📄 হাসান বসরী রহ.-এর হালাত
হযরত ইউনুস রহ. থেকে বর্ণিত। হযরত হাসান বসরী রহ. বলেন, মুমিন রাত দিন সর্বক্ষণ চিন্তিত থাকে। ইউনুস রহ. বলেন, হযরত হাসান বসরী রহ. কে সর্বদা বিপদাক্রান্ত ব্যক্তির ন্যায় বিষণ্ণই দেখেছি। অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি সর্বদা এত বিষণ্ণ থাকতেন যে, তাকে দেখে মনে হতো, এইমাত্র তিনি তার মা'র দাফন সম্পন্ন করে এসেছেন।
আল্লাহ ইরশাদ করেন- مَا لِهَذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا অর্থ: তারা বলবে, হায়রে এটা কী ধরনের কিতাব (আমলনামা) ছোট বড় কোনো গুনাহই লিখতে ছাড়েনি।
টিকাঃ
৪৪০. সূরা কাফ: আয়াত-৪৯
📄 কান্নার ভান করা
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত আউযায়ী রহ. বলেন, এখানে ছোট গুনাহ বলতে মুচকি হাসি, আর বড় গুনাহ বলতে অট্ট হাসি বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, অট্টহাসি কবীরা গুনাহ।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّهُ قَالَ: لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا، وَلَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَسَجَدَ أَحَدُكُمْ حَتَّى يَنْقַטِعَ صُلْبُهُ، وَلَصَرَخَ حَتَّى يَنْقַطِعَ صَوْتُهُ، ابْكُوا إِلَى اللَّهِ تَعَالَى، فَإِذَا لَمْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَبْكُوا فَتَبَاكَوْا.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমার ইবনুল আস রাযি. বলেন, আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তাহলে তোমরা কম হাসতে আর বেশি বেশি কাঁদতে। আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে, তাহলে এতো লম্বা সেজদা করতে যে, মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙ্গে যেত। আর এতটাই চিৎকার করতে যে, কণ্ঠনালী ছিঁড়ে ফেলতে। আল্লাহর নিকট কান্নাকাটি কর। যদি কান্না না আসে তাহলে কান্নার ভান কর।
📄 তিন ধরনের চোখ
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ فِي حَدِيثٍ يَذْكُرُهُ قَالَ : كُلُّ عَيْنٍ بَاكِيَةٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَّا ثَلَاثَةَ أَعْيُنٍ : عَيْنٌ بَكَتْ مِنْ خَشْيَةِ اللهِ تَعَالَى، وَعَيْنٌ غَضَّتْ عَنْ مَحَارِمِ اللَّهِ تَعَالَى، وَعَيْنٌ سَهِرَتْ فِي سَبِيلِ اللهِ تَعَالَى .
হযরত মুহাম্মদ ইবনে আজলান রহ. থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেন, তিন ধরনের চোখ ছাড়া কিয়ামতের দিন প্রতিটি চোখকে কাঁদতে হবে।
১. যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কেঁদেছে।
২. যে চোখ হারাম থেকে বিরত থেকেছে।
৩. যে চোখ আল্লাহর রাস্তায় জাগ্রত থেকেছে।
টিকাঃ
৪৪১ হিলইয়াতুল আউলিয়া ৩/১৬৩; কানযুল উম্মাল হাদীস-৪৩৩৫৭; হাদীসটিকে আল্লামা আসবাহানী গরীব ও শায়েখ আলবানী জয়ীফ বলেছেন।
📄 ইমাম আবূ হানীফা রহ.-এর উক্তি
عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ : ضَحِكْتُ مَرَّةً وَأَنَا مِنَ النَّادِمِينَ عَلَى ذَلِكَ وَ ذَلِكَ أَنِّي نَاظَرْتُ عَمْرَو بْنَ عُبَيْدِ الْقَدَرِيَّ، فَلَمَّا أَحْسَسْتُ بِالظَّفَرِ ضَحِكْتُ. فَقَالَ لِي : تَتَكَلَّمُ فِي الْعِلْمِ وَتَضْحَكُ، فَلَا أُكَلِّمُكَ أَبَدًا، وَأَنَا مِنَ النَّادِمِينَ عَلَى ذَلِكَ إِذْ لَوْ لَمْ يَكُنْ ضِحْكِي لَرَدَدْتُهُ إِلَى قَوْلِي فَكَانَ فِي ذَلِكَ صَلَاحُ الْعِلْمِ.
হযরত ইমাম আবু হানিফা রহ. বলেন, আমি জীবনে একবার হেসেছিলাম। আর এ জন্য আমি এখনও অনুতপ্ত। একবার আমি মুতাযিলী ইমাম আমর ইবনে উবাইদ কাদরীর সাথে মুনাযারা করছিলাম। যখন আমি জিতে যাওয়ার বিষয়টি অনুভব করলাম, তখন হেসে ফেললাম। তাই দেখে কাদরী বলল, আপনি ইলমের আলোচনায় বসে হাসছেন? আমি আপনার সাথে কখনো কথা বলব না। তখন আমার খুব আফসোস হলো। কারণ, আমি যদি না হাসতাম তাহলে অবশ্যই তাকে আমার মতে নিয়ে আসতে পারতাম এবং তর্কে আমি জিতে যেতাম। এতে ইলমের অনেক উপকার হতো।