَهُ وَيْلٌ لَهُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ.

বাহয ইবন হাকিম তার বাবা থেকে তিনি তার দাদা থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি মানুষকে হাসানোর জন্য মিথ্যা বলে, তার ধ্বংস হোক! একথাটি রাসূল তিনবার বললেন।

হযরত ইবরাহীম নাখাঈ রহ. বলেন, কোনো ব্যক্তি যখন মজলিসের কাউকে মিথ্যা বলে হাসায়, তখন আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট হন এবং তার পার্শ্ববর্তী সকলের প্রতি অসন্তুষ্ট হন। আর কোনো ব্যক্তি যখন আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য কোনো কথা বলে তখন আল্লাহ তা'আলা তার উপর সন্তুষ্ট হন এবং তার ও তার আশেপাশের সবার উপর আল্লাহর রহমত নেমে আসে。

টিকাঃ
৪৪২. সূরা কাহফ : আয়াত-৮২
৪৪৩. শুআবুল ঈমান : হাদীস-২১৩; মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ৭/৫৩; তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/১০০। আল্লামা হাইসামী বলেন, এই হাদীসের সনদে অপরিচিত রাবী রয়েছে।
৪৪৪. সুনানে আবী দাউদ: হাদীস-৪৯৯০; সুনানে তিরমিযী: হাদীস-২৩১৫। হাদীসটি হাসান।

📘 তাম্বিহুল গাফিলীন তাহকীক ও তাখরীজসহ 📄 অট্টহাসির বিপদ

📄 অট্টহাসির বিপদ


ইমাম সমরকন্দী রহ. বলেন, অট্টহাসি থেকে বেঁচে থাক। কারণ, অট্টহাসিতে আটটি ক্ষতি রয়েছে। সেগুলো হলো-
১. أَنْ يَذُمَّكَ الْعُلَمَاءُ وَالْعُقَلَاءُ অর্থাৎ, জ্ঞানী ও বুদ্ধিমানরা তোমাকে তুচ্ছজ্ঞান করবে।
২. أَنْ يَجْتَرِئَ عَلَيْكَ السُّفَهَاءُ وَالْجَهَّالُ অর্থাৎ, মূর্খ ও অজ্ঞ তোমার উপর সাহসী হয়ে উঠবে।
৩. অযোগ্যতা বৃদ্ধি পায় এবং জ্ঞান কমে যায়। অর্থাৎ, তুমি যদি মূর্খ হয়ে থাক, তাহলে তোমার মূর্খতা আরো বৃদ্ধি পাবে। আর যদি জ্ঞানী হয়ে থাক, তাহলে তোমার জ্ঞান লোপ পেয়ে যাবে। কারণ, হাদীসে এসেছে কোনো আলেম যখন অট্টহাসি হাসে, তখন তার জ্ঞান কমে যায়।
৪. أَنْ فِيهِ نِسْيَانَ الذُّنُوبِ الْمَاضِيَةِ অর্থাৎ, এর ফলে তুমি অতীতের গুনাহের কথা ভুলতে শুরু করবে।
৫. فِيهِ جُرْأَةٌ عَلَى الذُّنُوبِ فِي الْمُسْتَقْبَلِ অর্থাৎ, এর ফলে তোমার মধ্যে ভবিষ্যতে গুনাহ করার সাহস তৈরি হবে। কারণ, হাসি তামাশা মানুষের অন্তরকে কঠিন করে দেয়।
৬. أَنْ فِيهِ نِسْيَانَ الْمَوْتِ وَمَا بَعْدَهُ مِنْ أَمْرِ الْآخِرَةِ অর্থাৎ, এতে তুমি মৃত্যু ও মৃত্যুর পরবর্তী অবস্থা ভুলে যাবে।
৭. أَنْ عَلَيْكَ وِزْرَ مَنْ ضَحِكَ بِضَحِكِكَ অর্থাৎ, তোমার হাসি দেখে যে হাসবে, তার পাপও তোমার হবে।
৮. أَنَّهُ يَجِبُ لَهُ بِالضَّহِكِ بُكَاءٌ كَثِيرٌ فِي الْآخِرَةِ অর্থাৎ, দুনিয়াতে অল্প হাসির ফলে আখেরাতে অনেক কাঁদতে হবে।

আল্লাহ তা'আলা আদেশ করেছেন- ফাল ইয়ায্হাকু ক্বালীলাওঁ ওয়াল ইয়াবকু কাছিরান (فَلْيَضْحَكُوا قَلِيلًا وَلْيَبْকُوا كَثِيرًا) জাযা- আম বিমা কানু ইয়াক্সিবুন (جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ) অর্থ: তারা যেন কম হাসে এবং বেশি কাঁদে।

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত আবু যর গিফারী রাযি. বলেন, দুনিয়া যেহেতু ক্ষণস্থায়ী, তাই যত মন চায় হাসুক। ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার হাসি যত বেশিই হোক না কেন, তা অল্প। কিন্তু তারা যখন আখেরাতে যাবে তখন তাদের সদা কাঁদতে হবে। এটা হলো বেশি কান্নার অর্থ। فَلْيَضْহَكُوا قَلِيلًا وَلْيَبْকُوا كَثِيرًا এ আয়াতে এ কথাই বলা হয়েছে।

টিকাঃ
৪৪৬. সূরা তাওবা: আয়াত-৮২

ফন্ট সাইজ
15px
17px